101 ৬৪3 (8009) [1019 11161191210 011 ।. পিন, [819 [610111801, /10101] :

৪০ “৬ | শর জর

প্রবোধন্রুমান্্ সান্যাল

ক্যালকাট৷ বুক ক্লাব ল্রামিটেড

পথম সংককণ

আশ্্থিলি ১৬৫৮

এপ কাশ

€জ্াাততিও্রলাদ বহু কালা বুক কাব ভিন ৮৮০০৯ হ্যা নিসলন €ব্রাজ্ভ কক্সিকশত্ভা

এপ চ্ছ প্মট

আশজ্ঞ বন্দ্োপাখায় মুব্দুক

শিকীজ্রলাথ নিহভু

দি ঝ্প্রিন্টিৎ হাউিস-

২৯০» স্ঞাছিদাস ন্িহহ €লল কক্সিকাত্তা

ও্রচ্ছদপ্পট সুব্দক

ভাবত €ষ্লাতো ট্াইপ্প স্টুডিও ৭২-_১ কক্লেজ সীট বাধিষ্েছেন

এশ্শিম্সা বাইত ওয়াক ১৯১ €বঞচকখানা1 €নাাভ্ড প্রস্থ কানে আলো কচিজ্ঞ আতগোৌ নী শক্ষ কন ভক্টাচাঙ গুহীীতত

$& ক্যালকাট! বুক ক্লাবের বই

নাদামাটির |

€$ ক্যালকাট। বুক ক্লাবের বই

কঢালকাট। বুক ক্লাবের বই

৪৯৮ ৮৮০1২ 14145511৮ টি

স্থচার দেবীকে নিয়ে দিল্লীর মেয়েমহলে নানাবিধ কাঁনাকানি আজ নতুন নয়।

দিল্লীতে নতুন চাকণী “পয়ে যাদের মেয়েরা এসে নতুন মমাজ বানিয়েছে, তাদেব আওয়০টাক্ট বেশী উচ়।

কেউ বলে, মিন্টো বোডের ধার মাডালে গ। ছম্ছম করে, স্থচার থাকে ওই পাড়ায়! শুনে ভাই, মাখায় দিখি নেই, সব চুল পেছন দিকে টেনে বাধা? গলাবন্ধ জামা, গিন্নিপাড শাডী, গাকে মলিদ। জডাণো,_ অমন ত্রন্দর চেচানা, কিন্ খুলতে দিলে না। জীবনে পাউডার ছু”লো না, শীতের দিনে এক ফোট] ক্রীম মাথলো না, - কিংবা আর* কিছু না হোক, সামান্ত বুস্কামের একটা টিপ! বাবো বছরে বিষে হয়ে আজ পনেবে| বছণ পরে রইলো দিলীতে,_ন| গেল ক্লাব, না ব। সিনেমায়

প্যুরিটান্‌, সন্দেহ নেই! নিজের চেহারার ভঘাতি কেথাও শুনলে ভথানক চ'টে ঘাঘ। বিশেষ করে যদি "সই প্রশন্তি আসে পুরুষের মুখ থেকে এব মধ্যে আছে নাকি সক্ষম দুনীতির ই*ণবা, আছে 'লাভ, ঠাচে তেখমামোদ। অথচ অত বয়স 25৭ করা যা না এটাত আশ্ঘ | একে সন্থানাদি হঘনি, তাব প্পপ পন্:মব ভল-হা 9£,--১তবাং ম্বান্তোব নিটোল বাপন লোতেক চে এছাবে কেন? সবাই দেখে খুশী হয় থৈকি।

কেউ বলে, স্ুুচাক রুপণ-_-একথা মিথ্যে ওব স্বামী পায় এখন সাডে সাতশো, কিন্তু অধরেকে টাকা যায় খয়রাতিতে বামকৃষ। মিশন, কাঁলীবাড়ী, গৌডীয় মঠ-.এই করছে দিনরাত | ঘবেল জানলা বন্ধ, আলো জ্বলে পড়া চলছে। আমাদের রেবা চৌধুরী গিয়েছিল ওর কাছে বাওলা শিখতে সুচারুব নীতি-উপদেশের

ঠেলায় পালিয়ে বেঁচেছে রেবাঁকে নাকি ধমক দিয়ে বলেছে, ব্লাউজের গলার কাপড় অত বেশী কাটতে নেই, ওট। দুর্নীতি ! নতুন ফ্যাশন্‌ মানে নতুন জাতের অসভ্যত। ! সেই থেকে রেবা আর মিন্টো! রোড মাড়ায় না। একথা কে নাঁজানে, দিল্লীর যে-ফোনো আধুনিক মেযে স্ুচাক্ষর ছু চোখের বিষ!

আর একদল বলে, স্বামী বেচারার দুর্দশা! দেখলে কান্না পায়। স্ত্ স্বামী নয়, কিন্তু ভীক স্বামী আগে বৃপেন রাঁয় লুকিয়ে সিগারেট খেতো , এখন অবিশ্তি স্ত্রীর সামনেই খায়, কিন্তু মুখ ধুয়ে কাছে আসে। নুপেন বায়ের গান দিলীতে কে না পছন্দ করে, কিন্তু স্বচারু? বাড়ীতে গানের উল্লেখ করতে গেলেই তুমুল কাণ্ড! সন্ধ্যার পর থেকে স্বামী হাত জোড় করে বসে থাকে, আর স্ত্রী” তাকে শোনায় মহাপুরুষের জীবনী |

আরো অনেক রকমের কানাকানি চলে আমাকে নিয়ে আমি জানি__স্থচারু দেবী বললেন, কিন্তু সব কথাই কি আর আমাদের কানে ওঠে?

অক্টোবর মাসের শেষ দিকে ওরা দুজনে দিল্লী থেকে বেরিয়েছে /সিঙ্গলা . পাহাড়ের দিকে কাল্কাঁয় নেমেছে সকালবেলা সেখান থেকে মোটর নিয়ে অগ্রসর হয়েছে ধরমপুর আর সোলনের পথে। মোটামুটি দিমল| অবধি ষাট মাইল পাহাড়ী পথ,_পৌছতে মধ্যান- কাল উত্তীর্ণ হবে। কালীপৃজার পরে চেঞ্জাসরা সবাই নীচে নেমে গেছে সিমলায় ঠাণ্ডা পড়েছে চারিদিক এখন শান্ত।

এতক্ষণকার আলোচনাট1 ঘুরিয়ে দেবার জন্ নৃপেন বাঁয় বললেন, বেশ চমৎকার ঠাণ্ডা বাতাস দিচ্ছে না?

ক্চারু বললেন, দিচ্ছে ঝলেই রক্ষে! আমি বুঝতেই পাবিনে,

লোকে মে-জুনে কেমন ক'রে থাকে দিলীতে ! আমার অসহ্‌ হয়ে ওঠে এপ্রিলের আগেই তুমি যা হয় করো, আমি কিন্তু দিলীতে আর নয়।

নৃপেন সহাস্যে বললেন, কিন্তু দিল্লীশর ওপর রাগলে আমার চলবে কেন?

রাগবো না? শুধুহুভ্রগের পর হুজুগ__ঢেউয়ের পর ঢেউ ।-- স্চারু বললেন, ঘরে থাকি__কানের পাশে রেডিয়েো! যন্ত্রের উত্পাত, পাশের কোত্বার্টারে পাঞ্জাবী মেয়েপুরষের অবিশ্রান্ত হাসিতামাসার হুললোড়, এপাশের ক্লাবে মাগ্রাজীদের কিচির-মিচির, ওপাশে সেই বুড়ো হেভ মাস্টারের মেয়েটার সর্বনেশে গান শেখার উৎসাহ-_ বলতে পারো শান্তি কোথায়? তার ওপর গরম। দিল্লীর গরম যে সইতে পারে তার স্বখ্যাতি করি, ষে পারে না তার নিন্দে করিনে।

নৃপেনের দৃষ্টি ছিল বাইরের দিকে,_-যেদিকে শ্রেণীবদ্ধ পাইনের সারি নীচের দিকে নেমে গেছে পাখীর কাকলীতে মধ্যাহ্ন কালের পার্বত্যপথ মুখর এক সময় মুখ ফিরিয়ে সে বললে, কিন্তু ডাক্তার বলে তোমার ভাটের অবস্থা খুব ভালো নয়। পাহাডে থাকলে যদ্দি বাড়ে?

উত্তেজিত হয়ে স্ুচারু বললেন, দিল্লীতে আরো বেশী বাড়তো। মনে করো আমাদের ঘরের পৃবদিকের জানাঁলা,-_খুললেই কি দেখতুম ? দশ বছর আগে কেউ কি ভাবতে পারতো দিল্লীর পথঘাঁটে এই বেহায়াপনা?

নৃপেন চুপ ক'রে রইলেন।

সুচাক্ষ বললেন, স্বভাব-চরিত্রের নোংবামিকে সামাজিক স্বাধীনতা!

বলে।? ওই নোংরামির থেকে মুক্তি চাই বৈকি! একেবারে অসহা! তুমি ত' কত জায়গায় যাও; সখী-সঙ্ঘের খবর রাখো ? খবর পাও রোভাস” ক্লাবের? পথ নোংরা হয় ওরা হেটে গেলে! সেই জন্যেই ত” সব জানলা বন্ধ ক'রে রাখতুম !

নুপেন বললেন, কিন্তুঠগ বাছতে গ। উজোড়। তুমি কি মনে করো, পসিমলায় কেবল ভীম্ম-মোহস্তরা থাকে ? সিজ ন্‌ এলে দেখে নিয়ো কাদের মেলা বসে! আমি নিজে দিলীর খবর যত না জানি, তৃমি জানে! তা'র চেষে অনেক বেশী তালিকাটা থাকে তোমার হাতে হাতে!

থামে তৃমি! হরিচরণ তর্কবাগীশের মেয়ে স্চারু বললেন, যারা চোখ বুজে থেকে কিছু দেখতে চায় না, তাদের নাম ভেড়া তুমি আমি চোঁথ খুলি বলেই আমাদের হুর্ণাম। জঙ্গলে যাও, সেখানেও দেখবে জন্তজগতে একট। নিয়ম বাধা আছে এক এক জন্তর এক এক খতু। দিল্লীর ছেলেমেয়েবা সব খতুর বাইরে কী কদর্য!

কলকাতার ছেলেমেয়েরা বোধ হয় নামাবলী জড়িয়ে থাকে?

আবার তর্ক! আঠারো বছর ধ'রে তোমাকে পছন্দসই একটা ছাচে ফেলতে চাইলুম, কিন্তু বাগ মানাতে পারলুম না। আমি জানি তুমি আমার অবাধ্য, আমাকে এড়াতে পালে তুমি বাচো। স্চারুর গলার আওয়াজ কাপলো।

নুপেন বললেন, দিল্লীতে আমি একা, সিমলায় তৃমি একা এই কি ভালো? এর নাম কি স্বামী-ন্ত্রীর ঘরকন্না ? আমার চলবে কেমন করে?

স্থচারু বললেন, চলবে ! সৎপথে থাকলেই চলবে মাঝে মাঝে তোমার ঘাড়ে যেন ভূত ন। চাপে, কদাচ যাবে না মেয়েমহলে গান

শোনাতে ! মেয়ের মুখেব সুখ্যাতি পুরুষের পক্ষে নেশা ! খবরদাপ নিজের হাতে রাপবে, নিজে হবিষ্বি করবে! সাবান দিয়ে কাচবে নিজের জামাকাপড। দাডি কাম্াবে নাপিতেধ দোকানে গিয়ে; কাপড় ছেড়ে ঘরে উঠবে সব সমযে জানবে, আমি আছি আশেপাশে ভালো অভ্যাসগুলো পুরনে। ভ'লে তাদের দাম কমেনা। নুভাপুরুষর! বলেন__

পাহাড়ের বাকের মুখে একটা ঝাকুনি পাগলো নুপেন বললেন, তুমি থাকবে সিমলা এপ, তোমার ভালো লাগবে ?

খুব | সুচারু পললেন, খুব ভালো থাকবো আমার ওই 'লক্ষমীনিবাসে ডাক্তার বেদী আছেন পাশের ফ্র্যাটে। আমার ভাবনা কি? বিশ্বনলাপ কাজকর্ম করধনে, আমি রান্না করবো পাশেই ব্রা্মসমাজ মন্দিব। সকাল সংঞ্ধ্য ওখানেই কাটবে কালীবাড়ীর লাইব্রেরী থেকে রোদ বহ মানবো লোযান লিমলার ধারে শগেনবাবুণ মেয়েবা গাছে, ওদেবকে গড়েপিটে তুলবে।। আমার কোনে ভাবনা নেহঠ।

অক্ট্রয় পেরিয়ে মোটর এসে দাড়ালো কাটরে ডের প্রান্তে এক কয়লার আড়তের কাছাকছি। ঝুলীপ মালপত্র নামালো আগেই চিঠি দেওয়া ছিল, স্ততরাং ভাঃ বেদীর বুদ্ধ স্ত্রী গায়ত্রী বিশ্তনলাল এসে স্ট্যাণ্ডের কাছে উপস্থিত হয়েছে স্ুচারু নেমে এলেন। গায়ত্রী দেবী মিষ্ট উদ ভাষায় বলেন, তুমি ত” কারো হাতে খাও না, তাই বান্্া-বাম্নীর জোগাড় কারে রেখে এসেছি বিশুন, শামান্‌ উঠাও।

নুচারু বিশুনের দিকে ফিরে বললেন, তোর ঠোট কালো কেন রে? আজকাল বিডি খাঁস বুঝি?

বিশুন বললে, বছুৎ সি মালুম হোতি হ্যায়, মায়ি |

বেশ চলো, আমার কাছে থাকলেই টিট হবে!

বিকালের আগেই ওরা “লক্্মীনিবাসেঃ বেশ গুছিয়ে বসলো বুড়ো ডাক্তার বেদী একটু আগে গল্পগুজব ক'রে চ'লে গেছেন। বাংলোর সামনে একটি ছোট বাগান। উচু উচু গাছের পাশ কাটিয়ে একটি পথ উপর দিকে রীজে উঠে গেছে মল্রোড পূর্বদিকে ঘুরে চলে গেছে ছোট সিমলার দিকে, দক্ষিণ পথ ধরে গেলে ওয়েস্টরীজ। পশ্চিমদিকে ধতদুর দৃষ্টি চলে পার্বত্য পাঞ্জাব সন্ধ্যার পরে চাইল্‌ শহরের আলো দেখা বাবে। তার কোলে তাঁরা দেবী। স্থচারুর নৃতন উৎসাহ ফিরে এসেছে। ঠাণ্ডা বাতাসে আর প্রফুল্লতায় তার স্ত্রী মুখে নৃতনতর তারুণ্য এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

বন্রহান্তে নুপেন বললেন, গাউন পরলে তোমাকে মেমসাহেব বলে মনে হাতো।। লোকে কি আর সাধে বলে?

স্থচারু বললেন, কি-বলে শুনি? |

বলে ষে নৃপেন রায় বানর, গলায় মুক্তোর মাল দুলিয়ে বেডায়

চুপ করো, কেউ শুনবে! লোকে অনেক নোংরা কথা বলে। তুমি গায়ে মাখো কেন? শোনো, পরশ যাবার আগে আমাকে ছু" পাউগু পশম কিনে দিয়ে যেয়ো |

নৃুপেন বললেন, যাবার নময় আমাকে কিছু টাকা দিয়ো।

তোমাকে? কেন? তোমার টাকা কি হবে?

আমার খরচ নেই ?

সে-ভাবনা আমার, তোমার নয়। তোমার কাজ রোজগার করা, আমার কাজ থরচ করা এর উপ্টোপথে কখনো হাটবে না স্থচারু গম্ভীর হয়ে গেলেন।

বৃূপেন আর কথা বললেন না। এই মাসে তার পঞ্চাশ টাকা মাইনে বাড়বে, সংবাদট! তিনি চেপে গেলেন।

এক সময় স্থচারু উঠে দঈাড়ালেন। বললেন, চলো

সামনের সরু প্থটিতে বাঁকা রোদ এসে পড়েছে নীচের খদের দিকে ধীরে ধীরে অপরাহ্ণের ছায়া নেমে আসছিল ওরা! ওই পথ ধ'রে এসে মল্‌-এর উপরে উঠলো! এদিকে দৌকানদানি অপেক্ষাকৃত কিছু কম। সিমলায়ু স্থচারুর মন খোলে, আনরু ঘোচে। তার ভালো লাগে না! গরম দেশ, গরমকাল। তার ভালো লাগে না স্বদেশী ঘরকন্মা, মেক্সেমহলের আলাপ, স্থুখস্বাচ্ছন্দ্যের চলতি ব্যাখ্যা এই তার ভালো নিজেকে নিয়ে তিনি তৃপ্ত। ন্বামীর সঙ্গে ষে ব্যবধান ন্যগ্ট্রি হয়েছে দীর্ঘকাল থেনে, তাতে তার কোনো উদ্বেগ নেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একট] চেতনা মাত্র, দড়জোব একটা মনোবৃত্তি--ওট। স্বাভাবিক দুর্বলতা, ওটাঁকে তিনি স্বীকার করেন না। স্বামী চরিত্রবান হলেই তিনি নিশ্চিন্ত, তার বেশী কোনে দাবী নেই | ম্বামী অনেক সময়ে তাকে উত্াক্ত করবার চেষ্টা করতো, অনেক সময় হাত প'রে টানতো, কিন্ত সে গতযুগে স্থচারুর কাছ থেকে প্রশ্রয় না পেয়ে সে চুপ ক'রে গেছে। মেয়েরা নাকি স্বামীর সেবা করে, পায়ের কাছে শোয়, এটো পাতে খায়, রোগের শষ! করে, সন্ধ্যার পরে সোহাগ জানায়, ছুপ্রবৃত্তির পথে টেনে আনার জন্ত বিছানা সাজিয়ে বসে থাকে স্ুচারুর কাছে সব দ্বণয পুরুষের কাছে কোনোদিন সে ছোট হয়নি; স্বামীর কাছে কোনোদিন সে দেন্ প্রকাশ করে নি।

হাটতে হাটতে তারা চললো অনেক দূরে। মল্‌ থেকে তারা আস্তে আস্তে নেমে গেছে আনান্দেলের পথে পথ খুবই নিরিবিলি সরকারী রিজার্ভ ফরেস্ট ডানদিকে রেখে তারা চলেছে নিজের মনে

৪)

নিমলার অন্যসব পল্লী তাদের অতি পরিচিত সেদিকে অনেক লোক, অনেক চেনাশোনা। কালীবাড়ীর ওদিকে স্থচারু যেতে চায় না। ছোট সিমলার ঘিঞ্জি পল্লী তার কাছে বিরক্তিকর। যেতে পারতো তারা বায়লুগঞ্জ পেরিয়ে প্রস্পেক্টের দিকে, কিন্তু সে অনেক দূর তা ছাড়া প্রস্পেক্টের দিকে মেয়েপুরুষের নানাবিধ লুকোচুরি ঘটে, আবহাওয়াট] ঘুলিয়ে ওঠে তা”র চেয়ে এই ভালো

এক সময় স্বচারু বললে, পথট। নতুন মনে হচ্ছে, না?

নৃপেন বললে, দিকে আগে এসেছি মনে পড়ে না।

ফিরবার পথ চিনতে পারবে ত?

পথ হারায় না, যদি লক্ষা ঠিক থাকে

স্থচাঁরু বললে, নীচের থেকে বস্তির আওয়াজ আসছে যেন ?

নুপেন বললে, এগিয়ে চলো দেখা যাক। এই জন্তেই সিমলা আমীর ভালো লাগে না। বৈচিত্র্য কোথাও নেই। অত্যন্ত চেনা একঘেয়ে পথে কেবল হাটা নতুনত্ হারায় একদিনে

_স্থচারু বললে, বড বাজে বকো তুমি! তোমাকে টান্ছে কনটু্‌ সার্কাস, টানছে গোল মার্কেট, টানছে রোভাস”ক্লাব। অসভ্যতাই (তোমাদের প্রিয়। কবে থেকে যে সং্পথে হাটতে শিখবে তাই ভাবি

পথট] এসে মিলেছে গ্রামের এক প্রান্তে এক পাহাড়ী গাও এদিক থেকে শাকসবজি যায় উপর দিককার শহরে শহরের নর্দমা নামে এই সব পথ বেয়ে অঞ্চলে আগে তারা আসেনি বটে

সন্ধ্যার আলো .জ্লেছে। হাটতে হাটতে তারা এসেছে প্রায় তিন মাইল। এখন চড়াই ধরে অন্ধকারে আগের পথ ধ'রে ফিরে যেতে গেলে প্রায় ঘণ্ট। দুই লাগবে তাছাড়া আনান্দেলের ওদ্দিকটা

নাকি সন্ধ্যার পর থেকে যথেষ্ট নিরাপদ নয়। ভিন্ন আলোও নেই ওদিকটায়।

নুপেন বললে, চলো বস্ঞজির পথ ধরেই যাই ওপরে লোকজনের সাড়া আছে। নিশ্চয়ই শর্টকাট পাবো

সত্যি বলতে কি, অন্ধকার পথে স্থচারুর একটু গা ছম্ছম করে। কেন করে বলা কঠিন স্বামী আছে সঙ্গে, কিন্তু তার ওপর নির্ভর কবা যায় না। পুরুষ কি নির্ভরযোগ্য ? তার ওপর ভাগ্য ছেড়ে দিয়ে কি নিশ্চিন্ত হওয়া যায়?

অগত্যা বস্তির পথটাই ধরতে হোলে।। কিন্তু এবার ম্থচার আগে, নুপেন পিছনে পিছনে পিছন দিকে চলতে চলতে নৃপেন হঠাৎ লুকিয়ে একটা সিগারেট ধরিদ়েছে।

সন্কবীণণ পথেব বাকে ছোট্র একটি কাফিখান। দেখে নুপেন থমকে, দীডালো। স্ত্রীর উপদেশের তাড়নায় তাব শুষ্ক, যদি গলাটা একটু ভিছিয়ে নিতে পারতো

কাফিখানার লোকটি তা'র দ্রিকে চেয়ে রয়েছে, কি যেন লক্ষ্য ববছে। পথের আলোয় লোকটিকে ভারী স্থশ্রী মনে হচ্ছে। বয়স বেশী নয়। মাথায় টুপি, পবণে চুড়িদার, গায়ে একটা জোব্বা। কিন্তু এক পেয়ালা কাফিব দাম কত, এই প্রশ্ন করতে গয়ে নুপেন থতিযে গেল। লোকটার দৃষ্টি একাগ্র। অনেকট] যেন অসহায়, যেন অনেকটা কুগাসন্কে'চে মলিন

স্পেন ছু'পা এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলো, মুঝ কো পয়ছান্তে হো?

লোকট। জবাব দ্রিল, মালুম নহি হোতি/ঞ কা।, কাফি পিয়োগে ?

গুদিকে দেরি দেখে শ্চার হন্হন্‌ করে ফিরে আসছে উষ্ণকণ্ঠে বললে, হা ক'রে দেখছ কি ওদিকে? ফিরতে হবে না তাড়াতাড়ি?

১০

গল। নামিয়ে নূপেন বললে, দেখছি লোকটিকে, ষেন চেনা-চেনা !

মানে ?*"স্থচার দাড়ালো

কাফিওয়ালার দিকে স্পষ্ট ক'রে তাকাতেই সে-ব্যক্তি দু'পা কাছে এগিয়ে এলো! নৃপেন এবার চাপ! উল্লাসের সঙ্গে বলে উঠলো, আঁর সন্দেহ নেই আম।কে চিন্তে পারো. নলিনাক্ষ?

কাফিওয়াল! চাপা গলায় বললে, হ্যা পেরেছি

তুমি এখানে? এই অদ্ভুত জায়গায়?

নলিনাক্ষ বললে, আমি এখানে থাকি কেউ জানে না।

স্থচাঁরু একেবারে নিরাক। লোকটার যেমন আশ্চর্য রূপ, তেমনি ক্ন্দর স্বাস্থ্য কিন্তু সমস্তটাই যেন নাটকীয় রহন্য দিয়ে ঘেবা। নুপেন ঘাড় ফিরিয়ে বললে, হোলো বাঙাদিদির ভাগ্নে।

রাঙাদিদি কে?

আমাদের গাঁঁসম্পর্কে পিসি।

উনি এই দূরদেশে পাহাড়ের নীচে থাকেন কনে?

নৃূপেন বললে, ওকেই জিজ্ঞেস করো ?

নলিনাক্ষ হঠ]ৎ সহজ হয়ে বললে, কাফি পিনা তো অন্দরমে আইয়ে_-বছৎ মেহেরবানি।

দ্বিরুক্তি করলে না স্ুচারু। পথ ছেড়ে নুপেনের সঙ্গে সে ভিতরে গিয়ে ঢুকলো সামনে কালিঝুলি-মাখা একটা উন্ভন, পুরনো একটা। টেবলে কয়েকটা ময়লা! পানপাত্র। ভিতরে আসবাঁব-সঙ্জা যেমনি দরিদ্র, তেমনি অপরিচ্ছন্পন। এখানে ওখানে উচ্ছিষ্ট ছড়ানো কেরোসিনের আলোট1 থেকে ময়লা! শিষ উঠছে, তারই দুর্গদ্ধে কাঠের ঘরখানা আচ্ছন্ন পায়ের তলা দিয়ে কোথাকার নর্দমার ঘোলাটে জল বয়ে বাচ্ছিল।

১২.

মোটামুটি পরিচয়াদি হবাঁর পর স্থচারু প্রশ্ন করে বসলো, দেশে কি আপনার জায়গা চিল না? এরকম গাঢ়াকা দিয়ে এখানে থাকার দরকার কি?

এই ভাবে থাকাই আমার দরক।র, মিসেস রায়।

কেন?

নলিনাক্ষ বললে, আমি পলাতক

স্থচারু বললে, কোনে অন্তায় করে এসেছেন কি?

কোন্টা ন্যায়, কোন্টা অন্যায় কে বলবে?

বলবার লোক আছে বৈ কি, আপন হয়ছে! তার খোজ রাখেন ন।__স্থটারুর কণ্ে দৃঢ়তা ফুটে উঠলো

নৃপেন বললে, এমন কী ঘটনা-__যার ভন্তে তুমি পালিয়ে বেড়াও?

নলিনাশর মুখে জবাব শোনাণ জন্য স্ুটারুর আশ্চষ রকম আগ্রহ বেড়ে গেল। নলিনাক্ষ বললে, ঠিক বুঝতে পারিনে প্রকাশ করা উঁচতাক না। বোধহয় উচিত নয়

'স্থচারু বললে, উচিত কি ন। আপান জানলেন কেমন করে?

নলিনাক্ষ একবার মুখ তুলে অ।শাণ মুখ ফিগিয়োনল। জবাবদিহি করার দরকার নেই তার থুপন তার মুখের দবে একবার তাকালো নলিনাক্ষর ছুই চে।খে আশ্চঘ দীপ্ত, মুখে স্বাভাবিক প্রপন্নত1, ভাবভঙ্গীতে কোখাও চাঞ্চণা নেহ স্থচাকরুর উৎস্থক প্রশ্থের উত্তবে সে যেন পরম শান্তভাবে পাশ কাটিয়ে দরে গেল। এতটুকু চাঞ্চল্য নেই তার।

কাঠের বেড়ার পাশ থেকে নারী-এগ্ের প্রম্ম এলো, খানা দিউ, করমচন্! ?

নলিনাশ্* জবাব দিল, ক্যা__বন, চুক। 7

১৩

জি।

রাখ, ছোড়ে থোড়ি দেরমে-***-"

স্থচার ফস্‌ করে জিজ্ঞাসা করলো, কে?

নলিশাক্ষ বললে, কেউ না।

কি বাঙ্গালী?

ন্]।

আপনার রান্না করে কেন?

রান্নাই ওর কাজ।

স্থচারু বললে, আপনার এখানেই ধাঁধে শুধু?

নলিনাক্ষ বললে, এবার হয়ত জানতে চাইবেন, এখানে বিনা 'বেতনে চাকরি করে কি না?--তারপৰ নুপেনের দিকে ফিরে বললে, তুমি হঠাৎ এখানে?

নুপেন বললে, দিল্লী সিমলায় আমার চাকরি ষে। যেতে আদতে হয় যখন তখন। কিন্তু এবার আমাদের যেতে হবে, নলিনাক্ষ অনেকদিন পরে তোমাব সঙ্গে বেশ দেখা হয়ে গেল, মনে থাকবে।

নলিনাক্ষ হেসে বললে, বরং মনে রেখো না, সেই আমার লাভ। তার চেয়েও লাভ কি জানেন, মিসেস রায়? যদি এর পর দেখা আর না হয়।

বৃপেন বললে, তা! ধা বলেছ, তা সত্যি

না, তা সত নয়। স্থচারু যেন আক্রোশের সঙ্গে প্রতিবাদ জানালো- _দেখাটাই দর্শন, জানাটাই জ্ঞান। জীবনটা নষ্ট হচ্ছে, 'ষে দেখতে পায় না, তাকে জীব্নট! চিনিয়ে দেওয়! দরকার বৈকি

সহাস্য মুখে নলিনাক্ষ বললে, চেনাবেন আপনি ?

নৃপেন বললে, উনি অনেক পড়াশোনা করছেন হে!

৯৪

থামোঁ, বোকার মতন স্থখ্যাতি কোরে! না। স্থুচারু স্বামীকে মুখ-থামাল দিল।

নলিনাক্ষ আবার হাসলো নৃপেনের ছূর্দশা দেখলে ভারি কৌতুক বোধ হয়। স্থচারু বললে, হা, আমিই চেনাতে পারবো, বদি চেনব' চোখ আপনার থাকে আজকের মতন উঠছি ওঁকে নিয়ে, কিন্ত মনে বাখবেন আবার আমি আমবো-উনি লা এলেও আসবো

কেন আসবেন, শুনতে পারি কি?

আপনাকে ধবিযে দিতে

ধরিয়ে দিতে !

হা, আপনাব নিজের কাছে পরিয়ে দিতে |

নলিনাক্ষ সহাস্ত মুখে পুনরায় বললে, কথাটা একটু খুলে বলে যান্‌ ত!

অশোভন এবং অহেতুক বিতর্কর চেহারা দেখে নৃপেন যেন একটু বিব্রত সঙ্কুচিত বোধ করছিল কিন্ত স্থুচারুর ঘাড়ে যেন ভূত চেপে গেছে সে বললে, আমাব চোখের সামনে অপঃপতন কারো ঘটচুল 'আমি বরদাস্ত কার নে।

আপনি কে?

আমি? স্থচারু বললে, ধরুন, আমি দেশের একজন মহিলা

আপনার আর কি পরিচয়?

আর একটা পবিচঘ এই, আমি কখনও অন্যায় করিনে, অন্তায় সই ওনে।

কথাট1 কতখানি ছুঃসাহসের হোলো, তা আপনি বোঝেন ?

সুচারু বললে, নিশ্চয়

নলিনাক্ষ এবার শান্তকণ্ঠে বললে, আমার অধঃপতনের কী দেখলেন

৮৫

আপনি,--জানতে ইচ্ছে কর্ে। কিস্ত আজকে থাক্‌, আপনাদের রাত হয়ে যাচ্ছে।

পেন বললে, হা। ভাই, ফিরতে আমাদের আজ একটু দেরিই হবে দেখছি আজ আমর] উঠি।

দরজা পর্যস্ত এসে নলিনাক্ষ এবার একটু চাপা গলায় বললে, দশ- এগারো বছর পরে এই প্রথম চেনা লোক দেখলুম আমার এখানে পাঞ্জাবী পরিচয়,_-এই আমার দৌোকান। ঠিক আমার নয়, একজন মেয়েছেলের। আমার সামান্য শেয়ার আছে মাত্র

স্থচারু বললে, মেয়েছেলে মীনে”_ওই যার গলা তখন শুনলুম ?

'ন], ঠিক নয়।

রহসাটা এতক্ষণ পরে যেন আরো কিছু ঘন হয়ে উঠল। প্রথম থেকে এখন পধন্ত নলিনাক্ষর বাইরের চেহারাটায় কোথা অশলৌজন্ত নেই, অথচ ছোয়াচে গন্ধে আভাসে কেমন যেন্‌ একট] গভীরতর এবং নীতিবিগহিত জীবনযাত্রার সঙ্কেত খুজে পাওয়া যায়। তার স্পষ্ট চেহারাট। বুঝতে পার যায় না, অথচ তাব অম্পষ্ঠ ভয়াবহ চেহানাটাও ভাবতে ভালো লাগে না।

ম্ুচারু পুনরায় বললে, আপনার থাঁকা হয় কোথায়?

নলিনাক্ষ জবাব দিল, এই দোকানেই থাকি--পাশে একটা চোর-কুঠরী আছে, তার জানলা-টানপা নেই য| হোক করে রাতটা কাটিয়ে দিই

আমি এলে কি আপনি বিভ্রত বোধ করবেন?

হাসিমুখে নলিনাক্ষ বললে, তা একটু করবো অবিশ্যি। তা ছাড়। আপনার আপবার কারণট! স্পষ্ট না জান] পর্যন্ত আমার আড়ষ্টত1 কিছু থাকবে বৈকি।

১৬

নৃপেন হাসিষুখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললে, বুঝতে পাচ্ছ, এখানে তোমার কোন অভ্যর্থনা নেই ?

স্থচারু বললে, গ্রাহ করিনে। আমার দা্লিত্বপালনের জন্তেই আমাকে আসতে হবে

দায়িত্ব!

হ্যা, দায়িত্ব ৫ব কি। যাকে বলে, ৫নতিক দায়িত্ব কিন্তু আজ থাক্‌ সেকথ। এসো--

এই বলে কেনোপ্রকার বিদায়-সম্তাষণের অপেক্ষা না রেখেই স্থৃচার আগে আগে এগিয়ে চললো নুপেন্রে হাতঘড়িতে তখন নয়ট1 বেজে গেছে।

সামনে চড়াই পথ আকাবাকা। দূরে দূরে এক একটা আলো অলছে। কিন্তু আশপাশট থমথমে অন্ধকার পাইন আর ঝাউয়ের বনে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে কোনো কোনো বস্তি থেকে দেহাতি শিখদের ডুগড়ুগি গান শোনা যাচ্ছে। তাদেরকে এধন অনেকটা পথ উঠে যেতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অনেকটাই যেন ছাত্র শিক্ষকের স্থৃতরাং বিশেষ কোনো সময়েই ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা ওঠে না।

এক সময় স্ত্রীর সঙ্গে সমপদক্ষেপ রাখার জন্ত নৃপেন একটু ভ্রতপায়ে এগিয়ে এসে স্ুচারুর পাশে পাশে চলতে চলতে বললে, নলিনাক্ষ ওর মায়ের বাধ্য ছিল না কোনদিন তাছাড়া অল্প বয়স থেকে চুরি- জোচ্চরিতে হাত পাকিয়েছিল। আমরা সবাই ওকে ভয় করতুম। লেখাপড়া মোটামুটি মন্দ শেখে নি। একবার বাড়ির. সিন্দুক ভেঙে গয্পনাপত্র নিয়ে নলিনাক্ষ সিঙ্গাপুরে পালায়। সেখানে এক চীন! মেয়ের সঙ্গে আফিং চোলাইয়ের কারবার করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

১৭

তারপর কবে যেন জেল ভেঙ্গে পালায়। আমার ছোট খুড়ার ভাই ফরেস্ট-রেঞ্ারের চাকরি করতেন রায়পুরের জঙ্গলে-তিনি ওকে দেখতে পান সেই জঙ্গলে-ও তখন সেখানে কাঠের ব্যবসা করতো]

স্থচারু বললে, বিয়ে-থা করে নি? |

বিয়ে? আজও কেউ জানে না। বাঙ্গাদিদির বাড়ি থেকে একবার শুনে ছিলুম,--ও নাকি অনেক জাতের মেয়েকে নিয়ে অনেকবার ঘর করেছে কিন্তু কেউ দাড়িয়ে নেই, কোনদিন জলের ওপর দাগ পড়ে নি। |

স্থচারু বললে, সব দোষ তোমাদের উনি যে কোনদিন সং-সঙ্গ পান নি--কেউ যে ওকে কোনদিন টেনে তোলবার চেষ্টা করে এন, অপরাধ তোমাদের সকলের মানুষ ছোট হয়ে জন্মায় নাঁ_-তাকে ছোট করে চারিদিকের সকলে।

তুমি ওর সন্বদ্ধে কি মনে করো?

স্থচারু বললে, আমি মনে করি ওর সর্বনেশে চেহারাটা ও"র সামনে কেউ কোনোদিন তুলে ধরে নি। সেইজন্যে উনি নিজের স্বভাব- চরিত্রের সাংঘাতিক চেহারাটা কোনোদিন দেখতে পান নি। দেখলে উনি নিজেও ভয় পেতেন এবং হয়ত অন্থতাপের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে ভিন্নপথে পা বাড়াতেন

নৃপেন বললে, তুমি একাজ পারো।?

স্থচাক অন্ধকারে চলতে চলতে একপ্রকার কঠিন উপেক্ষা আত্মবিশ্বাসের হাসি হাসলো পরে বললে, আঠারো বছর আমার কাছে থেকেও তৃমি আমাকে চিনতে পারে৷ নি! হরিচরণ তর্কবাগীশের মেয়ে আর কিছু না হোক, কাজটা বোধ হয় ভালোই পারে।

নৃপেন আর কোন কথা বললে না।

১৮

সকালবেল! থেকেই স্থচারুর একট] হুর্ভেচ্য গাভীর্য দেখা যাচ্ছিল-__- যেমন দেখা গিয়েছিল গতরাত্রে রাত্রে বাংলোয় ফিরে কলের পুতুলের মতো সমস্ত কাজই সেরেছে-_-এমন কি সহসা ধা করে না কোনোদিন-- বৃপেনের বিছানাট1 সধত্বে গুছিয়েও দিয়েছিল * কিন্ত আন্দাজে নুপেন বুঝতে পেরেছিল, বান্রে পাশের খাটিয়ায় স্থচারক খোল চোখে প্রায় সারাক্ষণ জেগে ছিল। আজ সকাল খেকেও তাই। ঘরকন্নার ব্যাপারটা! তার কাছে গৌণ ওটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে সে কিছুমাত্র সময় নিল না। বিশুনলাল চোরের মতো! আশেপাশে থেকে তাঁর কাজকর্মে নানারূপ সাহায্য করে দিল।

সকালের দিকে গরম জলে স্নান করে নৃপেন বেরিয়েছিল। ফিরে এলো কয়েকখানা বই হাতে নিয়ে। এসব বই স্বচারুরই ফরমাস। অপরাধতত্ব, সমাজনীতি-তত্ব, নান্তিক্যবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের মোট! মোটা গ্রন্থ বইগুলি রেখে নৃপেন বললে, সিমলায় এসে এবার দেখছি ভালো আপদ জুটে গেল। কিন্তু নলিপাক্ষকে কি তুমি বাগ মানাতে পারবে?

স্থচারু বললে, কোন বিষয়ে হার মানতে নেই !

নৃপেন বললে, তবে একথা ঠিক, নলিনাক্ষর যে রকম বুদ্ধি আর প্রতিভা ছিল,_-ও যদি ভালো পথে চলতো--একজন মানুষের মতন মান্য হতে পারতো | কিন্ত আমি আর কোন আশা দেখিনে

স্থচারু এগিয়ে এসে বললে, আমাকে নিরুৎসাহ ক'রে! না। তুমি দেখে নিয়ো, আমি ওকে ফিরিরে আনবো মনুষ্যত্বের ডাক, ধর্মের ডাক,_কিছুতেই ওকে নোংরায় ডুরে থাকতে দেবে না। আমি দেখেছি, ওর মধ্যে প্রতিজ্ঞা আছে, আত্মবিশ্বান আছে, এমন কি লক্ষ্যও আছে। কিন্তু আলে! নেই ওর চোখের সামনে,_ওর ছুই চোখে

১৪

ঠলি-বাধা। ঝড়-বাতাস বাচিয়ে আলোটা হাতে নিয়ে ওকে পথ দেখিয়ে ষেতে হবে। তোমাকে এও আমি বলে রাখি, য্দি ওকে টেনে তুলতে না পারি, তবে মিথ্যেই আমার এতদিনকার তোডজোড়। মিথ্যেই আমি এতদিন "অহঙ্কার করে এসেছি

স্থচারুর চোথের দীপ্তি ঝলমল করছিল অনেকট!] যেন মহীয়সীর চেহার!। নৃপেন জানে, যে বিষয়টা! নিয়ে এখন থেকে স্চারুর মনে ভাবন! ধরে রইলো--তার একট পরিণতি না হওয়া প্যস্ত সে আস্থর হয়ে থাকবে। এর কাছে ঘরকন্না অথবা আর যাকিছু সব মিথ্যে। স্বামী পর্যন্ত পড়ে গেল এর অন্তরালে বড় কঠিন মেয়ে সে। বড় অনন্যসাধারণ।

বুপেন বললে, আসছে কাল আমার যাবার কথা। কিন্তু আজ রবিবার, আজই গেলে কাল সকাল থেকে আপিস করতে পারি। তুমি কি বলো?

স্থচারু বললে, তুমি গেলে আমার এখানে অস্থবিধে কিছু হবে না। বিশুন রইলো, ডক্টর বেদী রইলেন। সামনের সপ্তাহে টাকা পেয়ে পাঠাবে। তোমার. ওখানকার খরচের হিসেবটাও অমনি পাঠিয়ে দিয়ো।

সামনের শনিবারে আমবো কি?

ন। এলেও চলবে।

'নুপেন বললে, তোমাকে দ্িলী যাবার কথা বলাই মিথ্যে

স্ুচারু বললে, এখানে যদি বরফ পড়ে, তবে দিনকয়েকের জন্টে দিল্লী যাবার ইচ্ছা! রইলে।।

বূপেন সেইদিনই দুপুরে মোটর নিয়ে কাল্কার দিকে অগ্রসর এহোলে। মোটরে বসে সে নিজের মনে হীসছিল। নলিনাক্ষর পরিবর্তন

| 1 হও

কি 'দ্টত[1 অসভব। পাথরের গায়ে প্রাণুপণে মা ঠকলেও পাথর

টলে না, কিন্তু মাথাটার দুর্দশ! ঘটে এই ছন্দে দুদিকের ছুটে শক্তিই প্রবল সন্দেহ নেই-__নৃপেন জানে নলিনাক্ষ সকল সংস্কারকে টুকরো টুকরো! করেছে, টনিক চেতনার গলা টিপে মেরেছে, বর্বরতা কদাচারকে আপন রঙের সঙ্গে মিশিয়ে রেখেছে-দ্বিধাহীন নিঃসক্কোচ অপরাধের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছে এদিকে সথচারুও কী কঠিন! আগুনের মতে। সততা৷ তার ম্বভাবজ, প্রতিজ্ঞীয় স্ুকঠোর শুচিতায় গঙ্গার মতে৷ পবিত্র, চিত্তের প্রবল দুঢ়তায় সে ভয়হীনা। কিন্তু নুপেন আবার হাসলো পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরিয়ে নিশ্চিন্তভাবে টান দিল। জল উচু দ্রিকে ছোটে না, সুর্য পশ্চিমে ওঠে না, মৃত্যুর পর কে গ্রাণলাভ করে না।

নুপেন আবার সিগারেটে টান দ্িল। মোটর নামতে লাগলো! খদ্র বীচিষে এবেবেকে।

নুপেন যাবার পর দবজা বন্ধ করে স্থচার পবীক্ষাথ্িনী ছাত্রীর মতো বই নিয়ে একমনে বসে ছিল। দুর্নীতিও একটা নীতি ধরে চলে, সেটা অসংলগ্র নয়। তার পদ্ধতি আর নিয়ম দুটোই আছে। অপরাধের মধ্যেও বিবেক তাঁর কাজ করে যায়। তার নাম অন্তর্ধামী। অনৎ- বৃত্তিকে বুদ্ধিই পথ দেখায় চিত্তকে অসাড় করে রাখে বুদ্ধি।

স্থচারু বসে বসে জটিল প্রশ্নের মীমাংসা করে।

শীতের দিনে পাহাড়ের বাসিন্দার! মধ্যাহু-রৌদ্রেই ভ্রমণে বেবিয়ে পড়ে, অপরাহ্নকালে ফিরে আসে বাংলোয় ফিরবার আগে সন্ত্রীক ডাঃ বেদী এসে চারুর ঘরের কড়া নাঁড়েন। স্থচারু চমকে উঠে গিয়ে দরজা খুলে সহাস্যে দীভায়

ডাঃ বেদী বললেন, তুম নে বনৎ পড়েদার ছু? রায়সাব কিধর গায়ে? চা পিয়োগে নহি?

স্বচারু বললে, ম্যা অকেলে ভু

গায়ন্ত্রী বললেন, কি'উ ? লড়ক! মেরে কীহা গিয়া?

দিললী।

দিলী! চিড়িয়া নে ভাগ গিয়া?

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই হেসে উঠলেন। গায়ত্রী দেবী বললেন, মনে করেছিলুম তোমর1 দুজনে চা খাবে আমাদের সঙ্গে। তা তুমি এসো মা শুধু বই কাগজ নিয়ে থাকতে দেবো! না। এবার প্রায় তিন মাস পরে এসেছ

আচ্ছা চলুন,__ ্‌

দরজাটা টেনে দিয়ে স্থচারু তাদের সঙ্গে পাশের ফ্ল্যাটে গেল। বিশুনলাল ভিতর মহলে রান্নাবান্নীর তদ্ধিরে রইলো

বইগুলি পড়ে শেষ করতে লাগলো প্রায় তিন সপ্তাহ। এর মধ্যে নগেনবাবুর বাড়ির মেয়েরা এসেছে ছু-চারবার, সতীশ টমত্রের স্ত্রী এসে দিন ছুই নিজে নিজেই আমোদ-আহলাদ করে গেছেন, বিশুনলাল একদিন পা ফস্‌কে পাহাড় থেকে পে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এবং বৃদ্ধা গায়ত্রী দেবী বাধতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলেছেন কিন্তু স্থচারুর ধ্যান- ভঙ্গ হয়নি। এর মধ্যে কবে থেকে যেন সন্ধ্যার পর ঘরের ভিতরকার ফায়ারপ্লেসে কাঠের আগুন ধরিয়ে রেখে বিশুনলাল চলে যাঁয়__ স্কচার সেদদিকেও ভ্রক্ষেপ করে নি। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহও শেষ হয়ে এলো িমল! শহর ক্রমেই জনহীন হয়ে আসছে।

সেদিন সকাল দশট। আন্দাজ স্থচারু নলিনাক্ষর দোকানে এসে গৌছলো। নলিনাক্ষ তখন পানপাত্রগুলি গরম জলে ধুচ্ছিল। দোকানে চুকে স্থচারু কাঠের পার্টিশনের পাশে গিয়ে এক জায়গায় বসলো!

তার সব্বাঙ্গ পশমের চাদরে ঢাকা-_মুখখানা কেবল খোলা দোকানে কয়েকজন পাহাড়ী কাফি খাচ্ছিল

কিন্তু ভিতরে না বসে তারা৷ বাইরের রোদে পিঠ দিয়ে বসেছে। দোকানের ভিতরটা বেশ ঠাণ্ডা

নলিনাক্ষ এসে দঈীড়ালো। বললে, কাল আপনাকে একট] কথা জিজ্ঞেস করা হয় নি।

স্থচারু বললে, আগে আমার কথার জবাব দিন।

কি বলুন?

ছোটবেলা আপনার মা কেন অত যারতেন আপনাকেশ্কী কী কারণ তার?

নলিনাক্ষ বললে, মারটাই মনে থাকে, কারণটা নয়।

আপনার প্রথম অন্যায় কাজ কোন্টা__যেটা আপনার আজও মনে আছে।

শিশু যদি কাচের পেয়ালা ভাঙ্গে সেটা কি তার অন্যায় কাজ?

স্থচার বললে, দেখুন, আমার সময় কম। আমাকে পাহাধ্য না করলে আপনাকেও আমি সাহায্য করতে পারবো না।

আমাকে সাহায্য করবেন আপনি? এটে। পেয়ালাগুলো ধুয়ে দিতে পারবেন কি ?-_নলিনাক্ষ সোজা হয়ে তাকালো

দরকার হলে দিতে হবে।

রাস্তার ধারে বসে ছেঁড়া কোর্তা সেলাই করতে পারবেন ?

স্থচারু বললে, মেয়েমাত্রেই সেলাই জানে শুন, আপনি কি জানেন, একটি দ্রিনে নিজেকে নষ্ট করা যায়, কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চরিত্রের উন্নতি কর] যায় না? কি আপনি মানেন না?

নলিনাক্ষ প্রশ্ন করলো, চরিত্র যানে কি?

২৩

যে-পরিচয়ে আপনি পরিচিত।

কার কাছে?

ধরুন, আমারই কাছে।

হাসিমুখে নলিনাক্ষ বললে, আমি নিজের পরিশ্রমে অন্নসংস্থান করি, আর আপনি অপরের পরিশ্রমে খেয়ে উপদেশ ছড়িয়ে বেড়ান্‌।

জুচারু বললে, আপনি তবে জবাব দেবেন না?

আমার লময় নেই, মিলেল রায়

স্থচারু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো জন ছুই অল্পবয়সী মেয়েছেলে এবং একটি ছোঁকর1 সামনের উন্ুনটার আশেপাশে কাজ করছিল। তাদ্দের দিকে একবার তাকিয়ে সে পুনরায় প্রশ্ন করলে, এর" কে আপনার?

নলিনাক্ষ মুখ তুলে তাকালো তার চোখে বিরক্তির দাগ ফুটেছে। বুঝতে পারা যায়, জ্ত্রীলোকের অনাবশ্তক কৌতৃহলের

ংবার জবাব দেবার জন্য সে মোটেই প্রস্তত নয়। তবু সে বললে, একই গাছে নান! পাখী বাঁসা বাধে কার সঙ্গে কার কি সম্পর্ক বলা যায় না।

স্থচার সেদিনকার মতো! উঠে পড়লো ছৃখানা বই তার হাতে ছিল, তাই নিয়ে দে দোকান থেকে বেরিয়ে ' পড়লো ওই লোকটার ওপর বাগ করা যায় না, অথবা ওর কাছে কোন অভিমান রেখে ধাওয়াও যায় না। সম্ভবত তার নিজেরই বিশ্লেষণে কোন একটা ভূল থেকে বাচ্ছে। ন্থৃতরাং আর কোনে! কথা না বাড়িয়ে সে নিজের পথে চলতে লাগলো

দিন তিনেক আগে নৃপেনের একথানা চিঠি এসেছিল সেখানা তেমনি পড়ে রয়েছে বিকালের ডাকে উত্তর পাঠাবার জন্য স্থচারু

আহারাদির পর চিঠি লিখতে বসে গেল। সেই চিঠিতে যথারীতি ব্যক্তিগত কথা সামান্যই, বাকি সমস্ত চিঠিখানাতেই নলিনাক্ষর আলোচনা তাকে সংস্কার করতে হবে, বদলাতে হবে, সমাজের সেবায় তাকে প্রয়োজনীয় করে তুলতে হবে? সৎ ব্যক্তিরা আমার কাছে থাকে, কিন্ত অপরাধীর! আমাকে এড়িয়ে চলতে চাঁয়। নলিনাক্ষ আমাকে ভয় করে, কেননা ওর ভেতর অপরাধী মান্ষট৷ অত্যন্ত ভীরু আমার কাছে মাথা হেট করতে চায় না, পাছে ওর নিজের আসল চেহারাটা দেখে ভয় পায়। কিন্তু আমি ওকে ছাড়বো না, ওকে আমি ফিরিয়ে আনবোই | দিন দিন প্রতিজ্ঞা আমার কঠিন হয়ে উঠছে ওর জন্যে নগেনবাবুর মেয়ের আমার সম্বন্ধে নানাকথা বলাবলি করে, ভাক্তারবাবুরা যখন তখন আর আমার এখানে আসেন না, আমি কোথায় যাই, কেন যাই, কার কাছে যাই--এ নিয়ে কারো কারো মাথা-ব্যথাও দেখতে পাই তুমি আসতে পারো, সে. তোমার খুশি, এসে দু-চারদিন কাটিয়েও যেতে পারো-__সেও তোমার খুশি কিন্তু আমি এখানে দিবারাত্র নলিনাক্ষর বিষয় নিয়েই আছি, ছাঁড়া আমার কোনো কাজ নেই,__চিন্তা, ধ্যান, জ্ঞান কোনোটাই নেই। আমি এতদিন পরে এবার জানতে পেরেছি, নলিনাক্ষকে টেনে তোলাই আমার জীবনের একমাত্র কাজ।

চিঠিখানা হথচারু সেইদিনই পাঠিয়ে দিল। বুষ্টি নামলে। লক্ষ্ী- নিবাসের ওপরে করোগেটের চালা,_-শীতের বাতের বৃষ্টিতে চালা থেকে জল চুইয়ে পড়ে কি না, জানবার জন্য ছাতা মাথায় দিয়ে বৃদ্ধ ডাক্তার বেদী বারান্দায় এসে উঠলেন। দরজা ঠেলাঠেলি করতে ভিত্তর থেকে বিশ্তনলাল দরজা খুলে দিল। ভাক্তার বললেন, মান্িজী (কোথায়?

নর

এখনও আসেন নি।

সে কি, রাত দশটা বাজে, এই ভয়ানক শীত-_বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড়ে-_ তিনি এখনও বাইরে ? কখন্‌ বেরিয়েছেন ?

সকালে

স্টেী।

বেদী ঘরের মধ্যে চিস্তান্বিতভাবে এদ্রিক ওদিক তাঁকিয়ে দেখলেন, না, কোথাও জল চৌয়াচ্ছে না। তারপর কি যেন ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সর্বাঙ্গ ভিজে সপদপে অবস্থায় স্থচারু বারান্দায় এসে উঠলে৷।

ডাক্তার ব্যস্ত হয়ে বললেন, কোথায় ছিলে মা? রাত যে অনেক। এই বৃষ্টি

স্থচারু সহান্তে বললে, নীচের বস্তিতে গিয়েছিলুম,__-ওখানে আমাকে প্রায়ই একটি লোকের কাছে যেতে হয় তাকে নিয়ে আমি খুবই ব্যতিব্যস্ত, ভাক্তারবাবু।

আচ্ছা, সে পবের কথা,_তুমি এখন কাপড় চোপড় ছাড়ে মা। আমি এসেছিলুম তোমার ঘরে জল পড়ে কিনা দেখতে-_বাইরে খুব বি হচ্ছে আমি যাই | ডাক্তার চলে গেলেন ন্ুচারু ভিতরে এলো বিশুন কতকগুলো কাঠ এনে ফায়ারপ্লেসে চাপিয়ে দ্িল। স্থচারু কাপড়চোপড় ছেড়ে আগুনের পাশে এসে দাড়ালো

আগুনটা জ্বলতে লাগলো তারই পাশে বসে কোনমতে আহারাদি সেরে গরম জলে হাত ধুয়ে বিছানার মধ্যে গিয়ে সথচারু ঢুকলে! বিশুনলাল তার নিজের কাজ সেরে পাশের ঘরে চলে গেলে।

চালার ওপরে বৃষ্টির শব্ধ হচ্ছে বাইরের পথ জনশূন্ত সে জানে।

হত

পাহাড়ে পাহাড়ে চেরীর জঙ্গলে ঝড়ো বাতাস দৌরাত্ম্য করে চলেছে _এও সে দেখে এসেছে আনান্দেলের বিশাল ঘোড়দৌড়ের মাঠের আশেপাশে হয়তো কোনো বনাজন্ত বৃষ্টির তাড়নায় এতক্ষণ ছুটোছুটি করছে। ফিরবার পথে উপর থেকে কী খরবেগে বৃষ্টির জল নামছিল তার ছুই পায়ের ভিতর দিয়ে,--একটু অসতর্ক হলে তার বিপদ ঘটে যেতো তার ভয় নেই, জড়তা নেই--কিন্তু এই বিশাল শৈল-শহরের প্রকাশ্য পথের ভয়ানক ছৃর্ধোগের মধ্যে একমাত্র প্রাণী ছিল সে,_এই হুঃসাহস কিছুদিন আগেও তার ছিল না।

চোখ বুজে স্থচারু দেখতে পেলো, কী দ্বণা বিরক্তি নলিনাক্ষর মুখে চোখে একজন মহিলার প্রতি সাধারণ সৌজন্যও সে জানে না, না জানে সামাজিক আচরণ। বছর পাচেক আগে দিলীর একজন দুশ্চরিত্রা স্্রীলোককে সে সংপথে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল সে এখন বিবাহ করেছে এক বেনিয়াকে। ছুজনে ভালই আছে। কিন্ত নলিনাক্ষর উপেক্ষা তাচ্ছিল্য সইবার মতো! শক্তি তাকে আহরণ করতে হবে বৈরি বন্য হিংস্র ভক্তকে পোষ মানাতে গেলে চারিদিক থেকে লৌহকার৷ স্থষ্টি করতে হবে লোকট। দীর্ঘকায় বলিষ্ঠ, রূপবান কিছু শিক্ষিত,__স্থতরাং বদলাতে সময় মেবে। নৃপেন যাবার সময় বলে গেছে, ওর সঙ্গে সাবধানে ডিল করবে? ওর নামে এখনও ছুটো খুনের মামল! ঝুলছে,_-কিন্ত আত্মীয়রা দয়! করে ওকে আজো ধরিয়ে দেয় নি। ডাকাতি ওর পেশ। - ওর পেশা হোলো! লোকের সর্বনাশ করা

নিত্যই একটি মানুষের ওপর দ্রাগ পড়ে এসেছে অসাধুতার দাগ, ছুশ্চবিত্রের দাগ, ডাকাতির দাগ, লাম্পট্য ব্যভিচারের দাগ, হত্যাকারীর দাগ--কত রকমের ছাপ নলিনাক্ষ বহন করছে। কিন্তু মানুষের অস্তনিহিত সততা? সে কি কখনও কলঙ্ক মাখে? সেষে

নিফলুষ! সে আছে গোপনে, অলক্ষ্যে, অগোচরে সে যখন বাইরে আসে, সমস্ত দাগ মুছে নির্মল হয়ে বেরিয়ে আসে সেই জ্যোতির্ষয়ের অসীম দীপ্তি--তার অনস্ত সৌন্দর্য সুচারু বিশ্বাস করে-_বিশ্বাস করে সেই বস্তু, যার নাম মানুষের অস্তনিহিত সত্তা

এই তার নিজের একট! অবাস্তব জীবন। এই বিশীল জনশূন্য শৈলশহরে সে একা স্বামীর থেকে সে বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্ন সে জীবনযাত্রার থেকে লোকসমাজে সে অপ্রিয়, সে জেদী, নীতিধ্বজী _-সে বন্ধুহীন একা সে একটা পরিকল্পনা নিয়ে দিন কাটায়, সেটা অস্বাভাবিক হোক, অসম্ভব আর উদ্ভট হোক, মানুষের নৈতিক আর সামাজিক সমর্থন সে খুজে না পাক্‌--কিস্তু নিজের বিশ্বাস থেকে *তারু বিচ্যুতি ঘটলে চলবে না। স্থকঠোর সেই পথ, কেননা সেই পথ আত্মদর্শনের নিজকে নিভৃলভাবে চেনা হলেই অপরের মানস সত্ব তার কাছে প্রতিভাত হবে। বিশ্বাসের জোর তার আছে, তাই সে অসীম ছুঃসাহসে একা পথ চলে। স্বামীর ভালোবাস সে পেয়েছে কিনা মনে পড়ে না, কিন্ত' স্বামীকে সে ভালোবাসতে দেয় নি। তার চারিপাশে নেহ-মোহ-বন্ধনের কোন দাগ পড়ে নি; প্রজাপতির মতো এবেশমের গুটি পাকিয়ে পাকিয়ে আত্মবিলোপের চক্রান্ত সে স্যষ্টি করেনি সেই কারণে স্বামীর সঙ্গে আবাল্য তার সংযোগ আছে, কিন্ত মিলন নেই। বন্ধুত্ব আছে, কিন্তু এঁক্য নেই? আত্তবিক কল্যাণবোধ আছে, কিন্তু নিবিড় অনুরাগ 'নেই

কত রাত্রি কেজানে! এখনই রাত পোহাবে কিনা তাও বুঝতে পারা যায় না। ঘর থেকে শোনা যাচ্ছে, বিশ্তনলালের অস্পষ্ট নাসিকাধ্বনি। স্থুচারু চোখ খুললো কখন যেন বৃষ্টি বাতাস থেমে গেছে। কিন্ত নিশ্ছিত্র ঘরের মধ্যে কী বুকচাপা নিরেট অন্ধকার !

খ্৮

চোখ খোলো, অন্ধকারের সেই গভীরতা ; চোখ বন্ধ করো, সেই একই নিবিডতা। কিন্তু এই অস্থিরতা তার বুকের মধ্যে পোষা থাকলে রাত্রি সহজে কাটবে না। অন্ধকারের গ্রাসের কাছে সে বশ্ঠতা স্বীকার করবে না!

সহসা স্থচারু উঠে পড়লো লেপের বাহিরে কী কঠিন ঠাণ্ডা, এক মুহূর্তে হাত-পা আড়ষ্ট হয়ে আসে। ফায়ার-প্লেসের দিকে তখনও আগুনের তাপ আছে, কিন্তু সমগ্র ঘরখানার তুলনায় নে উত্তাপটুকু সামান্যই স্্চাক খাট থেকে নেমে এসে আলো জ্বাললো। সামনের দেওয়ালে ঝুলছে পরমহংস শ্রীরাঘকৃঞ্কদেবের একখাঁনা ছবি স্থচারু তাধ নীচে গিয়ে ঠাণ্ডা দেওয়ালে মাথা রেখে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো গলার ভিতর থেকে কুগুলী পাকিয়ে উঠছে একট আর্তম্বর, কিন্তু সে তক্কাদে নি কোনোদিন তার দুঃখ নেই, ব্যথা-বেদনা নেই, কোনো কিছু পাবার জন্য লালামিত প্লে নয়, হ্ৃদক্জাবেগের ধার সে ধারে না কামনা-বাসনা-লিপ্পার সে অতীত--তবে? তবে কেন কান্না তার' কে? অতীত জীবন তার গৌরবের--লামনের জীবন তার আদশের, কিন্ত তবু সে ভিক্ষা চায়। ভিক্ষা চায় সে শক্তি, অখণ্ড অব্যাহত আত্মবিশ্বীদ। তাকে পেতেই হবে, নইলে অপমৃত্যুর হাত থেকে কারোকেই সে তুলে আনতে পারবে না। ঠাকুর, সেই শক্তিলাভের ইষ্টমন্ত্র আমার কানে দাও আমাকে প্রবল প্রাণ দাও, প্রথর জীবন দাও,_-অন্থায়ের বিরুদ্ধে দাড়াবার অজেয় শক্তি দাও; জ্ঞানের নির্মল আলোয় মানুষকে ফিরিয়ে আনার অধ্যবসায় দাও।

স্থচারুর দুই চক্ষে জলধারা নামলো

নং সা নং

দোকানের সামনে রোদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে হ্ুশ্রী মেয়েটি.

৪)

ছুরি দিয়ে আলু কুটছিল। অদুরবতিনী শ্থুচারুকে দেখে সে বললে, বিবি রহী ফিন্‌, করমচন্দ

ভিতর থেকে করমচন্দ বললে, আনে দেও) কই ফিকর নেহি।

সুচারু সামনে এসে দাড়াতেই মেয়েটি পুনরায় বললে, ক্যা, অন্ধেরে বারিষমে কাল রাত মে গ্যা। জানকে ভর মালুম হোতি নহি?

স্ুচারু বললে, জি, নহি বহিন-_-ভগবানকো হাত মে জান্‌ ছোড়া হুয়া” |

ইয়ে আস্লি বাত হু ভগবান তুমার! ভালা করে। মরদ কাহা তুমারি ?

দিল্লীমে নোকৃরি করতা হু

মেয়েটি আরে! যেন কি প্রশ্ব করছিল, এমন সময় নলিনাক্ষ বেরিয়ে এলো সহাস্যে বললে, ম্যানে শোচ. রহা কি কাল আপকা বন্ৎ তকৃলিপ হো চুকা পহোছনে। আহইয়ে বৈঠিয়ে অন্দরমে

স্থচারু ভিতরে এসে বললে, আরাম-তকলিফ --ও দ্িল্‌কো বাত, হায়, করমচন্দজী! উসমেসে তো দিল্‌ বিগাড়তি নহি-"'যব তক্‌ ভগবান্‌্কো ভরোসা রাখতি হা'।

ইয়ে ত' ছুস্রি বাত হ্যায়

নলিনাক্ষ কথাটা এড়িয়ে গেল, স্থুচারু লক্ষ্য করলো নলিনাক্ষর পা-জামাটা আজ ধোপদস্ত, গায়ে লাল পশমের একট] জ্যাকেট, ফুল- হাতা কোর্তা। আজ মাথায় পাগড়ী নেই, আছে কালো পশমের টুপি তামাটে রংয়ের দীড্ি£তে আজ তার মুখখানা ভরা লোকটার বড় বড় চোখ, জোড়া-তুরু, আর ফস টকটকে বং বছদূর থেকে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সবচেয়ে বিম্ময় লাগে, চেহারাটা ওর প্রসন্ন, বিশ্ময় লাগে--ওর মুখেচোখে এবং বণিষ্ঠস্বাস্থ্-শ্রীতে কোথাও অতীত

৩৩

জীবনের কোন চিহ্ন নেই। কিন্তু একটি কথার আঘাত, সামান্য খোঁচা, ঈষৎ বিরক্তি,_লোকটার হিংল্র চেহারাটা ঘ্বণা আক্রোশের সমস্ত রেখাবলী নিয়ে বেরিয়ে আসে ন্্চাকক ছাড়া যে-কোনে! মেয়ে ভয় পেতো

নলিনাক্ষ আন্তে আন্তে বললে, আমার জন্যে আপনি এত কষ্ট স্বীকার করেন, এতে আমি লজ্জ] পাই, মিসেস্‌ বায়।

জঞজ্জ। পান আপনি ?--স্থুচারুর মুখখান। দীপ্ত হয়ে উঠলো]

হ্যাপাই। আপনি আসেন কতদূর থেকে_-এত চড়াই-উতরাই__ আপনাদের তুলনায় আমি কত সামান্ত লোক !

স্থচখরু কাছাকাছি এসে বসলো আজ যেন একট] চাপা উল্লাস তার ভিতর থেকে ফেনিয়ে উঠছে আজ প্রথম যেন তার পরিশ্রমের পুরস্কার পাবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। স্থচারু বললে, দেখুন, ভালো কাজ করতে গেলে প্রথমে মানুষ মার খায়। আপনি আমাকে যে সব কড়া কথা বলেছেন, তার জন্যে আমি কিছু মনে কৰি নি।

নলিনাক্ষ বললে, আপনি এসব অসম্ভব কাজ নিয়ে ঘুরছেন কেন?

সথচারু বললে, কোন কাজই অপম্ভব নয়। য| অসম্ভব, তা সম্ভব হয় ঠাকুরের ইচ্ছায়। আপনি নিজের দিকে চেয়ে দেখুন, আপনার ওপরেও ঠাকুরের দয়! আছে।

নলিনাক্ষ প্রসন্ন হাসি হাসলো বললে, তা হলে আমাকে কি করতে হবে এখন? |

আপনাকে? আপনার বিরুদ্ধে দু-তিনটে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা আছে। লোকে বলে, আপনি খুনে ডাকাত, লোকে বলে আপনি নাকি নারীহস্তা। আমার ইচ্ছে আপনি অপরাধ স্বীকার করুন।

সেট। কি প্রকার ?

৩১

আপনি ধরা দ্িন। নিজে গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করুন। বিচারে আপনার শান্তি হোক, সেই আপনার প্রত

নলিনাক্ষ স্তব্ধ হয়ে স্ুচারুর দিকে তাকালো পরে বললে, যদি আমার ফাপী হয়?

ন্সি্ধ হাস্তে ম্থচারু বললে, হোক না কেন? সেই মৃত্যু গৌরবের সেট! ঈশ্বরের নির্দেশ। মানুষের জীবন কতটুকু? কতটুকু তার শক্তি? সমস্ত অপরাধ স্বীকার করতে গিয়ে যদি আপনার মৃত্যু ঘটে, তবে আপনি অমৃতলোকের অধিকানী !

চুপ করে কথাগুলি নলিনাক্ষ শুনলে! পরে বললে, এবার আমার কথার জবাব দিন।

বলুন?

নৃপেনবাবুর সঙ্গে আপনার বনিবন। আছে?

আছে বৈকি

তবে আলাদ। থাকেন কেন?

ন্চারু বললে, তাঁর পথ আর আমার পথ এক নয়।

আপনার ছেলেমেয়ে আছে?

না।

অস্থখ আছে কিছু?

আমি অত্যন্ত স্বস্থ।

নলিনাক্ষ বললে, আচ্ছা, একটা কথা বলুন ত- আপনার বাব! কি মা'র বংশে কেউ পাগল ছিল?

আমার জান! নেই।

আপনি কি ছোটবেলায় বদমেজাজী ছিলেন ?

হয়ত ছিলুম।

৩২

আপনি এক কাজ করুন। এখানে চেরীর জঙ্গলে এক রকম ফল হয়, তার থেকে ঠাণ্ডা তেল পাওয়া ধায়। মাহেশ্বরীপ্রসাদের দোকান থেকে ,এক শিশি সেই তেল নিয়ে মাথায় মাখুন গে মাথা ঠাণ্ডা হবে।

বিন্রপট1 অত্যন্ত স্পষ্ট স্থচারুর গলা, কেঁপে উঠলো নৈরাস্তে উষ্ণ কম্পিতকণ্ঠে সে বললে, আপনি কি ঈশ্বর মানেন না? কিছু মানেন না?

নলিনাক্ষ বললে, আপনার ঈশ্বর যে এত ভয়ঙ্কর, তা জানতুম না। ঠ্যা, আর একটি কাজ আপনি করতে পারেন আপাততঃ ঈশ্বরকে ছেড়ে দিন। তিনি আপনার হাত থেকে বীচুন। আপনি দিলী চলে যান সেখানে গিয়ে কিছুদিন স্বামীকে নিয়ে ঘর করুন, ছেলেপুলে মা্ষ করুন-."অনেক অস্থখ সেরে যাবে আচ্ছা, এবার আমাকে ছুটি দিন।

নলিনাক্ষ উঠে দাড়ালো

কী কদর্য উক্তি লোকটার, কী নোংরা মন! সমস্ত চেহারাটা থেকে ঠিকৃরে আনছে জঘন্য বিদ্রপ, ইতর কম্বর। অপমানে স্চারুর মুখখানা কালো হয়ে এলো উঠে দ্লাড়িয়ে সে বললে, আজকের দিনটাও আমার মিথ্যে হোলো বেশ, আমি কিছুই মনে করবো না। কিন্তু আপনার মঙ্গলের জন্য একটা কাজ আমি পারি।

নলিনাক্ষ তার দিকে তাকালে

আমি ষদি আপনাকে ধরিয়ে দিই, তাতে আপনার ভালোই হবে।

আমাকে ধরিয়ে দেবেন! মানে, পুলিশে?

হ্যা, পুলিশে !

নলিনাক্ষ ছু'পা এগিয়ে এলো৷ তার দ্িকে। তার চোখ ছুটে যেন দপ'দপ করছে। শাস্ত দৃঢ় চাপা কণ্ঠে সে বললে, আপনি পারবেন ন।।

৩৩

পারবো না? কেন?

সে ক্ষমতা আপনার নেই।

হচারু দীপ্তকঞ্জে বললে, কায়মনোবাক্যে আমি আপনার মঙ্গস চাই বলেই নেই ক্ষমতা! আমাব আছে।

নলিনাক্ষ বললে, আমার মৃত্যু চান আপনি?

আপনার সমস্ত অপরাধের ধ্বংস চাই

বেশ, আপনি তবে এখন ধান। আমার দোকানে খদ্দেরর! খেতে এসেছে।

দোকান থেকে বেরিয়ে স্থচার হন হন করে চলতে লাগলো এর মধ্যেই সেস্থির করেছে তার কর্তব্য কি। এনঈশ্বরের নির্দেশ। তার বিবেকের সম্মতি কাজ তাকে করতে হবে।

বেল! দ্বিগ্রহর। তাকে উঠতে হবে এখন বহু চড়াই। তার হাটের অস্থুখ আছে। প্রত্যেকদিন এই ওঠানামা! তার চলবে না। বস্তির দু-একজন মেয়েপুরুষ তার দিকে চেয়ে রয়েছে। তারা হয়ত ধুবতে পারে, পথে তার প্রাত্যহিক আনাগোনাট] প্রাণেরই দ্বায়ে। ধ্যঙ্গ-বিন্রপের ছিটে, চাপা-হাসির টুকরো, বক্রোক্তির ইশাবা-_ সম্‌ন্তগুলোই তাকে সয়ে নিতে হয়েছে। স্থচাকক কোনোদিকে না তাকিয়ে নিজের মনে চলতে লাগলো

লক্ষ্ীনিবাসে পৌছে সেদিন থেকে সে যেন গা এলিয়ে দিল। কয়েকদিন রইলে৷ লে বাংলোর চৌহদ্দির মধ্যে। পশমের সেলাই নিয়ে হু'একদিন বসবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভালে! লাগে নি। পথের উপরে ব্রাহ্মঘমাজমন্দিরে এক-আধবার যাতায়াত করেছে, কিন্তু কারো পে, কোনে। আলোচনায় তার উৎসাহ দেখা যায় নি। একটা কিছু নিষে এই কয়দিন সে ভাবছে। সেটা কঠোর, সেটা হয়ত

৩৪

হিতাহিতজ্ঞানশুন্ত তবু সেইদ্দিকেই তার মন কাজ করে চলেছে। কোনো কাজে পিছিয়ে এলে তার চলবে না

মনুষ্যত্বের বিচারে এই কথ! বলে, নলিনাক্ষর শাস্তি হওয়া দরকার শাস্তির আগুনে সে পুড়বে, সেই তার প্রায়শ্চিত্ত এখানে দয়া, মায়া, স্েহে এসব কথা ওঠে না। এগুলো মনের বিকার মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে এদের মোহ, এদের অন্ধ সংস্কার। এদের হাত থেকে মুক্তিই হোলো বন্ধনদশার শেষ

ন্থচারু নিজের মনকে পরিষ্কার করে বুঝে নিল। তারপর নবপেনকে চিঠি লিখতে বসলো,*-*সামনের শনিবার বোধ হয় বড়দিনের ছুটি। শনিবার "বেরিয়ে রবিবারে এখানে এসে পৌছবে, অবশ্ই আসবে। নলিনাক্ষর ব্যাপারটার একটা হেস্তনেস্ত কর] চাই। তৃমি এলে অনেক কথা বলবার আছে। রবিবারে তোমার জন্য রান্না করবো, তারপর মোটরস্ট্যাণ্ডে গিয়ে অপেক্ষা করে থাকবো তোমার জন্যে। ইতি***.

জরুরী চিঠিখান! বিশুনলালকে দিয়ে ডাকঘরে পাঠিয়ে স্চারু গরম কাপড়জামা পরে নিল। পুলিশের ফ্লাড়ির পথট! তার জানা আছে। ম্যাল্‌ রোড ধরে উত্তর-পৃব দিকে যেতে হবে প্রায় মাইলখানেক। স্থচার দৃঢ় পদক্ষেপে সেই দিকে চলতে