সম্পাদনা £ শিশিরকুমাব বু ভাষাস্তর হ্নীলকুমাঁর চ্রোপাধাশ প্রচ্ছদ শিরোনাম। £ ববীন দত্ত অন্তবাদ-ন্থত্ব প্রকাশক কওক লরি

প্রকাশিকা : সান্তবন! দে: পত্রপুট, ২/৩এ রামকান্ত মিশ্ি

লেন, কলকাতা-১২। মূদ্রক: দিলীপকুমার চৌধুরী রঃ

সরস্বতী প্রেস, ১২ পটুয়াটাল। লেন, কলকাতা-৯।

স্তুচপো নিবেদন পব : ২য় ১৯৩৯

ফরওয়াড বুক কেন ফবওয়ার্ড ব্কেব ভূমিক! শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিবৃতি মহাজাতি সদন আমাদেব সমালোচ কব! এই ক্ষণে যা অয়োজন বন্ধুব কণম্বব ' পথেব সন্ধানে আমার দেশ পরিক্রম। অন্তীত দাঈপাও হাই-কমাগড কোন পথে ? তাদের সঙ্গে লড়াই কাব? আমাদের এযাক্ষি* কমিটি আবাব গজন একটি স্মাবক *সঠিক পন্থ'

নেতাদেব শুল নেতৃত্

পর্ব : *্শয় ১৯৪০ ভাবতিব ভাঙ্র-সমাজেব "প্রতি সম্মথে বশদ বামগঙ্ আমাদেব সমস্ত পচন বোধ কর বাংলান জট সান্প্রদামিক এউঁক্যের দিকে জাঙানি সম্পর্কে একটি কথ প্রামগড় অভিভাঁষণ বঙ্গীয় হিন্দুমহা সভা রামগড়েব আহবান যাত্র। হলো শুর

১১ ১৩ ১৬ ষ্ঠ ঠে ২৪ ২৮ ৩২ ৪৯ ৫৭ ৬২ ৬৭ ৭২ শঃ, ৮* ৮৬

৯৫ ১৩৭ ১১৩ ১১৫ ১১৭ ১২২

১৩৩ ১৩৩ ১৪২ ১৪৬ ১৪৯

৫০

স্বামীজির বাণী নতৃন কুচকাওয়াজ কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক সংগঠন ভারত, জাগে। ! কাজে তৎপর হও বাংলা, এগিয়ে চল কি ন্যায়সঙ্গত ? 'অস্থায়ী ক্কাতীয় সবকার দেশবন্ধু দীর্ঘজীবী হোন প্যাবিসের পর নাগপুবে স্বাগত নাগপুর অভিভাঁণ “দশের সামনে কর্তব্য হল ওয়েল মন্সমপ্ট জর ওয়ার্ড ব্রুকর পটভূমি জেলেব প্চঠি নামার বাজনৈতিক প্রত 'এব" সরকারতক লেখ। অন্তান্ত চিঠিপত্র 'মামার জীবনের বাণী শ্সামাব বিবেক আমাব শি:ছর ধান্ল! কগ্রেসের জট ণের্ড লিনলিথগো:কে লেখ! দুইটি চিঠি বন-গান্ধী পত্রালাপ ১৯৪০-৪১ ' বাঁণলাব মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের নিকট শেষ চিট পরিশিষ্ট নোতাদ'তক লেখ! রাসবিষারী বসুর একটি চিঠি ১৪৩০ ১৯৩৯ গাঁপে নেতাজীর চীন সফরের রকম স্ক্ঞান্ত নথিপত্র রর পু নেতাজাীকে লেখা হরয়গ্রকাশি নাবায়ুণের গোপণ

চিঠি ১৯৪,

১৫১ ১৫৩ ১৫৭ ১৬১

১৬৭

২৪% ৭39 ৯৬৫ ১৬৭ ২৭৯ ২৮৭ »

নিবেদন

'ক্রস্রোড.স্ংএর বাংল! সংস্কবণ “কোন পথে ?র দ্িতীয় খণ্ড প্রকাশিত হলো। অনিবার্য কারণে প্রকাশে বিলম্বে জন্য আমরা দ্বংখিত।

গন্ভ বছর আগস্ট মাসে প্রকাশিত “কোন পথে ?্র প্রথম খণ্ডে ১৯৩৮ সালের এবং ১৯৩৯ সালের প্রথমার্ধেব স্ভাষচন্দ্রের যাবতীয় বক্তৃতা, রচনা চিঠিপত্জ সপ্রিবিষ্ট হয়েছে। ১৯৩৯ সালের আগস্ট মাসে রচিত “্ষরওয়ার্ড বুক কেন? নিবন্ধটি দিয়ে এই খণ্ডের শুরু। তারপব প্রায় এক বছর ধবে “ফবওয়ার্ড ব্লক পত্তিকায় প্রকাশিত তাব রচনাগুলি ধারাবাহি কভাবে দেওয়া হয়েছে বক্গাতা- গলির মধ্যে নাগপুব রামগড় ভাষণ ঢুটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ১৯৪০ সালের হুলাই থে নন্গগুৰ পধস্থ শেষ কারাবাসকালীন তার লেখাগুলি মন্থে শবংচন্জ্ বকে সবকাবকে লেখা চিঠিগুলে তো! আ'দ্ছই | তাছাডা পর্ষন্থ অপ্রকাশিত ভার ছুটি প্রবন্ধ “আমার ক্টীবনেৰ বাণী “ফরওয়ার্ড ব্রকেব পটভূমি এবং কয়েকটি চিঠিও সংযোজন কব! হয়েছে ১৯৪০-এব ডিসেম্ববে মুক্তিলাভেব পব ১৯৪১ তালেব জানুয়াধাত্তে ছেশ ত্যাগের পুবে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে স্বভাষচন্দ্রে শেষ পত্নালাপ এই খণ্ডের আব একটি বিশিষ্ট সংযোজন ত্রিটিশ বাজদুত জিনপিথগোকে লেখা তাব দুটি চিঠি এবং বাপ্পা সবকারকে লেখ! তার শেষ চিঠি পিয়ে বইটি সম্পূর্ণ হয়েছে

পবিশিষ্টে তিনটি মূলাবান দলিল প্রকাশ কবা হলো প্রথম, ১৯৩৮ সালে জাপান থেকে ভাষচন্জুকে লেখ। বাসবি বা বস্থব চিঠি , দ্বিতীয়, ১৯৩৯ সালে হভাষচন্দেব চীন যাতার পৰিকল্পনা সঙ্ন্ধে কৌতৃহলোদ্দীপক তথ্য , এবং তৃতীয়, ১৯৪০ সালের শেষে শ্ুভাষচন্রকে লেখা জয়প্রকাশ নারায়ণের গোপন চিঠি 'এগুলিব বাজনৈতিক এতিহাঁসিক তাৎপর্য সুস্পষ্ট |

১৯৩৮-৪০ সালব ভারতে বিকল্প বৈপ্লবিক নেতৃত্বেব প্রবস্তা স্থতাষচন্্রকে বুঝবার জন্য «কান পথে ? একটি অবশ্থ-পাঠ্য প্রামাণা বই। কেবল তাই নয়, বর্তমান ভারতের রাঙ্জনৈতিক পটভূমি হ্িরিশ দশকের শেষের দিকেই রচিত হয়েছিল দেশের বর্তমান রাজনীতির সুত্র নানাজাতীয় সমস্তার স্মাধান অনেক ক্ষেত্রেই স্থভাষচন্ত্রের বর্তীবেযর মধ্যে পাওয়া যাবে স্থতরাং প্ান পথে ? কেবল

[| গ্ৃষ ]

ইতিহাসের ছাত্রের জন্যই নয়, বর্তমানের তবিস্কতের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীদের পক্ষেও একটি অপরিহার্য বই।

নতুন তথ্যে এই গ্রন্থ সমৃদ্ধ করতে আমাদের সাহায্য কবেছেন দিল্লীর ন্যাশনাল আর্কাইভস অব. ইগ্ডিয়া, লণ্ডনের ইগ্ডিয়া অফিস লাইব্রেরী শ্রীনুপেন্্র- চন্ত্র মিত্র মহাশয় শ্রীহ্ণীলকুমার চট্রোপাধ্যায় অঙ্থবাদেব কাজ অধ্যবসায় নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও পত্রপূট সংস্কাব উদ্যম গ্রন্থপ্রকাশ সম্ভব করেছে। শ্রীবিনোদচন্দ্র চৌধুরী মহাশয় ছাপার কাজ তত্বাবধানেব সব ভাব মানন্দে বহন করেছেন এদেব সকলকে ধন্তবাদ জানাই

সাঁধাবণ পাঠকমহলে নেতাজীব জীবনী অবলম্বন কবে নানাপ্রকাৰ আাডভেঞ্চাব রহস্তেব কাহিনীর চাহিদ। তাব শিজেব রচনাঁবলণব চেয়ে অনেক বেশী দেশের স্বার্থে এই অবস্থার পরিবততন আনতে হবে “কোন পথে ?'বৰ মত বইয়েব বহুল প্রচারে পঠনপাসনেব মাধাহুমই তা সম্ভব | আশ! কত দেশবাসী এই প্রয়াসে আমাদের সভায় হবেন

জয়ুতি লক ১০ শরৎ বক্ষ বো নলকাত:-২৬ শিশিধকমাব বল্ল সেপ্টেম্বব ১৯৭৪

ওয়ার্ড ব্লক গঠনের প্রাক্কালে বিরোধী নেতাদের সম্মেলন (৪১নং এম. এস. আনে, সত্যপাল,

৫০ 2

আসব পরই,

টম

ফরওয়ার্ড রক কেন ৫ই আগস্ট ১৯৩৯-এর “ফর ওয়ার্ড বরকে” স্বাক্ষরিত সম্পাদকীয়

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ভারতভূমি থেকে উদ্ভূত এক আন্দোলন রূপপরিগ্রহ করেছে এটি ভারতীয় জনগণের রাজনৈতিক মুখপাত্র এবং . এরই মধো মূর্ত হয়ে উঠেছে তাদের আশ, আকাঙ্ক্ষা আদর্শ এটি এমন এক সংগঠন যার উন্নতি বিকাশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে-_ ভারতীয় জাতির সম্ভাবন। যেমন সীমাহীন এই সংগঠনের সম্ভাবনাও তেমনই | কংগ্রেসের উন্নতি বিকাশ ভিতরকার তাগিদের ফলেই সম্ভব হয়েছে যদিও বাইরের অনেক কারণে তা৷ প্ররোচিত ভিতরকার এই তাগিদই ফরওয়ার্ড রকের জন্মের জন্য মুখ্যত দায়ী ব্যক্তিগত কারণ কিংবা আকম্মিক কোন অবস্থার উদ্ভব ভারতীয় রাজনীতিক্ষেত্রে এই নতুন ঘটনাকে ব্যাখা। করতে পারে না। ফরওয়ার্ড রকের আবির্াৰ ঘটেছে যেহেতু কংগ্রেসকে তার ক্রমবিকাশের প্রক্রিয়ায় নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে হবে

এখন, কংগ্রেসের এই বিকাশ উন্নয়ন কিভাবে সংঘটিত হয়? তার অস্তরশিহিত নিয়মসূত্র কী? ব্যাখ্যাপ্রসঙ্গে অনেক তত্বের কথা বলা যেতে পারে, কিন্তু আমার কাছে যা সবচেয়ে গ্রহণযোগা বলে মনে হয় এবং আমার মতে যেটি আর সবের থেকে বেশী বাস্তবানুগ, ত1 হেগেলীয় ভায়ালেকটিক বা দ্ন্ববাদ প্রগতি যেমন সরল রেখা অনুসরণ করে ন& তেমনই তার চরিত্রও সব সময় শান্তিপূর্ণ নয়। প্রায়ই প্রগতি আসে স্ংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে

(তত্ব “বিপরীত তত্বোর সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে “সমন্বয় তত্বের জন্ম হয়। এই “সময় তত্ব' আবার ক্রমবিকাশের* পূরবী পর্যায়ে 'তন্ব' হয়ে ওঠে এই 'তত' আবার বিপরীত তত্ব'কে জাগিয়ে তোলে

কোন পথে?

এবং সেই সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটে আরেক 'সমন্থয় তত্ব এইভাবে প্রগতির চাকা ক্রমাগত এগিয়ে চলে

যারা বখন তখন একতার কথ! বলেন এবং সবক্ষেত্রে সব অবস্থায় একতা বজায় রাখার জন্তে আবেদন করেন, তারা ক্রমবিকাশের এই মূল নুত্রটি খেয়াল রাখেন না। সত্যকার একতা এবং তুয়ে। একতা কর্মের একতা অকর্মণ্যতার একতা, যে একত। প্রগতিধমা এবং যে একতা অচল অবস্থা স্যি করে__-এদের মধ্যে আমাদের পার্থকা করতে হবে। আজ “যে কোন মূল্যে এবং সকল অবস্থায় একত।' স্লোগান তাদের কাছেই সুবিধাজনক ন্লোগান হয়ে উঠেছে যার। আর সংক্রয় নয় এবং বৈপ্লবিক প্রেরণ! যাদের আর নেই এই মন ভোলানে। আবেদনে আমর। যেন বিপথে চালিত ন| হই।

জীবন্ত সক্রির গ্রাতিটি আন্দোলনে প্রচ্ছন্ন একটি বামপন্থী শক্তি থাকে-_-আপনারা বলতে পারেন--একটি প্রচ্ছন “বিপঙ্গীত তক কাল পূর্ণ হলে এই প্রচ্ছন্ন বামশক্তি প্রকট হয় এবং সময়ে তার আরও বিকাশ আভিবান্তি ঘটে। কশঙকঞ্চলি অবস্থার একটি নিদিই সা্নবেশের মধ্যে কি ভাবে বামপন্থী শ।ক্তর পোষকত। কর খেতে পারে তা জেনে ঠিক করতে হলে রাজনৈতিক) এবং কখনও কখনও দাশনিক। অন্তূর্টি দরকার পপ্রায়ই এমন হয় যে? দক্ষিণপন্থীদের্র সঙ্ষে আপস সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বামপন্থীরা শক্তি অর্জন করে এবং প্রভাব বিস্তার করে ভিন্ন অবস্থার সন্নিবেশ? ত। সম্ভব নাও হতে পারে। অতএব বামপন্থীর পক্ষে দক্ষিণপন্থী থেকে নিজেদের আলাদ! কর! এবং নিজন্বয শক্তি দলকে সংহত প্রসারিত কর! প্রয়োজন হতে পারে এই রকম অবস্থায়, সাময়িকভাবে বেদনাদায়ক হলেও, তীব্র সংঘর্ষ বাস্তব্কপক্ষে প্রগতির অনুকূল হতে পারে এবং আসলে ত৷ অপরিহার্ষও | বামপন্থী শক্তির আবিহাব ওবিক।শের,সঙ্গে ওতপ্রোত- ভাবে যুক্ত থাকে সাংগঠনিক উন্নাত দক্ষিণী শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করে অপবা তারু সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে বামপন্থী শক্তি যতদিন পর্যস্ত সংগঠনকে দখল করতে না পারে অথবা দর্ষিণীদের তাদের স্বমতে

ফরওযার্ড ব্লক কেন

আনতে না পারে ততদিন বামশক্তির অব্যাহত বৃদ্ধি প্রয়োজন যখন 'এই লক্ষো পৌঁছনেো যাবে এবং বামপন্থী শক্তির ( তখন যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হবে) সকল সম্ভাবন। শেষ হয়ে যাবে, তখন ইতিহাসের পুনরাবর্তন ঘটবে, নতুন এক বামপন্থী দলের উদ্ভব হবে__যারা শেষ- পর্ধস্ত বিগত দিনের বামপন্থীদের উৎখাত করবে ১৯২০-এর গান্ধী- বাদীর! কংগ্রেসের বামপন্থী দল ছিল, কিন্তু তাই থেকে এই বোঝায় না, তার আজকেরও বামপন্থী কাল যাব্র! বামপন্থী ছিল তার! সব সময়ে না হলেও; প্রায়ই আগামীকালের দক্ষিণপন্থী হয়ে যায়। আজকের কংগ্রেসের মধ্যে বাম দক্ষিণের মধ্যে কোশ প্রভেদ থাক। উচিত নয় এই কথ! বল! এবং কংগ্রেস সমগ্রভাবে বামপন্থী এই রক্ম যুক্তি দেখানো-_-অর্থহীন প্রলাপ ছাড়। কিছু নয় যতই আগ্রীতিকর হোক ন! কেন য। বাস্তব ঘটন। তা আমাদের মেনে নেবার সময় হয়েছে।

১৯৩৬ এবং ১৯৩৮ এর মধ দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে কংগ্রেসের বামপন্থী শক্তি বেডে ওঠে এবং বিকাশলাভ করে ১৯৩৮-এর সেপ্টেম্বরে দক্ষিণপন্থীদের তরফ থেকে প্রথম ধুয়ো তোল হয় যে, বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা আর সম্ভব নয় এবং তার! এত হৈহল্পা করছে এমন ঝঞ্ধাট করছে যে তাদের সঙ্গে তাত মেলানো 'আর চলে না। এই নতুন ধুয়ে! শেষপধন্ত চরমে পৌছয় ১৯৩৯-এ, 'যখন দক্ষিণপন্থীরা বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করার সুচিন্তিত সন্ধান্ত নেয়। দক্ষিণপন্থীরা যে বর্তমানে সমমতাবলম্বী কেবিনেট বা ওয়াফিং কমিটির জন্যে জিদ্‌ করে চলেছে তার পিছনে আর কী গভীর তাৎপর্য থাকতে পারে? তিন বছর তার! বামপন্থীদের সঙ্গে নহযোগিতা করে এসেছে, কিন্তু আর তাঁরা তা পারছে না কেন? যেহেতু কংগ্রেসের* ভিতরে বামপন্থীর! ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠছে দখে দক্ষিণপন্থীদেত্র আর নিধিকার থাকা সম্ভব নয়।

নতুন কেবিনেটের বা ওয়াকিং কমিটির এই সমস্তা। সমাধান করার দিনে ১৯৩৯-র ২৯শে এপ্রিল কলকাতায় যখন নিখিল ভারত কংগ্রেস ফ্মিটির বৈঠক বসে তখন দেখা! গেল বামপন্থীরা দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে

৪8 কোন পথে?

সহযোগিতা করতে রাজী এবং তাদের শ্লোগান ছিল সর্বদলীয় বা মিশ্র কেবিনেটের সপক্ষে | দক্ষিণপন্থীর কিন্তু বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তত ছিল না এবং তাদের শ্লোগান ছিল সমমতাবলম্বীদের নিয়ে কেবিনেট গঠনের শ্লোগান কলত দক্ষিণপন্থীরাই কিন্তু আপস, সহযোগিতা এবং একত৷ অসম্ভব করে তুলল বামপন্থীদের সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে, তার কমে আজকের দক্ষিণপন্থীরা কিছুতেই খুশী নয়। একতার জন্যে কি বামপন্থীরা তা মেনে নেবে? বদি তারা তাই করে, ভার পরিণাম কী হবে? আমরা কি তার ফলে প্রগতির চাকাকে আন্ও বেগে চলাতে পারব কিংবা আমাদের দলের ভিতরকার প্রতিক্রিয়াকে রসদ যোগাব ? ্‌

দক্ষিণপন্থীর! যখন বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজী নয়, তখন আমর! বামপন্থীব্রা একতার জন্তে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজেদের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করতে পারতাম, যদি দক্ষিণ- পন্থীদের তখনও কোন সক্রিয় ভূমিকা থাকত | কিন্তু মাচ এাপ্রল মাসে মহাত্মা! গান্ধীর সঙ্গে আমার যে পত্রালাপ হয়েছে তাতে ছর্ভাগ্য- বশত একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তিনি আসন্ন কোন সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে আর চিন্তা করছেন না মন্ত্রীরা এবং তাদের পরিচালক- রূপে ধার! এখন কংগ্রেসের উপর আধিপত্য করছেন, তাদেরঞ্জ চিন্তায় সংগ্রামের স্থান নেই। এইরকম পরিস্থিতিতে দক্ষিণপন্থীদের কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং বাইরে একতার ভেখ বজায় রাখার অর্থ আসলে ,ঈীড়ায় কংগ্রেসের ভিতরকার প্রতিক্রিয়া অচলাবস্থাকে টিকিয়ে রাখা | আমরা তা পারি না তা পারা আমাদের পক্ষে উচিতও ন!।

অতএব বামপন্থীদের দক্ষিণপম্থীদের থেকে আলাদ! হয়ে নিজেদের সংহত হবার সময় এসেছে যখন তা সম্পন্ন হলে, বামপন্থীরা তখন কংগ্রেসের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এবং “তারপরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নামে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করতে অগ্রসর হুবে। আজকের বাস্পন্থীদের এই কাজ | এই কান্ধের দায়িত্ব পালন করতে ফরওয়ার্ড রকের উদ্ভব হয়েছে।

ফরওয়ার্ড রক কেন?

বর্তমান বামপন্থী দলগুলির পক্ষে এই বামসংহতির তৃূমিক গ্রহণ করতে কোন বাধ! ছিল না! কিন্ত কোন না কোন কারণে, গত বছরে তারা সে ভূমিকা গ্রহণ করেননি গত বছর বামপন্থী কংগ্রেসকর্মীর! খন বামপন্থী ব্লক গঠন করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচন! করছিলেন-_-মনে হয়েছিল বামপন্থী দলগুলি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে তা কার্ধকর করার প্রয়াস করবে কিন্ত পরে তার। মত বদলান | তখন বামপন্থী দলগুলি থেকে আগত নতৃন কমাঁদের নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক পত্বন করা অপরিহার্য হয়ে দাড়াল অতএব ফরওয়ার্ড ব্লক কেবলমাত্র কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ তাগিদ থেকেই স্থষ্টি হয়নি, তা এঁতিহাসিক আবশ্যকতারও কল। ছাড়াওঃ আজকের অবস্থা সন্নিবেশও এর আবির্ভাৰের পক্ষে যে ফরওয়ার্ড রকের এইভাবে এবং এই অবস্থার মধ্যে উদ্ভব, সেই ফরওয়ার্ড ব্লক মরতে পারে না আমাদের রাজনৈতিক বিকাশধারায় এটি একটি অবশ্যন্তাবী ঘটনা তা স্থায়ী হয়ে রইল এবং বত দিন যাবে তত শক্তিশালী হয়ে উঠবে | আমার কথার সত্যতা সম্বন্ধে ধাদের সন্দেহ আছে তারা যেন ধৈর্য ধরে কংগ্রেসের এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের ভাবধ্যৎ ইতিহাস অনুধাবন করেন।

ফরওয়ার্ড ব্লকের ভূমিকা ১২ই আগস্ট, ১৯৩৯-এর “ফরওয়ার্ড ব্লকে প্রকাশিত স্বাক্ষরিত সম্পাদকীয়।

কয়েকটি ছোটখাটো খগ্ুযুদ্ধের পর মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে বাম- পন্থীরা ১৯১০ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দখল করে নিতে সক্ষম হযর়। তাই থেকেই মিস্টার জিন্না, মিস্টার বি. সি. পাল,'মিস্টার বি. চক্রবতাঁর মত প্রাক্তন নেতারা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাবার সঙ্কেত পান। বামপন্থীরা কংগ্রেসের প্রধান দল হয়ে ফ্াড়াল এবং কিছুদিন তারা সংখ্যায় সর্বাধিক হয়ে রইল। ১৯২২ সালে আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দিল। এবং আইন সভাতে লড়াই চালানোর প্রশ্নে এই দল ছুটি উপদলে ভাগ হয়ে গেল_স্বরাজবাদী এবং সনাতনপন্থী (নোচেজার)। কিছুকাল পরে আইন সভায় লড়াই সম্প্রসারিত করার স্বরাজবাদী পরিকল্পনা কংগ্রেস গ্রহণ করায় এই বিরোধ মিটে যায়।

১৯২৮ সালে নেহরু কমিটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্টে অধিকাংশ সদস্ত ডমিনিয়ন স্টেটাসের ভিত্িতে ভারতের একটি গঠনতন্ত্রের সুপারিশ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইণ্ডিপেখ্ডেন্স লীগ- রূপে এক বামপন্থী দলের আবির্ভাব ঘটে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় কংগ্রেসের যে বাধধিক অধিবেশন হয় তাতে লীগের সদস্তর। কংগ্রেসকে তাদের ত্বমতে আনতে চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। লীগের সদস্যর চেয়েছিল কংগ্রেস তার আদর্শের পরিবর্তন করে দ্য্থহীন ভাষায় ঘোষণ। করুক যে কাগ্রেসের লক্ষা-_ন্বাধীনতা | কংগ্রেসের মূল সংস্থা থেকে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা কর! হয়েছিল এবং তার নেতৃহ করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী এক বছর ধরে 'ইপ্ডিপেগ্ডেন্স লীগের সঙ্ষে সংঘর্ষ চলে শেষপর্যন্ত ১৯২৯ সালের ডিসৈম্বরে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে মহাত্সাজীর অনুরোধে স্বাধীনতাকে তার লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়

ফরওয়ার্ড ব্লকের ভূমিকা

এই আপসের ফলে কংগ্রেসের সব দল-উপদলের পক্ষে একসঙ্গে কীধে কাধ মিলিয়ে ১৯৩০-এর আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে এগিয়ে বাওয়া সম্ভব হয়েছিল।

১৯৩৩-এ লড়াই স্থগিত ব্লাখ৷ এবং ১৯৩৪-এ নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সংসদীয় কার্ধক্রম গ্রহণ বামপক্ষকে বিদ্রোহী করে তুলল | তখনই কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টির উদ্ভব হয় এবং যথাসময়ে এই *দলের আবির্ভাব তাদের সক্রিয় ভূমিকার ফলেই নিয়ম- তান্ত্রকতার দিকে যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা অনেকাংশে নিরস্ত হয়। কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি শীঘ্রই কংগ্রেসের ভিতরকার বাম- পশ্থীদের মিলন কেন্দ্র হয়ে ঈাড়াল।

১৯৩৪ থেকে ১৯৩৭ পর্ষন্ত সংখা! প্রভাব এই উভয় দিক থেকেই কংগ্রেস সোশ্্যালিস্ট পার্টি যথেষ্ট প্রাধান্ত লাভ করে কিন্ত ১৯৩৮-এর ফেব্রুয়ারিতে হরিপুরায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেস অধিবেশনে দেখা গেল সি.এস.পি.-র অগ্রগতি থেমে গেছে। হরিপুর! কংগ্রেসের প্রেসিডেণ্টের অভিভাষণে আমি বলেছিলাম কংগ্রেসের ভিতরে কংগ্রেস সোশ্ঠা লিস্ট পার্টির ভূমিক৷ সমাজতান্ত্রিক ভূমিকার বদলে হওয়া উচিত সাম্রাজাবাদ- বিরোধী বামপন্থীর ভূমিক] এবং একমাত্র এই শেষোক্ত ভূমিকা পালন করেই তা অগ্রগতি বজায় রাখতে পারবে

হরিপুরা কংগ্রেসের পর সোশ্যালিস্ট কমিউনিস্ট বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়, তারা এই মতের সঙ্গে একমত হন। সাধারণভাবে সবাই বোধ করছিল? সোশ্ঠালিস্ট বা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতে প্রস্তত নয় অথচ কংগ্রেসের ভিতরে যারা প্রগতিশীল, বৈপ্লৰিক সাস্ত্রাজ্যবাদবিরোধী তাদের ন্যুনতম সাধারণ একটি কার্ধক্রমের ভিত্তিতে সংগঠিত কর দরকার | আমার আরও মনে হগ্লেছিল, একমাত্র এই উপায়েই দক্ষিণপন্থীদের আক্রমণ প্রতিহত করা *যেতে পারে এবং একটি মার্কসবাদী পার্টির বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে পারে।

গান্ধী সেবা সঙ্ঘ, যাকে বল! যেতে পারে কংগ্রেসেব্ন বর্তমান সংখ্যা-

ধা কোন পথে?

গরিষ্ঠ দঙ্গের (অথবা গান্ধী পার্টির) “লৌহ কাঠামে) সেই সঙ ১৯৩৮-এর মার্চ মাসে ওড়িশার দেলংয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কনফারেন্সের অনুষ্ঠান করে এই কনফারেন্সে গান্ধী সেব1 সঙ্ঘ বামপন্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় অন্যান্য অনেক বিষয়ের মধো সঙ্ঘ স্থির করে শ্রমিক এলাকায় তার! তাদের লোক পাঠাবে, উদ্দেশ্ঠ এদেশে শ্রেণীনচেতন ট্রেভ ইউনিয়ন আন্দোলনের পক্ষে যে সকল ট্রেড ইউনিয়ন কমা কাজ করছে তাদের যাতে উৎখাত করা ঘায়। আরও স্থির হয়, দেশের প্রাদেশিক অন্যান্ত কংগ্রেস সংগঠনগুলিকে হাত করার জন্যে তারা তাদের প্রধান প্রধান সদস্যদের নিয়োজিত করবে।

১৯5৪ সালে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি যে সংসদীয় কার্ষক্রম গ্রহণ করে তার চূড়ান্ত পরিণতি দেখ! দেয় ১৯৩৭-এ প্রদেশহুলিিতে সরকারী ক্ষমতা গ্রহণে | এর ফলে দক্ষিণপস্থীর! তাদের অবস্থা এত সংহত করে তুলল এবং তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি 'এমন বাড়িয়ে ফেলল যে ১৯৩৮-এ তারা বামপন্থী শক্তির উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করল এই স্তুচিস্তিত আক্রমণের বিরুদ্ধে বামপন্থী শক্তি যদি সচেতন- ভাবে নিজেদের সংগঠিত শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে পারত তবেই তার টিকে থাকার আশা ছিল।

যদি কংগ্রেষের ভিতরকার প্রগতিশীল, বৈপ্লবিক সাম্রাজ্যবাদ- বিরোধী সকলে কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টির পতাকাতলে মিলিত হতে পারত, তাহলে ব্যাপারটা খুবই সহজ হয়ে যেত। কিন্তু তা হল ন1। এই কারণেই, হরিপুর! কংগ্রেসের পরে ন্যুনতম সাধারণ এক কার্যক্রমের ভিত্তিতে বামপন্থী সবাইকে সংগঠিত করার জন্যে একটি বামপন্থী ব্লক গড়বার কথ ভাবা হয়েছিল যদি বর্তমান বামপন্থী পার্টিগুলি এই বামপন্থী ব্লক (এখন যার নতুন নামকরণ হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক) গড়ে তোলার দায়ি নিত, তাহলে 'এর মধ্যে বামপন্থীদের সংহত করার কাঙ্জ অনেক এগিয়ে যেত

কিন্তু ব্যক্তি,বা দল আমাদের নিরাশ করলেও,আদর্শের অবহেলা

ফরওয়ার্ড ব্লকের ভূমিকা

কখনই স্বীকার্য নয় | এই জন্যে বামপন্থী যাদের পাওয়া গেছে তাদের নিয়েই ফরওয়ার্ড বুক গঠন করা হয়েছে পথ বাধাসস্কুল হওয়া সত্বেও রক যে অভূতপূর্ব ত্বর্নিতগতিতে বিকাশ প্রসার লাভ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই | এবং সে-সময় শীঘ্রই আসবে যখন আজ ধার! এতে যোগ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত তারা দ্বিধা ত্যাগ করে যোগ দিতে এগিয়ে আসবেন ফরওয়ার্ড বকের সামনে এবং কংগ্রেসের বামপন্থী শক্তিল্ন সামনে তিনটি কর্তব্য- বামপন্থীদের মধ্যে সংহতি, কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠদের জয় করে আনা, এবং জাতীয় সংগ্রাম শুরু করা ধারা আমাদের সমালোচন! করেন এবং ছিদ্রান্বেষণ করে থাকেন তার! এর চেয়ে ভালো কিছু বিকল্প প্রস্তাব দিন। আমরা তা গ্রহণ করতে দ্বিধ করব না তবে আমাদের যতদূর মনে হয় অন্য কোন বিকল্প সম্ভব নয়।

যে দক্ষিণপন্থীর! সংগ্রামের কথা ভাব! ছেড়ে দিয়েছে এবং এখন নিয়মতান্ত্বিকতা সংস্কারবাদের ধারায় চিন্তা করছে তাদের কন্ভা থেকে কংগ্রেসকে বাচাতেই হবে। একমাত্র বামপন্থী শক্তিই কংগ্রেসের বৈপ্লবিক চরিত্র বজায় রেখে অবিলম্বে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুর করতে পারে।

* আজকাল কোন কোন মহলে 'সমাজতন্ত্র শব্দটি সস্তা হয়ে গেছে। কিছু প্রদেশে এমন সোশ্তালিস্টদের পাওয়া যেতে পারে যাত্রা মন্ত্রীদের তল্লীবাহক | অতএব যে সকল দক্ষিণপন্থী সমাজতন্ত্রের ভেখ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের সম্পর্কে আমাদের সাবধান হতে হবে। কথা নয়, কাজ চাই। যার! যথার্থ সোশ্যালিস্ট দৈনন্দিন কার্ষকলাপে তাদের সাস্রাজ্যবাদবিরোধী বামপন্থী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে | শুধু বামপন্থী বুলি আউড়িয়ে এবং চটকদার বন্ৃত। দিয়ে বিশেষ কিছু লাভ হবে না।

কংগ্রেসের *মধ্যে যারা প্রগতিন্লাদী, বৈপ্লবিক সাম্রাজ্যবাদ- বিরোধী, তারা সোশ্যালিস্ট হোক বা নাই হোক, ফরওয়ার্ড ব্লক তাদের সবাইকে এফত্র করবে। সাস্াজ্যবাদবিরোধী জংগ্রামের কলে

১৩ কোন পথে?

ভারত তার জন্মগত স্বাধীনতার অধিকার লাভ করবে। এই সংহতির মধ্যে দিয়ে জনগণ সেই সংগ্রামের জ্ত প্রস্ত হবে| কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে রককে ভেঙে দেওয়! হবে না! এর জীবন কর্মপ্রয়ামের নবপর্ধায় ভার দ্বারা চিত হবে। এবং সেই পর্যায় নিঃসন্দেহে হবে মমাজতান্ত্রিক পর্যায়।

শীস্তিখুলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিবৃতি

আগস্ট ১৯, ১৯৩৯

কংগ্রেস থেকে কার্ধত তিন বছরের জন্যে আমাকে বহিষ্ষাত্র কর্মীর যে সিদ্ধান্ত ওয়াকিং কমিটি নিয়েছে আমি তা সাদরে গ্রহণ করছি গত কয়েক বছর ধরে “দক্ষিণপনম্থীদের জোট বাঁধবার' যে প্রক্রিয়া চলে আসছে প্রদেশে প্রদেশে মন্্রিতের গদি নেবার ফলে তা আরও জোরদার হয়ে উঠেছে সেই প্রসঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি এই সিদ্ধ।ন্ত। ওয়াকিং কমিটির এই ব্যবস্থা! গ্রহণের ফলে কংশ্রেসের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আসল চরিত্র এবং তার! যে ভূমিকা পালন করে চলেছে তা উদঘাটিত হয়ে পড়ছে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা তাদের দিক থেকে সম্পূর্ণ ম্যায়সঙ্গত | নিয়ম- তান্ত্িকতা সংস্কারবাদের দিকে নিয়মিত সরে যাওয়া সম্পর্কে দেশকে সতর্ক করে যে-সব প্রস্তাবে কংগ্রেসের বৈপ্লবিক চরিত্রকে হনন করার প্রয়াস করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করে, বামসংহতির উদ্দেশ্যে “কাজ করে। এবং সবশেষে হলেও যার গুরুত্ব কম নয়, আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তত হতে দেশবাসীর কাছে ক্রমাগত আবেদন করে_ আমি এমন একটি অপরাধ করেছি যার জন্যে আমাকে দণ্ডভোগ করতেই হবে। আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে আমার অগণিত দেশবাসীর কাছে তা অভাবিত আঘাত বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে তা হয়নি এতে প্রকট হয়েছে*নিয়মতাস্ত্রিকতা৷ এবং গণসংগ্রামের মধ্যে বিরোধের যথার্থ যুক্তিসঙ্গত পরিণতি এবং আমাদের রাজনৈতিক বিবর্তনের অনিবার্ধ এক পর্ব এইজন্যে, আমার মধ্যে রাগ বা তিক্ততা লেশমাত্র নেই। শুধু এই ভেবে আমার ছুংথ হচ্ছে যে, ওয়াকিং কমিটি বোঝেনি তাদের এই ধরনের কাজে আমি যতটা আঘাত পাৰ তার চেয়ে তারাই আঘাত পাবে বেশী

৯১২ কোন পথে?

ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্তদের কাছে, সাধারণভাবে বামপন্থীদের কাছে এবং জনসাধারণের কাছে আমার আবেদন তারা যেন এই প্ররোচনা সত্বেও শান্ত সংযত থাকেন এবং আরও বেশী ধৈর্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান। আমার উপরে বদি নিপীড়ন চালানে। হয় তাতে কী আসে যায়? আমি আগের থেকেও আরও বেশী অন্ুরাগের সঙ্গে কংগ্রেসকে জড়িয়ে ধরব এবং জাতির একজন সেবকরূপে দেশকে কংগ্রেসকে দেবা করে যাব দেশবাসীর কাছে আমি আবেদন করছি তার! দলে দলে এগিয়ে এসে কংগ্রেসে যোগ দিন এবং ফরওয়ার্ড বকের সদঘ্ত তালিকাভুক্ত হোন। একমাত্র এইভাবে চললেই আমরা ধগ্রেসের সাধারণ কমীঁদের আমাদের মতে ভিডিয়ে আনতে পারব এবং নিয়মতান্ত্রিকত! সংস্কারবাদের বর্তমান নীতির বিপর্যয় ঘটিয়ে ভারতীয় জনগণের সম্মিলিত শক্তি নিয়ে স্বাধীনতার জন্যে জাতীয় সংগ্রাম শুর করতে পারব পরিশেষে জনসাধারণকে অনুরোধ করছি, তারা যেন ভুলে না যান যে, আজ য। ঘটছে তা ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তিমাত্র। অনেক বছর আগে বামপন্থীদের একবার কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত কর! হয়েছিল, কিন্ত বেশীদিন অতিবাহিত হয়নি, তারা বিপুল সংখ্যায় ফিরে আসে কংগ্রেসকে তখন তাদের নীতি কার্যক্রম মেনে নিতে হয়| আমার মনে কোন সন্দেহ নেই, আমর! বামপন্থীরা যে আদর্শকে রূপ দিতে চাই তা ন্যায়সঙ্গত এবং ওয়াফিং কমিটির এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে তার যতখানি বিকাশ ঘটবে অন্ত কোন উপায়ে ত1 ঘটবে না দেশের এক্প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত সব অঞ্চল থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের ডাকে যে বিশ্ময়কর সাড়া জেগেছে তাতে আমি নিশ্চিত বোধ করছি যে, কংগ্রেসকে আবার আমর] পুনরুজ্জীবিত করে তার বৈপ্লবিক ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে পারব এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নামে স্বাধীনতা সংগ্রাম গুরু করতে সক্ষম হব।

মহাজীতি সদন

৯ই আগস্ট ১৯৩২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কক “মহাজাতিসদনে'র ভিত্তিস্তাপন উপলক্ষে নেতাজীর ভাষণ

বুদিনকার এক স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করবার প্রথম প্রচেষ্টা উপলক্ষ্যে আজ আমর! সকলে একত্রিত হয়েছি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য ধারা আপ্রাণ চেষ্টা এবং সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকার নির্যাতন ভোগ করে আসছেন, তাব। অনেকদিন থেকে একট। অভাব বোধ করে আসছেন; সে অভাব একটা গৃহের, যেখানে তাদের যাবতীয় সেবাকার্ধ আশ্রয় পেতে পারে এবং যেট! তাদের আশা, আকাভ্ঞা, স্বপ্ন আদর্শের একটা বান্ত প্রতীক স্বরূপ হতে পারে। ইতিপুৰে আমাদের জাতীয় নিকেতন নিমাণের চেষ্টা একাধিকবার কর! হয়েছে কিন্ত কৃতকাধ হয়নি পরিশেষে আপনার পাবত্র করকমলের দ্বারা “মহাজাতি সদনের' ভিত্তি স্থাপন। আজ কর হবে। আমাদের পরম সৌভাগা যে আমর আজ আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়েছি এবং আপনার দ্বার সেই বীজ বপন করাতে পারছি যার ফলের দ্বারা আমরা একদিন ভবিষ্যৎ ভারতের জাতীয় জীবনকে পরিপুষ্ট নুসমৃদ্ধ করে তুলতে পারব

আজকার এই শুভ অনুষ্ঠানে আমাদের অতীত ভবিষ্যতের কথা আপনাআপনি মনে আসছে। এই ভূমিতেই সেই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল যার দ্বারা আমাদের ধর্ম কৃষ্টি সংস্কারের ভিতর দিয়ে পুনজাবন লাভ করেছে এই আল্দোলন প্রার্দেশিকতার গণ্ডী মানেনি --এমনকি ভ্ৰাতীয়তার গণ্ীও অতিক্রম করেছিল। রামমোহন রামকষ্। যে বাণী দিয়েছিলেন-_ভা। কি বিশ্বমানবের জন্য নয়? তাদের ভিতর দিয়ে কি স্ুৃপ্তোথিত, নবজাগ্রত ভারত আত্মপ্রকাশ লাভ করেনি? আমরা জানি যে আমর! তাদেরই, কৃষ্টি সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী |

১৪ কোন পথে?

নবজাগরণের ফলে, প্রবুদ্ধ ভারতের মুক্ত আত্ম! যখন 'বনু'র মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাইলেন তখন দেখলেন যে একদিকে ব্বাস্ট এবং অপরদিকে সমাজ তাকে শৃঙ্খজিত করে রেখেছে। তারপর আরম্ত হল- রাষ্ট্রবিপ্লব এবং সমাজবিপ্লব সেই বিপ্লবের শুচনাও এই ভূমিতে _যেখানে একদিন ধর্মবিপ্লবের কৃষ্টিবিপ্রবের আবির্ভাব হয়েছিল

১৮৮৫ ্বীষ্টাব্দে কংগ্রেসের (বা৷ নিখিল ভারত জাতীয় মহাসভার ) জন্ম হয়। কুড়ি বৎসর নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পর আমাদের রাহ্ীয় ইতিহাসে এক নৃতন যুগ আরম্ত হয়-_সেটা স্বাবলম্বনের যুগ, ব্বদেশীর বিদেশীব্জনের যুগ তার পরের একদিকে বঙ্গভঙ্গ এবং অপরদিকে আমলাতন্থ্ের দমননীতি এমন একট। বিষাক্ত আবহাওয়া স্যষ্টি করলে যে দেশের তরুণ সম্প্রদায় উত্তেজনার বশবতণ হয়ে, আত্মসংযম হারিয়ে ইতিহাসের চিরপরিচিত পশ্থা-_-সশস্ব বিদ্রোহের পস্থা__অবলম্বন করলে দশ বংসর অতাঁত হতে না হতে আমর! পুনরায় আমাদের রাষ্ীয় ইতিহাসের এক নূতন অধ্যায়ে প্রবেশ করলাম-_“অহিংস অসহযোগ সত্যাগ্রহের” অধায়।

আজ ভারতীয় রাহীর গগন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে। আমরাও ইতিহাসের এমন এক চৌমাথায় গিয়ে পড়েছি যেখান থেকে বিভিন্ন দিকে পথ বেরিয়ে গেছে এখন আমাদের সম্মুখে সমস্তা এই-_যে শিয়মতান্ত্রকতার পথ আমর! ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে বর্জন করেছিলাম, পুনরায় কি সেই পথে ফিরে যাব? অথবা আমরা কি গণআন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়ে গণসংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হব? এখানে তর্কবিতক আমি শুরু করব ন।--আমি শুধু এই কথ! বলতে চাই যে, নবজাগ্রত ভারহীয় মহাজাতি স্বাবলম্বনঃ গণআন্দোলন এবং গণসংগ্রামের পন্থা] কিছুতেই পরিত্যাগ করবে না। এই পন্থার দ্বারাই ত্যরা অনেকটা সাফল্যলাক্ত করেছে এবং ভবিষ্কতে আরও বেশী মাফল্যলাভ করবে বলে বিশ্বাস করি। সর্ধোপরি, বেদেশিক সাম্রাজ্যবাদের সহিত একটা! তুচ্ছ আপস করে তারা কিছুতেই তাদের জন্মগত অধিকার-ন্বাধীনতা _খেলায় ছেড়ে দেবে না। |

মহাজাতি সদন ১৫

যে স্বপ্ন দেখে আমর] বিভোর হয়েছি ত৷ শুধু স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন নয় আমর! চাই ন্যায় সাম্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এক স্বাধীন রাষ্্র-_আমরা! চাই এক নৃতন সমাজ, এক নৃতন রাষ্ট্র যার মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠবে মানব-জীবনের শ্রেষ্ঠ পবিত্রতম আদর্শ গুলি গুরুদেব ! আপনি বিশ্বমানবের শাশ্বত কণ্ঠে আমাদের সুণ্টোখিত জাতির আশ। আকাজ্ষাকে রূপ দিয়েছেন আপনি চিরকাল মৃত্যুপরমী যৌবনশক্তির বাণী শুনিয়ে আসছেন আপনি শুধু কাব্যের বা শিল্পকলার রচয়িতা নন। আপনার জীবনে কাব্য এবং শিল্পকলা রূপ পরিগ্রহ করেছে। আপনি শুধু ভারতের কবি নন-_-আপনিন বিশ্বকবি আমাদের স্বপ্ন মূর্ত হতে চলেছে দেখে যে সমস্ত কথা, বে সমস্ত চিন্তা, যে সমস্ত ভাব আজ আমাদের অন্তরে তরঙ্গায়ত হয়ে উঠছে-__তা আপনি যেমন উপলব্ধি করবেনঃ তেমন আর কে করবে? যে শুভ অনুষ্ঠানের জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি তার হোত! আপনি ব্যতীত আর কে হতে পারবে? গুরুদেব! আজকার এই জাতীয় যজ্কে আমর? আপনাকে পৌরোহিতোর পদে বরণ করে ধন্য হচ্ছি আপনার পবিত্র করকমলের দ্বার। “মহাজাতি সদনের? ভিত্তি স্থাপনা করুন যে সমস্ত কল।ণ প্রচেষ্টার ফলে ব্যক্তি জাতি মুক্ত জীবনের আস্বাদ পাবে এবং বাক্তির জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধিত হবে__এই গৃহ তারই জীবন কেন্দ্র হয়ে “মহাজাতি সদন' নাম সার্থক করে তুলুক__এই আশীবাদ আপনি করুন এবং আশীর্বাদ ককন যেন আমর অবিরাম গতিতে আমাদের সংগ্রাম পথে অগ্রসর হয়ে ভারতের স্বাধীনত। অর্জন করি এবং আমাদের মহাজাতির সাধনাকে সকল রকমে সাকল্যম্তত জয়যুক্ত করে তুলি

আমাদের পমালোচকর। ১৯শোে আগস্ট ১৯ ১৯-এ “ফিরওয়াড ব্রকে' স্বাক্ষরিত সম্পাদকীয়

হ্যাযা সমালোচনা করার অধিকার যেহেতু আমর! মানি এবং বিশ্বাস করি সুস্থ সমালোচন! বিকাশ উন্নতির পক্ষে অপরিহার্য, সেই জন্তে ফরওয়াঙ ব্লকের জন্মলগ্ন থেকে তার উদ্দেশ্যে যে সব সমালোচনা বধিত হচ্ছে আমরা তা সাদরে গ্রহণ করেছি আমরা সেগুলি সযত্তে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং তাদের থেকে লাভবান হবার প্রয়াস করছি আমাদের সাধ্যমত সেগুলির জবাব দেবারও চেষ্টা করেছি। আমরা দেখে খুশী হয়েছি যে; তার ফলে, আমাদের ধারা সমালোচক ছিলেন তাদের কতকাংশ এখন আমাদের সমর্থক হয়েছেন

কিন্তু দেখ! যাচ্ছে এক শ্রেণীর সমালোচক আছেন ধার! (কছুতেই খুশী হবেন ন! বলে দৃঢ প্রত্তিজ্র এবং তার! তাদের অভিযোগগুলি সমানে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অধিকাত্শই দক্ষিণপস্থী, তা সব্বেও তাদের মধ্যে এমন কিছু লোককেও প!ওয়। যাবে ধাদের সাধারণতঃ বামপন্থী বলে মনে করা হয় এই ধরনের অবুঝ দক্ষিণপন্থী সমালোচকরা কোন উদ্দেশ্যে চালিত হচ্ছেন তা কল্পনা কর! কষ্টকর নয় কিন্তু ধার! নিজেদের বামপন্থী বলে পরিচয় দেন অথচ ফরওয়ার্ড রককে আক্রমণ করে অদ্ভুত ধরনের তৃপ্তিলান্ভ করেন বলে মনে হয়, তাদের বোঝা শক্ত

প্রথম দিকে বল! হচ্ছিল, করওয়ার্ড ব্লকের জন্মের মূলে আছে ব্যক্তিগত কারণ এবং দলাদলিএ ব্লকের বথার্গ কার্যক্রম নেই, আসলে ব্লক ব্রক-গঠনের বিরোধী-_গান্ধীবাদী নীতি কাুক্রম গ্রহণ করেও ফরওয়ার্ড ব্লক যখন কংগ্রেসের ভিতরে নতুন একট! সংগঠন গড়তে চাইছে, তখন তার উদ্দেশ্য অকারণ একটা ভাঙন স্প্তি করা, করওয়ার্ড রক গঠন করার একমাত্র উদ্দেশ্য কংগ্রেস ওয়াকিং কমিটি অথব। তার ভিতরকর্ধর কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের সঙ্গে লড়াই চালানো ২২শে

আমাদের লমালোচন। ১৭

জুন বোম্বাইয়ে করওয়া্ রকের নিখিল ভারত কন্ফারেন্স অনুষ্ঠিত হবার পর থেকে এই ধরনের সমালোচন! কার্যত বন্ধ হয়েছে, যেহেতু তাতে ব্লকের মূল নীতি, পদ্ধতি কার্যক্রম নিঃসন্দিপ্ধভনবে ব্যক্ত কর! হয়েছে কিন্তু অন্য আরেক ধরনের সমালোচনা, অনেক দিক থেকে সঙ্গত জবাব নিয়মিত দেওয়! সবে, চালিয়ে যাওয়। হচ্ছে |

এই সব সমালোচনাকে ছ্ুভাগে ভাগ করা বায় এক ধরনের সমালোচনার মূল বক্তবা, কররয়ার্ড ব্লক সুবিধাবাদী ফ্যাসিস্টদের তার আওতার মধ্যে টেনে আনছে ফরওয়ার্ড ব্লককে ন্ুুবিধাবাদের দায়ে দায়ী কর বাস্তবিক হাস্তকর | ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্যকে দুদিকে লড়াই করতে হচ্জে__ত্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং কংগ্রেসী আমলাতন্ত্র_ এবং ছর্দিক থেকেই নিগৃহীত হতে হচ্ছে ব্যক্তিগত দিক থেকে দেখতে গেলে? কিছুই সে লান্ড করছে না, অথচ খোয়াচ্ছে সব কিছুই স্থ্ব্ধাবাদের পথ, যে-পথে সবচেয়ে কম বাধা সেই পথ কিন্তু সোজা নিয়ে ষায় দক্ষিণপন্থীদের শিবিরে সেখানে রয়েছে কংগ্রেসী মন্ত্রীরা | যদিন কংগ্রেস সতাগ্রহ ( অথব! আইন-অমান্য ) পত্রিহার করে সংসদীয় রাজনীতির পথ গ্রহণ করেনি ততদিন খোলাখুলিভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধাচরণ করে এসেছে এমন অনেক লোককে সেখানে দেখ! যাবে যার। কম্মিনকালে ইংরেজের জেলথানার ধারেকাছে যায় নি। সেখানে কোটিপতিরা দেশপ্রেমিক সেজে বিচরণ করছে দেখা যাবে, যেহেতু তার। শিজেদের গান্ধীবাদী বলার অধিকার পেয়েছে। দেখা যাবে এমন কংগ্রেসকমীদের, যারা কংগ্রেসী মন্ত্রীদের অনুগ্রহে ( যেমন মধ্যপ্রদেশ ) স্থানীয় সংস্থাগুলিতে মনোনয়ন গ্রহণ করেছে, যদিও স্থানীয় সংস্থা গুলির জন্য সরকারী মনোনয়ন কংগ্রেস সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দেখা যাবে কংগ্রেসী মন্ত্রীরা (যেমন বোস্বাইয়ে ) স্থুবিধাবাদীনের' বেশী করে দলে ভিড়াবার জন্তে ঢালাও ভাবে জে. পি. পদ দিয়ে চলেছে যদিও বছু আগেই কংগ্রেসকর্মাদের উপর কংগ্রেসের নির্দেশ আছে তারা যেন জে. পি. বা অনাবাবি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ ন। গ্রহণ করে যে সব জমিদার (জমির মালিক ), শিল্পপ্লুতি কোটি-

কোন পথে?

পতিরা এখন কংগ্রেসী মন্ত্রীদের আসেপাশে ঘুরঘুর করছে তার! যদি স্থবিধাবাদী না হয়, তবে স্থুবিধাবাদী কে? এবং বোম্বাই মাদ্রাজের ব্রিটিশ মালিকবনাধীন সুংবাদপত্রগুলি যার! রাতারাতি মন্ত্রীদের মুখপত্র হয়ে দাড়িয়েছে, তারাও কি নিলজ্জ সুবিধাবাদী নয় ? দক্ষিণপন্থীরা এবং তাদের মিত্রবন্থুরাই যে বধ্ধর্থ স্থবিধাবাদী এতে কোনই সন্দেহ নেই এবং একথ। জোরের সঙ্গে বল! যেতে পারে

এবং আমাদের তথাকথিত বামপন্থীদের প্রসঙ্গেও বলা যেতে পারে, মুখে বামপন্থী এবং কাজে দক্ষিণপন্থী হওয়া-_-কথার তুবড়িতে গাহ্ধীবাদকে উচ্ছেদ করার প্রয়াস করা, পরমুহুূর্তে দক্ষিণপন্থীর ধমক খেয়ে নতিম্বীকার করা-_ওয়াকিং কমিটিকে বয়কট করা অথচ তার আলাপ-আলোচনায় যোগদান করা- সম্ভবত এইগুলিই স্থুবিধাবাদের উৎকৃষ্ট নিদর্শন |

এবার ফ্যাসিস্ট সম্পর্কে ভারতীয় প্রসঙ্গে ফ্যাসিস্ট' শব্দের ঠিক অর্থকি বোঝা মুশকিল, অবশ্য শব্টিকে যদি বৈজ্ঞানিক বা টেকনিকাল অর্থে ব্যবহার কর! হয় তা সন্বেও ফ্যাসিস্ট' অর্থে যদি যারা নিজেদের হিটলার; মহাঁহিটলার বা উঠতি-হিটলার বলে জাহির করে তাদের বোঝায়, তাহলে বল। বেতে- পারে মানবজাতির এই নিদর্শনঞ্চির হদিস দক্ষিণপন্থীদের শিবিরে মিলতে পারে।

অপর ধরনের সমালোচনার বক্তব্য এই যে, ফরওয়ার্ড ব্লক দেশের কংগ্রেসবিরোধীদের সঙ্গে জোট পাকাচ্ছে এবং শীঘ্রই কংগ্রেল থেকে বেরিয়ে এসে তাদের সহায়তায় প্রতিদ্বন্দ্বী এক সংগঠন গড়ে তুলবে বারা এইরকম পরোক্ষভাবে কংগ্রেসবিরোধী সংগঠন বলে ফরওয়ার্ড রলককে হেয় করতে চায় তার! ভালোমতই জানে কংগ্রেসের সদস্ত না হলে কেউ ব্লকের সদস্য হতে পারে ন। এবং ফরওয়া্ড ব্লকের সদস্য হতে গেলে কংগ্রেসসদন্য হওয়! ছাড়াও বৈপ্লবিক নীতিতে বিশ্বাসী হওয়! চাই ছাড়া, নানা জায়গায় আমি বারেবা'রে বলেছি যে, কোন অবস্থাতেই আমরা কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসব না আমাদের কাজ কংগ্রেসক্ে পরিবন্তিত করা--কংগ্রেসকে পরিত্যাগ করা নম্ন।

আমাদের সমালোচন। ১৯

আমাদের যারা সমালোচক তারা কথা! আমাদের মতই জানেন, তবুও তারা এই আশায় তাদের অভিযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন যে, বিস্তর কাদা ছেটালে শেষ পর্যন্ত তার কিছুট। গায়ে লাগতেও পারে

হয়তো আমাদের সমালোচকরা ঈধান্িত, তার কারণ তাদের দক্ষিণপন্থী বন্ধুরা যখন সংখ্যালঘুদের এবং ভারতীয় জনগণের অন্যান্য অংশকে তাদের দলে টেনে আনতে পারছে না? তখন ফরওয়ার্ড ব্লক বহুল "পরিমাণে তাদের সহান্ভৃতি অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। দেশবামীর এই সব অংশ, যার! কংগ্রেসের বাইরে রয়েছে, তাদের আস্থা! কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থীদের থেকে বামপন্থীদের উপর তুলনায় বেশী। এবং যদি তারা নিকট ভবিষ্যতে কংগ্রেসে যোগদান করে, তাহলে সেই কংগ্রেস হবে বামপন্থীদের আয়ত্বাধীন কংগ্রেস এর কারণ হয়তো! এই যে, বামপন্থীর1 গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করে চলেছে, তারা গণআন্দোলন এবং জনহিতকর কার্ধক্রমের সপক্ষে এবং যুক্তরাস্ীয় কাঠামোর সঙ্গে তাদের আপসহীন বিরোধিতা তার। ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছে

কিন্ত এতে হালে পানি পাওয়া যাবে না। ভারতের জন- সাধারণকেও আজ আর এইভাবে ধেোক। দেওয়া চলে না। তাদের যতটা সরল বলে মনে করা হচ্ছে তার। ততটা সরল নেই ফলে; এইসব সমালোচক থাকা সত্বেও, ফরওয়াও ব্লক এগিয়ে চলেছে এবং তাদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবেও | দক্ষিণপন্থীদের জোট নিয়ম- তান্ত্রিকতার একমাত্র বিকল্প ফরওয়ার্ড রকের কার্ষক্রম | বকের তিনদফা কর্তব্য এই-_বামসংহতি, কংগ্রেসের মধ্যে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের আমাদের মতে টেনে আনা এবং কংগ্জেসের সম্মিলিত শক্তিতে জাতীর সংগ্রাম শুরু কর! | ফরওয়ার্ড রক যা স্থির করেছে তার থেকে আরও ভালো কিছু যর্দি আপনার প্রস্তাব করতে পারেন, নিশ্চয় করবেন আমরা' মনেপ্রাণে উন্মুক্ত এবং বোবন্ধার জন্যে আমর? প্রস্তত তবে ছিত্রান্েষী নিন্কুকের মত সবকিছুকে নস্তাং করেও কোন লাভ নেই। তার পরিণাম ব্যর্থতা*ও সধনাশ |

এই ক্ষণে ঘ৷ প্রয়োজন ২৬শে আগস্ট, ১৯৩৯এব “ফরওয়ার্ড বুকে" স্বাক্ষরিত প্রবন্ধ

যখন আমি লিখছি ইওরোপে তথন কী ঘটে চলেছে কে জানে ? খবর পাওয়। যাচ্ছে, হের হিটলার পোল্যাগ্ডকে চরমপত্র দিয়েছে খুবই সন্ভব__হয়তো ঘটেছেও তাই। যর্দি তাই ঘটে থাকে পোল্যাণ্ডের প্রতিক্রিয়া কি হবে? রুশো-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির মুখোমুখি দাড়িরে স্বাধীনতা প্রিয় পোলরা কি তাদের পবিত্র ভূমির জন্যে লড়াই করবে ? অথবা তারা চেকদের পন্থা! অন্থুসরণ করবে ? মার্শাল পিল্সুডক্কি যদি জীবিত থাকতেন তাহলে অনাক্রমণ চুক্তি জার্মান চরমপত্র সত্বেও নিশ্চিন্তে যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী করা চলত কিন্তু পোল্যাণ্ডের অগ্রণী মার্শাল আর নেই, তার অবর্তমানে তার দেশবাসী কী করবে, জানা নেই পোলরা সত্যি যতট। আবেগ প্রবণ ততখানি যদি না হত; তাহলে জামানীর কাছে আত্মসমর্পণের মূল্যে পাওয়। শান্তির উপর ভরসা কর। যেত। কিন্তু আজ নিশ্চিত কোন ভবিষ্তদ্াণী কর! সম্ভব নয়, যদিও গ্রেটত্রিটেন ফ্রান্সের কূটনৈতিক চাপে পড়ে পোল্যাণ্ড শেষপর্ধস্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, সৎসাহসের অনেকখানিই স্ুবিবেচন।

জার্মানী পোল্যাগ্ডের মধ্যে যদি যুদ্ধ বাধে, তাহলে একথা ঠিক ভারতীয় জনগণের সহানুভূতি থাকবে পোলদের পক্ষে জার্মানীর পক্ষে আমাদের বোঝাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে যে, পোলিশ করিভরে অথবা যে এলাক। নিয়ে যুদ্ধ হতে পারে সেই এলাকায় এখন পোলদের থেকে জার্মানদেরই বসবাস বেশী কিন্তু ভানজিণৌর প্রশ্নে, জার্মানদের দাবি নিশ্চয়ই অথগ্ুনীয় এবং যদি কেঘলমাত। ডভানজিগ প্রশ্ন নিয়ে যুদ্ধ বাধে বিশ্ব জনমতের দরবাল্পে জার্ম।নীর আরজি হবে অনন্থীকার্য।

এই আন্তর্জীতিক সংঘর্ষে আমাদের মানসিক প্রতিক্রিয়া বাই হোক না কেন, জাতি হিসাবে আমাদের করণীয় কী? আমর] কি বসে বসে

এই ক্ষণে যা প্রয়োজন হ১

ভাবব আর বচস করে চলব যখন যুদ্ধের দাবানল পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে ? যদি রাশিয়ান জার্মীনরা, যারা কাল পর্যস্ত পরস্পরের চরম শক্র ছিল, বিশ্বসঙ্কটের সম্মুখীন হয়ে তাদের বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে পারে, তাহলে কংগ্রেসের ছুই পক্ষ তাদের বিরোধ ভূলে গিয়ে পূর্ণ স্বরাজের দিকে জাতিকে চালিত করার জন্তে কেন হাত মেলাতে পারবে না ? নির্দলীয় 'জাতীয়' কেবিনেট কি একান্তভাবে ইওরোপীয় ঘটনাই হয়ে থাকবে? এই রকম জরুরী অবস্থায় কংগ্রেসকমীরা সমমতাবলম্বী কেবিনেটের ধারণ! পরিহার করে, তার জায়গায় মিশ্র কেবিনেট গঠন করার শিক্ষা কি নেবে না? এর জবাব দিতে পারেন কেবলমাত্র কংগ্রেস ওয়াফিং কমিটির সদম্তরা এবং তাদের উপদেষ্টা (মহাত্মা! গান্ধী বামপন্থীরা! বরাবরই মিশ্র কেবিনেট গঠনের নীতির সপক্ষে, কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তাদের অগ্রান্থ করা হয়েছে

সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষে এই কথা থেয়াল রাখা ভালে যে, কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং তাদের নেতার]! যদি অবস্থার সঙ্গে তাল রেখে এই সংকট মুহূর্তে জাতিকে যখোচিত নেতৃত্ব দিতে না পারেন, তাহলে যে ধারণ। এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, অর্থাৎ কংগ্রেসের দক্ষিণ- পশ্থীর1 ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করছে, সেই ধারণাকেই তার! সুদৃঢ় করবেন। গ্রেটব্রিটেন এবং তার সমর্থকরা এখন পোলদের জন্তে আত্মনিয়ন্ত্রণের কথ! বলছে এবং যদি সে যুদ্ধে যায়, মুখে “আত্মনিয়ন্্রণের অধিকার” বুলি নিয়েই সে যুদ্ধে যাবে। আমাদের ত্রিটিশ শাসকদের কি এখন মনে করিয়ে দেওয়ার সময় আসেনি যে, সয়েজখালের পুবে একটা ভূখণ্ড ্্রয়েছে, যেখানকার সুপ্রাচীন সংস্কতিবান এক জাতির অধিবাসীর! স্বাধীনতার জন্মস্বত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্রিটিশ শাসনের চাপে নিম্পেষিত হচ্ছে? এবং ব্রিটিশ জনসাধারণ তাদের সরকাঁরকে কি একথ৷ বলান্ব সময় হয়নি যে, নিজেদের ঘরে যার! গোলাম তারা অপরের স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করতে পারে না?

২২ কোন পথে?

যতদূর সম্ভব সোজা কথায় ব্রিটেনকে জানিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে যে, সাগ্রাজ্যবাদী যুদ্ধে লোকবল, অর্থ সামর্থ্য দিয়ে ভারত রসদ যোগাবে না যুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য কংগ্রেস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যদিও সেই প্রতিরোধের চরিত্র আবশ্যিকভাবে হবে অহিংস অতএব ওয়াফিং কমিটি সম্প্রতি যা বলেছে, যেমন, যুদ্ধের কোন জরুরী অবস্থায় আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে সাহায্য করব না, এইটুকু বলাই যথেষ্ট নয় আমাদের আরও অগ্রসর হতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে যোগদানে বাধ্য করানোর চেষ্টাকে অহিংসভাবে প্রতিরোধ করার দৃঢ়লংকল্প গ্রহণ করতে হবে।

ওয়াকিং কমিটি কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যদের কেন্দ্রীয় এসেম্রি কাউন্সিল অফ স্টেটের পরবর্তা অধিবেশনে যোগদান না করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছে কিছু না করার থেকে নিশ্চয় এটুকুও ভালো-_ তবে প্রয়োজন অনুপাতে বাবস্থা অত্যন্ত সামান্য | ভারত সরকারের যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যদের এখনই পদত্যাগ করা উচিত এবং এই প্রশ্নে নিরাচকমগ্ডলীর কাছে নতুন নির্দেশের জন্য আবেদন কর। উচিত। এর ফলে জনসাধারণের রাজনৈতিক চেতন! বৃদ্ধি পাবে এবং এমনকি রাস্তার লোকদের কাছেও যুদ্ধে ভাতের যোগদানের প্রশ্ন জীবন্ত প্রসঙ্গ হয়ে দীড়াবে।

যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যুদ্ধ না বাধে এবং বর্তমান বিপদ কেটে যায়, আমর! যেন নিবোধের মত ন! ভাবি যে সংকটের চরম মীমাংসা হয়ে গেছে কুমানিয়া নিয়ে অথবা উপনিবেশের উপর জার্মানদের দাবি নিয়ে আত্তর্জাতিক উত্তেজনা! আবার বেড়ে উঠতে পারে। তাছাড়া, হের হিটলার অদি যুদ্ধ চায়। লাগসই স্থযোগের তার অভাব হবে না অতএব ভারতবর্ষে আমরা যেন খেয়াল 'রাখি যে বর্তমান আস্তর্জতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকৰে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তত থাকতে হবে ।০

আজকের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমি মহাত্মা! গান্ধী ওয়ার্কিং কমিটির কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছি।' আমি তাতে বলেছি

এইক্ষণে য৷ প্রয়োজন ২৩

তার! যদি দৃঢ় নীতি গ্রহণ করেন এবং ভারতের জাতীয় দাবির প্রশ্নটি ব্রিটিশ সরকারের কাছে তোলেন তাহলে আমরা আমাদের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে অনুগত সৈনিক হিসেবে তাদের সঙ্গে যোগ দেব। এবং প্রয়োজন দেখ। দিলে, যে সকল পদ আমর! বামপন্থীরা এখন দখল করে আছি সানন্দে তা ত্যাগ করব। আমরা সাগ্রহে তার্দের জবাবের জন্য প্রতীক্ষা করব

ইত্যবসরে ব্রিটিশ সরকারকে আমর] দ্ার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, যদি যুদ্ধ বাধে তাহলে আমাদের নীতি কী হবে একমাত্র স্বাধীন ভারতই ত৷ স্থির করতে পারে। যুদ্ধ হোক বা নাই হোক স্বাধীনত। আমাদের দাবি, এবং সে দাবি আমরা আদায় করবই।

বন্ধুর কণ্ঠস্বর

২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯এর “ফরওয়ার্ড বুকে” প্রকাশিত স্বাক্ষরিত প্রবন্ধ

দি ফ্রেণ্ড অফ ইগ্ডিয়া--দি স্েট্স্ম্যান বলে সুবিদিত-_- কিছুদ্দিন যাব বৈদেশিক নীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর অনেক চমতকার প্রবন্ধ লিখে চলেছেন এই সংকটকালে ভারতের জনসাধারণের কি রকম ব্যবহার কর। উচিত সে বিষয়েও তাদের মূল্যবান উপদেশ দিচ্ছেন। লেখকের মত এতজন নগণ্য লোকের উপর এদ ফ্রেণ্ড অফ ইগ্ডয়া" যে বিশেষ দৃষ্টি গুরুত্ব দান করেছেন তার জন্য লেখক “ফ্রেগ্ড' এর কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ

এক আশ্চর্য জগতে আমর। বাস করি এবং জগৎ ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তিত হয়ে চলেছে | এমন এক সময় ছিল যখন মস্কো ছিল আমাদের “ক্রেণ্'এর কাছে জুজুর মত ! এই কাহিনী প্রচার করা হয়েছিল যে মক্ষোর টাক! ভারতের রাজনৈতিক বিদ্রোহীদের নিয়মিত হাতফেরত। হয়ে চলেছে। হের হিটলার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে স্টালিন এবং ট্রটক্ষির জায়গায় সম্প্রতি বালিনের ভূত-_এবং বালিনের সঙ্গে, রোম এবং টোকিওর 'ভূত _মামাদের ফ্রেণ্'এর কাধে ভর করেছে এবং বু কিস রজনীর কারণ হয়েছে একই কালে মস্কো ভালো ছেলে হয়ে গেছে এবং যে টাকা ছিল মক্কোয় তা এখন বালিন। ব্বোম এবং টোকিওয় চালান হয়েছে সম্প্রতি আমাদের “ফরেণ্ড কল্পনায় দেখতে পাচ্ছেন, বালিন-রোম-টোকিও ভারতে «খন তাল তাল সোনা ঢালছে এবং তার ফলে দেশের নিরীহ ভালোমানুষ লোকগুলির মন বিষিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু “দি ফ্রেণ্ড অফ ইপ্ডিয়। এখন কী ভাববেন বা বলবেন তাই মনে করে অবাক লাগছে! রুশো-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির পর নীচ বালিনের সংস্পর্শে আসার দরুন মঙ্ষোর উপর নেকনজর কি থাকবে না না, মক্কো তবুও ভালো ছেলে হয়েই থাকবে ?

বন্ধুর কণ্ঠস্বর ২৫

'ফ্রেণ্ড একটি আশ্চর্য আবিক্ষার করে ফেলেছেন- আবিষ্ষার না বলে উদ্ভাবন বল! কি উচিত 1--তা এই, যে মুহুর্তে যুদ্ধ বাধবে, ভারতের বিদ্রোহীরা হের হিটলারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তার এবং কোম-টেকিও-বালিন চক্রের পিছনে সারি বেঁধে দাড়িয়ে পড়বে ব্রিটিশ জনসাধারণের কল্পনার খ্যাতি বিশেষ একটা নেই; কিন্তু আমাদের “ফ্রেণ্ড' স্পষ্টতই একটি ব্যতিক্রম--এবং ব্যতিক্রম থাকে বলেই' নিয়ম প্রমাণিত হয়। তার ধারণ! বাস্তবিকই চমকপ্রদ এবং তারিফ করার মত

যেহেতু বিদ্রোহী ভারতবাসীর1 ইওরোপে যুদ্ধ বাধার সঙ্গে সঙ্গে 'হাইল হিটলার? বলে চিৎকার করতে শুরু করে দেবে, “ফ্রেণ্ড' তাদের জন্যে মুতাদণ্ড সুপারিশ করেছেন মৃত্যুদণ্ড যদি না৷ দিতে পার! যায় তাহলে তাদের জেলখানায় নিরাপদে কয়েদজ্ঞাত করে ব্াখা উচিত হবে। তাহলে ইওরোপ এবং ভারত সব দিক থেকে রক্ষা পাবে এইরকম একজন “ফ্রেণ্'এর কাছে ভারত নিশ্চয় কৃতজ্ঞ থাকবে

যদিও “দ ফ্রেণ্ড অফ ইগ্ডিয়া'র এইসব তর্জনগর্জন আমাদের যথেষ্ট আমোদের খোরাক জুগিয়েছে। তা সত্বেও আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে সবের গভীরে একটা ছুরভিসদ্ধি আছে। এই সংবাদপত্র প্রায়শই ভারত সরকারের মুখপাত্র সমর্থকের ভূমিকা*গ্রহণ করে থাকে এবং তান্র ফলে গ্রেটব্রটেনের সরকারী মনোভাব কী তার কিছুটা আভাস আমরা পেয়ে থাকি তাই “ক্রেণ্ড ঘা বলেছেন তা কেবলমাত্র একটা মজার ব্যাপার বলে হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। পু

সম্প্রতি এক প্রবন্ধে “ফ্রেণ্ড আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যুদ্ধ বাধার অর্থ ফেডারেশন স্থগিত রাখা বোঝাৰে না সংবাদপত্রটি অবশ্য যুক্তরাষ্ীয়' কাঠামোকে নিয়মিত সমর্থন জানিয়ে আসছে, কারণ তাই নাকি ভারতীয় সমম্যার সমাধান ঘটাবে ভারতীয় জনসাধারণ নিজের! তাদের নিজন্ব সমস্যার এই সমাধান সম্পর্কে কী চিন্তা করে মে বিষয়ে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে বিবেচিভ্ হয়নি যুদ্ধ

২৬ কোন পথে? বাধার সঙ্গে সঙ্গে ঘুক্তরাস্ত্রীয় কাঠামোকে আপনিই স্থগিত রাখা সঙ্গত হবে, কোন কোন সরকারী মহলে এই ধরনের প্রস্তাব করা হচ্ছে শুনে সম্ভবত আমাদের “ফেও্? ছঃখিত এবং “ফ্রেণ্'এর কাছে ব্যাপারটা একটা ছুর্ধটনা থেকে কোন অংশে কম বলে মনে হচ্ছে না অতএব জনসাধারণকে বোঝাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে যে, যুদ্ধ বরঞ্চ ফেডারেশনের পত্বন ত্বরান্বিত করবে। যে কোন লোক কিন্তু একট! কথা ভেবে অবাক হবে, লারা দেশ যখন বামপন্থীতে ছেয়ে গেছে তখন ফেডারেশন কি করে প্রবর্তন করা সম্ভব এই বিপত্তি “ফ্রেণ্ড আগেই তার প্রস্তাব মারফত সমাধান করে দিয়েছেন-_ ছুক্কৃতকারীদের মুখ বন্ধ করে দেবার পক্ষে মৃত্যুদণ্ড বা কারাবাসই যথেষ্ট এবং এই উপায়েই ফুক্তরাষ্ীয় কাঠামোকে সহজে আমদানী করার পথ প্রশস্ত হবে।

যদি উল্লিখিত প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারের গ্রহণযোগ্য হয়ঃ অথবা যদি ত' সরকারী চিন্তার মাপকাঠি হয়, তাহলে যুদ্ধ বাধলে ব্রিটিশ সরকার সব বামপস্থীদের“চালান দেবে কথাট। ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে না, তা বর্ণে বর্ণে সত্য হবে দরিয়া যখন একেবারে সাফ হয়ে যাবে, ফেডারেশন তরণী তখন তরতর করে তীরে এসে ভিড়বে এবং মন্ত্রীরা তাকে সংবর্ধন! জানাবে দামামা বাজিয়ে পতাকা উড়িয়ে--এ পতাকা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতাকা যা শাস্তি, গণতন্থ প্রগতির প্রতীক

কিন্তু এই পরিকল্পনায় মৌলিক নতুনত্ব কিছুই নেই সেকেলে সেই দমন এবং আপস প্রণালীর আরেকটি দৃষ্টাস্তমাত্র, শুধু এইট্‌্কু তফাত যে এবারে যে প্রণালী গ্রহণ করা! হবে তা আগেকার থেকে অনেক বেশী