পর সর পিক ্ট আসক প্‌

পর সপ

পাছে

কিউ ৪৬০

নস

শপ কুনহেতন

নু

পা

রা স্টিত সি পশলা বা রী দে এরপর লাল টি

চর

শল চি রি নিই রি সিন রি

চর

নর ০০ ঙ্

পি

2 এত

লে -

হনব

চা 3

নম জুস রি কর টয় দি

ওত শর দ্র

কিল সি ০৩. 2

হর

০০০০ 5০০

চা স্পা পারি ্ে

বু 1 পিএ

ভিত রি দু রত ১4 দি

৭: পদ চন রঃ উন নাহ ক, নিন

15 ৭251৩ ২] ৬০

চি

২. টি

চে ২৯, 1 11৯১৮

তিনসঙ্গী প্রকাশনী আখাউড়া রোড

[49198 ১০011501817 : 00115011011 01 0721004 ৮১411 10110740

রর আন ১6০ই। | 0... ১১7 7০ পার, £ 15 চপ গত . এজাজ

01৯0, তি ঢল 12 গান সং স্বতাধিকারিনী

রত তি চা হাজি চর লাশ শে মৃত? 11 ০25

নু প্র 71 ] দর হলি ৰা রি রি ১৭ টা শত

মরণ

ত্রিপুরা প্রিন্টার্স এন্ড পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ মেলারমান আগরতলা

৩6১৮

স্বপন নন্দী

মূল্য ১৫০ টাকা

|| উৎসর্গ 1।

যাবতীয় সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতির অনুরাগী একমাত্র পুত্র অমিতাভ মজুমদারের অকাল প্রয়াণের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ব্যথিত পিতু হৃদয়ের স্মারক

১। ঢেউভাঙ্গাটেউ - ১৫ ২। ভারত নাট্যম - ৩১ ৩। ময়না তদন্ত - ১০৯ ৪। পুতুল খেলা - ১৭১ ইতিপূর্বে প্রকাশিত নাটক

নক্সী কাথার মাঠ। নাট্য সংগ্রহ (ঝংকার, সভ্যতার সংলাপ, বৃহন্নলা পালা)

ভূমিকা

নিপুণ নাট্যকার, অভিজ্ঞ নির্দেশক দক্ষ অভিনেতা হিসাবে স্ত্রী অজিত মজুমদার ত্রিপুরার নাট্যপ্রেমী মহলে সুপরিচিত। একথা সর্বজন স্বীকৃত যে মঞ্চ প্রযোজনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত না থাকলে নাটক রচনায় খুব একটা সাফল্য লাভ করা যায় না। দৃশ্যকাব্য হিসাবে নাটক মূলতঃ সাহিত্যের একটি শাখা হলেও যেহেতু কার্যতঃ মঞ্চে উপস্থাপনার জন্যই নাটক রচিত হয়, তাই ইংরেজীতে শেকস্পীয়র থেকে শুরু করে বার্নাডশ পর্যন্ত এবং বাংলায় দীনবন্ধু মিত্র, অমৃতলাল বসু, গিরীশ চন্দ্র ঘোষ থেকে শুরু করে উৎপল দত্ত, মনোজ মিত্র পর্যন্ত সব সফল নাট্যকারই দেখা খায় মঞ্চায়নযোগ্যতা মাথায় রেখেই তাদের নাটকগুলি রচনা করেছেন এবং করেছেন।টি এস এলিয়ট, এডওয়ার্ড এ্যালবি প্রমুখ কোন কোন এক্সপ্রেসনিষ্ট নাট্যকার নাটককে মুলতঃ থিয়েটারের “টেক্সট” হিসাবে মানতে রাজী না হলেও তাদের নাট্য রচনায়ও দেখা যায় মঞ্চায়নযোগ্যতা সম্বন্ধে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন নন। মঞ্চের সাথে তরুণ বয়স থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগযোগ থাকা, তাই, শ্রী অজিত মজুমদারের নাট্য রচনার ক্ষেত্রেও সাফল্যের চাবিকাঠি প্রমাণিত হয়েছে।

শ্রী অজিত মজুমদার রচিত বেশ কয়েকটি নাটক আগেই প্রকাশিত হয়েছে একাধিকবার “অক্ষর” প্রকাশনী প্রথম মুদ্রিত করে তার নাটক 'নক্সী কীথার মাঠ? তারপর “পৌণমী' প্রকাশন “নাট্য সংগ্রহ"নামে প্রকাশ করে তার তিনটি নাটক - ঝংকার, সভ্ভতার সংলাপ বৃহন্নলা পালা। এবার পুস্তকাকারে প্রকাশিত হচ্ছে শ্রী মজুমদারের চারটি নাটক -- “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ, “ভারত নাট্যম” ময়না তদন্ত” “পুতুল খেলা”। প্রকাশক “তিনসঙ্গী' প্রকাশনী যার সন্বাধিকারী শ্রী কমল মজুমদার -_ বিশ্বভারতী প্রকাশিত যাবতীয় পুস্তক বিক্রয়ের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পরিবেশক।

এবারের নাট্য সংকলনে মুদ্রিত “ভারত নাট্যম” “ময়না তদন্ত' বিষয়ের অভিনবত্বে আঙ্গিকের বৈচিত্র্য নাট্যরসিক মহলে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছে মঞ্চায়ন মাধ্যমে “পুতুল খেলা” নাটকটি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পুতুল নিয়ে খেলা করাকে আশ্রয় করে রচিত হলেও পণপ্রথার মর্মান্তিক পরিণতি __ বধূহত্যা যেভাবে এখানে উপস্থাপিত

হয়েছে কনে পুতুলটিকে পোড়ানোর মধ্যে দিয়ে তা সত্যিই' দর্শক মনে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয়। মনে প্রশ্ন জাগে - একি বড়দের নিয়ে ছোটদের নাটক, নাকি ছোটদের নিয়ে বড়দের নাটক, “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ” নাটকটি ময়মনসিংহের গীতিকার কবি চন্দ্রাবতীর কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এই রোমান্টিক ট্রাজেডিটি শ্রুতিনাটক রূপে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়েছে। পুস্তাকাকারে এই চারটি নাটক একত্রে প্রকাশিত হওয়ায় পাঠক যেমন বিভিন্ন নাট্যরসের স্বাদ একই বইয়ের মধ্যে গ্রহণ করতে পারবেন, না্যগোষ্ঠীগুলিও তেমনি প্রযোজনার জন্য বিভিন্ন বিষয় আঙ্গিকের নাট্যবস্ত একই আধারে পেয়ে যাবেন। পুস্তকটি নাট্যরসিক মহলে সমাদৃত হবে বলেই আমার বিশ্বাস। আগরতলা ডঃ বামাপদ মুখোপাধ্যায় ৩রা জানুয়ারী, ২০০০ ধিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্যদেব্র সভাপতি

|| প্রকাশকের কথা ।।

অনেক দিন আগেই “তিনসঙ্গী” নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্র গ্রস্থাবলী পাঠকের হাতে পৌছে দিতে সহ্দয় অনুমোদন দিয়েছেন বিশ্বভারতী অনেকদিন ধরে সেই কাজে যুক্ত থেকে বিভিন্ন বই মেলাতে তিনসঙ্গী পাঠকের কাছে হাজির হয়েছে।বিভিন্ন বইমেলাতে দেখেছি অনেক নতুন পুরোনো লেখকের নানা রচনা সময়ে সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাপারটাতে বেশ আনন্দ এবং উৎসাহবোধ করেছি। নতুনদের সুযোগ করে দিতে, নতুন বিষয়কে প্রকাশের আলোতে আনতে, পাঠকের হাতে পৌছে দিতে প্রকাশকদের নানা ঝুঁকি কর্মকান্ডকে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করেছি। দেখেছি কোন কিছু লেখার বিষয়ে লেখকের আকুলতা, আবার প্রকাশককে দেখেছি সেই লেখা প্রকাশে কত ঝামেলার মোকাবেলা করে তা প্রকাশ করা, আর পাঠককে দেখেছি, তাদের কাঙ্খিত বিষয় বা নতুন বিষয়ের সন্ধানে বিভিন্ন স্টলের ভিড় ঠেলে ইচ্ছা পূরণের অনুসন্ধানে এগিয়ে চলা, তিনটি বিষয়ই বিচ্ছিন্নভাবে মানসলোকে ধরা পড়েছে। কিন্তু তিনটিকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ হয়নি এবার কিছুদিন আগে আমার বালা বন্ধু অজিত মজুমদার তার কিছু নাটক নিয়ে একটা সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছে জানাতে ভাবলাম - প্রকাশনা থেকে আমিই বা পিছিয়ে থাকি কেন? তার ইচ্ছার শরীক করে ফেললাম নিজেকে অজিত বিশেষভাবে আমার বাল্যবন্ধু ছোটবেলা “থকে নাট্য চচচাতে তার অদম্য আগ্রহ। কয়েক ডজন নাটক লিখেছে। মঞ্চ, নেতার, পুতুল নানা আঙ্গিকের নাটক। সুখ্যাতি সাফল্যের সঙ্গে তা রাজ্যে বহিঃরাজ্যে নানা উৎসব প্রতিযোগিতায় অভিনীতও হয়েছে। তাকে দেখেছিলাম প্রথমে নাট্যকার, পরিচালক অভিনেতা রূপে ক্রমে দেখলাম নাটক প্রকাশনা সেই নাট্য প্রস্থ দর্শকের হাতে পর্যস্ত পৌছে দিতে। লেখা থেকে মঞ্চায়ন প্রকাশনায় অর্থনৈতিক জোগান দিয়ে পাঠক পর্যন্ত পৌছুনো -- এই সুদীর্ঘ জটিল পথের গাড়িতে তার ধের্য সক্রিয়তার বিষয়টা আজকে খুব ভাবিয়ে তুললো দারুণভাবে উৎসাহিত করলো তার কর্মের সহমর্মী হতে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও বিশেষ নাট্যেৎসাহী 'ও জীবনের নানা সময়ে নানা ধরণের নাটক মঞ্চায়নে যুক্তও ছিলাম। বন্ধুবর অজিতের সঙ্গে অনেক নাটক সফলতার সঙ্গে মঞ্চায়নের সুবাদে নাট্য বিষয়ে তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি পেয়েছি। নাটক

প্রকাশের ব্যাপারে ইতিপূর্বে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্যান্য প্রকাশকের সহায়তায় 'নক্সী কাথার মাঠ” নাট্য সংগ্রহ (ঝংকার, সভ্যতার সংলাপ, বৃহন্নলা পালা) প্রকাশিত হয়েছে। এবার তার আমার মিলিত উদ্যম তার কয়েকটি বিতর্কিত নাটক নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে “নাট্য সংকলন”। তাতে থাকছে “ভারত নাট্যম* “ময়না তদন্ত” 'পুতুল:খেলা* “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ”। উৎকর্ষতায়, নাট্যেত্কন্টায় নাট্য প্রয়োগের নানা কুশলতার সুযোগের আঙ্গিকে রচিত নাটকসমূহ শুধু দৃশ্য গুণান্বিতই নয়, সাহিত্য বা নাট্য সাহিত্য হিসেবে পাট্যগুণান্বিতও বটে।

লেখকের লেখা প্রকাশিত না হয়ে বাক্সবন্দী হয়ে থাকলে লেখক প্রকাশক, পাঠক সকলেই বঞ্চিত হয়। তাই লেখক প্রকাশক দুই বন্ধু মিলে প্রকাশনার পথে যাত্রা শুরু করলেও সামনে রয়েছে আমাদের তৃতীয় বন্ধু-__ পাঠক। তাকেও আমাদের সঙ্গী হিসেবে সামিল করে নেয়ার সক্রিয় চেষ্টা বাপ্রয়াস রয়েছেআমাদের। তবেই তো সার্থক হবে আমাদের যাত্রা লেখক, প্রকাশক পাঠক -_- তিনে মিলে তিনসঙ্গী”। প্রকাশন সংস্থা হিসেবে তিনসঙ্গীর এই অনুভব। সুতরাং 'তিনসঙ্গী” আর নিজেকে বঞ্চিত না রেখে _ প্রকাশনার জগতে 'নাট্য সংকলন” নিয়ে তার শুভ যাত্রার সুচনা করলো এই নতুন যাত্রা পথে সকলের শুভেচ্ছাই কাম্য।

আখাউড়া রোড আগরতলা কমল মজুমদার ১লা জুন ২০০০ইং প্রকাশক তিনসঙ্গী

|| নাটক প্রসঙ্গে।।

নাটক প্রকাশের উদ্যোগ আবারও নতুন করে দেখা দিয়েছে আমার মধ্যে নতুন করে বলার কারণ --১৯৯৭ তে যার শুরু ১৯৯৮ইং পর্যস্তচলে ১৯৯৯তে স্তব্ধ হয়ে গেল নানা কারণে আবার ২০০১ সালের শুরুতে নাট্য সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ হতে চলেছে। গত দু'বছরের মধ্যে আমার স্বকীয় উদ্যোগে ১৯৯৭ তে অক্ষর প্রকাশনী ১৯৯৮তে পৌণমী প্রকাশনীর সহদয় আগ্রহে যথাক্রমে 'নক্সী কাথার মাঠ, নাট্য সংগ্রহ (ঝংকার, সভ্যতার সং লাপ, বৃহন্নলা পালা মোট ৪টি পূর্ণাঙ্গ নাটক) প্রকাশিত হয়েছে। যেকোন প্রকাশনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবনা একান্তই জরুরী এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে ত্রিপুরার প্রকাশকদের নানা কারণে ত্রিপুরার লেখকদের বই প্রকাশনার বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর একটি প্রধান কারণ অর্থনীতি,যা আমাদের জীবন যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর একটি সমস্যা ব্যয়ভার মিটিয়ে নিতে পাঠক পর্যন্ত পৌছনো। সুতরাং প্রকাশকের অল্প বিস্তর কমার্শিয়াল ভাবনা না ভাবলে চলবে না। এর প্রভাব থেকে লেখকরাও মুক্ত নয়। কিন্তু পাগল পারা লেখক মন অনেক সময় তা বুঝেও না ।তা সে গল্প, কবিতা, উপন্যাস,নাটক যেকোন রচনাই হোক আবেগের আতিশয্যে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে লেখকের কালি কলমের বন্দীশালার রচনা। প্রকাশনার আশায়, মুক্তিলাভের আশায়, ্রস্থাকারে রচিত বিষয় পাঠকের হাতে তুলে দেবার আশায় আকুলি বিকুলি করতে থাকে লেখকের পাগল পারা মন। এই অদম্য ইচ্ছায় কখনো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কখনো কারো আংশিক সহায়তা লাভে বা যেকোন প্রকারে লেখকেরা আত্মপ্রকাশে তৎপর হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে যে সব ভাগ্যবানরা সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশকের আর্থিক আনুষঙ্গিক আনুকূল্য পেয়ে যান তাদের কথা আলাদা আবার পাশাপাশি প্রকাশনার রাজ্যে লেখকদের ঠোরুর খাওয়া বা নাজেহাল হওয়ারও নজীরের অভাব নেই। তবু লেখক মন প্রকাশের ধারায় সামিল হতে আগ্রহী আসলে লেখকেরা চলেন প্রধানত হৃদয়াবেগের তাড়নায় আর প্রকাশকরা চলেন বিশেষভাবে বুদ্ধিবৃত্তি হিসেব নিকেশের নিরিখে লেখক প্রকাশকের কাছে ব্যাপারটা প্রায় ওপেন সিক্রেট; পাঠকরা অবশ্য ব্যাপারে অন্ধকারেই থাকার কথা কোন কোন লেখকের রচনা থেকে অবশ্য এসব বিষয়ে অল্পবিস্তর জানা যায় যে কত চড়াই উতরাই পেরেয়ি লেখক প্রকাশনার প্রকোষ্টে তথা পাঠকের হাতে পৌছুতে পেরেছেন। যাই হোক একেবারে নিডেজাল বা নানা গোলমেলে অবস্থার মধ্য দিয়েও লেখকেরা লিখছেন, প্রকাশনাও হচ্ছে, পাঠকও পড়ছেন। এমনি দোদ্যুল্যমান অবস্থার মধ্য দিয়ে এবারের প্রকশনায় আমি আমার একাধিক নাটক নিয়ে হাজির হচ্ছি। ৪টি ছোট বড় বিভিন্ন স্বাদের নাটক “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ", “ভারত নাট্যম+ “ময়না তদন্ত', “পুতুল খেলা' নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে নাট্য সংকলন;। সবগুলি নাটকই বিভিন্ন সময়ে সাফল্যের সঙ্গে

অভিনীত হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন বা বিনোদন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সব নাটক অভিনয়ের যোগ্য বলে বিভিন্ন সময়ে মনোনীত করেছেন। তাদের সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। নাটকের অভিনয় গুণ একান্ত জরুরী হওয়া সত্বেও নাটক কেবল মঞ্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাঠকের হাতে সাহিত্য হিসেবেও আসা উচিত।ঝ্নরণ-_সাহিত্যের নানা বিভাগের মধ্যে নাটকও একটি অতি উৎকর্ষ বিভাগ বিশেষ করে সাহিত্যের অন্যান্য বিভাগের শুধু পাঠ্যগুণই আছে। নাটকের আছে মুখ্যত, দৃশ্গুণ। কিন্তু নাটক কেবল দৃশ্যগুণের আগলে আবদ্ধ থাকলে সাহিতোর একটি বিভাগেরও হবে বন্ধ্যাদশা। তাই নাটককে শুধু মঞ্চে আবদ্ধ না রেখে সাহিত্য হিসেবে পাঠকের হাতে পৌছে দিতেই তার প্রকাশন ব্যবস্থায় উদ্যোগী হয়েছি। এই প্রসঙ্গে পাঠকদের আশীর্বাদ সহযোগিতাই কামা। নাট্যবসিক্ক মহলে সমাদূত হলে সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগলেই শ্রম সার্থক হবে - এই প্রত্যাশা

এবারের আমার নাট্যগ্রস্থ প্রকাশের দায়িতে এগিয়ে এসেছেন “তিনসঙ্গী”-র কর্ণধার কমল মজুমদার। তিনসঙ্গী - হ্যা। তিনসঙ্গী নামটিও কেমন যেন নুটকীয় রহস্যমন্ডিত উৎসাহবাঞ্জক। কারা এই তিনসঙ্গী? ভাবতে গিয়ে মনে হলো _ লেখক, প্রকাশক পাঠক এই তিনের মিলিত প্রয়াসইতো তিনসঙ্গী। যাতে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে তিনেরই অংশ প্রাধান্য রয়েছে এবং তিনে মিলেই মূল উদ্দেশোর পরিপূর্ণতা সার্থক রূপায়ণ সম্ভব। এমন একটা অনুভূতি তিনসঙ্গা থেকে নাটক প্রকাশের ইচ্ছাকে আমায় বিশেষভাবে আন্তরিক করে তুললো। আর বাড়তি পাওনা হলো -- প্রকাশক কমল মজুমদার আমরা বাল্যবন্ধু একজন বিশিষ্ট সংস্কৃতিপ্রেমী, বিশেষভাবে নাট্যপ্রেমী নাট্যকর্মী আমার নাট্যকর্মেও অনেক সংযুক্তি রয়েছে তার অনেক সময়েই ইতি পূর্বের আমার প্রকাশিত নাট্য গ্রন্থের সংবাদও তার জানা আমার এবারের উদ্যোগের কথা শুনতেই সে আগ্রহে আমার নাটক প্রকাশে অংশ নিতে বিশেষভাবে তৎপর হয়েছে। প্রকাশনার রাজ্যে বন্ধু কমলের প্রথম প্রবেশে আমাকে নিয়ে তার আন্তরিক আকাঙ্খা উদ্যোগে আমাকে আরো আগ্রহী, উৎসাহী সবিশেষ আনন্দিত করেছে। তার এই বন্ধুপ্রীতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রকাশনার জন্যে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমরি নেই গুধু এই বলে স্বস্তি পেতে পারি -_ অন্যের যে" এমন বন্ধু ভাগ্য হয়। নাটকের প্রচ্ছদ এঁকে দিয়ে স্বনামখ্যাত প্রিয় শিল্পী স্বপন নন্দী জাবারও তীর উদার্য প্রকাশ করলেন নাটকের ভূমিকাটি লিখে আমার পরম শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক বের্তমানে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি) ডঃ বামাপদ মুখোপাধ্যায় আমার প্রতি তার অকৃষ্ঠ স্নেহ আশীর্বাদের ধারা বর্ষণে আমাকে ধন্য করেছেন। ডঃ মুখোপাধ্যায়ের নাট্য পান্ডিত্য, বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব অতীতের মত বর্তমানে, ভবিষ্যতেও আমায় সমৃদ্ধ করবে __- কৃতজ্ঞ চিন্তে তাই আশ! করি।

নাটক বিষয়ে কিছু বক্তব্য ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ

জীবনে যা কিছু মানুষকে ব৬ মহৎ করে ভার মধ্যে প্রেম অতুলনীয়। আর নতুন কবে বলার অপেক্ষা ব1খে না। জাতি-ধর্ম বর্ণের সমস নিভেদ থেকে প্রেমই একমাএ মানুষকে মুক্ত করতে পারে,মহান করতে পারে কিন্তু এই প্রেম যদি মানবিকতা বর্জিত হয়ে কেবল কামনা বাসনার দ্বারা চালিত হয় তখনই সে তার কল্যাণাদর্শকে হারিয়ে সর্বনাশ হয়ে উঠে। “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ”তে একজনের প্রেমাসক্তি তাকে কামানলে পপানলে দগ্ধ করে হয়েছে আত্মঘাতী | আর একজনের প্রেম কামনা বাসনা মুক্ত হতে পেরে হয়েছে কল্যাণময়ী, সুষ্টিধর্মী, প্রেমে মিলনই বড় কথা নয়, বিবহও প্রেমাদর্শকে মহান করে। যেমন আওনে পুড়ে সোনা খাদমুক্ত হয়ে খাটি হয়, তেমনি বিরহানলে পুড়ে প্রেমও কলুষমুক্ত হতে পারে এই নাটবে .প্রমেন এই দ্বিমুখী ধাবাই প্রবহমান বাকী কথা নাটকই বলববে। নাটা বিষয় শিখাত লোক কাহিনী ময়মনসিংহ গীতিকার কলি চন্দ্রাবতীব প্রেম খহিনীর অনুপ্রেরণা রচিত নাটকটি “কবি চন্দ্রাবতী' নামে অনেকবার অভিনী 5 হয়েছে! সেটিই “ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ” নামে প্রকাশিত হলো।

ভারত নাট্যম

নাটক কি শুধুই চিও বিনোদনের সাধন £ বিভাব-অনুভাব-ব্যভিচারীভাবের সংযোগে রস নিম্পত্তি। ভরত মুনির দছ্ন্থহীন মূল্যবোধের যুগে রাজা -রাজরার চিও বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দৃশ্যকাব্য হয়তো সেদিন কেবলমাত্র দৃশ্যমান কাহিনীই ছিল। কিন্তু তবুও নাটকের শেষে ভরত-বাক্য বুঝিয়ে দিত যে পুরুষার্থ চতুষ্টয়ের মধ্যে যে কোন একটি প্রাপ্তিই এই সংস্কৃতি কর্মের উদ্দেশ্য

আজকের নাট্যকার অনেক বেশী স্পষ্ট বক্তা _- অনেক বেশী সমাজ সচেতন ।বাজারাজরানয়, সাধারণ মানুষই তাই আজকের নাটকের পাত্র-পাত্রী। কাহিন। নয় শুধু, বক্তব্যই তাই আজকের নাটকের মুল আবেদন।

ইতিহাসের উষালপ্নে মহোঞ্জোদারো-হরপ্পার যুগ থেকে নিয়ে বিংশ শতাব্দীর শেষচরণে আজকের এই উত্তর স্বাধীনতা যুগ পর্যস্ত চিরদিনই সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা ভারত হয়ে এসেছে সাম্রাজ্যবাদী বিদেশীর পদানত। বিদেশী কর্তৃক লুষ্ঠিত। কলঙ্কময় এই ইতিহাস যুগ যুগ ধরে এই সাক্ষ্যই বহন

করে এসেছে ফে ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ, সংকীর্ণ গোষ্ঠী স্বার্থ গন্ডিবদ্ধ শ্রেণীস্বার্থই বার বার জাতীয় জীবনকে করেছে বিপন্ন -_ দেশকে করেছে দুর্দশাগ্রস্ত। ভাগ্যনির্ভর সাধারণ মানুষের অনুন্নত চেতনা সমাজ উদাসীন্যই মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীদের পথ করেছে সুগম। জাতীয় সংহতি রক্ষাকল্পে তাই "ভারত নাট্যমের” আবেদন-_সমাজচেতনা উঠুক জেগে, হিংসা দ্বেষ যাক মুছে, উঠুক জ্বলে দেশ প্রেমের দীপক।

ময়না তদন্ত

সংকীর্ণতায়, ধর্মের অপব্যাখ্যায়, হানাহানিতে, স্বার্থবুদ্ধিতে, ক্ষমতা ভোগেচ্ছায় বিভিন্ন ধর্মীয় মৌলবাদীদের চক্রান্তে বিশ্বপ্রাণ আতঙ্কিত, ক্ষণে ক্ষণে বিধ্বস্ত, নিপীড়িত। যে কোন জাতি, ধর্ম, দেশ সরলপ্রাণ সাধারণ মানুষ সব নৃশংসতার চক্রব্যুহ কবলিত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু মানুষ তা বোঝেন এবং নানা অশুভত্বের বিরুদ্ধে মত পৌষণ করেন চেষ্টাও করেন কিভাবে শুভত্ব লাভ করা যায়। কিন্তু নানা শুভ উদ্যোগ সত্বেও নৃশংস মৌলবাদী ধর্মীয় ধান্দাবাজদের শয়তানীর কারসাজি ধ্বংসোন্মাদনা থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধর্মের উদারতা ধর্মোন্মাদদের হাতে ভুলুহ্ঠিত, নিষ্পেষিত। বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোন ধর্মের পান্ডা অধদমিত হলেও রক্তবীজের বংশের মত আবার যেন তা গজিয়ে উঠে। ঘটে চলে আবার সেই সর্বনাশের পুনরাবৃত্তি কবিগুরু বর্ণিত রঘুপতিও তাদের একজন। বলা যায় এটি একটি প্রতীকি চরিত্র মাএ সেই রঘ্ুপতিরা মরেও মরে না নাটক নিয়ে নাটক করে ব্যাখ্যায় বিশ্লেষণে সেই বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টাতেই কবিগুরুর “বিসর্জন” নাটককে বারে বারে টেনে আনা হয়েছে এজন্যে খণী; কবির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নেই। তার দুরদৃষ্টির আলোকে আলোকিত হয়েই নাট্যদর্শনের মাধ্যমে জীবন দর্শনের এই প্রচেষ্টা এদিক থেকে নাটকটি বিতর্কিত সন্দেহ নেই। তবে ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ নাটকের বক্তব্য নয়। ধর্মীয় পান্ডা তথা অশুভত্বের ধ্বজাধারীদের মুখোস উন্মোচনই এই নাটকের মূল উদ্দেশ্য।

এই নাটক রচনার মুল প্রেরণা জুগিয়েছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন প্রিয় শ্রদ্ধেয় সহকর্মী প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মী শ্রী হীরালাল সেনগুগু। নাটা বিষয়কে বিতর্কিত জনমনে আইনী আলোকে দীপ্ত কৌতুহলী করার পক্ষে বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন বন্ধুবর আইনজ্ঞ, নাট্য প্রেমী কর্মী শ্রী অশোক চক্রবর্তী তাদের প্রতি আমি আমার বিনত্তর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। এই সুযোগে স্মরণ করছি যিনি সাংসারিক নানা ঝামেলা সামলে নাট্য রচনা থেকে মঞ্চায়ন

পর্যন্তপ্রসন্ন চিন্তে আমার সঙ্গ দিয়েছেন সেই বিশিষ্ট মঞ্চাভিনেত্রী তথা নাট্যপ্রেমী আমার সহধর্মিনী সবিতা মজুমদারকে আমার নাটকসমূহ প্রযোজনার ক্ষেত্রে শিক্ষা বিভাগ বিনোদন সংস্থার আগ্রহ সক্রিয়তা এবং নাটক মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে যে সব মঞ্চশিল্পী নে'পথ্য কলাকুশলীরা বিশেষ আগ্রহ নিষ্টার সঙ্গে নাট্যকর্মে যুক্ত ছিলেন -- এঁদের সকলের প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ।

পুতুল খেলা

নাটক “পুতুল খেলা”। একি বড়দের নিয়ে ছোটদের নাটক,বা ছোটদের নিয়ে বড়দের নাটক অথবা নাটকের ভেতরে নাটক - রসিকদের রসবোধের উপরেই তা ছেড়ে দিচ্ছি। এই নাটকের বিষয় আমার আপনার অনেকেরই চেনা, জানা বা দেখা শোনা | তাই কেউ যদি কোথাও কোন মিল খুঁজে পান তবে নাট্য বিষয়ে আমাদের সামাজিক মানসিক দায়িত্বের কথা ভেবে আমার দোষ ক্রুটিকে ক্ষমার চোখে দেখার বিনতি জানাচ্ছি

এই নাটকের বিষয় মুলে আছে পণ। তা সামাজিক বা প্রেমঘটিত যে কোন বিয়েকে কেন্দ্র করেই হোক। তারপর সেই বিয়ের পরে পণলোভীদের হিংস্রতায় বধূর নির্যাতন তাদের নির্মম অকাল মৃত্যু। যে কী ভয়াবহ অমানবিক সামাজিক ব্যাধি তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। পণের এই ব্যাভিচারের অবসান হওয়! উচিত। এই মানসিকতা থেকেই এই নাটকের সৃষ্টি। জটিল পণ্বের বিষয়টিকে সহজ সরল রসাপ্ুত করে উপস্থাপনার চেষ্টা করা হয়েছে নাটকে ছোটবেলা থেকেই পণের কৃফল সম্পর্কে যাতে ছোটদের মনে ধারণা গড়ে ওঠে - সেই ভাবশ থেকে কিশোর বয়সীদের জন্য পুতুল খেলার আঙ্গিকে রচিত হয়েছে “পুতুন খেলা” নাটক। ভাবতে ভাল লাগে যে সাফল্যের সঙ্গে নাটকটি অভিনীতও হয়েছে। তাতে অংশগ্রহণকারী কিশোর কিশোরী, তাদের অভিভাবক এবং দর্শক মনকেও নাটক বিশেষভাবে নাড়া

নাটকে সবাক মুল চরিত্র ৪টি, 'নর্বাক ২টি, বাকীরা কোরাস, ছন্দোবদ্ধ সহজ সংলাপ, কোথাও কবিতা বা গানের আকারে, কোথাও সহজ নৃত্য বা অঙ্গ ভঙ্গীর কোরিওগ্রাফীতে কোরাসেরা নাট্যগতিকে এগিয়ে নেয় মঞ্চ, দৃশ্য, বাদ্য, রূপসজ্জা বা আলোর কোন জটিল প্রয়োগের ব্যবহার করা হয়নি। নাটকে লক্ষ্যণীয় যে নাটকের নায়িকা, মানে বধু পুতুল--- পুতুলের মতই নাটকে আগাগোড়া নির্বাক -_ শেষে পরিণতিতে পণের শিকার।

এই নাটকের মঞ্চায়নের পর বড়দের বা যুবক-যুবতীদের তরফে উৎসাহ দেখা দিয়েছে এই নাটকের অভিনয়ের জনো। আর সেই তাগিদেই মূল নাটককে ঠিক রেখে শুরু শেষের জন্যে কিছু অংশ লিখে নতুন করে মূল নাটকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো। তাতে পুরোনো স্বাদও রইল সঙ্গে নতুন স্বাদও বাড়লো। কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে যুবক-যুবতীরাও সচেতনতায় অংশগ্রহণে সুযোগ পেলো। মুল নাটকের কিশোর-কিশোনী রি তাতে স্কিই থাকবে শুরু শেষের অংশের শিল্পী যারা দেখতে যুবক-ঘ্তী, তারাই কেবল কিছু পোষাকী পরিবর্তনের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীতে রূপান্তরিত হয়ে সে সব চরিত্রে অভিনয় করবে তাতে প্রথমে তারা যুবক,মধ্ধে কিশোর শেষে আবার যুবক- যুবতীতে রূপান্তরিত হবে। বোঝার সুবিধের জন্য তাই নাটকটি প্রথম, মধ্য শেষ ভাগ করে দেখানো হয়েছে। দর্শককে এসব বলার কোন দরকারই নেই। তারা দেখতে দেখতেই নাট্যবিষয় বুঝে নেবেন। প্রথম শেষ পর্বে শিল্পীদের যৌবনোচিত চলাবলা মধ্য পর্বে কৈশোর বয়সী অভিব্যক্তি চলাবলা বজায় রাখতে হবে| মঞ্চশিল্পী যুবকদের অবশ্যই গৌফ,দাড়ি থাকবেনা এছাড়া যুবক- যুবতী শিল্পীদের পোষাক প্রস্ততিতে প্রথম থেকেই লম্বা প্যান্ট সার্ট বা শাড়ী সালোয়ায় কামিজের নীচে হাফ প্যান্ট সার্ট বা গেঞ্জী এবং ফ্রগ বা স্কার্ট-ব্রাউজ- সার্ট ইত্যাদি সুবিধেমত পোষাক পরা থাকবে যাতে নাট্যানুক্বল পরিবেশে সহজেই তা খুলে ফেলে কিশোর কিশোরী চরিত্রে রূপান্তরিত বা আভাসিত হওয়া যায়। অবশ্য দু' একজন করে যুবক-ধুবতীর লং প্যান্ট শাড়ী পরা থাকবে যাতে দরকারী নাট্যানুকুল পরিবেশে ওগুলো গুটিয়ে বড় থেকে ছোট হয়ে যাবার ভঙ্গীটি বেশ রসাগ্নুত হয়ে ওঠে ।নাটকের শেষ পর্বেও আবার প্রথম পর্বের যৌবনোচিত পোষাক পরে কৈশোর থেকে যৌবনে রুঁপান্তরের ভাব ফুটে উঠবে। পোষাক বদলের ব্যাপারটিকে নান্দনিক নাট্যরসসমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা থাকা উচিত।

পরিশেষে কোন নাটক মঞ্চায়নের ব্যাপারে যেকোন উৎসাহীকেই বলছি

- বিষয়কে ঠিক রেখে প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালকের স্ব'ধীন চিন্তা নতুন উৎকর্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে নাট্যকারের তরফে কোন আপত্তি নেই। কেবল নাটক মঞ্চস্থের আগে নিন্ন ঠিকানায় সংবাদটুকু জানার ইচ্ছে রইল। শুভেচ্ছান্তে __ অজিত মজুমদার

(নাট্যকার)

মধ্য বনমালীপুর, জোড়াপুকুর পাড়

আগরতলা, ব্রিপুরা।

|| ঢেউ ভাঙ্গা ডেড ।।

নাটকের চরিত্র অভিনয়ে অংশগ্রহণকারী শিল্পী

রাও &১ জ্তঞত

ভাষাকার পুরুষ স্ত্রী। ত'লাহ জযানন্দ চন্দ্রাবতী প্রথম যারা অভিনয় করেন 2 ভাষ্যব!র জনমানন্দ £ স্বপন নন্দ অভিনয়ে প্রণব সাহ'

স্াষাকল তি শি পর রে সঙ পল

সংলাপ অংশে ভাষ্যকার « জয়ানন্দ প্রনবব্রত দত্তরাষ

সংলাপ অংশে ভাষাচার ১ন্রাবতী £ স্বপ্না দাশতুপ্ত

দশটি চরিব্রের সংলাপ বাদ দিয়ে সঙ্গ তে বথাক্রমে

জয়ানন্প £ অমিয় দাস চন্দ্রাবতী £ স্বাহীঃ গাহা

নিদেশিনায় £ অজিত মজুমদার

প্রথম অভিনয় ১৯৯৩হং। প্রবীত্ তত 02 ভবন, পাগ্র তত

|| ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ।।

উৎসর্গ যাদের প্রেমের আদর্শে মানুষকে মহৎ কলুষমুক্ত করে

ভাষ্য (পুরুষ) ___কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তথা জীবন যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ নানা কথার ফাকে একথাও বলেছিলেন “বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি ......” ইত্যাদি-অর্থাৎ তোমার আমার বহু বহু জন্ম গত হয়ে গিয়েছে। তুমি জান না কিন্তু আমি সবই জানি হে অর্জন ।”

ভাব্য স্ত্রী) -_মহাকাব্যের সেই মহান কথার সূত্র ধরে আমরাও বলতে পারি, আমাদেরও হয়তো বহু বহু জন্ম গত হয়ে গিয়েছে। কিন্ত মামর। হয়তো তার কিছুই হদিশ কন্তে পারি না তাই না?

ভাষ্য (পুং) -__'হয়তো'বলেই কথাটায় তুমি সন্দেহের বীজ পুঁতে দিয়েছো ।জন্মান্তরের হদিশ কিছুই আমরাও হয়তো খুঁজে পেতে পারি, যদি আমাদের জিগ্যাসু মনটিকে আগ বাড়িয়ে আরো জিগ্যাসু করে তুলি

ভাষ্য স্ত্রী) -_ কেমন হেঁয়ালী ঠেকছে তোমার কথায়।

ভাষ্য পং) -- তবে আমাকে যে তোমার ভাললাগার কথা মাঝে মাঝে বলো সেও হেয়ালী

ভাষ্য ক্ত্রৌ) -_-ছিঃ ! যে কথা একান্ত আপনার, সেকথা ভাবে সবার সামনে ...৮

ভাষ্য পুং) -__ যে কথা একান্ত তোমার বা একা আমার, -..... তেমন কথা সেভাবে

অনেকেরই মনের কখা হতে পারে। হয়তো আমরা যা বলছি তারা বলছে না। বা! বলতে পাচ্ছে না।

ভাষ্য (ক্র) -_ মানে ......

ভাষ্য (পুং) ---মানে হলো জীবনের চলার পথে অনেক সময় কি এমন হয় না আমাদের যেকাউকে দেখলেই হযতো খুব ভাল লাগে ।আবার কাউকে দেখলেই মোটেই ভাল লাগে না। কেমন যেন রাগ হয়। অথচ সেই ভালো লাগা না লাগা নারী বা পুরুষ কারো সঙ্গেই কারো হয়তো কোন চেনা জানাই নেই। ভাল মন্দ লাগার কোন কারণও ঘটেনি তবু কেন এমন হয় £

ভাষ্য স্ট্রীট __হয়। সত্যি কাউকে কাউকে দেখলে এমন হয়, কিন্তু কেন হয় £

১৭

ভাষ্য (পুং) -_এ যে বহু বহু জন্ম গ৬ হজে গিয়েছে _- তাই এমন হয়। ভাষ্য (স্ত্রী) -_তবে বুঝি তোমার সঙ্গেও আমার কোন জন্মের কোন ভাল লাগার সম্পর্ক ছিল ?

ভাষা (পুং) -_না থাকবে তো কেন আমাকে তোমার ভালো লাগবে বলো? হয়তো এই ভালো লাগা আজ থেকে কয়েকশ বছর আগেই যেন জন্মে হয়েছিল।

ভাষা স্ত্রী) -_ হয়তো তারপর বুঝি কোন কারণে বিচ্ছেদ হয়েছে আমাদের কিন্তু জন্মান্তরে এসেও আমাদের ভাল্গলাগার টানটুকু রয়ে গেছে।

ভাষ্য (পুং) -_ হ্যা সেই ভাল লাগার টানে চলনা আমারও একটু উজানে ফিরে যাই। মনের গহীনে ডুব দিয়ে সেই অচীন জনমের কথাগুলো স্মরণে টানি।

ভাষ্য (স্ত্রী) -_ তবে তার জন্যে এই মুহূর্ত থেকেই ভাবতে হবে আমাদের “তুমি যে

ভাষ্য (পুং) -_ আমি যে তোমার" দেজনেই হাসে)।

ভাষ্য (তরী) -_-কিস্তু কিভাবে শুরু করবো__ আর কোন্‌ জন্মকে নিয়ে শুরু করবো। সোজা কথা নয় আমাদের জাতিস্মর হতে হবে ।মানে অতীতের কোন জীবনের পুনরাভিনয় কত্তে হবে।

ভাষ্য (পুং) -_ হ্যা বলতে পার। শুরুর জন্যে চল অন্তত আনুমানিক চার /পাঁচশ বছর আগে আমরা ফিরে যাই, ফিরে যাই আম্মাদের চন্দ্রাবতীর কালে - ফেলে আসা আমাদের বাংলায় - মৈমনসিংয়ের কোলে

ভাষ্য (স্ত্রী) -_ সেই শান্ত সুনিবিড়, স্সিপ্ধ সমীর, সুন্ধা নদীর তীর __!

ভাষ্য (পুং) - হ্যা, সেই ফেলে আসা দিনে ভাবো তুমি চন্দ্রা, চন্দ্রাবতী

ভাষ্য (স্ত্রী) --আর তুমি জয় __ জরানন্দ ........

ভাষ্য পুং) -_ হ্যা, কিন্ত অতীতের কাছে কেমন করে মাগন মাগবো৷ আমরা যে হে অতীত কও, কথা কও।

ভাষ্য (স্ত্রী) -_চলনা গো, আমাদের অতীত যেন উজান ঠেলে আসে, তার জন্যে আমরা বন্দনা করি -। (শুরু হল বন্দনা গীতি সুরালো পাঁচালী ঢংয়ে দ্বৈত কন্ঠে কখনো একক, কখনো দ্বৈতভাবে চলবে বন্দনা)

ভাষা (পুং) --_ বেশ .........পূর্বেতে বন্দনা করলাম পূর্বে ভানুশ্বর।

৯১৮

একদিকে উদয় গো ভানু চৌদিকে প্রশর।

ভাষ্য স্ত্রী) -_ দক্ষিণে বন্ধনা করি ক্ষীর নদীর সাগর। সেখানে বানিজ্যি করে চান্দ সদাগর।।

ভাষ্য পরং) --উত্তরে বন্দনা করলাম কৈলাস পর্বত। যেখানে পড়িয়া আছে আলীর মালামের পাথ্থর।।

ভাষ্য (স্ত্রী) -__ পশ্চিমে বন্দনা গো করলাম মক্কামদি স্থান।

উরদিশে বাড়ায় ছেলাম মমিন মুসলমান | উভয়ে __ সভা কইর্যা বইছ ভাইরে ইন্দু মুসলমান।

সবার চরণে মোরা জানাইলাম ছেলাম।। (বাঁশী) ভাষ্য (ক্ত্রী) চন্দ্রাবতী (শোকসুরে) __ পইড়াছে, পইড়াছে মনে, বন্ধু __ ভাষ্য পুং) জয়ানন্দ (শোকসুরে) -_ কেমনে কাটাইছি শৈশব সই মিল্যা দুইজনে।

চন্দ্রাবতী --চাইর কোনা পুষ্কুনির পারে চলো নাগেশ্বর ডাল ভাঙ্গ ফুল তোল কে তুমি নাগর £

জয়ানন্দ -_ আমার বাড়ী তোমার বাড়ী না নদীর পার। কি কারণে তোল কন্যা মাপতীর হার £

চন্দ্রা _ প্রভাতকালে আইলাম আমি ফুল তুলিতে, আমার বাপে করবো পূজা শিবের মন্দিরে।

জয় --ওঃ। তবে বাছ্যা বাছ্যা তুলি ফুল রক্তজবা সারি, যত আমি পারি।

আর দিলাম যত ফুল আমি তোমার না সাজি ভরি | জবা তু।.। চম্পা তুলি তুলি গেন্দা নানা জাতি

বাইছ্যা বাইছ্যা তুলি আরো মল্লিকা মালতী উভয়ে __ এক, দুই তিন করি, কমে দিন যায় সকাল সন্ধ্যা ফুল তুলি, কেউ না দেখতে পায়। চন্দ্রা __ডাল কে নোয়াইয় ধরে -_? জয়ানন্দ সাথী। জয় -_-আর ফুল তোলে কে? সাথী চন্দ্রাবতী (গদ্যে)। ........ তারপর একদিন তুলি ফুল মালা গাঁথি কে আমারে সাজায়? চন্দ্রা _ -আর প্রথমে কে পুষ্পপাতে পত্র লেখে আমারে __ আড়াই অক্ষরে £

১০

জয় -_ আমি আমি পত্র লেখি।

পুষ্পবনে তোমার আওয়া-যাওয়া, নিতি নিতি তোলা ফুলে তোমার মালা গাথা ... দ্রেত আবেগে) পুস্পবন অন্ধকার, তুমি চল্যা গেলে ।কি কইতাম কেমনে কইতাম, তোমারে দেখলেও যেমন, আমার কেমন হইয়া যায় আবার না দেখলেও তেমনই হইয়া যায়। কইতে কিছু যাই কিন্তু মনের কথা কইতে না পুরায়। তোমার কাছে কন্যা মনের কথা খুল্যা কওয়া দায়। তাই আমার প্রেমপত্র লেখা।

চন্দ্রা __ একদিন আন্ধার কাট্যা মাত্র তখন ভোর হইছে,আমি আইছিসাজি হাতে ফুল বাগানে সোনার বরণ অরুণহলুদ গায়ে ঝিলিমিলি মেঘের ফাকে উকি ঝুকি মারতাছে তখন, যখন আইয়া দাড়াইলা তুমি আমার

গোচরে।

জয় _ হ্যা। কইলাম __ ফুল তোল ডাল ভাঙ্গ কন্যা /আমার কথা ধর পরেগো তুলিও ফুল চম্পা-নাগেশ্বর।

চন্দ্রা _- আমারও তখন ফুল তোলা প্রায় শেষ মন উচাটন বাড়ী যাইতে তাই কহলাম _- আমারে বিদায় কর, আর পারি না যে থাকতে | বইস্যা আছেন পিতা শিবের পুজা দিতে।

জয় _- আইজ বিদায় লো কন্যা তবে

চন্দ্রা -__ এই কইয়াইত প্রেমপত্র দিলা আমার হাত ।...... পত্র না পাইয়া আমি

কি করবাম আর কি না করবাম। মাথা ঠিক নাই! কোমরে গুজ্যা পত্র জলদি বাপের কাছে যাই। বইস্যা আছে বাবা শিবের পুজার লাইগ্যা দিন বাপ আমার না ফুলে পুজে শঙ্করে ।আর কেবল আমার মানে তার কন্যার বিয়া মনে চিন্তা করে|... বনফুল মনফুলে পুজিলাম তোমায়, বর দিয়া পশুপতি ঘুচাও কন্যাদায় ।”

জয় -- শিবের দয়ায় আমার পত্রের কি গতি হইল সই £

চন্দ্রা _- পত্র লইয়া নিরালায় অতি নিরালায় বইলাম। ধারে আর অতি যতনে ভাজে ভাজে খুললাম পড়লাম -__

জয় __-€চিঠি পড়ে আবেগে) কন্যা, তোমারে কি কইবাম কথা - কইতে গেলে মনের কথা কইতে না পুরায়। সত্য কথু সকল কথা তোমার কাছে কইতে কন্যা দায়। বগধি্ঘ ওহ কর্মে মতি। প্রাণের দোসর তার তুমি ।আর আমি? কি

আমরা কথা? মাও নাই বাপও নাই ব্রা গাল আগ! ২০ রি »52221৩

না__-তোমার কাছেসব মনের কথা কইতেও পারি না। যেদিন দেখ্যাছি কন্যা তোমার চান্দবদন, সেইদিন হইয়াছি আমি পাগল যেমন। কও, তোমারও মনের কথা কও। আমি জানতে চাই সর্বস্ব বিকাইবাম পায়

তোমারে যদি পাই।

চন্দ্রা __ (আবেগ কম্পিত) আহা !হা !! এই অভাগীর লাগ্যা সব তুমি বিকাইয়া দিবা!

জয় __ (আবার চিঠি) আজি হইতে ফুল তোলা সাঙ্গ যে করিয়া দেশান্তরি হইব

কন্যা বিদায় যে লইয়া। তুমি যদি লেখ পত্র, আশায় দেও ভর। যোগল পদে হইয়া থাকবাম, তোমার কিন্কর।

চন্দ্রা __ (আবেগকম্পিত, কান্না ভেজা কন্ঠ)-আ !আবার পড়ি ।আবার। আমার লাইগ্যা তুমি পাগল! একি ঝাপসা কেন দেখি চিঠির কথাঃ আঃ আহাদে যেমন আমার চক্ষে জল আইয়া পড়ে ।কি কি উত্তর দিমু আমি নিত আমার যে বয়স হইয়া গেছে। বুঝি এতদিনে জানি। এই তো আমার ....... আমার দেহে যৈবন ধৈবন যেমন জোয়ানের জল কিন্তু কেমনে লেখি পত্রে আমার পরাণের কাহিনী !...... ওরে বাবা বাপ আছে ঘরে। কেমনে লেখি __ জয়ানন্দ ফুল তুল্যা দেয়, ভালবাসি তারে ছোট থেক্যা দেখি তারে আমার প্রাণের দোসর চন্দ্র সূর্য সাক্ষী হেই আমার বর! হ্যা, এই আমি লেখি।

জয় -__ পাইছি তোমার পত্র। কিন্তু অতি ক্ষুদ্র মনের কথা তোমার অনেক কথা, কও রাখছ কিনা গোপনে জানি পত্র দিছ অতি সাবধানে পড়ি, আবার পড়ি -আবার __

চন্দ্রা __ (চিঠি গড়ে আবেগে) ঘরে মোর আছে বাপ. আমি কিবা জানি? আমি

কেমনে দেই উত্তর-- বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না, আমি যে অবলা কামিনী মনের কখা মনে থাকে। নয়ন ভর্যা কেবল তোমায় দেখতে ইচ্ছা করে।

জয় _- (আবেগে) তোমারেও দেখতে ইচ্ছা করে আমার নয়ন ভইর্যা। ইচ্ছা করে তুইল্যা নেই তোমারে তামার হৃদয় জুইড়া।

চন্দ্রা __- (আবেগে) বাড়ীর *।গে ফুইট্যা রইছে রক্ত জবা. সারি তোমারে কইরবাম পূজা প্রাণে আশা করি।

জয় -_-বাড়ীন্র আগে ফুইট্যা আছে মালতী বকুল কোচা বইর্যা তুলিগো -_ তোমার মালার ফুল।

২৯

চন্দ্রা __ বাড়ীর আগে ফুইট্যা রইছে মল্লিকা মালতী জন্মে জন্মে পাই যেন -_ তোমার মতন পতি।

__ বাড়ীর আগে ফুইট্যা রইছে কেতকী বিস্তর আর -_- (কান্না ভেজা) কি জানি লেখ্যাছে বিধি কপালে আমার

__ তারপরেই না একদিন শিবের দয়ায় বরের খবর লয়্যা তোমার ঘরে ঘটক গিয়া হাজির। বরের কথা, বিবরণ, খুঁটিনাটি কত রকম চলল কথা-_ মনের মতন ।বরের সুন্ধা গ্রামে ঘর চক্রবর্তী বংশে খ্যাতি কুলিনের ঘর। আসলে বর মানে আমার __মানে তোমার জয়ানন্দের কথাই চলল বিস্তর। মোদ্দা কথা __ দেখিতে তোমার বর, অতীব সুন্দর। আরো নানা শাস্ত্র জানে বর, অতি সুপন্ডিত। মানে আমি, আমার কথা। হ্যা, জয়ানন্দ নাম তার যেন কার্তিক কুমার -_ সুন্দর সুযোগ্য বর কন্যা সে তোমার।

চন্দ্রা __ (খুশীতে) হ্যা, তারপরেই তো বাবার আর অমতের কিছু থাকলো না। কথা অইয়া গেল পাকা বিয়া ঠিক অইয়া গেল শুভদিন দেখ্যা।

জয় -_ আঃ কি আনন্দ কথা শুইন্যা। কি কইবাম, মনে কত কথা জাগে বইল খুশীর বান।

চন্দ্রা __উথালি-পাথালি মনে ভাসে কত গান। [নীচের গানটি কখনো দু'জনে আলাদা কখনো ছৈত কণ্ঠে হবে]

গান __ মন পবনের নাও ছুটে খুশীর জোয়ারে ঢেউয়ের দোলায় ডগমগাইয়া নাও ভাসালাম রে। তুমি হও এঁ গহীন গাঙ রে বন্ধু আমি তাহার ধারা উজান ঠেইল্যা প্রেমের পানসী ছুটলো পাগল পারা। ফুলে ফুলে গুণ গুণাইয়া মৌমাছি কি কয়রে, প্রজাপতি উইড়্যা ভাসে লইয়া কি ইশারা। দখিনেরই হাওয়া বয় কুকিল করে রা। আমের বইলে বইস্যা ভ্রমর গুর্জরে। শনশনাইয়া পনপনাইয়া প্রেমের পানসী ছুটে ছলাৎ ছলাৎ খুশীর ঢেউ নাওয়ের গাওয়ে টুটে। প্রেমের পালে খুশীর হাওয়া দোলা দিল ভারী। উজান বাইয়া প্রেমের পানসী ছুটে তরতরি। উ্থালি পাথালি মনে কি যে কইরবাম করে।

২২

প্র প্র

চন্দ্রা __- (কথায়) হ্যা তারপর -_ নয়া পাতা যত গাছে উঠে, নয়া লতা ঘির্যা,

শহ্করের বরে ঠিক অইল সব ভাল দিন দেইখ্যা। জয় -_ সেই দিনে হইব বিয়া সব সুলক্ষণ -_ চন্দ্রা _- পান খিলি দিয়া করে বিয়ার আয়োজন। জয় -_ পাড়ার যত নারী আসি পান খিলায়। চন্দ্রা __ যতেক নারীতে মিলি তারি গান গায়। জয় __বাড়ী ভরা বিয়ার আয়োজন, অতিথি অভ্যাগত হৈ চৈ, কাচ্চা বাচ্চা-

লোকজন, গিজ গিজ রৈ বৈ __ ধুমধাম ব্যাপার উলুধবনি - গীত ..... [পানখিলির গান জোকার চলতে পারে]

পুরবাসিগণ, সুপারি কাটগো নারীগণ

আইস আইস মিলি, আইসা দাও পানখিলি

যার হস্তে সোনার কাটারী, সে আইসা কাটে সুপারি [সম্ভব হলে বিয়ে বাড়ীর আবহ শব্দ ধ্বনি শোনা যাবে]

ফুলটারে ...... দুমডাইয়া ....... মুচড়াইয়া .......... আ...... হা.....হা ! (কাদে) [সমস্ত ভব্বীতা ভেদ করে সানাইয়ের করুণ রাগিনী শোনা যায়।কয়েক সেকেন্ড]

জয় _ হ্যা, দারুণ মরম্ঘাতী কথা কহন না যায়।

কন্যা, এই কপাল, কপালের লেখা গো, দুষানা আমায়। তারপরের ঘটন৷ বুঝি নাই অঘটন। দেখলাম এক সুন্দরী কন্যা যেমন আগুন যৈবন। পরথমে দেখি তা?র সন্ধা নদীর কুলে মুসলমানের কন্যা এক জল ভরিয়ে যায়, কলসী কাকালে। চলনে যেমন খঞ্জন কন্যা, বলনে তেমন কুকিলা __ কি ভীমরতি হইয়া গেল, কন্যারে দেখ্যা কত কি মনে হইল। আমার দেখ্যা কন্যারে, কত কথা কল্পনা হইল অন্তরে। ২৩

আহা! প্রেমের বন্যায় উথালি পাথালি ডুবাইল ভাসাইল যেন আমারে। -__ কও নাই কিছু তুমি তারে? নয়া প্রেমিকারে ? _-কইছি। _ কইছঃ

_-না, কইনাই। সত্যি করা কই, কন্যারে দেখ্যা পরথম হইল আমার মতিভরম! সরমে যেমন মরণ আইল, কথা কওয়া দায়।

প্র তু এ্রুশ্

-_- আমার বেলায়ও তো একই কথা কইছ। __কইছি। বেবাক প্রেমের কথাই পয়লা এক রকমই হয় বোধ হয়।

-__ আমারে দেইক্যা যেমন কইছ __ তোমার মত সুন্দরী কন্যা আমি আর দেখি নাই। তোমারে দেখ্যা কন্যা আমি পাগল হইয়া যাই। কও নাই?

জয় -_- হে,সত্যই আমি পাগল হইয়া গেছিলাম। চন্দ্রা __ পত্র দেওনাই প্রেমিকারে, প্রেমের কথা কইয়া, আমার মত।

ব্রি

জয় __ দিছি পত্র মারফত, মানে পত্র দিয়াইতো যত ঝামেলায় পড়ছি। তবে অখন বুঝি যেইটা ঝামেলা তখন বুঝছি এটাই প্রেম।

চন্দ্রা _- চন্দ্রার প্রেমে কও কেন তোমার আশ মিটে নাই গো!

জয় __ কেন্‌ যে মিটে নাই কন্য। কইতে কি আর পারি! কিন্তু কি জানি কেমন প্রেমের বানে অবশ হইয়া কেবল দেখি সুন্দরী

চন্দ্র --আর চিঠি।

জয় __চিঠি, হে চিঠি লেখ্যা রাখ্যা আইলাম ইজল গাছের নীচে আর কত কি ভাবছি। হয়তো চিঠিতেই মজবো মন সুন্দরীর এই আশারই আশে। দনখলাম __ (গান) কে তুমি সুন্দরী কন্যা জলের ঘাটে যাও আমি অধমের পানে বারেক ফির্যা চাও (গো) নিতি নিতি দেখ্যা তোমার না মিটে পিয়াস প্রাণের কথা কও কন্যা মিটাও মনের আশ। (গো) পরকাল কইরা কইতে নারি মনের কথা ধর তুমি কন্যা এই জগতে প্রাণের দোসর | (গো)

জয় __ বুঝলাম পত্র পাইয়া কন্যারও প্রাণ করে আনচান। ইশারা দিয়া কন্যা

এর

চন্দ্রা

জয়

চন্দ্রা

যখন বুঝাইল আমারে, এই নাগরে দিল বুঝি আপন মন প্রাণ। তারপর, আমার লগে মিলার লাইগ্যা কন্যা ছুট্যা গেল কাজীর কাছে। প্রেমপত্র দেখাইলো কাজীরে।

__- “ওগো কাজী রায় দেও। মিনসের যে পরাণ যায়, আমারে না পাইলে হায়।”

__কিস্তু তুমি যে ব্রাহ্মণ, আর এঁ নাগরী যে মুসলমান।

-__জানি গো জানি, কিন্তু প্রেমের বেলায় জাতি ধরমের কোন বালাই না। তাই কাজী দিল রায়, হোক মুসলমানি,তবু তারে দিছি আমি পত্র অখন আমিউ তার কসম। করতে অইবো তার পাঁণি প্রহণ। তারে করতে অইবো সাদী | রায় দিল কাজী

_-কি সব্বনাশ!

__ হোক সব্বনাশ। তবু মিটবো মনরে আশ।

_-তারপর?

__ আমার, ধর্মত্যাগ করতে অইলো।

__- (আঁতকে উঠে) ধর্মত্যাগ!

__ হে, কাজীর বিচারে হিন্দুধর্ম ছাইর্যা মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে অইল। __ প্রেমের লাইগ্যা ধর্মত্যাগ না সাদীর লাইগা £

__ সাদীর লাইগ্যা না অইলে গ্রামে পড়ছে ছি ছি। মুসলমানীরে দিছি পত্র। অখন জারে যদি সাদী না করি, তো তার জীবন রাখা শক্ত 1......... তাই ওগো আমার পরাণের সই, আমার পরাণের পরাণ চন্দ্রা __ তোমার ছাইড়্যা মুসলমানীরেই করলাম আমি বিয়া গো!

-- আর যত স্বপ্ন ভাইঙ্গা চুরমার হইয়া গেল আমার, যখন' এই দুঃসংবাদ ছড়াইয়া পড়ল। জয়ানন্দের হইয়া গেছে সাদী সখীরা আইয়া মাথায় হাত দিয়া কাইন্দা কাইট্যা আছড়াইয়৷ কইলো -- হায় হায় গো সই চন্দ্রাবতী দিন যায়, রাইত যাখ, যায়রে কাইটা ফাগুন ধিকি ধিকি মনে মনে আমার চলে প্রেমের আগুন বালিস ভিজিয়া ভিজে নেতের বিছানি। শৈশবের যত কথা আর কুলতো না গো -__

২৫

বিয়ার বানে ভাইস্যা গেল, যায় কি তাহা ভোলারে! দিন কাইট্যা যায় হায়রে না কাটে রজনী

অনাথিনী হইলাম আমি হইলাম পাগলিনী রে হইলাম পাগলিনী!

জয় -_-জানি গো কন্যা, তোমার মনের কথায় বাপেও ব্যাথা পায়। তাই আবার সন্বন্ধ খুজতে লাগল কোনখানে কেমনে তোমার বিয়া, আবার বিয়া ঠিক করা যায়।

চন্দ্র _- (গানের ঢংয়ে বা সুরে) হায় হায় গো! পিতা আমার -_ মম বাক্য ধর। জনমে না করিব বিয়া রইব আইবর। শিবপূজা করি আমি শিবপদে মতি ........ দুঃখিনীর কথা রাখ কর অনুমতি .........

(কথায়) ......... হেঁ হেঁবাপ আমার _-

তোমার উপদেশ থাকবে মনে, কাটব জীবন আমার. শিবপৃজা করি আর লেখি রামায়ণে।

জয় _-জানি, সব কথা জানি তোমার। তুমি আজন্ম হইয়া র্টুলা কুলের কুমারী। আর একমনে পুজ কন্যা দেব ত্রিপুরারী। দেহ মন প্রাণ সণ রাখি সংযমে, রামায়ণ রচনায় আছ একমনে কিন্তু তোমার চিন্ত। ছাড়া যে আমারও দিন কাটে তো, কাটে না রাইতৃ, কন্যা, কি কইর্যা বুঝাই

তোমারে। চন্দ্রা _জানি গো জানি -- তোমার প্রাণ জুইড়া যে আছে চন্দ্রা। তাইতো

আমারও তন্দ্রা টুটে আবার তোমার প্রেমপত্র পাইয়া। মন যে মানে না আমারও তাইতো, একবার দ্ুইবার __ তোমার পত্র খুই্যা পড়ি বারে বার গো।

জয় (চিঠি পড়ে যেন) __ শুনররে প্রাণের চন্দ্রা, তোমারে জানাই এই পত্র, পত্রতো নয়। আমার মনের আয়না সত্য করা কই মনের আগুনে দেহ পুড়া হইছে আমার ছাই ।ওগো সই,অমৃত ভাইব্যা আমি গরল খাইলাম আর সেই না গরল আমার গলায় লাইগ্যা হইছে কালবিষ। ফুলের মালা ভাইব্যা কালসাপ গলায় পইর্যা অকালে মরণ ডাইক্যা আনলাম আমি।

(সুরে)তুলসী ছাড়িয়া আমি পুজিলাম সেওরা গো কন্যা, আপনি মাথায় লইলাম দুঃখের পসরা গো .......... ৮৬

জয় --জলে বিষ।বাতাসে বিষ !নাই আমার কোন উপায়, নাই চন্দ্রাবতী,আমি তোমার পায় ধরি, বড় সাধ তোমারে একবার জন্মশেষ দেখা দেখি। একবার দেখি তোমার বাঁকা নয়নভঙ্গী। একবার দেখি তোমার মধুঝরা হাসি।

(সুরে) একবার শুনিগো তোমার মধুরসবাণী নয়ন জলে ভিজাইগো রাঙ্গা পা দুইখানি

না,না গো সই, না ছুঁইয়া, না ধইর্যা তোমায় একবার একবার শুধু দূরে থাক্যা পুণামুখ দেখ্যা তোম।র আমি অন্তর জুড়াইবো গো।

(সুরে) _ ০৮০ শিশুকালের সঙ্গী তুমি যৈবনকালের মালা তোমারে দেখিতে কন্যা মন হইল উতলা

কি করি, জলে ডুবি? না বিষ খাই? না গলায় দেই দড়ি, তার আগে তিলেক তোমার ওগো চান্দমুখ দেখি এই দেখা একবার শুধু চক্ষের (দেখা, এই দেখাই শেষ দেখা!

(সুরে) ভাল নাহি বাস কন্যা এই পাপিষ্ঠ জনে জন্মের মতন হইলাম বিদায়, ধরিয়া চরণে, একবার দেখিয়া তোমরা ছাড়িব সংসার কপালে লিখ্যাছে বিধি মরণ আমার

চন্দ্রা --আমি পত্র পড়ি, আর কেবল চক্ষের জলে ভাসি আর মনের মধ্যে যত শিশুকালের স্বপ্ন ঘিরা ধরে আমারে আপন জন বাপ আমার গিয়া কইলাম বাপেরে যত দুঃখের কথা।

জয় __ পাইছি তামার পত্রে লেখা বাপের কথা বার্তী। চন্দ্রা হে, বাপের কথা মহই আমি বিশ্বেনম্বরে স্মরি। অন্য কথা স্থান দেইনা

মনে, জীবন মরণ £ইল যার কারণে, নষ্ট হইল পুজার ফুল, আছিল গঙ্গার জল অপবিএ হইল, কিদোষে, কে সাধল বাদ আমার সব নষ্ট হইল। যাক এখন দিন*কাইট্যা যাইবো আমার লেখায় রামায়ণে। বাকী সময় কাটাই ভজনা করি ভোলায়, বসি যোগাসনে।

[শুনা যাবে চন্দ্রাবতী শিবের কাছে আত্মনিবেদনে আর্তসঙ্গীত। তার ফাকে ফাকে শোনা যাবে জয়ানন্দের শোকার্ত সংলাপ সঙ্গে ঝড়ের আবাহ শব্দ ধ্বনি |]

(থান) -- ভোলানাথ্‌ ........

২৭

শরণ দাও প্রভূ মিনতি করি। অগতির গতি তুমি ওহে ভূতনাথ।

ভব ভয় হরো দেব বাজাও ডমরু। পাপ তাপ হারী তুমি ত্রিলোকের নাথ বিপদে ভঞ্জন করো সংশয় মোচন করো ভরাভয় দাও প্রভু দুখ জ্বালা হরো। ব্রিনয়ন জ্ঞানানলে রিপুনাশো নাথ।

জয় __ দুয়ার খোল কন্যা, একবার মন্দিরের দৃয়ার খোল। তোমারে জীবনের শেষ দেখা দেখ্যা যাই। একবার তোমারে ওগো নয়ন ভইরা দেইখ্যা বাই। শেষ বিদায় দিয়া আমারে আমার দোষ ক্ষমা কইর্যা দেও চন্দ্রা।

[পাগলের মত আর্তস্বরে] একবার দুয়ার খোল চব্দ্রাবতী, দেখা দেও তোমারে ছুঁইব না, ধইরব না, দূরে থাক্যা হইয়া খাড়া, ইহজন্মের মতন একবার কেবল কন্যা দেও দেখা দেও মোরে সাড়া। তুমি দেবপৃজার ফুল, জানি, তুমি গঙ্গার পানি, আমি যদি ছুঁই কন্যা, হইবা পাতকিনী। তাই নয়ন ভইরা শুধু একবার তোমারে দেইখা যাই কন্যা, শেষ জন্মশোধ দেখা।

জয় -- শৈশব কালের সঙ্গী তুমি যৈবন কালের সাথী, দুয়ার খোল কনা, অপরাধ ক্ষমা কর, ওগো চন্দ্রাবতী,আমি পাপিষ্ট. তাই তুমি দূয়ার খোল নাই ...... শৈশবের সঙ্গী ওগো যৈবনের সাথী, আমারে ক্ষমা কর এই লেইখ্যা ইহ জনমের মত বিদায় লইগো সখী

€এ মুহূর্তে সমত্ত আবাহ শব্দ ধ্বনি তব্ধ হলো)

চন্দ্রা [চমকে] -_- কে? কে ডাকে ? মণি হারা ফণীর মত ... সীতা হারা রামের মত ..... আর্তকন্ঠে কে ডাকে! কী! কার লেখা, ঝরা ফুল আমি তোমার শৈশবের সঙ্গী আর যৈবনেরই সাথী, পাঁপিষ্ঠরে ক্ষমা কর, আর ইহা জনমের মত বিদায় দাও গো সখী জয় ........... জয়ানন্দ! যাও আমি তোমার কে? আমার কাছে ক্যান বিদায় চাও! অপবিত্র ....... হ্যা অপবিত্র হইছে মন্দির আমার তোমার ছোয়া লাইগ্যা। যাই _কলসী কাকে নদীর ঘাটে যাই। জল আইন্যা পবিত্র করি মন্দির ধোয়াইয়া ধোয়াইয়া। কোম্না কাপা কণ্ঠে) তোমার অপবিত্রতায় আইজ আমিও ২৮

অপবিত্রা জীবন দিয়া চাইয়া তোমারে কি পাইলাম আমি! চক্ষে কেন ধারা ঝরে না, চোখের জল ফেলমো না,এ কী! আমি কি দেখি, যেননদী বহিছেউজানী ! বহ্ুক নদী উজানে ।এ নদী থেইক্যাই জল ভরি কলসীতে 1...................... একি !কি লাগে কলসীতে আমার, ওহ! উজান গাঙ্গে কে যায় ভাইস্যা যায়? নিথর দেহ অইযেরে কার ভাইস্যা যায়রে! হায়রে !! সুরে) দেখিতে সুন্দর নাগর চান্দের সমান ঢেউয়ের উপর ভাসে পুন্নমাসীর চান।এ যে রে জয়ানন্দ !ঝরা ফুল, জয়ানন্দ ভাইস্যা যায়। স্বপ্নের হাসি আমার স্বপ্মের কান্দন, সব নিঠর নদীর জলে তলাইয়া গেল জন্মের মতন! হায়! ডুবাইয়া দিলরে, ভাসাইয়া নিলরে। মনের ব্যথা আমার কারে কহিরে আমার মত না হইলেরে নদী _ আমার অন্তরের ব্যথা তোরে কি কইর্যা বুঝাইরে !কী কইর্যা বুঝাই! ! [প্রাণ কাড়া কোন বিরহী গানের সুর বাজতে থাকবে বাঁশীতে। চন্দ্রার প্রেমার্ত কণ্ঠকে শান্তনা দিতে জয়রূপী ভাষ্যকার তার হাহাকারকে পরিবর্তন করে ইহজনমে ফিরে আনতে ডাকবে মৃদুমধুর কণ্ঠে। ধীরে উভয়েই ইহজন্মে ফিরে আসে |]

ভাষ্য (পুং) -__ এই, এ্যাই,.... শুভ্রা। আমাদের জন্মান্তরের পালাতো শেষ। এ্যাই, কাম অন ফরওয়ার্ড ওগো চন্দ্রা, তোমর জয়ানন্দ ....... এই যে তোমার সামনে বসে | হ্যা।

ভাষ্য ভ্ত্র)) __আ্টা ! .........৭

ভাষ্য (পুং) -হ্যা। এই তো চত্দ্রা আর জয়।

ভাষ্য (স্ত্রী)__ হ্যা ইহ জন্মের শুভ্রা আর স্বপন।

[হেসে ওঠে দু'জনে] ভাষ্য (পুং) -_জন্মীন্তরে যেভাবে হারিয়ে গিয়েছিলাম -বিশেষ করে তুমি তে-_কি যে বলবো! ভাষ্য (স্ত্রী) -_ সত্যি ইহজন্ম বলে যে কিছু আছে, আমি কৌথায় আছি, কিছুই ঘেন বোধ ছিল না। ভাষ্য (পুং হেসে) -_ ভাগ্যিস ঢেউ ভাঙ্গা ঢেউ অতল থেকে আবার আমাদের ফিরিয়ে এনেছে।

ভাষ্য (স্ত্রী মৃদুহেসে) -_ কিন্তু জন্মান্তরটা কেমন লাগলো! বললে না তো?

২২৯

ভাষ্য পংসুরে) - প্রেমের জোয়ারে ভেসেছি অকুল পাথারে _ ভাষ্য স্ট্রৌ-সুরে) - হারিয়ে গেলাম জানি না সেই কোন সে সুদূরে। উভয়ে __ হারিয়ে গিয়ে খুঁজে পেলাম আবার নিজেরে ......-

- - ধীরে ধীরে যবনিকাপাত হবে _-

ভারত নাট্যম

উৎসর্গ দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী দেশপ্রেমীদের উদ্দেশে

নাটক ভারত নাট্যম / নট্যকার -