প্রেমেন্ত্র মিত্র রুচি ছায়া ছবির কাহিনী তজন7ানিপ্রসাদদ বল্ল কর্তৃক উপন্তাসাস্তরিত

বেঞগনল গাবলশাম" ১৪, বক্ষিম চাটুজ্জ্জে দ্রীট

কল্িকাতা__১২

বড

প্রথম সংক্কষরণ _- বৈশাখ, ১৩৫৩ দ্বিতীয় সংস্করণ-_-আযাঢ, ১৩৫৫ তৃতীয় সংক্ষরণ-_-বৈশাখ, ১৩৫৯ গ্রকাশ ক-__-্রীশচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বেঙ্গল পাবলিশাস”

১৪, বস্ষিম চাটুজ্জে দত্বীউ কলিকাতা-১২

মুদ্রাকর- _প্ীকাতিকচজ্ঞ পাণ্ড। ষুক্রণী

৭১, কৈলাস বোস স্ত্রীট,

কলিকাতা

বাধাই-_€বজল বাইশাস +

ভ্িল টীকা।

বংশ নয় ষেন কোন আস্ভিকালের বুড়ো বট। মাথা ভি কুচক্র আর কুমতলবের জট! মাথার ভারে পায়ের ভর থর থর করে কাপে। আর তাই চারদিকে বাহু বিস্তার করে বুড়ে বট অশাকড়ে ধরতে চাক শুন্তকে-_ আকাশকে ) আকড়ে ধরে মাটিকে ঝুরি নামিয়ে নামিয়ে। বয়স তার ঘত বাড়ছে, পায়ের জোর যত কমছে, ততই বাড়ছে তার ক্ষুধা, বুদ্ধির উত্তেজন] অভিশাপ আর বিষ এঁ বটের মজ্জীয় মজ্জায়। শ্রী বট কেটে তুমি তক্তা করে নিয়ে এসো ; তার থেকে বানাও আসবাব, দেখবে কোনদিন লক্ষ্যে ঘুণ ধরেছে সেই কাঠে'*। সেই ঘুণ ঝাঝর! করে দিয়েছে তার দেহ। ঘুণ আলাদ| করে যে ধরে তা নম্বঃ ঘুণ মিশে আছে, ওদের মজ্জায় মজ্জীয়, বইছে, ভেতরের যে প্রীণ-রস তার সঙ্গে। যত উচ্ছে করো আবার নতুন করে গজিয়ে ওঠে ! এমনই এক বংশের বংশধর শিবনাঁথ চৌধুরী! চৌধুরী বংশের এককালে ছিল প্রাচুর্য আর সমারোহ। এখন ঝুরির জঙ্গল নেমেছে *চারিদিকে; অংশীদার আর সরিকের সংখ্যা! সেই বংশ বুদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই সঙ্গে সঙ্গে ধরেছে ঘুণ, বাঁসা বেধেছে সাপখোপ ! ওকে ছোবল মারে? বিষ ঢেলে দেয় ওর গায়ে সবার রক্তে মিশিয়ে আছে বিষ! অতবড় তিনমহলা! বাড়ীখান। সার্কাসের বুড়ো বাঘের মত বিমোয়। দীত-পড়া রোয়া-ওঠা পঙ্গু বাঘ, কোনকাঁলে তার যৌবন ছিল, বনে বনে ভাক ছেড়ে বেড়ীতো সে কথা ভূলেই গেছে সকলে কী সে দিন ছিল সব। এক একট! ডাকে বনের চারদিক কেঁপে কেপে উঠতো..॥ ছুটে পালাতো! যে যেখানে ছিলঃ এমন কি অনেক বড় বড় পশুরাও, আর আজ কি না লোম থসা চামড়ার ফাকে ফাকে এতটুকু পোকার অস্থির করে তুলেছে অতবড় বাঘটাকে। কিলবিল করছে পোকারা."!

(ভাবীকাল )--১

অতবড় বাড়ীখানার খোপে খোপে কিলবিল করছে চৌধুরী বংশের বংশধরেরা। এক এক মহলে এক এক তরফ ; বড়, মেজ? ছোট? এক এক তরফে আবার এক একটা রাবণের বংশ ছড়িয়ে বসেছে.'। দূর থেকে দেখে মনে হবে মৌমাছির চাকের মত। কিন্ত এক ফোটাও মধু পাবে না ওখানে খুঁজে পেতে। পাবে বিষ।...এ ওর গায়ে ঢালবার জন্তে মুখিয়ে আছে। “কোথায় এক ফালি জমি ওর ভাগে চলে গেল এর দখল থেকে এর গাছের ছায়া ওর জানলাকে ঢেকে দিল, এতেই কত বড় একট] কাণ্ড যে হয়ে যায় বাইরে থেকে কেউ বুঝতে পারে না। বুঝে গেলে ওদের রক্তের খানিকটা! মিশেল চাই তোমার রক্তের সঙ্গে। চাই ওদের মত সংঙ্কার।:""

আসলে রক্ত ছাঁড়| ওদের কোন স্বলই নেই। সেই পূর্বপুরুষের যে রক্ত-লোত একবার ছাড়া পেয়েছিল ধমনীতে সেই শ্রোতের জোরেই ওর! এখনও চলে ফিরে বেড়াঁচ্ছে। ঝগড়ার মাথার সেই রক্তই গরম হয়ে মাথায় ওঠে। সেই রক্তই একজন অপর জনের মাথা ফাটিয়ে ছুটিয়ে দিতে চাত্স...। খআবার সেই রক্তই ছুশ্চিন্ত। আর ছুঃশ্বপ্রের ভারে আগুন ধরায় ওদের শিরায় শিরাঁয়!,**এক কথায় সেই রক্ত নিয়েই ওর! বেঁচে আছে, তৈরী হয়ে আছে- মরবে বলে। সেই রক্ত ছড়াচ্ছে ওর! ধাপে ধাপে। শিবনাথ ওদেরই একজন; ছেলে-বউ নিয়ে মাথা গুজে পড়ে আছে ওদের সঙ্গে আর দিন গুণছে। দিন গোণ! ওদের রোজের কাজ দিনগোণ! মানে জীবনের দিন নমু,_মাঁমলার দিন, দখল নেবার দিন." |

মায়! বলে, আর কতদিন এমন করে চালাবে, সেই ঝগড়া»."মারামারি অশান্তি !'""

শিবনাথ বলে, তুমি বোঝ না মা? বাঁচতে গেলে সব চাই*** আমার চোখের ওপর ওরা জোর করে ভোগ করবে তা হতে পারে না"

কিন্তু জোর করেই যে ভোগ করা যার তা তনয়। জোর অনেক করেছো, কিন্তু শাস্তি কই?'''দিন দিন ঝগন্ডা বেড়েই চলেছে আমি, দেখছি.

কিন্ত তুমি বুঝতে পারছে! না মায়া উঠোনের উ্রদিকটা ওরা বদি দখল করে তাহলে আমাদের নীচের ঘরটা কি রকম বেআক্র হয়ে যাবে।

-হৌগ গে। সামান্ত দুহাত উঠোন, তার জন্তে পচিশ দিন হাটাহাটি উকিল বাড়ী কোর্ট--অত হাজাম! তোমায় করতে হবে না।

_-তুমি বলে দিলে হাঙ্গামা করতে হবে না। কিন্তু আজ নিচ্ছে ছু”হাত উঠোন, কাল নেবে ঘর, তারপরদিন পুকুর'*-তারপর দীড়াবে কোথায়... |

_যা আছে আমাদের তাই নিয়ে চুপ করে থাকলে কিসের আমাদের অভাব শুনি?

--তুমি একেবারে ছেলেমান্ষ এতদিন ধরে বলছি তবু তুমি সামান্ত জিনিষটা বুঝবে না।

_সত্যি তোমাদের বিষয়-বুদ্ধিটা ঠিক আমি বুঝি না'"*অথচ দেখছি শুধু শুধু ফতুর হয়েযাচ্ছো দিন দিন'**

- নিজের যেটা অধিকার তার জন্যে দেবে না লড়তে, তাহলে বিষয় থাকবে কি করে বল?

কিন্ত আমি আমাদের জন্ে ভাঁবি না; ভাবি আমাদের সোমনাথের জন্তেঃ ওকে ত? মানুষ করতে হবে'*"

_-কাঁর সঙ্গে যে কি বল তার ঠিক নেই' হচ্ছিল বিষয়ের কথা তার মধ্যে সোমনাথের মানুষ করার কথা এলো কি করে বুঝলুম না। আঁমার কি ইচ্ছে মাঁচুষ না হয়?

_- দেখে মিছামিছি রাগ কোরো নাঃ আমি কি সে কথা বলছি! আমি বলছি এই বাড়ীতে এই আবহাওয়ার মধ্যে কি মানুষ হবে বল দেখি?

-তা বাড়ীর ছেলে বাড়ীতে মান্য হবে না কি হবে রাস্তার লোকের কাছে? কি যেবল তার ঠিক নেই।

-কেন কতদিন তোমায় বলেছি। চল আমর! এখান থেকে চলে, যাই অন্ত কোথায়'"'এ বাড়ী ছেড়ে...

শিরদাথ হেলে ওঠে বলে, ভূষি বড় ছেলেষাস্ছুঘ মায়া এক এক সদয় মনে হয় তুমি কেন এখানে এলে''.এই বিষের হাওয়ার মধো, যেখানে বাচতে গেলে চাই বিষ"'চাই সাপের মত ফপা। আমিও কি শাস্তি চাই না মায়া ?...মনের মত ঘর, গুছনে! সংসার, নিবিদ্বে যেখানে হাফ ছেড়ে নিশ্বাস ফেলে বাচা বায়.'.কোন ভাবনা নেই'*'কেবল আমাদের ছোট্ট সংসার..'যেখানে আমার এই পঁচিশ বছরের যৌবনকে আমি ভোগ করতে পারি'**আমার যৌবন বিষের জালায় ছটফট করে মরে না। কিন্তু উপায় নেই মায়।**'উপায় নেই। এখানেই আমাদের বাচতে হবে। চৌধুরী বংশের ছেলে আমি, মাথা নীচু করতে পারব না। আজ মামলা ঠকেছে অবিনাশ দুহাত উঠোনের জন্তে ; আমিও দেখে নেবো কি করে দখল নেঘ | সর্বন্থ দিতে পারি মায়া কিন্ত সন্মান দিতে পারবো না। হু"ছাত উঠোন'*'বেণী নয় এই ছুঃহাত'*.এই ছু'ছাত দিষ্বে হুকুম চালিয়ে এসেছে, শাসন করে এসেছে চৌধুরী বংশের পূর্বপুরুষেরা.* তার সম্মান আমায় রাখতে হবে।

. "আচ্ছা প্লটুকু জান্বগা, ওট! ছেড়ে দিলেই হয় ওদের। কি

আর লোকসান হবে তোমার !

-_না না ওকথা বলে! না তূুমি। আমার মাথা গরম করে দিও না।

চৌধুরী বংশের রক্ত খেলা করছে শিবনাথের শিরায় শিরায। যে রক্তকে সজল করে বাচে ওর! আর তৈরী হয় মরবে বলে। সেই রক্ত!

মামলায় হেরে বাড়ী ফিরে গুম হয়ে বসে রইলো শিবনাথ থাটের ওপর। বাবার মুখ দেখে ভয়ে এতটুকু ছেলে সোমনাথ তাড়াতাড়ি ঘরের এক কোণে জড়সড় হয়ে সেই যে বসে রইলো, পড়ায় মন না বসলেও নড়লে৷ না সেখান থেকে আর মায়া কি করবে ভেবে না পেয়ে যেখানে সেখানে দাড়িয়ে বার বার হিম হয়ে যেতে লাগলে!

শিবনাথ চেত়্ে চেয়ে দেখছিল শুন্ত দৃষ্টি মেলে কিন্ত কোন কথা বলে নি। অপমানে লজ্জায় বোবা আর জন্ধ হয়ে গেছে যেন! মামলায় ছার। মানে জনেফ কিছু হারানো অনেক রোখ আর ভরসা করে সে নেক টাকা টেলেছিল এর পেছনে কিন্তু তবু কি করে যে হেরে গেল,

শিবনাথ মনে মনে তারই হদিন খুঁজছিল। ক্ষতির পরিমীণটা বোধ করার পক্ষে তার মন তখন আড়ষ্ট হয়ে গেছে।

সঙ্ছিং ফিরলো! ও-বাড়ীর কাসর ঘণ্টার আওয়াজে মামলায় গিতে অবিনাশ মানত রক্ষা করবার জন্তে পিঙ্গী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সেদিনই তারই বাজনা! এ। সন্ধ্যে লাগতে না লাগতেই স্থরু হয়ে গেছে ওদের উত্সব ! ভক্তের ভগবান মুখ রেখেছেন!

এক একটা! ঘড়ির হাতুড়ি পড়ছে আর শিবনাথের মাথার মধ্যে কিলবিল করে উঠছে বিষদন্ত বিষধরের ফনা !

উঃ অসহা! চীৎকার করে উঠলো শিবনাথ। তাতে চমকে কেঁপে গেল সোমনাথের বুকথানা আর আলমারীর গায়ে যে হাত খানা লাগিয়ে মায়া দাড়িয়েছিল নিষ্পন্দ হয়ে সেই হাতখানা ফম্‌ করে খসে গেল আলমারীর গা থেকে।

--দেখছে! কি? জানালাগুলো বন্ধ করে দাও.''বন্ধ করে দাও! পাগল করে দেবে একেবারে

ঝপ ঝপ করে জানালাগুলো বন্ধ করে দিলে মায়া। আওয়াজট| এক ঝটকায় স্তিমিত হয়ে গেলেও সমস্ত আনাচে কানাচে, গ্রত্যেকথানা ইটে ষেন একটা চাপা উপহাসের মত প্রতিধ্বনি গম্‌ গম্‌ করতে লাগলো

সন্ধ্যের ঘোর লেগেছিল এর মধ্যেই, জানাল! খোলা থাকায় বোঝা যায় নি। সোমনাথ বই মুড়ে মাথা গু'জে বসলে! শিবনাথ মাথাটা টিপে ধরে শুয়ে পড়লো থাটের ওপর।

মায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বসলে! শিবনাথের মাথার কাছে। তারপর ধীরে ধীরে হাত বোলাতে লাগলে! মাথায় কপালে। শিবনাথ কিছু বল্লে না, চোখ বুজে শুয়ে রইলো! চুপ করে।

--উঃ কী গরম হয়েছে মাথাটা ! শিউরে উঠলো মায়া

_ও কিছু নয়। এখনও অনেক বাকী মায়!।

_কেন মন খারাপ করছো! শুধু শুধু! সাহস পেয়ে মায় একটু গ্গিঞ্জ, কেই বল্লে।

_না না মন খারাপ কেন করবো কিন্তু জানো মায়া শিবনাথ চৌধুরী এখনো! মরে নি."“এখনও চেষ্টা করলে__

-_আচ্ছা এখনও তুমি ভুলবে না? শুধু শুধু মাথা গরম করবে?

_পুধু--গধু?1 তুমি একে শুধু শুধু বলবে তবু? এতবড় অপমান ! তোমার একটুও লাগছে না?

--কিস্ত এর শেষ যদি না করতে পারে৷ ত” কোথায় গিয়ে দাড়াবে বলত? ? এই রকম করে করে একটা অন্থখ বাধিয়ে বসলে__

_ ছাঃ অন্ুথ! অহ্থথ টস্বথ নয় মায়া। আমি ভাবছি কি জানো --ভাবছি শেষটা তোমার কথাই সত্য হল!

-আমার কথা? কিকথা? বলতে গিয়ে মায়ার গলাটা! কেঁপে উঠল। সে ত+ কোন মঙ্গল আশঙ্কা করে নি। তবে ?**ম্লান হাসিতে মুখখান! একটু শীস্ত করে শিবনাথ বললে £ তুমি বলেছিলে চল এথান থেকে আমর! চলে ষাই। শেষ পর্যত ভাবছি তাই যেতে হবে.

যাবে? যাবে? এই বাড়ীর অভিশাপ ছেড়ে--মায়ার কণ্ঠে প্রচণ্ড আগ্রহ

যা হ্যা" এখান থেকে এই অপমানের বোঝার হাত থেকে পালকে যাবো আমরা জঙ্গল পার হয়ে আমাদের মধুবনীর তালুক-_

--ওগো।? কবে যাবে বল।

--কাঁলই যাবো মায়া। এত বড় পরাজয়ের পর আর এখানে মুখ' দেখাতে পারবো না. বলতে বলতে শিবনাথ মায়ার প্রসারিত হাতখান! চেপে ধরলো ।**'তুমি কত কষ্ট পাচ্ছে! মায়া, এখানে তোমার শাস্তি নেই-_

_শুধু আমি কেন, কষ্ট ত” তুমিও পাচ্ছো_শাস্তি নেই-_স্থখ নেই.

_স্থ্যা হ্যাতাইতো চলে যাবো আমর! এখনও মধুবনীর তালুক আমার আছে, সেটা দিয়ে আর এক হাত দেখে নেবো মায়া, এই পরাজয়ের শোধ নিতে পারি কি-না...

-শৌধ নিয়ে আর কি হবে? তার থেকে মধুবনীতে গিয়ে আমরা

নতুন করে খর বীধবো। আমাদের মনেই খাকবে না পেছনে কি অভিশগ্ু জীবন ছিল আঁমাদের'..। আমাদের সোমনাথ বড় হয়ে উঠবে নতুন বাড়ীতে, যেখানে কোন বিষ নেই, হিংসে করবাঁর মানুষ নেই**'।

কিন্ত অপমান যে আমি তুলতে পাচ্ছি না মায়]... জানো! আমাদের বংশে পরাজয়ের অপমান কেউ কখনও মুখ বুজে সহা করে নি-* |

_-আচ্ছ! সে দেখ! যাবে এখন ওঠে বাক্স বিছানা বীধতে হবে। এত দুঃখের মধ্যেও মায়া অত্যন্ত সহজ আনন্দ ভরে উঠেছে

শিবনাথ এবার জোরে হেসে উঠলো বললে, তোমার এই ছেলেমানুধীর জোরেই যাত্রা বেঁচে গেলাম মায়া

_-দুই-_

মায় যুক্তি পেল। ,

সাত পুরুষের বাঁড়ী ত” নয যেন নিজের ঘরে বসেই দ্বীপান্তর ! তার চারদিকে পাচিল দিয়ে ঘের1, জেলখানার পাঁচিলের মত। সে পাঁচিল জীবনের বিরুদ্ষে। গতানুগতিক অভিশপ্ত জীবনের ওপাঁরে কালাপানীর' মত কালাঝুরি জঙ্গল'*'তার ওদিকে আছে নতুন জীবনের হাতছানি *"।

শিবনাথ এখন আশা রাখে মধুবনীর তালুকে গিয়ে বসতে পারলে আর একবার চেষ্টা করে দেখা যাঁবে। চৌধুরী বংশের আদিম রক্ত নেচে বেড়াচ্ছে তার ধমনীতে-*"

দানবের মত কালাঝুরি জঙ্গলট1। সমস্ত অন্ধকারের কালো! যেন ঝুর; ঝুর করে জমাট হয়ে গেছে তার বুকের মধ্যে এমনি ঘন অন্ধকার বন। জঙ্গলের ধার দিয়ে পিয়ালী নদী, বীকে বীকে অদৃশ্য হয়ে গেছে দিগন্তে চকচকে জলের আয়নায় দিনে-রাতে চন্ত্র-সূর্ধ মুখ দেখে, হাজারে! টুকরোয় ঝলমল করে ওঠে তার দেহ। দাঁনব জঙগলটার পাশে বন্দিনী? রাজকন্কার মত দেখায় নদীটাকে।

নদীর ধারে ধারে বাসা বেঁধে আছে করেক ধর জেলে পরিবার। জীবনে যাদের দাঁবীদাওয়ার অরণ্য নেই, আছে শুধু ঝির ঝিরে নদীর মত শান্ত শ্োত) যা খেয়াল-থুশির আলোতে ঝলমল করে, কূলে কূলে উথলে ওঠে, _এমনই সহজ সরণ খোল! জীবন যাদের পথে মায়া হঠাৎ অত্যন্ত অন্ুস্থ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে শিবনাথকে এদের মধ্যে আশ্রঙক নিতে হয়েছে। শিবনাথ তাড়াতাড়ি এখান থেকে মধুবনী যাওয়ার জন্তে ব্যাকুল, কিন্তু অন্থথের মধ্যেও মায়ার কেমন এই জারগাটি বড় ভালো লাগে, এমন নিরবচ্ছিন্ন শাস্তি সে জীবনে কখনও পায় নি। শিবনাথ ব্যস্ত হয়ে উঠলে সে বলে কেন তুমি ব্যস্ত হচ্ছ, আমরা শাস্তি চেয়েছিলাম একদিন মনে আছে? শিবনাঁথ একটু চুপ করে থেকে বলে, এখানে আমাদের বেশী দিন থাকলে চলবে না। আমাদের আরও কাজ আছে মধুবনীর তালুকে আমাদের যেতে হবে, তারপর-_

_কেন? মধুবনীর তালুক নিয়ে তুমি কি এর চেয়েও সুখী হবে?

, সখ? স্থুথ কোথায় আছে জানি নে। কিন্তু আমাকে জয়ী হুতে হবে মায়।''সেটাই আমার কাছে বড় কর্তব্য।

কিন্তু মধুবনীতে গিয়ে আবার সেই মামল! মোকদমায় জড়িয়ে পড়লে অশান্তি বাড়বে'*"তাতে তোমার শরীর ভেঙ্গে পড়বে'"'

তুমি কেন ত| ভাবছে! মায়া? আমি কি ভাবছি জানে! ? ভাবছি মধুবনীতে গিয়ে বলতে পারলে দেখবে আমাদের সংসারে শী ফিরে এসেছে..'মেঘ কেটে গেছে-_-

--তার চেয়ে এখানে যি ভাল করে একটা গ্রাম গড়ে তুলতে পারো এই সহজ সরল মানুষগুলোকে দিয়ে, তাহলে এরাও বাচে আর আমাদেরও শাস্তি থাকে-''দেখো! না চেষ্টা করে। এরা আমাদের যেমন ভালবাসে তাতে আমার মনে হয় চেষ্টা করলে খুব হবে'**এথানেই মধুবনী গড়ে উঠবে...

-কিন্ধ সে যে অসম্ভব কল্পন! মায়া এই জঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রাম গড়ে তোলা সে যে অনেক টাকা লোকজনের ব্যাপার-**

স্পেন? টাকা কি তোমার নেই? যে টাক! গিয়ে দখমলা করতে যাচ্ছিলে সেই মধুবনীর তালুকের টাকা-_

শিবনাথ হাসে। তোমার ছেলেমানুধী মনটা! হদি সত্যিকারের জগতের সঙ্গে মিলে যেতো, তাহলে মায়া--তোমার স্বপ্র বদি সত্য হয়ে উঠতো '*,

কিন্তু মায়! জানে হ্প্র নয়ঃ হলধ্যান! ন্বপ্র আসে ঘুমের অবচেতন অরণ্যে কিন্তু ধ্যানের পথ জাগ্রত নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে-_আলোর মধ্য দিযে।

শিবনাথের মনে নিরস্তর হ্বন্বের কালবোশেখী গর্জায়।

মান্গষের একটা বড় আশীর্বাদ যে সে হ্াপিয়ে উঠতে জানে এক- 'ঘেয়েমীর মধ্যে থেকে কথন যে জবসাদ থিতিয়ে পড়ে ধরা যায় না গোড়ার দিকে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া আসে''"'"'অবসাদ আসে। মানের মন আপন! থেকেই পিছলে পড়ে এক থেকে অপরের ওপর, যেমন করে হুর্ষের রোদ্দুর ক্রমে ক্রমে গ্রাস করে একদিক থেকে অপর দিক, পূর্ব থেকে পশ্চিম শ্রিবনাথেরও এমন করে টান লেগেছিল অলক্ষ্যে নিজের রোখ থেকে মায়ার কল্পনার দ্রিকে। নিজের জেদের দিকে ঘনিয়ে আসছে ছায়া

এমনটা হবার প্রধান কারণ প্রখানকার বাসিন্দা & জেলের] মানুষের ' উপত্রব থেকে বাঁচবার জন্তে মানুষের ভীড় থেকে পালিয়ে এসে আর এক মান্ষের-_ভীড় না হলেও দলের মধ্যে পড়ে এত নিশ্চিন্ত বোধ করতে লাগলে ওরা? যে অবাক হয়ে গেল মনে মনে। অশিক্ষিত অপু মানুষের দল, যাদের সঙ্গে তথাকথিত সভ্যতার কোন ষোগ নেই প্রাত্যহিক জীবনে সেই মানুষের দল এমন আপনার করে, তাদের গ্রহণ করবে--যেমন করে মাটি গ্রহণ করে বৃষ্টির জলকে, শিবনাথ তা আগে কোনদিন ভেবে দেখে নি। তাই ওদের দলের পাণ্ড সাধন যখন বলেছিল, ভয় কি দাঁঠঠাকুর আমি রইলাম, তোমার ভাৰনা কি...এখানে ধাকো.*.তবে আমরা হলুম গিয়ে ছোটলোক, বদি দোষ ক্রটী হয় ক্ষমাধেক্সা করে নিও"''শিবনাথ তথন

নিশ্চিন্তে বিশ্বাম করতে পেরেছিল এই অপরিচিত হুঠাৎ-চেনা লোকটিকে।

সেই থেকে লক্ষণের মত হয়ে রয়েছে সাধন জেলে। দেখা শোনা করছে সোমনাধের:"'। পু

নতুন সুর্যের আলো পড়ছে শিবনাথের মনে, কিন্তু এই প্রভাতে-_. হুর্ধকে হঠাৎ একটুকরে! খুব কাল মেঘ এমন করে ঢেকে দেবে কে জানতো 1...

কে জানতে এর মধ্যে মারা যাবে মায়

হঠাৎ অস্থথ তার অত্যন্ত বেড়ে গেল। শিবনাথ পাগলের মত হয়ে উঠল। এই জঙ্গলে কোথায় ওষুধ, কোথায় ডাঁক্তীর।

কিন্তু তবু সাধন জেলে চেষ্টার ক্রুটি করলেনা। লোক পাঠালে আশে পাশে ডাক্তারের খোজে। কিন্তু সকলেই ফিরে এল ব্যর্থ হয়ে। এই বন বাদাড়ে কে আসবে?

সাধন বল্লে, আমি নিজেই তাহলে যাই দা। ঠাকুর। দেখি জঙ্গল বলে কোন্‌ ডাক্তার না আসে? না এলে পিছমোড়া করে বেধে আনবো না?'*"

এত অস্থখের মধ্যেও মায়া তাঁকে বল্লে, থাক সাধন! আর আমার ডাক্তারের দরকার নেই।

শিবনাঁথ ব্যথিত শ্বরে বল্পে,।এ সব কি বল্লছে! মায়া? কি এমন হয়েছে তোমার ! শিবনাথ মায়ার নাথায় হাত বোলাতে লাগলেন

শিবনাথের হাতটা ধরে মায়া বল্লেঃ না কিছু ত” হয় নি। কিন্তু কি দরকার আর ডাক্তারের, ভূমি রয়েচো !

-আঁমি থেকেই বাকি করতে পারছি মায়!। তুমি কষ্ট পাচ্ছো আর আমি নিরুপায় হয়ে বসে বসে দেখছি-_

__না) কই আমার হয় নি ত1!.""

_ আর কত নীরবে সহ করবে মায়া... এই জঙ্গলের মধ্যে-_

কিন্তু মানুষের সঙ্গ যে ছেড়ে আসতে পেরেছি তাই আমাদের খাগা ! তাই বোধ হয় আমাদের সোমনাথ মানুষ হয়ে উঠতে পারবে !

অশিক্ষিত সাধন_-ওর কাছেই আসল শিক্ষা হবে তার''-আমি হুযত, দেখতে পারবো না, তুমি দেখবে'""

_আঃ কি সব বলছে! মায়া! কি তোমার হয়েছে? ছুদিন বাদে সেরে উঠবে তুমি, তারপর আমর] মধুবনীতে গিয়ে ঘর বাধবো:*' আবার নতুন করে ঝাপিয়ে পড়বো জীবন-যুদ্ধে, তুমি আমায় উৎসাহ দেবে..। তোমাকে যে বাচতেই হবেঃ নৈলে কিসের জন্ত আমি আর লড়বো ? মিথ্যে মামলায় আমাদের সব গেছেঃ তাকে আবার জয় করে নিতে হবে যে'"'

-_ আচ্ছা, আমার একটা অনুরোধ রাখবে? বল? আমার কথা শুনবে 1""'মায়ার স্বর অদ্ভুত রকমের করুণ !

_বলমায়।! তোমার কথাকে আমি কোনদিন উপেক্ষা করি নি...

_-সে আমি জানি। তাই ত' বলছি মামলার কথা তুলে যাঁও। মারামারি কাড়াকাড়ি করে সেই চোখের জল আর অভিশাপের বিষ- সাধালো বিষয় উদ্ধার করে লাভ কি! সেখানে কোনদিন শাস্তি পাৰেনা! তার চেয়ে--বরং

কথাগুলে। বলতে মায়ার কষ্ট হচ্ছিল তাই শিবনাথ তাড়াতাড়ি, বাধ! দিয়ে বলে উঠলে £ অত কথা বোলো না! মায়া। তোমার কষ্ট বাড়বে 1.৭,

_না না আমায় বলতে দাও। মায়ার মুখ একটা অতীন্রিয় আলোকে মধুর হয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে শিবনাথের মুখের পটভূমিতে ফোন্‌ এক ভাবীকালের ছবি দেখছে সে-*"। আমায় বলতে দীও...আজ আমার বলতে দাও.'.'অনেক কথা আমাষ বলতে হবে'"'আমার কোন কষ্ট হবে না। এখানে আমি খুব শান্তিতে আছি। আরো আগে যদি এখানে আমান্ব নিয়ে আসতে'''তাহলে এখানেই আমি ঘর বেধে থাকতাম! এখানকার লোকেরা এখনো হিংসে করতে, লোভ করতে শেখে নি'''এখনও তারা সবাই সবাইকে ভালবাসে '*1 মানুষ যদি এমন, শাস্তিত্বে থাকতে পারতো 1.*'

৯১১

তুমি শাস্তি পেয়েছে! নায়! 1." শিবনাথের স্বর গাড় হয়ে আসে বাক আমার একটা আফশোস কেটে গেল !..*

-সএকটা কেন, তোমার সব আফশোস কেটে যাবে, লক্ষীটি এখান থেকে তুমি যেয়ো না'""। তুমি বলেছিলে মানুষের জঙ্গল থেকে আমরা পালিয়ে বেচেছি**'এবারে এই জংলী মানুষদের সঙ্গে প্রাণধুলে বাচো...ঃ সত্যি, এমন একট] জায়গা তৈরী করতে পারে! যেখানে মারামারি নেই» ্বার্থ নেই, হিংসে নেই...যেথানে উচু করে তাকাতে মানব ভয় পায় না ***এমনি একটা জারগা তৈরী করতে পারে, যেখানে ভাবীকালের নতুন মান্ুষের1,''তোমার আমার সোমনাথের মত শত শত মাস্ক গ্রাপথুলে বাচবে'"'শাস্তি পাৰে-_

_ভিন-_-

. শীস্তির স্বপ্ন দেখতে দেখতে পরম শাস্তির ন্বপ্রের মাঝে ঘুমিঙে পড়েছিল মায় শিবনাথের কোলে মাথ! রেখে

তারপর থেকে শ্শিবনাথ যেন বদলে গেছে।

পিয়ালী নদীর এক ধারে মায়ার শেষ শয্যা বিছানো হয়েছিল। শষ্যার শেষ আগুন নিভে গেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই, কিন্তু স্থৃতি তার ভহলছে আগুণের মত'****'জলছে তাঁর শেষ কথা--এমন একট] জায়গ! তৈরী করতে পারো যেখানে হিংসা নেই, স্বার্থ নেই, ছ্েষ নেই বেখানে মানুষ মানুষকে ভালবাসে" "মানুষ মাথা তুলে তাকাতে ভয় পার না'*'

শিবনাথ মাথা তুলে তারায় ভরা আধার রাতের আকাশের দিকে ভাকায়। দেখে লক্ষ তারার উজল চোখে মায়ার সেই স্বপ্ন জল জল করছে।

শিবনাথের পা! ছুটো আড়ষ্ট হয়ে জালে, যে পা-ছুটো স্থল করে জঙ্গল পার হয়ে মধুবনীর তালুকে যাবার ক্ষীণতম আশ! তাকে ব্যস্ত করছিল।

১২

সেহ আশাও যেন মিলিয়ে গেল ভোরের আলোর তাড়াখাওয়৷ শেষ রাত্রির অন্ধকারের মত!

ছোট্ট সৌমনাথ বলে, আমরা এখান থেকে কৰে যাবে৷ বাবা?

শিবনাথ কি জবাব দেবে খুঁজে পায় না! আকাশের দিকে চেয়ে চেষ়ে প্র তারাগুলোর মধ্যে যেন হাতড়ায় !

সাধন বলে, বুঝেছে দা"ঠাকুর তেনার শান্তি চেয়েছিলেন, তা শাস্তি তাঁর এখানে মিলবে'"'খুব শাস্তি মিলবে

_ তোমার কথাই সত্যি হোক সাধন।

-_-একবার যে দা”ঠীকুরের পায়ের ধুলা পড়েছে এই আমাদের ভাগ্যি এই জংলা দেশে তোমাদের আর ধরে রাঁথতে পারবে! না॥ তবে একটা! কথা বলে রাখি দা"ঠাকুরঃ যেখানে থাকো মনে রেখো যদ্দিন এই সাঁধন জেলের হাঁড় কথান! আছে, তদ্দিন তেনাএ শাস্তির বিঘনী কথনে। হবে না। তোমাদের ধরে রাথতে পারবো ন1, তবে ধাকে রেখে গেলে তেনার জন্তে ভাবনা কোরো! না দাণঠাকুর, কিছু ভাবনা কোরে! না" অন্ধকারের মধ্যেই সাধনের নির্বোধ চোখে বিশ্বাসের জল চিক চিক করে।

সোমনাথ বলে, আমরা কবে যাবো মাধন কাকা ?

সাধন বলে, তাই তো বলছি, ব্যবস্থাট1 ত+ করতে হবে দা'ঠাকুর'*" তোমাদের যাওয়ার ব্যবস্তাটা__

এদের শেষ কথাগুলো শিশীথের কানে পৌছে ধাক্কা খেয়ে ফেরৎ আসে ঢেউয়ের মত। শিবনাথ তারাগুলৌর দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে আরও দূরের কিছুকে যেন প্রত্যক্ষ করছে." ঠিক যেমন করে শেহ দিনে মায়া চেয়েছিল শিবনাথের ছোথের তারা ছুটোর দিকে

আকাশের তারাগুলোও কি দেখছে না শিবনাথের দিকে ?

অনেকক্ষণ পর শিবনাথ বলে, আমাদের জঙ্গলের মালিক কে বলতে পার সাধন?

-আজে মালিক তৃষণার দশ আনির বড় তরফ। তবে মালিক বছরে একবার খাজনা আদায়ের বেলা, নৈলে আমরা মরলাম কি ৰাচলাষ

১৩

( ভাষী )--২

বছরের মধ্যে সে খোজও রাখে না। হু", মালিক! মালিক বল তার্কে 1". :

গুধু রেষারেষি মারামারি,'*'এ ছাড়া মান্থধ কি আর কিছুই জানে না ?.""হুথে শান্তিতে সবাই মিলে মিশে থাকবার মত একটা জায়গা কি এত বড় পৃথিবীতে নেই ?

ভাবতে ভাবতে শিবনাথের চোখ দুটো! এক বিচিত্র আলোয় উজ্বল হয়ে ওঠে।

অন্ধকারের মধ্যে যেন ঝিলিক দিয়ে ওঠে সেই জৌলুস !

রঃ পু

দশআনির জমিদার ষোড়শীকানস্ত রায় দশদিক না হলেও একদিক আলো করে যে বসে আছেন সে বিষয় কোন সন্দেহ নেই সে দিকটায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে নায়েবমশায় ঘোষাল, আর শিরোমণিকে। ওদের অপর দিকে বসে আছে স্থানীয় পাঠশালার মাষ্টার মনোহর ফোড়শী রায় বসে বসে তামাক থাচ্ছেন আর মনে হচ্ছে তামাকের হালকা ধোঁয়ার মতই জীবনটাকে উড়িয়ে নিয়ে চলেছেন খেয়ালখুশিমত | মুখ চোখে সেই ভাবটা! অত্যন্ত গ্রকট।

এরই মধ্যে অতি সামান্ত বেশে শিবনাথ এসে যখন ঢুকলেন, কে বলবে ইনি মধুবনীর ছোট তরফের মালিক-_শিবমাথ চৌধুরী !

শিবনাথ আসতেই শিরোমণি পরিচয় করিয়ে দেয়--উনি দশআনীর যোড়শীকান্ত রায়, বাবুর কাছে আপনার আজি পেশ করুন--বলতে' ৰলতেই নিজের হাত ছুটো একবার জোড় করে ইঙ্গিত করে বাবুর দিকে। তার ভাবার্থ এই যে একবার বাবুর পায়ে লুটিয়ে পড়া উচিত

শিবনাথ হাত-তুলে বলেন, নমস্কার ! শিরোমণির দিকে তক্ষেপও করে নাঃ চোথে মায়ার ঘোর তখনও তার কাটে নি।

বন্ধন আপনি

শিবনাথ মনোহরের দিকটার গিয়ে বসেন। ওর চোখে মুখে কি একট] অব্যক্ত বাণী যেন উন্ুখ হয়ে ওঠে।

চি

১৪

নায়েব মশাই বলে, আপনার পরিচর ?1."" শিবনাথ বলেন, আমার পরিচস্ব দেবার মত কিছু নম! আপনাদের কাছে আমি একটু প্রার্থ হয়ে এসেছি ওঃ। অঅ বলুন আপনি কি বলতে এসেছেন ওদিক থেকে ঘোষাল সায় দিযে ওঠে, *স্্যা হ্যা সাহস করে বলে ফেলুন মশায়, আমাদের বাবু সে রকম ।নয়। আমীর হোক, ফকির হোক বাবুর দরজা সকলের জন্য থোলা-- | বলতে বলতে ঘোষাল হাত ছুটো ফাক করে খোলা দরজার বিস্বৃতিটার পরিচয় দেবার চেষ্টা করে। তার সেই রোগা রোগা হাত ছুটো ছড়াতে গিয়ে বুকের হাঁড- গুলো পর্যন্ত ঠেলে ওঠে শিরোমণি বলে, দবজা নষ্ব ঘোঁধাল, দরজা নয়--দিল্‌! এমন দরাদগ দিল্‌ কোথায় পাবে? জমিদার একবার ভামীকের নলটা অধরচ্যুত করে খানিকটা! উদগত ধোয়ার সঙ্গে ভক্‌ করে বলেন, আঃ তোমর] এর কথা শুনতে দেবে? শিবনাথ অবনর পেয়ে কাজের কথাটাই ইউতথাপন করে বসেন। দেখুন, আমি আপনাদের কাঁলাঝুরির জঙ্গলী তাঁলুক সম্বন্ধে একটু জানতে এসেছিলাম নায়েবমশাই হাতের তেলোর ওপর অন্তহাতের আঙ্গুল দিয়ে রেখা টেনে বলে, আজ্ঞে হ্যা_-ওই যে পিয়ালী নদীর ধারে আমাদের প্রতাপসিং 'পরগণার এলাকার পাশে--তা আপনি কি জঙ্গল জমা নিতে চান? মশাই কাঠের কারবার করেন বুঝি ? _আজ্ঞে না, কোন কারবারই করি না। জমিদার বলেন, তবে? শিবনাথ বলেন, আমি প্র তালুকটা| ইজারা নিতে চাই! _-ইজারা নিতে চান? উদ্দেপ্ত ? উদ্দেষ্ট নয়, বলুন আশা! 1শবনাথের স্বর শান্ত অথচ কঠিন। আশ! মন্ত বড়। সুথে স্বচ্ছন্দে মাচুষ বাস করতে পারে এমন একটা গ্রাম ওখানে বসাবঝেো'**আর গ্রামই বা কেন? বলতে বলতে

১৫

শিবনাথের চোখ কিসের আলোয় উজ্ল হয়ে ওঠে ।'-"শুধু গ্রামই বাঁ কেন? একটা নগর হয়ত ওখানে গড়ে উঠবে'*".**ষেখানে মানুষ মাথা উচু করে তাকাতে ভয় পায় না ..

দিনের আলো হলেও শিবনাথ রাতের আকাশে বড় বড় উজ্জল তারাগুলে।কে দেখতে পাচ্ছেন ষেন চোখের ওপরে

তারপর একটু সামলে নিয়ে বলেন, হা আপনাদের ওটাতে।

নায়েব মশাই একটু যেন ক্লেষ করেই বলে, হ্থ্যা, নগর বস।বার ঠিক উপযুক্ত যায়গা! তা আপনার ভূত ভবিষ্মৃতি নগরাঁটি কেমন করে বসাবেন ভেবেছেন?

_তা এখনে! জানি না।

জমিদার বলেন, যে সব গ্রাম নগর আমাদের আছে তাতে বুঝি আপনার মন ওঠে না ?"-."*সেগ্ডলোর অপরাধ ?

শিবনাথকে প্রশ্নটা করা হলেও তাকে জবাব দেবার স্থযোগ না দিষেই মনোহর মাষ্টার উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠে, অপরাধ কি আপনি জিজ্ঞাসা করছেন রায় মশাই! পি'পড়েও মাটির তলায় গর্ত করেঃ উই পোকাও টিবি গড়ে কিন্তু বিধাতার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হয়ে আমরা তাদের চেয়েও অধম! আমরা ফি এখনো! বীচতে শিখেছি” রায় মশাই ?

বলিষ্ঠ চেহারার মান্য এই মনোহর বড় বড় চোখে বিশালতার একটা দীপ্তি গ্রথমেই নজরে আসে। কথার উত্তেজনায় শরীরের প্রতিটি কুঞ্চনে একটা উন্নত প্রাণের রেখা পড়ছে যেন! শিবনাথ এতক্ষণে লোকটিকে ভাল করে দেখলেন।

মনোহর থামে নি তখনও,__যেমন আমাদের মন, যেমন আমাদের সমাজ--তেমনি আমাদের সহর। না আছে শ্রী, না ছাদ, না শৃঙ্খলা আমর! একসজে জোট বেঁধে থাকি শুধু থাওয়া-থাওয়ি, মারা-মারি, কাটা- কাটি করবার ন্ুুবিধের জন্তে-_বাড়ীতে দেয়াল তুলি প্রতিবেশীকে দূরে রাখবার জন্ভে--ঘরে দরজা! দিই খুলে বেরুবার জন্ত নয়, খিল দিয়ে লোকের আসা বন্ধ ফরার জন্তে'****.আমাদের সহর সহর নয়- মাটির

১৩

ওপর বিষ্বাট এড বিষফোডঢ়া। তবু এর অপরাধ কি আপনি জজেস করছেশ।?

ঘোষাল তার বড় বড় চোথ ছুটো৷ ঈষৎ টিপে বলে, বাহবা! মনোহর মাষ্টের, এবার ঠিক মনের মত কথ! পেষেছো......কেমন ?

মনোহর বলে, মনের মত কিনা জানি ন! ঘোষাল, তবে্মনের কথাটা যে বলতে পেরেছি তাতে কোন সন্দেহ নেই। যা সত্যি তা তুমিও দেখছো, আমিও দেখছি আর রায় মশাইও দেখছেন-****কিন্ত সত্যি কথাট। চেপে রেখে মনকে তলিয়ে লীভ কি বলতে পারে ?

শরোমণি প্রসঙ্গটি ঘুরিয়ে নিয়ে বলেঃ তা মাষ্টীর! এখানকার পাঠশালার ছেলেগুলোর মাথা না খেয়ে তৃমি গরব সঙ্গে নগর গডাব কাজেই কেন লেগে ।যাও না? এই তো তোমার মনের মত কাজ!

ঘোষাল তাড়াতাড়ি যোগ দেয়, বাবুর কাছে হাত পাতলে এমন ছু'দশ বিঘে জমি এমনিই পেতে পার ! বাবু আমাদের কল্পতরু !

বাবু একটু বিরক্ত স্বরে বলেন, তোমরা একটু থামবে? তোমাদের জ্বালায় কোন কাজ করবার যো কি নেই! ,

নায়েব মশাই তাড়াতাড়ি কাজের কথা পেড়ে বসে। বলে, তা আপনি গ্রামই বসান আর নগরই গড়ুন, তাঁলুক ইজীরা নিতে হলে একটা লেন-দেনের ব্যাপার আছে তা বোধ হয় জানেন?

_আজ্ঞে তা জানি বই কি। সেইজন্তেই এখানে এসেছি। আপনারা যা চান আমার সাধ্যের অতিরিক্ত না হলে আমি ত৷ দেবার চেষ্টা করবো |

_তা আপনার সাধ্যটা কতটুকু তা আগে জানতে পারলে ভাল হতে! না কি? মন্ত্রীর কুঞ্চিত ঠোটের ফাকে একটুখানি বাকা-হাসির আভাস দেখা যায়।

শিবনাথ সমান শীস্তশ্বরে বলে চলেন, সাধ্য আমার এমন বেশী কিছু নয় --মধুবনীতে সামান্ত কিছু জমিজমা আছে, আশা করি তা থেকে 'আপনাদেব পাওনা মেটাতে পারবো

১৭

যোড়ঙ্জীবান্ত তামাকের শেষ রা ছেড়ে একটু উঠে বসে বলেন, আপনি মধুবনীর-্-

আজ্ঞে ছোট ভরফের-_আসন ছেড়ে উঠে দাড়াতে দাড়াতে শিবনাথ কথাট1 শেষ করে ষোড়শীকান্তের দিকে তাকার।

এক ফু'ে আলো! নিবিয়ে দেবার মত থমথমে অবস্থা ঘরে।

নায়েব মশাই বলেন ও, আপনিই ছোট তরফের শিবনাথ চৌধুরী, এতক্ষণ বলতে হয়।

যোড়শীকান্ত বলেন, তা মধুবনীতে নিজের জমিদারি ছেড়ে এই বনদেশে এসে বসতে চাইছেন কেন 1__

একটু হেসে শিৰনাথ বলেন, বললাম ত, মানুষের স্থথে স্বচ্ছন্দে ৰাস করবার মত একট] গ্রাম বসাতে চাই.

ষোড়শীকাস্ত চোথে মুখে একটা গভার উপহাসের চাঁপা ভঙ্গী ফুটিয়ে ভূলে বলেন, ! তা ষেমশ আপনার অভিরুচি !

নায়েব মশাই বলেন? তা আস্থন আপনি আমার সঙ্গে সেরেস্তায়-.. সেখানেই সব ব্যবস্থা হবে") বলতে বলতে এক হাতের তালুর ওপর অন্ত হাতের আঙুল দিয়ে দাগ কেটে হিসেবের একটা ইজিত দিতে চেষ্ট1! করেন।

শিংনাথ মন্ত্রীর সঙ্গে এগিয়ে যাঁন।

ওদের দ্রিকে মনোহর এগিয়ে আসে বলে, আচ্ছ! শিবনাখবাবু, যদি না কিছু মনে করেন, আপনার সঙ্গে আমিও কি একটু যেতে পারি ?**"

_ একটু কেন মনোহর বাবুঃ যেতে হলে অনেক দূর যেতে ভবে আপনাকে

--সে হবেই শিবনাথ বাবু।

ঘোষাল চোথছুটে! বড় বড় আর গোল গোল করে বলে, সে কি মাষ্টার ? তুমি সত্যিই চললে নাকি?

_-তাঁইত চললাম ঘোষাল। এমন স্থযৌগ পেয়েও যদি না যাই ত৷ হলে সার জীবনেও যে আপন্তশাঁষ ঘুচবে না ! শিরোমণি বলে, কিন্ত তোমার পাঠশালা ?

$

১৮

_ পাঠশালা আমার সঙ্জেই চললো ঘোষাল, আমার পাঠশাল! পৃথিবীময় ছড়িয়ে আছে-**গুধু গিয়ে বসতে পারলেই হুয়-" মনোহর মাষ্টার হেসে শিবনাথের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

চার"

কুদুল চলছে

কত যে কুভুল তার সংখ্যা! নেই! কত বচ্ছরের জঙ্গল এই কালা- ঝুঁরিঃ একে কেটে সাফ করে দেওয়া হবে। দুর হবে কত বচ্ছরের পুঞ্জীভূত জমাট অন্ধকার কাঁটা গাছের ফাকে ফাকে নতুন আলোর রোদা,রে-শানানো চাবুক এসে পড়েছে ভেলা ডেলা অন্ধকারের স্তপে। আবার সেই আলে! লেগে ঝনসাচ্ছে কুজুলের লোহাটা! আর সেই সঙ্গে চক্চক্‌ করে উঠছে যাঁরা কাটছে, তাদের লোহার মত কালো আর শক্ত ঘামে-ভেজা শরীরগুলো:""

সত্যিই যে তার স্বপ্ন সত্যি হবে এমন করে শিবনাথ আবিষ্টের মত বসে বসে চেষ্ট) করছেন সেট! ধারণা করবার, বিশ্বাস করবার

বড় বড় বনম্পতির দল, যারা এতদ্দিন নিবিরোধে অন্ধকারের সঙজে গোপন চুক্তি করে বাসা বেঁধে বসেছিল, সেই উত্ভিজ্জের দল ধাতব শক্তির

আঘাতে মড়মড় করে ধ্বসে পড়ছে, রেগেফুলে পরাজয়ের প্লানিতে আহুত

দানবের মত লুটিয়ে পড়ছে, প্রাণ দিচ্ছে,__রাম রাবণের যুদ্ধে এমনি করে এক একটি রাক্ষস বোধ হয় ভূমিশয্য। গ্রহণ করেছিল "'।

মানুষের শুভ-ইচ্ছা আর শুভ-শক্তির ঝড় লেগেছে এই কালাধুরির জঙজলে। অনেক বড় বড় ঝড়ে যারা মাথা বাচিয়ে ছিল সেই সব মহীরুহ নিবিবাদে হার মানছে, লুটিয়ে পড়ছে--।

এমনি করে ঝড় বদি উঠতো! মান্থষের মন আর সমাজের অরণ্যে) যত হিংসা, ছ্বেষ, পাপ আর সংস্কারের ঘন বন জটলা পাকিয়েছে তারা এমনি করে লুটিয়ে পড়তো...ঘুমিয়ে পড়তে| চিরদিনের মত। তারপর

১৪

মুক্তি পেতে! তাদের পায়েয় নীচেকার দাঁবানো মাটি-_যুক্তি পেতো আলোর নীচে***। সেই শুন্ত মাটি আসঙ্স নতুন ফসলের বৃতৃক্ষার হলদে হয়ে কুঁচকে যেতো '' ধৃ-ধু করতো !

কে যেন চাঁপা পড়ে গেল পড়ন্ত একটা গাছের নীচে সাধন হী-হা করে ছুটে এল, 'গেল+ “গেল” রব তুলে।

মনোহয় বলল, লক্ষপটা কিন্তু ভাল নয় শিবনাথবাবু। গুঁভকাজের গোঁড়াতেই বাঁধা, প্রাণে বীচলেও পা”থানা ছেঁবে গেছে বোধ হয় একেবারে?

শিবনাথ বললেন, বিনা বাধায় কোথাও কোন ঘা না থেয়ে সত্যিকার বড় কাজ কি হয় মনোহরবাবু? এত” শুধু একটু রক্তপাত, এর চেয়ে নেক বড ত্যাগেব হন্ত আমাদের গ্রাস্তত থাকতে হবে ''জললের সঙ্গে আমাদের লডাই, মান্ষের কাছে এই অরণ্যকে ভার মানতেই হবে ।**, আজ যেখানে অন্ধকার আর ভয়ের রাজত্ব, সেইথানেই একদিন শাস্তিময় গ্রীম গড়ে উঠবে-..। জঙ্গল সাফ কবে এখানে আমবা সোণার ফসল ফলাবে!...। মুঠো মুঠো সোণাঁর ফসল-"মান্ূষ তাই খেষে মানষ হয়ে বীচবে

পিয়ালী নদীর ধারে মায়ার সেই শেষশয্যা। সেখানে শিবনাথের ওয়া চাই রোজ রাতে আকাশে জলজ্বলে তারার মাঝে...টাদের মুখ দেখ! পিয়ালী নদীর জলের হাঁজার টুকরোয় মায়ার চোঁথেব সেই অতীত আলো শিবনাথেব সা্গ কথা ক্ষ।

পেছনকাঁর জঙ্গলট৷ সাফ হয়ে গেছে আকাশের মতই ধূ-ধু মাটি! দ্রানবটা মরে গেছে তাই বন্দিনী রাঁজকণ্ঠ! আজ মুক্ত'.'পিয়ালী নদীটাকে অনেকখানি দেখা যাচ্ছে আজ একসঙ্গে, মনে হচ্ছে যেন তার মুক্তির বিস্তার

অস্রদিন মায়ার কগম্বর অরণ্যে প্রতিহত হয়ে পথ খুঁজে মরতো আজ তারা ছাড়া পেয়েছে উধাও মাঠের পানে গভীর অরণোর চেয়ে বিস্তৃত মাঠের হলুদ তৃষ্ণা! দেখেই ভয় হচ্ছে শিবনাথের বেশী !...এর পর একদিন ফসলের সবুজ ঝালরে ভরে উঠবে মাঠ.--আঁকাঁশ থেকে বৃষ্টির

কও

জল নামবে তৃণে তৃণে ভালবাসা জানিয্বে। সে আকাশের জল নর, সে মায়ার লক্ষ তারার চোখের জল। সে জল কান্নার নয়, আশী্ব্বাদের |

সবুজ ফলের ক্ষেত দিয়ে হাওমব! বইবে শির-শির করে। ভাবতে ভাবতে শিবনাথের গায়ে শির-শির করে রোমাঞ্চ লাগে কাট! দিয়ে ওঠে") তারপর মানুষ আসবে এখানে, বাসা বাঁধবে, মুঠো মুঠো! করে পেট পৃ খাবে সেই ফসল'"'।

ভাবতে ভাবতে বরাত বাড়ে কত খেত্বাল থাকে না শিবনাথের। সাধন এসে তাড়া দেয়, দা'ঠাকুর আর কতক্ষণ হিম লাগাবে শরীরে খাওয়া-দাওয়া করে শোবে চল।

দুঃখের দিনে যে সাধন মাথা পেতে সমস্ত ভার গ্রহণ করতে চেয়েছিল, সেই সাধন ছুঃথনিশি প্রভাতের দিনেও সমানভাবে কাছে এসে দাড়ায়". "!

মনোহর বলে, এমনি করে ঘরে ঘরে সাধনের দল গড়ে তুলতে পারবেন শিবনাথবাবু? পায়রার ঝাকের মত ঝাক ঝাঁক একই দলের মান্য ?

কালংঝুরির চেহারার সঙ্গে সঙ্গে নামটাও তার পালটে গেছে।

এখনকার নাম তার মায়াঘাট। পিয়ালী নদীর যে ঘাটে এসে মায়ার শেষ তর্পণ করেছেন শিবনাথ, সে ঘাটে মায়ার শুভ কল্পনার উদ্দেশ পুঞ্জ পুঞ্জ সম্ভাবনায় এশ্বর্য অঞ্জলি ভরে দিয়েছেন, এই ৫সই ষায়াঘাট !

তুমি এর আগে যদি কালাঝুরি জঙগলকে দেখে থাকো আজকের এই মায়াধাটকে তুমি চিনতে পর্যস্ত পারবে না। মায়া বলে তুল হুবে। কিন্তু একবার যদি দেখো তুলতে পারবে ন! মায়াকে+-_এরই মধ্যে তাকে ধেন চিনতে পারবে, ষে এই সুন্দর ভবিস্ততের জন্ত নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেল নীরবে।

আগে দেখচো কালে! জঙ্গলটা যেন আকাশটাকে শুদ্ধ গ্রাস করে বসে আছে, আর এখন তার বদলে এতবড় একটা! উপুড় করা আকাশকে দেখে তোমার ভগ্গই লেগে যাবে হয়ত ! ব্অতবড় বড় বড় গাছের বঙ্গলে

দেখবে আদ্ধেক মান্ছষ প্রমাণ ক্ষেত-_তাতে নতুন ফসল ধরেছে এই নতুন দেশের নতুন ফসল দেখতে তোমার নতুন করে শিষ্টি লাগবে। তারপর যেখানে দেখেছিলে কয়েকঘর মুষ্িমেয় জেলে পরিবারের বাস, সেখানে দেখবে কত নতুন নতুন মাচুষ এসে বাসা বেঁধেছে চাষী, তাতী, কুমোর, কামার'"'এমনি সব ধরণের মাহুষ.".1--*দিনে রাতে তোমার দেশের মতই চন্দ্র হুর্যের আলো সমান ভালবাসায় গড়িয়ে পড়ছে এই দেশে

তা যদি লক্ষ্য করতে পারে দেখবে এই নতুন দেশের লোকের! তোমার কত আপন!

এদের সঙ্গে নিতাস্ত আপনার জন হয়ে কুটির বেঁধে রয়েছেন শিবনাথ সঙ্গে রয়েছে সাধন, সোমনাথ, আর মনোহর মাষ্টার! শুধু শুধু বসে নেই শিবনাথ। তাঁর পরিকল্পনা চলছেই আরও সমৃদ্ধির পারঘাটার দিকে! মনে আছে শিবনাথের, মায়া শাস্তি খুঁজেছিল এর মধ্যেই তাই মায়ার ধ্যানের ফসল এই মায়াঘাট-_-ফসল ক্ষেতে ছিটিয়ে পড়। শিশির বিন্দুতে প্রভাতের বাঙ্গা রোদ ঝলমল করছে ।..'

রাতের বেলায় মনোহরের সঙ্গে শিবনাথের পরামর্শ চলে, আলোচনা চলে। সঙ্গে থাকে সাধন। সে তার সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে সেই যুক্তি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে যাঁর মাত্রার ওপর এই পরিকল্পনার সার্থকতা নির্ভর করছে ।:*'

শিবনাথ বহু বিপদের অভিজ্ঞ মানগুষ। কিন্তু মনোহর রভীন হ্বপ্রে এগিয়ে যায় অনেক বেশী অথচ কাজের জগতে খেই হারিয়ে ফেলে অনেক সময় | শিবনাথ তাকে বুঝান 1...

সেদিন রাত্রে ওদের মধ্যে কথা হচ্ছিল।

মনোহর বলে, কিন্তু এসব তাঁতী কুমার কামার কামারী এদের আনবার এত গরজই ব৷ কিসের?

শিবনাথ বলেন গরজ আনেক মনোহর? কেবল তোমাকে আর আমাকে নিয়েই ত' আর গ্রাম হয় না। মানুষের নিত্যকার প্রয়োজন বারা মেটায় তারাই ত” আসল মান্ছুষ গ্রামের গুধু তাদের সঙ্গে আমাদের লম্বন্ধের

১৬

ধারাটা বদলে সিতে চাই--এই আমাদের উদ্দেশ্ত। তা নাহলে তাঁর! যেমণ থাকে সব থাকবে বই কি!

_ মুস্কিল হচ্ছে যে, লোভ না দেখালে তারা আসবে কেন?

_ কিন্ত লোত দেখিয়ে বাদ্দের আনবে তার! ত* এক। আসবেনা মনোহর। তাদের সঙ্গে লৌভটাঁও আসবে ষে"''এসে মায়াঘাটে বাস। বাধবে !

_-তা বটে! মনোহর নিজের মনে খানিকক্ষণ কি যেন ভাবে।

তারপর প্রশ্ন হোলে, আচ্ছা শিবনাঁথ বাবু, আপনি সেদিন ষে থাল কাটবার কথাটা ধলছিলেন-__সেট1 একটু বুঝিয়ে দেবেন কি?

_-নিশ্চয়ই দৌব।” শিবনাথের মুখে উৎসাহের আলো জলে ওঠে। কাগজ পেনসিল নিয়ে ছবি একে জিনিষটা ভাল করে বোঝাতে চেষ্টা করেন মনোহরকে ।.**এই দেখ আমাদের পিয়ালী নদীটা! এইথানে কতবড় একট! বাক নিয়েছে এই সমস্ত বাকটার একেবারে শেষ হচ্ছে দেবী- গঞ্জ_আর এই একেবারে এই মোড়ে হচ্ছে আমাদের মায়াঘাট। দেখ এর ধাঁরে ধারে জঙ্গল এখনও রয়ে গেছে, আর পথ ঘাটও নেই.."তার মানে এই নদীই হল দুটোর মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র পথ-_

_-পথ মানে? একেবারে রীতিমত একটি দিনের ধাক্কা নৌকো করে যেতে ।:

_-তাহলে আমর! ষদি এমন একটা ব্যবস্থা করতে পারি বাঁতে এই বাকটা ঘুরে না গিয়ে সোজাম্থজি একেবারে গিয়ে ওঠা যায়

"দেবীগঞ্জে!

_মাপনি বলছেন এই বীকের ছুটে মুখ সোজান্ঞ্জ জুড়ে দিতে?

হ্যা হ্য1-মানচিত্রট! দেখিয়ে বলেন শিবনাথ--বুঝেছো। মনোহর, বেশী নয়, মাইল দুয়েক একট! থাল কাটতে পারলেই এই একদিনের রাস্তা এক বেলায় অনাপ্রাসে চলে আসা যাবে। মায়াঘাট ৰাইরের জগতের সঙ্গে যুক্ত হবে।

আর বেশী কাটতেও হবে না আমাদের, ইতিমধ্যেই আমি ভাল করে খেণজ নিয়ে দেখেছি ষে ওখানে এদিক ওদিক ছোট-ছোট জলা বিল আছে...সেগুলো জুড়ে দিতে পারলে-_ব্লতে বলতে শিবনাথ কাগজের

ওপর লাল পেনসিল দিয়ে বড় বড় করে ছক কেটে ফেলেন সেই: কাল্পনিক খালের !

-কিস্ত সে যে নেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে, অনেক অর্থের -প্রয়োজন সেটাও ত” ভাবতে হবে।

--আমি তা! ভেবেছি নিজেদের শক্তি সম্বল যা আছে তার ওপর নির্ভর করেই আমরা কাজে নামবো'"'দরকার হলে কিছু টাকা কজও, করতে হবে__

কর্জ! মনোহর বিল্ময়-বিক্ষারিত চোথে তাকায় ।শবনাথের দিকে

_ষ্ট্যাকর্জ! এই খালের আয় থেকেই একদিন তা শোধ হতে ঘাবে আমার বিশ্বাস আছে। না মনোহর, আর কোন দ্বিধা নয় খাল আমাদের কাটতেই হবে। মায়াঘাটের বড় হওয়ার রাস্তা আমরা খুলে দিচ্ছি এই আশ! আর বিশ্বাস নিয়েই যেন আমাদের প্রত্যেকটি .কোদালের ঘা পড়ে

__কিন্ত এইথানেই যে আমার আপত্তি শিবনাথবাবু। নিরালায

. ৰসে আমর। এই মায়াঘাটকে যেমনভাবে গড়ে তুলতে চাই বাইরের সংস্পর্শে তা কি আর সম্ভব হবে?

_বাইরেব্ব জগতকে অন্বীকার করে শুধু আকাশ-কুন্থমের স্বপ্র দেখে ত+ কোন লাভ নেই মনোহর--

_ কিন্ত দেবীগঞ্জে ত” সেই সন্কীর্ণ শ্বার্থ লোভ আর চক্রান্ত! তা সঙ্গে যোগাযোগ হলে মায়াঘাটের লাভ কি?

- লাভ কিছুটা আছে বই কি মনোহর। অন্ধকার ষর্দি থাকে তাহলে চোথ বুজে থাকলেই তাত মিথ্যে হয়ে যায় না। তাকে স্বীকার করে নিয়ে আলে! জেলে তাকে দূর করতে হয়। তাছাড়া আমাদের নদীর মাছ, ক্ষেতের ফসল সার বছর থেয়েও ফুরোয় না! দেবীগঞ্জের বাপ্ারটা পেলে তবু তার একটা গতি হবে। আর তার থেকেই আমাদের কর্জের টাকাটা! উঠে আসবে না মনোহর, আমাদের খাল কাটতেই হবে.“ যেমন করে একদিন কুদ্ধুল চালাতে হয়েছিল বনে -বনে তেমনি করে চলবে কোদাল''.

&

কথায় কথায় রাত্তির দুপুর হয়ে আসে। সাধন বলে ওঠে, আচ্ছ! সাঞ্টের, তোমার ঘরে একটু যাও ত” বাপু! আড়াই পহর রাত হল এথনে। দাদাঠাকুরের খাওয়া হয়নি সে খেয়াল আছে? একবার বকৃতে স্থরু করলে আর জ্ঞান থাকে না--

মনোহর লজ্জিত হয়ে পড়ে। তাড়াতাড়ি বলে, সত্যিই আমি তুলে গেছলাম। আচ্ছ! আমি এখন যাই

_আহ।-হা ব্যস্ত কেন মনোহর! শিবনাথ মনোহরের লঙ্জাট! কাটিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। খাঁওয়। ত* তোমারও হয় নি এখনও | তুমি না হয় আজ এখানেই খেয়ে যাও না!

সাধন একটু কড়া স্বরে বলে, থাবার ত” একজনের, তাঁতে কার পেট ভরবে শুনি?

ওদের জবাব দেবার আগে দরজায় কে যেন ধাক। দেয়।

--আঃ এত রাতে আবার কে জালাতন করতে এল রে বাপু !-- সাধন গরগর করে।

শিবনাথ বলেন, আভা, তুমি একবার বাইরে গিয়ে দেখ না সাধন? ৰা

দরজা! খুল.৩ই দেখা যাঁয় ঘোষাল দাড়িয়ে

ফ।ক-দাতে বিচিত্র এক হাঁসি হাসতে হাসতে ঘোষাল বলেঃ কনে সব সীসে দিয়ে ঘুণ।চ্ছিলেন নাকি? দরজ! এতক্ষণ ধরে ধাকা দিচ্ছি তা সাড়াই নেই কারুর !

শিবনাথ তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বলেন, কিছু মনে করবেন না""" একটু কাজে ব্যস্ত ছিলাম'*'তাই"**

_ব্যস্ত যে ছিলেন তা ত” বুঝতেই পারছি'"*এই যে মাষ্টার তুমি তে! এখনো! ঠিক আছ দেখছি'**আমাদের এখনও তুলেটুলে বাও নি নিশ্চয়.*'আর শিবনাথবাবু আমাকে চিনতেই পারলেন ন| !

মনোহর বললে, তোমায় চিনতে ত” খুব বেশীক্ষণ লাগে না ঘোষাল। তা হঠাৎ আম।০দর ওপরে অন্ুগ্রহট! কেন বল ত?

ঘোষাল তাড়াতাড়ি বসে পড়ে বলে, হচ্ছে হচ্ছে'*শনৈঃ শনৈঃ সৰ

ভাবী--৬

জানতে পারবে পু এখন দক্ষিণ হত্ডের ব্যাপারটার একটু বন্দোবস্ত

শিবনাথ একটু যেন চিস্তিত হয়েই বলেন, আপনি হাত-মুখ ধুয়ে নিন, সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি'"*

ঘোষাল বলে, বাইরে আমার একজন পাইক আছে আবার.*"তাকেও যেন ভুলবেন না***।

মনোহর ঘোযষালের হাত ধরে একটু টান দিয়ে বললে, এস হে, তোমার হাত-মুখ ধোওয়ার ব্যবস্থা করে দিই।

ঘোষাল মনোহরের সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

একজনের বেশী খাবারের আয্মো জন নেই, শিবনাথের খাওয়া হয় নি, মনোহরেরও না, অথচ শিবনাথ এককথায় দুজনের খাওয়ার কথায় নিধিবাদে রাজী হয়ে গেলেন। শিবনাথ বুঝেছিলেন নিতীস্ত ভালমান্ষ হলেও সাধন এসে রাগ করবেই। তাই ওরা বেরিষে যেতে শিবনাথ নরম গলায় বললেন, এক কাজ কর সাধন-_-।

. সাধন সত্যি সত্যিই রাগ করেছিল। তাই গম্ভীর হয়ে জবাব দিলে,

আমি পারবো না।

শিবনাথ ন'হেসে পারলেন না বললেন, পারৰো না কি বলছ সাধন? মায়াঘাটে তোমাদের প্রথম অতিথি এসেছে-_তার সম্মান রাখতে হবেনা?

--ওঃ) কি আমাদের অতিথি! জমিদারের চর! মোঁসাছেবী করে ত" খায়! তার আবার এত দাপট. কিসের?

--ও যাই হোক--আজ আমাদের অতিথি এর বেশী আর কিছু জানবার দরকার নেই।

--তা বলে এই ছুপুর রাতে তোমার নিজের খাবার ওকে ধরে দিয়ে তুমি খাবে কি? সারারাত উপোষী হয়ে থাকবে?

ওদের কথার মধ্যে মনোহর আর ঘোষাল এসে ঢুকলো ঘরের মধ্যে ঘোষাল বোধ হস্ব সাধনের শেষ কথাগুলোর আভাষ পেয়েছিল। বললে, সাক্লারাত উপোী হয়ে আবার থাকছে কে?

১৬০

__ও কিছু নষ-*'কিছু নয়'***"আপনি ভাববেন না৷ বোষাল মশায় শিবনাথ কথাট। এড়িয়ে যাবার চেষ্ট! করেন।

__কিন্তু আমার কেন কেমন একটু গোলমাল ঠেকছে ''আপনাদের খাওয়া হয়েছে ত*?

মনোহর এই স্থযোগে ঘোষালের ওপর একটু টিপ্লপনী কাটে, পরের ভাবনা এত ভাবা তোমার ধাতে সইবে না ঘোষাল! তুমি স্বর করে দাও দিকি !

ঘোষাল একটু যেন থতিয়ে যাঁয়। আমতা-আঁমতা করে বলে, কিন্ত সত্যিই এতরাত্রে এসে আপনাদের ওপর যেন জুলুম করলাম মনে হচ্ছে-_

পরের দিন সকালে বেরোবার আগে শিবনাথ সাধনকে ডেকে বলে গেলেন, আমি একটু বেরুচ্ছি সাধন ঘোষাল মশাঁয়ের দেখাশোনার ভাঁর তৌম[দের ওপর রইল, দেখো যেন কোন ক্রটি না হয়! তিনি উঠেছেন কি?

_-ওঠে নি আবার? সাধন ঘোষালের ওপর গাঁয়ের ঝাল মিটিয়ে বলে, কোন্‌ সকালে উঠে চুপিচুপি গী! দেখতে বেরিয়েছে '"*জমিদারের কাছে গিয়ে সাতখাঁনা করে লাগাতে হবে ত??

__তা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামীবাঁর দরকার নেই বুঝেছ সাধন, আমাদের কাজ আমরা করে গেলেই হলো :..

শিবনীথ স্নি্ধ হাসিতে সাধনকে জল করে দিরে বেরিয়ে যাঁন ঘর থেকে।

ঘরের মধ্যে মনোহর এসে ঢোকে টুকতে ঢুকতে ডাকে-_ সোমনাথ! সোমনাথ.*.!.**সোমনাথ এখনো ওঠে নিঃ 1."

সাধন বলে আজ তোমার বুঝি সেই পাঠশীলা আছে মাষ্টার ! তসব পাগল এসে জুটেছে'**। বলতে বলতে হাসতে হাসতে বেরিষে বায় সাধন ঘর থেকে।

মনোহরের মনে বখন পাঠশালার চিন্তা ওঠে তখন ওর মুখের ওপর এমন এক বিচিত্র ভাব ফুটে ওঠে যে আঁশক্ষিত সাধনের মনের

৩,

হাওয়াটাও যায় বদলে। মনোহরকে শুধু যে শ্রদ্ধা করবে, না ভালবাসবে বুঝে উঠতে পারে না।

সোমনাথ ঘুরিয়ে আছে ঘরের একপাশে তক্তাপোষের ওপর। মনোহর সোমনাথের দিকে এগিয়ে যায় ধীরে ধীরে ডাকে, সৌমনাথ ! ধাবা! ওঠ, ওঠ!

ইতিমধ্যে ঘোষাল এসে ঢোকে ঘরের মধ্যে মনোহরকে একলা পেয়ে একটু ব্যঙ্গ করেই যেন বলে, এই যে মাষ্টার! তোমাদের মায়াঘাট ত” দেখে এলাম হে! রাতারাতি কাঁটা ত? করে ফেলেছো মঙ্গ নয়! |

--তোমার ভাল জ1গলো ? মনোহর নীরস স্বরে প্রশ্ন করে।

তা একরকম মন্দই বা কি করে বলি? বেশ সাজানো গুছনে! **'ঝঁকঝকে তকতকেই ত? দেখলাম" | কিন্ত মাষ্টার, তোমাদের ব্যাপার কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না। ছোঁট-বড়-ইতর-ভদ্র নিয়েই ত? গ্রাম! তোমাদের ঘাড়ীঘর দেখে তা ত+ কিছুতেই বোঝার জো নেই !

মনোহর জবাব দেয় না, শুধু চেয়ে চেয়ে হাসে।

ঘোষাল মনোহরকে চুপ করে থাকতে দেখে আবার প্রশ্ন তোলে, গীয়ের যে মালিক তার বাড়ীটাও ত? অন্ততঃ চিনে নেবার মত হওয়া দরকার !

মনোহর জবাব দেয়। গায়ে বারা থাকে-.'সবাই যে তাঁরা এর মাপিক ঘোষাল'..ন্ুতরাং আলাদা করে চিনবে কি করে 1.

ঘোষালের মুখট। কুঁচকে বায়। একটু যেন বিরক্তই হয়। বলে, তোমার ও-সব বেয়াড়া কথা আমি বুঝি ন! মাষ্টীর। অউচু-নীচু না থাকলে কি গাঁয়ের শোভা হয় ?

মনোহর আবার এক ফালি ভাসি দিয়ে এড়িয়ে বায় ঘোষালকে। সোমনাথের দিকে ফিরে বলে, কই সোমনাথ, ওঠ! আজ পাঠশালে' যেতে হবে মনে নেই ?

ঘোষাল উপযাঁচক হয়ে জবাব দেয়, পাঠশালা তাহলে এখানেও খুলিয়েছে মাষ্টার? কিন্তু গাঁয়ে ত” পাঠশালার মতে! কিছু দেখলাম না?:**

ধু

_ আমাদের পাঠশালা ত, গায়ে নয় ঘোষাল, গায়ের বাইরে

মনোহরের গলার স্বর এত গম্ভীর যে ঘোষালের না জবাব দেবার কথা কিন্ত তবু ঘোষাল জবাব দেয়, সে আবার কি? পাঠশালার