ত্দীন্ব-€০নক্ষভ্ড (ছায়াচিত্রে সি-আই-ডি )

প্রবোধ সরকার

সেন ব্রাদার্স এণ্ড কোং ১৫১ কলেজ স্কোয়ার

কলিকাতা

সেন ব্রাদার্স এও কোং-এর পক্ষ হইতে শ্রবলাই সেন শ্রীবিভূতি সেন কর্তৃক প্রকাশিত

প্রথম গ্রকাশ ১৯৫৮

পপুলার আর্ট-প্রিন্টাস” ,১নং মুক্তারাম বাবু সেকেগ লেন হইর্তে শ্ীশিবচন্্র মৈত্র কর্তৃক

তীন্বন্-টনক্ষভ্ [ ছায়াচিত্রে-সি-আই-ডি ] এক

মাথার ওপর কেউ ন! থাকলে যা হয় ! আয়ু কমে এলো! বা বয়সের মাত্র! ক্রমশঃ বেড়েই চললো তথাপি বিপুলের বিয়ের ফুল আর ফুটলো! না। বেঁচে থাকলে বিয়ে একদিন না একদিন হবেই, এই মনগড়া তত্বকথ। ভেবেই বা বিয়ের সম্বন্ধে বিলকুল কোন কথ। না ভেবেই সে আটাশ বছর হেসে এবং হাঁসিয়ে কাটিয়ে দিলে

বৈচিত্র্যহীন বাঙালীর জীবন নিতান্ত একঘেয়ে, আবার এই এক- ঘেয়েমিটা বিষ্বের ব্যাপারে আতিযমাত্রায় একচেটে। এক ঝলক পাশ্চাত্য আবহাওয়া জোর জবরদস্তিতে ঢুকে না পড়লে জীবনটা “মরু” হয়ে না যাওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর ছিল না। বরাত বড় বালাই ! হঠাৎ একদিন গোধূলির আলো-আধারে বিপুলের বরাতটা প্রসন্ন হয়ে উঠলো

আধুনিক ফ্যাসানের একটা বড় বাড়ীর চত্বরে ছোট-খাটো স্টেজ সন্ত্রান্ত বংশীয় তরুণ তরুণীর। প্রাচ্য নৃত্যকলা প্রদর্শনে সন্ত্রাস্ত ভদ্রমহোদয় মহিলাদের আনন্দবর্ধন করবেন | আনন্দ-বাসর নিশ্চয়! অতি আধুনিক রুচিসম্পন্ন তরুণ-তরুণী, প্রৌঢ-প্রৌটার অপুর্ধ্ব সমাবেশ। পোষাক-পরিচ্ছদের আড়ম্বর আধিক্যে, দামী এসেন্দের সৌখীন গন্ধে, তরুণ-তরুণীর আনন্দ-বিহ্বল মাতীমাতিতে অনভ্যন্তের মাথা ধরে, মন খারাপ হয়।

আটিস্ট স্থবোধ চট্ো বিপুলের বহুদিনের বন্ধু। আজকের আনন্দ- বাসরের পরিচালক স্থবোধ নিজে গিয়ে বিপুলকে নিমন্ত্রন করে এসেছে না এসে বিপুল পারলে ন!। অবিবাহিতের পক্ষে এতবড় লোভনীয় আকর্ষণ প্রত্যাখ্যান করা মানেই মহাপাতককে প্রশ্রয় দেওয়া

জীবন-সৈকত

আলাপ-প্রলাপ হাস্য-পরিহাসের অস্ফুট গুঞ্জন থেমে গেল, সরে গেল ষ্টেজের পর্দা। পরিচালক ষ্টেজের ওপর দীড়িয়ে ভারতীয় নৃত্যকলার সম্বন্ধে মিনিট পাঁচেক বক্তৃতা দিলেন উদীত্ঁ-কণ্ঠে। বক্তার বক্তৃতা শেষ হওয়! মাত্র চারিদিকে পড়লে হাততালি

ঘোষকের ঘোষণা অনুসারে আরম হলে! ঝান্সীর রাণীর “সংগ্রাম- নৃত্য কুমারী গীতার সংগ্রাম-নৃত্য দেখে বিপুল মুগ্ধ হ'লে।__ একথা বললে সত্যের অপলাপ করা হয় ; বিপুল মুগ্ধ হলো কুমারী গীতাকে দেখে। ব্যাপারটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়; পাশ্চাত্য আবহাওয়ার ঘাড়ে দোষ না চাপিয়েও অসঙ্কোচে আমরা! স্বীকার করতে বাধ্য। পৌরাণিক এবং এঁতিহাসিক নজীর ভূরি ভূরি দেওয়া আছে পুরাণ আর ইত্তিহাসের পাতায় পাতায়। ভারতীয় আবহাওয়ার বহুদিন থেকে নানক নায়িকাকে দেখে মুগ্ধ হ'য়ে আসছে, গীতাকে দেখে বিপুল মুগ্ধ হ'লো। স্থবোৌধ চট্টোর (আধুনিক যুগে ছোট নামের অনেকেই পক্ষপাতী, যেমন “স্থবোধ চট্ট”) মধ্যস্থতায় ওদের মধ্যে প্রাথমিক আলাপ হ'চ্ছে গ্রীণ্রুমের একাংশে £

- আজকের আসরের ইনিই 7782৮__কুমারী গীতা ঘোষ!

বিপুল সসন্্বমে নমস্কার করলে, ম্মিত হাস্কে ঘাড় বেঁকিয়ে গীতা করলে নমক্কীর-বিন্ম্য় গীতাকে উদ্দেশ ক'রে স্থবোধ বললে, আর ইনি__ মিষ্টার বিপুল বাস্থ ! আধুনিক আর্টের উপাসক এবং সমঝদার !

আবার নমস্কার-বিনিময় ঠোটের কোণে মুছ হাসি

বিপুল নিজেই নিজের অভিভাবক পিতার মৃত্যুর পর অগাধ 211 102181105এর অধিকারী কলকাতা! সহরে খানদশেক বাড়ীর মালিক। পায়ের ওপর পা দিয়ে অনায়াসে সে পারে জীবনটা হেসে খেলে কাটিয়ে দিতে করিত্-কর্খমা লোক বল! যেতে পারে বিপুলকে। অখণ্ড বিশ্রামকে আমল না৷ দিয়ে সে হয়েছে সখের ভিটেকটিভ। বন্ধু-

জীবন-সৈকত

হলে ০. [. 1). (707) অর্থাৎ অবৈতনিক ডিটে কটিভ" নামে বিপুল পরিচিত। বন্ধুরা বলেন, বাল্যে এবং যৌবনে অসংখ্য ডিটেকটিভ উপন্তাস পড়ার ফলে কর্মজীবনে বিপুলের এই অকল্লিত পরিণতি ডিটেকটিভের কর্মময় জীবন বিপদসস্কুল, প্রতি পদে বিশ্ল। অঞ্জলী প্রথম প্রথম তার দাদাকে প্রতিনিবৃত্ত করতে চেষ্টার ক্রি করেনি কিন্তু বিপুল অকুষ্ঠিতচিন্তে ভগ্নীর অন্গুরোধ এবং অন্থযোগ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে৷ বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে আর একজন তাকে 6, 1. 7).র কাঙ্ছে ইস্তফা দ্রিতে বলেছিল--সে সৌমেন। সৌমেনের একটু ইতিহাস আছে। সে প্রায় বিশ বছর আগেকার কথা। সৌমেনের বাড়ী ছিল বিপুলের বাড়ীর পাশে মহামারীর প্রকোপে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মারা গেলেন সৌমেনের মা, বাবা আর পিসীমা দেশে তাদের জ্ঞাতি-গ্রচি হয়তো ছিল অথবা! ছিল না, মোট কথা সৌমেনের খোঁজ খবর নিতে কেউ এলো! না; শুধু পাঁওনাদারর1 ওদের বাড়ীখান। দেনার দায়ে কিনে নিলে। পাড়ার অনেকেই মৌখিক সহান্ভৃতি দেখাতে এলেন, কিন্ত সৌমেনের ভার নেবার মত একজনকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিনা স্বার্থে পরের ছেলে মানুষ করতে স্বেচ্ছায় ক'টা লোক রাজি হয়? সৌমেনের না ছিল ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা আর না ছিল ক'লকাতার সহরে খানকয়েক বাড়ী, তাই মন্তব্য শোন! গেল__ছেলেট। নিতান্তই অভাগ! ! অভাগ! ছেলে সৌমেনের শেষ পর্যন্ত স্থান হ'লো৷ বিপুলদের সংসারে বিপুল সৌমেনের চেয়ে বছর ছুয়েকের মাত্র বড়; ঠিক সমবয়সী না হ'লেও বন্ধুতরটা এদের খুবই গাঢ় এক জায়গায় মানুষ হ'লে ভাব, ভালবাসা, বন্ধুত্ব হ'য়েই থাকে এক-আধ বৎসর হ'লেও লয় কথা ছিল, একেবারে বিশ বিশ বৎসর তিনটি প্রাণীকে নিদ্ধে বিপুলের সত্যিকারের সংসার , সৌমেন অগ্গলী আর বিপুল নিঙ্গে। তিনজ্জনেই অবিবাহিত; বডলোকের সংসারে যা

জীবন-সৈকত হয়, দাস-দাসীরাই চালায় সংসার সংসার অনভিজ্ঞা অঞ্জলী যথাসম্ভব সব দিকে নজর রাখতে চেষ্টা করে অবিবাহিতা হ'লেও অগ্জলীর ব্যস নেহাত কম নয়, প্রায় কুড়ির কাছাকাছি। এত বড় আইবুড়ো। মেয়েকে আমরা সাধারণতঃ স্বাধীন1, প্রগতিশীলা, ৮৮-10 0969 মেয়ে ব'লে অভিহিত করি অঞ্ুলীর গায়ে কিন্তু নারী-প্রগতির হাওয়! লাগেনি, বর তার ঠিকই হ'য়ে আছে ।” ইচ্ছ। করলে অঞ্লীকে আমরা অয়ন্থরা বলিতে পারি

বিপুলের পিতা] বিশ্বেশ্বর বাবুর ইচ্ছা থাকলে কি হবে-_-জীবদ্বশায় তিনি কন্।টিকে পাত্রস্থ ক'রে যেতে পারলেন না। কন্তার মনোনীত পাত্র সৌমেনই যে তার ভাবী জামাতা একথা তিনি জানতেন এবং সমর্থনও করেছিলেন ভশ্বীর বিয়ের যোগ্যপাত্র স্বগৃহে থাকায় খামখেয়ালী] বিপুল ওদের বিষ্বের সম্বন্ধে খুব বেশী তৎপর নয়। খোঁজা- খুঁজির হা্জগীমা নেই, একদিন-ন।-একদিন বিয়ে দিলেই চলবে।

এই ভাবেই বছর কয়েক কেটে আসছে।

নাং শাহ শা সা

আরো মাস তিনেক কাটলে]।

ভয়ানক বাস্ততার মধা দিয়েই বিপুলের দেখতে দেখতে তিন মাস সময় কেটে গেল। এই সময়টা সে নিজেকে নিয়ে অর্থাৎ গীতাকে নিয়ে এত বেশী বাস্ত মে অন্য দিকে লক্ষ্য দেখার বা অন্য কথ। ভাববার তার সময় একান্ত অল্প, নে-ই একরকম বল! যায়। বিংশ শতাব্দীর অনাদ্রাতা নৃত্যপটিয়শী কুমারী তন্বী, তায় আবার সুন্দরী, বিপুলকে দোষ দেওয়। যায় না; বয়সের দৌষে গীতাকে নিয়ে সে যে আত্মভোলা, হ'রে মাতামাতি স্থরু করবে আর এমন বিচিত্র কথা কি? নূতন নৃতন যা হব, আজ বোটাঁনিকেল গার্ডেন__কাল লেক্‌--পরশ্ত দক্ষিণেশ্বর, কালীবাড়ী ; নিত্য নব অভিষান।

জীবন-সৈকত

পেটের কথা চেপে রাখতে 0.][.1).রা নাকি অদ্ধিতীয তার প্রমাণ স্বয়ং বিপুল। অতি বড বন্ধু সৌমেনের কাছেও সে নিজেকে ধরা দেয়নি। প্রেম-ধর্শে দীক্ষিত নবীন-নবীনারা বন্ধু-বান্ধবীর কাছেনিজেদের মনের কথ। খুলে না বললে স্বন্তি পায়না, বিপুলকে কিন্তু ওবিষয়ে একমৃ-অদ্ধিতীয়ম্-কেবলম্‌ বলা যেতে পারে ; পরে কি হয় বলা! যায় না, আজ পর্য/ম্ত তার পদস্থলন হয়নি। আপনাতে সে আপনি বিভোর

সেদিন দুপুরে বিপুল বাড়ী ফিরলো ঘর্মীক্ত কলেবরে।

অগ্চলী বললে, দাদা! গীতা ব'লে কে একটি মেয়ে তোমায় টেলিফোনে খুঁজছিল?

গীতা! বিপুলের মুখে কৃত্রিম চিন্তার ছায়!।

_তিনি বললেন, আমার নাম বললেই বিপুলবাবু চিনতে পারবেন

__-ও গীতা! গীতা !! হ্যা তাঁদের একটা জরুরী কেস আমার হাঁতে।

_-কি কেস_ কলেরা না টাইফয়েড ?

বিপুল পিছন ফিরে দেখলে- প্রশ্নকর্তার মুখে মৃছ্মন্দ হাসি।

ধর1 পড়ার ভয়ে গাীধ্য বজায় রেখে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় বিপুল

_মেয়েছেলের কেস করতে গিয়ে শেষ পধ্যস্ত নিজে যেন কেসে পড়ো না, বন্ধু!

_গ্যাখো সৌমেন ! সিরিয়াস জিনিষ নিয়ে সব সময় ইয়ারকি করতে চেষ্টা করো না।

উত্তরে কি যেন সৌমেন বলতে যাচ্ছিল, দূর থেকে অঞ্জলী তাকে ইসারায় নিষেধ করলে ঠোঁটের ওপর একটা অঙ্গুলী চেপে

সৌমেনের স্নান আগেই সারা হ'য়ে গেছে। বিপুল তাড়াতাড়ি

জীবন-সৈকত

সান ক'রে এসে সৌমেনের সঙ্গে খেতে বসলো! ঠাকুর পরিবেশন ক'চ্ছেঅগুলী ক'রছে তদারক

_-বাঁঃ মাছের কালিয়াটা ভে। সুন্দর হয়েছে হে, সৌমেন ঠাকুর দেখছি অগ্ুর চেষ্টায় মানুষ হয়ে গেল !

ঠাকুর রীধেনি, রেঁধেছে তোমার**অগ্রলীর সঙ্গে চোখো-চোখি হ'য়ে যেতেই সৌমেন হেসে ফেললে

_-ও অঞ্জু রেধেছে! তাই তো বলি__ এত সুন্দর রান্না-_তুইও আমাদের সঙ্গে বসলি না কেন, অগ্ু!

_আমি কি কোনদিন তোমাদের সঙ্গে-_

অগ্রলীকে শেষ করতে ন! দিয়ে বিপুল বললে, না, আজ বড্ড বেলা! হযে গেছে কিনা তাই বলছি। পতি যে তোদের পরমণ্তরু-_পতিসেবা! না ক'রে যে তোদের-_না কি বল হে, সৌমেন !

দাদার কথা শেষ হ্বাঁর পুর্বেই অগুলী শ্মিত হান্তে স্থান্‌ ত্যাগ করে।

সেদিন দুপুরে বিশ্রাম না! ক'রেই বিপুল তার জরুরী কাজে বেরিয়ে গেল।

আছ!

সৌমেনের ডাকে অঞ্জলী হুজুরে হাজির হয়।

_-কি? এত ডাকাডাকি কিসের ?

_কি রকম বুঝছো।?

_কি বুঝবে! ?

_€তোমার দাদা আর তার জরুরী কাজ?

নীরবে মৃহহাসি হাসতে লাগলো অগ্জলী।

_বিশ্বাস তুমি কর আর নাই করো, তোমার দাদাটি নিশ্চয়ই গোপন প্রেম হৃরু করেছে।

জীবন-সৈকত

লজ্জীমাখা হাসি হেসে অগ্জলী বললে, হ্্যা আপনার এক্‌ কথা ! নিজের চোখ দিয়ে সব সময় জগৎটাকে দেখলে চলে না

_কেন, বোন গোপন প্রেম করতে পারে আর ভাইয়ের বেলায় যত দোষ!

--এই কথা বলবার জন্যেই বুঝি জরুরী তলব! চন্তুম আমি !

পথ রোধ ক'রে সৌমেন বললে,__আহা-হা, চটো কেন? খাওয়ার পর একটু গল্প-গুজব করা ভালো নাও বসো! তুমি দেখছি সেই সেকেলে পাঁড়া-গেঁয়ে মেয়ের যত ক্রমশঃ লাজনম। হ'য়ে উঠছো !

আসন গ্রহণ করতে করতে অগ্রলী বললে, হঠাৎ আজ দুপুরে আপনি এমন দার্শনিক হ'য়ে উঠলেন কেন

_কি বলছে! তুমি! দার্শনিক আবার কোথায় হলাম? তার চেয়ে বরং আমার তুলন। করতে পারতে ফ্রয়েড বা হ্াভলোকেলিসের সঙ্গে। লজ্জায় বাঁধলে--আমাদেব স্বদেশী শাস্ত্রবিদ ঝষি বাৎসায়নের নাম করতে পারতে ! বটে, মুখ টিপে টিপে হাসা হচ্ছে। তবেষে বলতে-_-আদ্দিরন সংক্রান্ত বা সেক্সফেক্স তুমি পড়া পছন্দ করনা?

- আজ কি আমি বলছি যে ওসব বই পড়া আমি পছন্দ করি?

সিগারেট ধরাতে ধরাতে সৌমেন চাপা হাঁসি হাসে, বলে--সাপের হাঁসি বেদেয় চেনে !

-কেন-আপনি কি বেদে?

--কারণ তুমি সাপ কি, রাগ করলে ?

অগ্তলী মুখ ফিরিয়ে বসে রইলো সৌমেনের কোন কথার জবাব দিলে না। বসে বসে কথা বলার কোন ফল হলোনা দেখে সৌমেন ওর সামনে উঠে এলো! এক লহমা ওর মুখের দিকে চেয়ে ঈীড়িয়ে থেকে অগ্জলীর কাধে দুমু বাঁকানি দিয়ে বললে সৌমেন,_বাঃরে মেয়ে,

৮" জীবন-সৈকত

উনি আমায় বেদে বললেন আর আমি গুঁকে সাপ বলাতেই যত মহাভারত অশুদ্ধ হ'য়ে গেল।

_যান, আপনার সঙ্গে আমি কথা বলতে চাইনা! ঝঙ্কার দিয়ে উঠলো অঞ্জলী |]

হোঃ হোঃ করে হেসে উঠলো! সৌমেন বললে, বাঙালীর মেয়েরা যে ভয়ানক সেন্টিমেশ্টাল-_তার প্রমাণ তুমি! আচ্ছা তুমিই বল, সত্যি সত্যি রাগ করবার মত আমি কি কিছু বলেছি?

অঞ্জলী নীরব

_-কি, উত্তর দিচ্ছ না যে? বলতে বলতে সৌমেন অর্গলীর পাশে বসলো।

-আমার আজ একটুও ভাল লাগছে না, আপনি আজ আমায় ভয়ানক অপমান করেছেন।

-_ অপমান !

_ হ্যা, যে বললেন, বোন গোপনে-_

কথা শেষ ন। করেই অঞ্জলী মুখে আচলের খু'ট চাপা দিয়ে চাপা হাসি হাসে।

--365 ৮00] 08100 1 ওটা গোপন প্রেম না বশ্লে--প্রকাশ্ঠ প্রেম বলাই আমার উচিত ছিল।

নীচ থেকে দিদিমণির উদ্দেশে ঝিয়ের ডাক শোনা গেল। অল্প ছু'চাঁর কথার পর অগ্রলী নীচে নেমে গেল। সৌমেন সেই সোফার ওপরেই দেহরক্ষ। ক'রে হলো তন্্াচ্ছন্ন।

রা শী শীত শী নং

ওদিকে তখন আর এক দৃশ্য |

ডাঘ়মণ্ড হারবার। প্রায় নদীর কিনারায় ঝাউগাছের তলায় একখানি আধুনিক ফ্যাসানের মোৌটার এসে থামলো। প্টিম্ারিও

জীবন-সৈকত

ছেড়ে নেমে এলে! বিপুল, নামলো গীতা গীতা নৃত্যছন্দে ছুটে গেল জলের ধারে, খুসীতে সে ষেন উপচে পড়ছে।

--ধারে যেয়োন1, পড়ে যাবে ! বলতে বলতে বিপুল এগিয়ে এলো

-_কি যে বলেন তার ঠিক নাই ! £১/ ] 022) !

গীতার কাধে মৃছু ঝাঁকানি দিনে বিপুল বললে, টব ০৮ 0910 1৮৫ 2. 11116 105210/ !

রঙ্গ করে গীতা বললে,--1ব5551)00 190 !

_-৬$17! বলেই বিপুল গীতার পথ আটকে দীড়াল সামনে এসে।

গীতা চকিতে পিছিয়ে এসে ছুটে গিয়ে লুকোলো৷ একটা ঝাউ গাছের পিছনে | বিপুল হাসতে হাসতে ছুটে এলো ওকে ধরবার জন্য | এক গাছ থেকে আর এক গাছ, সে গাছ থেকে অন্য গাছ-_আরম্ত হ'লো লুকোচুরি খেলা। খেলার আনন্দ উপভোগ করার জন্যই বিপুল ওকে ইচ্ছা ক'রে ধরে না। হুহু ক'রে বাতাস দিচ্ছে, অতি সন্তর্পণে বিপুল সিগারেটে অগ্নি সংযোগ করে একটু থেমে যে গাছের পিছনে গীতাকে লুকোতে দেখেছিল সেখানে গীতা নেই। পা টিপে টিপে বিপুল একটার পর একট] গাছের অন্সন্ধীন করে ওকে আচম্কা ধ'রে তাক্‌ লাগিয়ে দেবার জন্য মিনিট পোনের কাটে খুঁজতে খুঁজতে-_জিদও বাড়ে উত্তরোত্তর_-গাছের সংখ্যাও আসে কমে

গীতাকে খুঁজতে খুঁজতে জলের ধারে নেমে এলো বিপুল। কৈ কোথাও তে। নেই ! বিপুলের উৎসাহ ক্রমশঃ উৎকণ্ঠায় পরিণত হয় সব চেয়ে উচু একটা জায়গায় উঠে দেখলে সে, কিন্তু গীতা ছাড়া আর সব কিছুই চোখে পড়লো। চিস্তিত হ'য়ে পড়ে বিপুল। তবে কি _তবে কি গীতা জলে পড়ে গেল নাকি! সহুরে মেয়ে_ নিশ্চয়ই সাতার জানে না। আর জানলেই বা কি-_ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ কর] কি তার সাধ্য! ভয়ানক ভয় হ'লো বিপুলের ইচ্ছা হলো-_-নাম ধ'রে

১০ জীবন-সৈকত

তাকে চীৎকার করে ডাকে, কিন্ত কেমন একটা লজ্জা! যেন তার কঃ

রোধ ক'রে বসলো, মুস্ষিলে পড়লো বিপুল

দড়ির দৌলাটা ছুটে! গাছের ডালে খাটিয়ে একট! ছোকরা বললে, আর উচু করবো বাবু-_না এই রকমই থাকবে?

বিপুল সে কথায় কানূদিলে না।

--ও বাবু! দেখুন না একবার চেয়ে? বিপুলের উদ্দেশে বেশ জোরে জৌরেই ছোকরাটি বললে

ফিরে দীডিয়ে বেশ ঝীঝালো স্থুরেই বিপুল বললে, _আমি কি তোকে দোলা খাটাতে বলেছি?

_দ্রিদিমণি যে *:আপনাকে জ্িগ্ুস্তে বললে? ছোকরাটি ধমক খেয়ে অপ্রতিভ হ'য়ে বললে

দিদিমণি! আশ্চর্য%৫হয় বিপুল। ছোকরাটি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে বিপুলের মুখের দিকে

-_কে দিদিমণি-_ কোথা দিদিমণি ?

অদ্বরে গীতাকে দেখিয়ে ছোকরাটি হাসিমুখে বললে যে খেতে খেতে আসতেছেন।

_বাঁঃ বেশ তো! তোমার একটুও

বড্ড পরিশ্রান্ত হ'য়েছেন, শারীরিক এবং মানসিক ! নিন্বলেবু খান্‌, মেজাজটা-ঠাণ্ডা করুন! বলতে বলতে গীতা ছুটো। বড় বড় কমলা লেবু বিপুলের দিকে এগিয়ে ধরে

_আমি লেবু খাইনা।

- আহা, তা তো আমি লানি। তবে কিনা আজ না হয় আমার অন্থরোপে একটা খেলেন ?.-নিন-_ধরুন !

লেবু ছুটো হাতে নিতে" নিতে বিপুল বললে, নীঁ-না,ঃএসব আমার ভাল লাগছে না।

জীবন-সৈকত ১১

__মাটিতে দাড়িয়ে না খান, দোলায় চড়ে খেতেতো আর+ কোন আপত্তি নেই! গন্ভতীরভাবে বিপুল বললে, তুমি জিনিষটাঁকে বড্ড হালক! ক'রে ফেলছো1, গীত। !

দোলার কাছে এগিয়ে যেতে যেতে গীতা বললে, মোটেই না! আহ্ন__?

- এই অবেল।য় দৌলায় চড়ে কি হাত পা ভাঙবে ? বলতে বলতে বিপুল দোলার পারে এগিয়ে এলো

গীতা সোল্লাসে বললে, তাতে কি! আপনি রয়েছেন পাশে, মোটার আছে সচল অবস্থার সঙ্গে যফ্ধি তেমন কিছু অঘটন ঘটে-_ভয় কি?

_-সব জিনিষই তুমি কেমন 115005 নাও!

ত০৮০ হবো ক'লকাতাম্বাফরে। আপাততঃ আমায় দৌলাম় তুলে দেবেন__না! ঈ্াড়িয়ে দাড়িয়ে তত্বকখ। শোনাবেন?

বিপুল গীতাকে দোলায় তুলে দিলে

গীতা বললে, এইবার আপনি উঠুন !

_ধ্যে্, ছি'ডে যাবে।

ছোঁকরাটি অদৃরে দীড়িয়েছিল। একগাল হেসে বললে, এক সাথে এক গণ্ডা লোক উঠলেও ছি'ড়বেনি বাবু, পাকা শোনের দড়ি দিয়ে তৈরী।

--তার চেয়ে তুমি চড়ে থাকো, আমি দোল! দিই? ব'লেই বিপুল অনভ্যন্ত হাতে সজোরে দোলাট! ছুলিয়ে দেয়

ভীত কণ্ঠে গীত বলে, ওমা-_আ-আ গেলুম !

আতঙ্ক কম্পিত গতাকে গিয়ে দোলাশুদ্ধো জড়িয়ে ধরে বিপুল, দোছুল্যমান দোল। মাঝপথে থেমে যায়

_আপনার প্রাণে কি একটুও মায়া-দয়া নেই। যদ্দি পড়ে যেতুম-?

হাতটা কেমন ফসকে গেল, গীতা ! 7 800 50117 !

১২ | জীবন-সৈকত

অদূরে ছোকরাটি দীড়িয়ে ঈাড়িয়ে আড়চোখে চেয়ে হাসছে

সেদিকে চোখ পড়তেই গীতা ত্রস্তে গায়ের কাপড় ঠিক করে নিতে নিতে বললে, ছিঃ ছিঃ ছিঃ আপনাব একটুও-- !

বিপুল শ্মিতহান্তে বললে, একটা 1010! ওকি, নামছো কেন? চল- আমিও তোমার সঙ্গে উঠছি

-আর উঠে কাজ নেই। দেখছেন-__ওপাশে কত লোক ্লাড়িয়েছে?

হাসতে হাসতে চাপা গলায় বিপুল বললে, _-সবদিক দিয়ে আমাদের দেশটা একবারে কালীঘাটের কাঙালীর দেশ বেচারীদের না মেটে পেটের ক্ষুধা আর না মেটে বুকের! সত্যি গীতা, হ'য়তো ওদের দেখে তোমার হ'চ্ছে লঙ্জা1; আর আমার কি হচ্ছে জানো ?- দুঃখ ! “এই সব মূঢ ম্লান মৃক মুখে দিতে হবে--”।

--আ: কবিত্ব রাখুন আপনার ! দেখছেন মেঘ করে আসছে, চলুন তাড়াতাড়ি ফের! যাঁকৃ।

_অদিনের জল আর অমানষের কথা আমি কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারিনা, গীতা !

- আপনার কোন কিছু বরদাস্ত করা ব! না-করায় প্রকৃতি বিন্দুমাত্র চঞ্চল হ'য়ে উঠবে না বিপুলবাবু !

বিপুল বললে, ৬৬6 1005 00170010106 1026016,

৮1058 00050 0012001 001561569 ! বলতে বলতে বিপুলের হাত ধ'রে হাস্তময়ী গীতা মোটরে উঠে

গাড়ীতে স্টার্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোকরাটি গীতার পাশে দাড়িয়ে সশ্রদ্ধ মেলাম করে।

--ওঃ! ব'লে গীতা তার ভ্যানিটি ব্যাগ খুলতে যায়। গীতার হাত চেপে ধ'রে বিপুল বললে, কি-- !

জীবন-দৈকত ১৩,

-ধার দিচ্ছি, পরে দিবেন দোলার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে ফুল-্পীডে ফিরলো ওর ক'লকাতাভিমুখে।

আক্তকাল প্রায়ই দুপুরে বিপুল বাড়ী থাকে না, বেরিয়ে যায় কাজের অছিলায়। লৌমেন ঠাট্র/া করে কোন কিছু বললে বিপুল সে কথা হেসেই উড়িয়ে দেয়।

সেদিন দুপুরে নাছোড়বান্দা হ'য়ে দৌমেন ওকে চেপে ধরে। বিপুলের গোপন কথা না জেনে সে কিছুতেই ছাড়বে না। ভারী মুস্িলে পড়ে বিপুল

মৌমেন বলে, এটা তোমার নিছক স্বার্থপরতা প্রেম কচ্ছো-_ প্রেম কর; খুলে বলতে দৌষট| কি? আমি তো আর ভাগ বসাতে যাচ্ছিনা, আর বন্ধু যি বন্ধুর কাছে পেটের কথ! খুলে না বলে তো কার কাছে বলবে?

নিরুপায় হ'য়ে বিপুল বললে, না শুনে কিছুতেই ছাড়বি না?

»্"আদম্য উৎসাহে সৌমেন টেঁচিয়ে উঠলো, [০---২০৬০:।

_স্থ্যা, তুই যা ভেবেছিস তাই সত্যি !

-_-0165: 909 ! চল্‌- দেখাবি চল্।

- আজ নয় ভাই, আগে 0586007% ক'রে আসি।

--এঃ আবার 67582৩77161)! না আজই যাবো।

বিপুল জোরের সঙ্গে বললে, নাঁ_-তা৷ কিছুতেই সম্ভব নয়। 130 [7151)7655 তাতে চটে যেতে পারেন। সাবধান, লৌভটোভ দিওনা কিন্তু ?

১৪ জীবন-সৈকত

-কি নাম?

»-গীতা।

_বটে। হিন্দুর সত্য-সনাতন আদি-অকৃত্রিম শান্ত্র। 4১11-721)0,

দেখতে শ্বনতে কেমন? গান গাইতে পারে? বেশ ২0-০0-৫205 তো ?

- তোর চক্ষুকর্ণের বিবাদ শীগগির ভগ্ন করার চেষ্টা করবো।

আগ্রহ সহকারে সৌমেন জিজ্ঞাসা করে, গান শোনাবে তে।?

__শুধু গান কি বলছিস, মেজাজ যদি ভাল থাকে তবে তোকে নাচ পয্যন্ত দেখিয়ে দিতে পারে

স্নাচতেও পারে নাকি?

-নিখিল-ভারত-নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে

রহস্ত করে সৌমেন বলে, বটে! না দেখেই তো তার সঙ্গে আমার প্রেম করতে ইচ্ছে যাচ্ছে।

খবরদার, খুন করেঙ্গ। ?

চুপ, চুপ আসন্তে। তোমার বোন শুনতে পেলে এখুনি ছুটে আসবে

_ঠিক বলেছিস্‌, পালাই তবে। বলতে বলতে বিপুল ঘর থেকে

বেরিয়ে যায় হাসি মুখে গং রা সং পরের দিন।

অপরাহ্ছে ইজি চেয়ারে শুয়ে শুয়ে সৌমেন কি একখানা বিলাতি ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাচ্ছিল, চায়ের পিয়াল হাতে অঞ্জলী চুপি চুপি পিছনে এসে দীড়াল--মুখে তার ছুষ্টমির মৃদু হাঁসি। সেদিকে ন! চেয়ে সৌমেন গাষ,_“সামনে এসো-_সামনে

জীবন-সৈকত ১৫

টিপয়ের ওপর চায়ের পিয়ালা রাখতে রাখতে অঞ্চলী বললে, চুপ আস্তে !

চেয়ারের ওপর উঠে ব'সে সৌমেন বললে, কারণ ?

-আবার ! কৃত্রিম তিরস্কারের স্থরে ব'লে অগ্লী ওঠে £তজ্জনী স্পর্শ করে।

অঞ্জলী চলে যাবার উপক্রম করতেই সৌমেন তার :পথ আগলিয়ে গেয়ে ওঠে, “অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে--”

--আঃ কি করেন, দাদা এসে পড়বে যে!

-_-তা এলেই বা!

_-বাঃ রে--!

সৌমেন জোর ক'রে অঞ্জলীকে সামনের চেয়ারে বমিয়ে দেয়। বলে, আচ্ছা তুমি আজকাল আমাকে সৌমেনদ। ন! বলে মাঝে মাঝে সৌমেনবাবু বল কেন?

বেশ তো! দাদার সামনে লজ্জা করেন! বুঝি ?

- কিসের লজ্জা ?

জানি না! চা যেঠাণ্ড হয়ে গেল?

»-তোমার চ।?

--আমি পরে খাবে!

সৌমেন ওর হাতথান! নেড়ে দিয়ে বললে, লক্ষ্টি! এঘরে নিয়ে এসো, এক সঙ্গে খাবো

নিগ্ধ হাস্তে অঞ্চলী ঈষৎ ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দরজার কাছে গিয়ে বললে, আনলে তো !

-না আনে।তোমার পিয়ালার চা পিয়ালাতেই ঠাণ্ড হবে।

১৬ জীবন-সৈকত

-_ ওঃ কাল হেরে গিয়েছে! বলে তাই এত উৎসাহ! বেশ-- আমি রাজি, কিন্ত-_ !

বিপুল উদ্যমে অঞ্জলী বললে, কিন্তু কি-_আজ জিতবো নিশ্চয়ই !

হাঃ হাঃ হাঃ হেসে উঠলো সৌমেন

সামনের মাঠে সৌমেন আর অঞ্জলী ব্যাডমিন্টন খেলায় মত্ত। বিপুল বারাণ্ডা থেকে কি যেন বললে সৌমেনের উদ্দেশে ওদের ঘিলিত হাসি-কথার উত্তাল তরঙ্গে ডুবে গেল বিপুলের কণঠস্বর |

আর এক পর্দা চড়িয়ে জোর গলায় বিপুল ওপর থেকে গলা বাড়িয়ে বললে, ওহে মৌমেন, আজকের 272981776এর কথা ভুলে গেলে? --19 0০0! এক্ষুনি যাচ্ছি ভাই! অগ্রু, আজ আর থাক? আমাদের বেরুতে হনে জরুরী 10080610001.

_ কোথা যাবেন, বেড়াতে-_না বায়স্কোপে ?

সৌমেন যেতে যেতে ফিরে ঈাডিয়ে সভান্তে বললে, যাবো-যাবো তোমার ভাকী বৌদির সঙ্গে আলাপ করতে

আদর মাখা স্থরে অগ্জলী বললে, আমিও যাবো !

_ তুমিও যাবে! £11-75000906 21075!

নং সং বং নং

গীতার বাড়ী।

মোটারের হর্ণ শুনেই গীতা ওপর থেকে মুখ বাঁড়িয়ে দেখলে, বিপুলের সঙ্গে হলে তার দৃষ্টি 'বিনিময় ওরা গাড়ী থেকে নামবার আগেই গীতা ওপর থেকে নেমে এসে হাত তুলে নমস্কার করতে করতে বললে, স্বাগতম্‌ !

গাড়ী থেকে নেমে বিপুল, বন্ধু আর ভগ্মীর সঙ্গে গীতার পরিচয় করিয়ে দেয়। নমস্কার বিনিময় করতে করতে গীতা নিজেই নিজের পরিচয় দেয়-_-বিপুলকে কোনকিছু বলবার অবসর না দিয়ে।

জীবন-সৈকত ১৭

- আর আমি- গীতা !

গীতার সারল্যে সবার মুখেই হাসি ফুটে ওঠে

--আম্ন ! ব'লে গীতা অঞ্জলীর হাত ধ'রে ওপরে নিয়ে যায়।

চায়ের টেবিল আগে থাকতেই সজ্জিত ছিল।

আগন্তকদের চায়ের টেবিলে বসিয়ে গীত। পিসীমাকে ডেকে নিয়ে এলো ওদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য। দু'পক্ষের পরিচয় বিনিময়ের পর প্রথম পক্ষীরু সকলে উঠে পিসীমাকে প্রণাম করে।

পিসীম। বললেন আন্ত-ব্যন্ত হ'য়ে, থাক্‌-থাক্‌, তোমরা! সব আমার ঘরের ছেলেমেয়ে ; প্রণাম করতে নেই !

খিলখিল করে হেসে উঠলে! গীতা, বললে, প্রণামটা কি পরের ছেলেমেয়েদের একচেটে, পিসীম। ?

ন্িপ্ধ হাসি হেসে পিসীমা বললেন, দূর পাগলি ! হ্যা ভালো কথা, তোমাদের আজ শুধু চা! খেয়ে গেলে ছাড়ছি না_রাত্রে সকলকে এখানে খেরে যেতে হবে; বুঝেছে বিপুল ? নম্রকণ্ে মৃদুহাস্তে বৈপুল বললে, তাই হবে পিসীমা ! ওমা, বেম়ারাটা তোমাদের এখনো চা দিতে দেরি ক'চ্ছে কেন!

গীত। পিসীমার কাছে এগিয়ে এসে বললে, পাছে মুরগীর ডিম নিয়ে তোমায় ছুঁয়ে ফেলে সেই ভয়ে আসছে না।

-তাতে কি হ'য়েছে, আমি তে! এখনও স্নান করিনি !

অঞ্জলী বললে, পিসীম! এই অবেলায় স্ান করবেন?

পিসীমার মুখে ফুটলো নিপ্ধ হাসির রেখা

গীতা বললে, বেলায় উনি তো। কোন দিনও ন্নান করেন ন|। ওদিকে সুধ্য ওঠার আগে--যাঁকে বলে ত্রাঙ্গমুহূর্তে আর এদিকে স্ষ্য অন্থে, কি শীত, কি গ্রীক্ম, কি বর্ষা

১৮ জীবন-সৈকত

--আর দ্রেরী করোনা মা, তোমাদের চা খাওয়ার সময় হলো_চা দিতে বল।

পিসীমা চলে গেলেন।

চা খেতে খেতে গীতা বললে, অঞ্জলী একটু লাজুক_ নয় বিপুলবাবু?

কোন উত্তর না দিয়ে সৌমেনের দিকে অপাঙ্গে চেয়ে বিপুল অর্থপূর্ণ হাসি হাঁসে। মুচকি হেসে গীতা বললে অঞ্জলীর দিকে চেয়ে, বুঝেছি!

সৌমেন বললে, কি বুঝলেন?

_ অঞ্জলীর লজ্জার কারণ বা উৎস।

স্বিপুল যেমন আপনার লজ্জার কারণ বা! উৎস?

হো! হে। করে হেসে উঠলে গীত নিব্বিকার অঞ্জলীর কিন্তু কোন দিকে লক্ষ্য নেই, চায়ের পিয়ালায় মে গভীর ভাবে মনোনিবেশ ক'রেছে।

গীতা বললে, কি ভাই অঞ্জলী__কথা বলছে না কেন?

অঞ্জলী বললে, খেতে খেতে কথ বল! ডাক্তারি শাস্ত্রে নিষিদ্ধ

গীতা বিপুলের দিকে চেয়ে বললে, বিপুলবাবুর উচিত--তোমাকে ভাই ডাক্তারি পড়ানো !

__তা বুঝি জানেন না,গুরা ভাই বোন দু'জনেই ডাক্তার__হোমিও- প্যাথি ডাক্তার? মনে করুন-কেউ এলো! পেটব্যথার ওষুধ নিতে, ভাই বললেন--এই ওষুধটাই খাটবে, বোন ব'ললেন, উ' ওটা নয়; আমি যেট। দিচ্ছি এটাই এক্ষেত্রে খাটবে। ব্যস্‌, ওদিকে রোগী রইলো বসে, এদিকে পর আরম্ভ ক'রলেন তুমুল তর্ক। শেষ পধ্যস্ত আমার মত হাতুড়ে গোবছ্িকে অযাচিতভাবে মধ্যস্থ হ'য়ে মীমাংসার ভার গ্রহণ ক'রতে বাধ্য হ'তে হয়| বললে না বিশ্বাস করবেন- রোগীর ততক্ষণে পেটব্যথ। সেরে মাথাব্যথা স্থরু হ+য়েছে।

সৌমেনের কথা স্তনে গীতা হেসে যেন লুটিয়ে পড়তে চায় অঞ্চলী আর বিপুলও ন! হেসে থাকতে পারে না।

জীবন-সৈকত ১৯

_"বাইরে যা তা ব'লে তুমি কি আমাদের পসার নষ্ট করতে চাও, সৌমেন ! গর কথা বিশ্বীস করো! না গীতা, বিনা পয়সায় উনি আমাদের ওষুধ-খান। যারা যত “ফি' না দেয় তারাই তত করে ডাক্তারের নিন্দা অগ্ু, বলতো! কত দিন তুই বিনা পয়সায় সৌমেনের মাথাধরা, পেটকামড়ানি__আরো! কত কি সারিয়েছিস?

অগ্রলী নিঃশবে মুচকে মুচকে হাসে।

সকলের চা খাওয়। ততক্ষণে শেষ হলো টাওয়েল দিয়ে মুখ হাত মুছতে মুছতে সৌমেন বললে, খাওয়ার পালা তো! শেষ হলো--এবার?

সকলের দৃষ্টি একসঙ্গে পড়লো গীতার ওপর

বিপুল বললে, এবার তোমাদের আনন্দবদ্ধনের জন্য গীতা দেবী একখানি নৃত্য করতে পারেন।

লজ্জামাখ! স্থরে গীতা বললে, ঠাষ্টা হচ্ছে বুঝি !

হঠাৎ সৌমেনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, অতিথি সংকারে কার্পণ্য করা শাস্বনিষিদ্ধ, গীত! দেবী !

_এ'রা ছুদ্ছনেই দেখি মহা শাস্তরভক্ত। আপনি (বিপুলের উদ্দেশে ) এমন দলছাঁড়৷ গোত্রছাড়৷ হ'তে গেলেন কেন?

সৌমেন বললে, কারণ উনি আপনার ভক্ত !

_ আঃ সৌমেন ! আসল কথ৷ চাঁপা গড়ে বাচ্ছে!

গীতা মুখর হ'য়ে উঠে বলে, বেশ--আমি নাচতে রাজি আছি কিন্ত অঞ্জলীকে গাইতে হবে।

লাজবিজড়িত কণ্ঠে অঞ্জলী বললে, আমি গানটান জানিন। ভাই |

সকলে পারে না,এক একটা লোকের এবিষয়ে অদ্ভুত ক্ষমত|-__অতি অল্প সময়ের মধ্যে নিবিড়ভাবে ভাব জমিয়ে মানুষকে আপনার ক'রে নেয়; সে ক্ষমতাটুকু গীতার মধ্যে আছে সে এমনিভাবে হুবহু অঞ্চলীর কঠম্বর অনুকরণ ক'রলে-যেন তার সঙ্গে গীতার কতদিনের ভাব।

৮৬ জীবন-লেকত

একথ। নিশ্চিত-__, সগ্ভ পরিচিতা অন্ত কেউ এভাবে তার কণ্ঠস্বর অন্- করণ ক'রে ঠাট্টা ক'রলে অঞ্জলী অসন্তষ্ট এবং নিজেকে অপমানিত বোধ ক'রতো। এক্ষেত্রে উলটে। ফল ফললো, সদ্য পরিচিতা৷ বান্ধবী এবং ভাবী ভ্রাতৃবধূর ওপর তাঁর শ্রদ্ধা এবং আকর্ষণ বেড়ে গেল। গীতার আতন্তরিকতায় সত্যই মুগ্ধ হয় অঞ্চলী, আর দ্বিরুক্তি না ক'রে সে স্বেচ্ছায় সানন্দে নিজেই অরগ্যানের সামনে গিয়ে বসে।

নৃত্য আরম্ভ করার পূর্ব মুহূর্তে সৌমেনের দিকে চেয়ে স্মিতহান্তে গীতা বললে, হাসবেন না কিন্তু!

সৌমেন বললে, চেষ্টা করবে!

বিপুলের দিকে অপাঙ্গে একবার চেয়ে গীতা! নৃত্য সুরু করে

তিন

আক ক'দিন হলে! মৌমেন ক্রমশঃই যেন একটি নৃতন মানুষে পর্যবসিত হ'য়ে উঠছে কিবে তার হ'য়েছে তা সে নিজেই জানে না! স্পষ্টভাবে একটা! মান্ষ এত শীগগীর বদলায় কেমন করে। যেন বিশ্বত্রহ্ধাণ্ডের ওপর জেগেছে তার বিতৃষ্ণা, বিরক্তি। সদাই চিস্তিত, অন্তমনস্ক। কেমন একট! দারুণ মানসিক অশান্তিতে সে দিবারাত্র, অস্থির হ'য়ে উঠছে। ধীর স্থির হাস্যময় সৌমেনের যেন মৃত্যু হ'য়েছে-_ তার আর এক অকল্পিত মৃত্তি। মস্থণ পথে চলতে চলতে হঠাৎ, হোঁচট লাগলে মানুষ যেমন ত্বাতকে উঠে আশপাশ চারিদিকে চেয়ে, দেখে_-সৌমেনের অবস্থাও ঠিক তাই। |

মৌমেনের এই আকম্মিক পরিবর্তন কারুর দৃষ্টিই এড়ায় না, কিন্ত কারণটা কেউ-ই আবিষ্কার করতে পারেনা সে নিজের মুখে কাকেও কিছু বলেনা, কেউ কিছু ভিজ্ঞাস1 করলে সে মনে মনে অসন্তুষ্ট হয়। এতটা!

জীবন-সৈকত ২১

নির্বিকার, এতটা উদাসীন-_এ যেন সঙ্াসধশ্বশ অবলম্বনের পুর্ব অবস্থা বাড়ীর কারুর সঙ্গে কথা বলা সে এক রকম ছেড়েই দিয়েছে

সেদিন সকালে গীতার ওখানে ওদের চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল।

সৌমেন তখনও বিছানা ছেড়ে ওঠেনি, খাটের ওপর শুয়ে শুয়ে অর্দশায়িত অবস্থায় চিন্তাম্ন। সুসজ্জিত বিপুল ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললে, তুইকি একা ্বই যাবি না, মৌমেন ?

মুখ না ফিরিয়েই সৌমেন বললে, বললুম ভোঁ_-শরীরটা আজ 'আমার ভাল নেই।

__গীত কিন্ত রাগ ক'রতে পারে?

নিতান্ত উদ্দাসীনের মত সৌমেন নিরস কঠে বললে, করে--কম্রবে।

_তবে আমি একাই যাই, তোর শরীর খারাপ-*অঞ্জুর গিয়ে কাজ নেই

_ নানান! সেটা ভালে দেখায় না, ওকে সঙ্গে নাও !

মনমর! হ'য়ে বিপুল ঘর থেকে বেরিয়ে গেল

সৌমেন যেমন শুয়ে ছিল তেমনি শুয়েই রইলো ক্জ্াচ্ছয় সৌমেনের চোখের সামনে ভেসে এলে! নৃত্যপরায়ণ। গীতা, বায়স্কোপের পর্দায় প্রতিফলিত চঞ্চল গতিশীল ছবির মত আধো-জাগ্রত আধো- নিন্দিত সৌমেনের মানস চক্ষুর সামনে দিয়ে ভেসে যায় অবলীলাক্রমে ৪875 তারাভর! কালে! আকাশ-.....প্রতিটি তারায় ফুটে ওঠে গীতার মুখচ্ছবি। আকাশের বুকে জাগে পুর্ণচন্্র--*.".পুরস্ত টাদের বুকে জাগে সে-ই মুখখানি

ঘড়িতে ঢ$. ঢঙ. করে আটটা! বাজলো! |

ধড়মড় করে বিহানার ওপর উঠে বসলো সে। দৃষ্টি ।তার উদাস, বিহ্বল, উদভ্রাস্ত। চোঁখ বুজিয়ে বসে রইলো কিছুক্ষণ, মনে মনে সে চাইলে নিজের সঙ্গে নিজের মানসিক অবস্থার একট! বোঝাপড়া

২২ জীবন-সৈকত

করতে গীতা! গীতা !! গীতা!!! শয়নে স্বপনে জাগরণে গীতা ! গীতা কি তাকে পাগল ক'রে দেবে? দুর্বোধ্য মন কিছুতেই বোধ মানতে চায় না যে, গীতা তারই আবাল্য বন্ধুর বাকদত্তা পত্বী। ক'দিন ধ'রে সে মনের সঙ্গে অহরহ যুদ্ধ ক'রেছে কিন্তু পারেনি__কিছুতেই জয়লাভ ক'রতে পারেনি

চায়ের পেয়ালা হাতে অঞ্জলী এসে মৃদুস্বরে ডাকলে, মৌমেনদা ! সৌমেনদা !!

অঞ্লীকে দেখে সৌমেনের অহেতুক ক্রোধবন্ছি প্রদীপ্ত হ'য়ে উঠলো ঘ্বণায় যেন তার সারা গা রী রী করে উঠলো; সে পারলেন! নিজেকে সামলাতে, বিকৃত কঠে সৌমেন বললে, সময় নেই--অসময় নেই যখন তখন বিরক্ত ক'রতে এসে কেন?

সৌমেনের অস্তরাত্মা ধীক্কার দিয়ে ব'লে উঠলো, গীতা আর অঞ্জলী-ন্বর্গ আর নরক !

_-কি চুপ ক'রে আছো!যে? তুমি তোমার দাদার সঙ্গে গেলে নাকেন?

নভ্রকঠে অঞ্জলী বললে, আপনার অস্থ্খ, তাই

_-ওঃ খুব যে দরদ দেখছি ! যাও এখন এখান থেকে !

-আপনার চা যে জুড়িয়ে যাবে?

__[ব0055050 ! ব'লে দিলে অঞ্জলীর হাত থেকে চায়ের পিয়াল হাত ঝটকানি দিয়ে ফেলে তারপর কোন দিকে না| চেয়ে মাতালের মত টলতে টলতে নীচে নেমে গেল

মহা! অপরাধীর মত সজল চোখে দ্রীড়িয়ে রইলে| অঞ্জলী

গত ক'দিনের আবছা অবহেলা আজকের তুলনায় কিছুই নয়। কঠোর উপেক্ষার তীব্র দহন__বিন! দোষে অর্থহীন স্থকঠিন তিরস্কার-- চতোকে নিদারুণভাবে মুষড়ে দিল।

জবন-সেকত ২৩

অতি বড় মূল্যবান বা আদরের হারানো জিনিষ খুঁজে পাবার প্রলোভনে মানুষ যেমন আকুল অন্তরে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, সৌমেনও তেমনি আকুল অন্তরে উন্মাদের মত সারাটা দিন সহরময় ঘুরে বেড়ালো।

মূনে পড়ে অথচ পড়ে না। প্রাণশক্তি কেন্দ্রীভূত হ'য়ে বিস্বতির অতল তলে তলিয়ে যাঁওয়] ক্ষীণাদপি ক্ষীণ স্মৃতির উদ্ধার সাধনে একাস্ত তৎপর।

অস্পষ্ট অন্ধক।রে গীতার সঙ্গে হ'য়েছিল তার দৃষ্টি বিনিময়-_সে এক কাল বৈশাখীর ঝঞ্ধাক্ষৃৰ গোধূলির বিদায় বেলায়। সেকি আজকের কথা! পাঁচ-সাত বছর তো! নিশ্মই কেটে গেছে। আর কতক্ষণেরই বা পরিচয়, বড় জোর ঘণ্টাখানেক্‌।

সেদিন অপরাহ্নের কিছু আগে সৌমেন এক গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে- ছিল সোজা! গ্র্যাগুট্রাঙ্ক রোড ধ'রে সৌমেনের মনে পড়ে,_সেদিনট' ছিল আজকেরই মত মেঘলা খেয়ালের বশে কতদূর গিয়ে পড়ে- ছিল--আছ আর তা সঠিক মনে নেই, তবে অনেক দূর- একবারে ফুল-স্পীডে। সন্ধ্যার কিছু আগে জল এলো-_প্রবল জল, জলের সঙ্গে স্বরু হলো ঝড়ের দাপাদাপি। উতৎকট উল্লাসে প্রীণটা! নেচে উঠলো! সৌমেনের গাড়ীর স্পীড মে কমাঁলে না মোটেই, হেড লাইট জেলে দিয়ে ষ্টেয়ারীঙ ধ'রে উদ্দাম ঝড়ের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চল্সলো*মৌমেন।

বীকের মুখে কোলকাতাভিমুখে আর একখানি চলম্ত মোটার। নিমেষের মধ্যে সৌমেন গাড়ীর গতি সংযত ক'রে প্রবল সংঘর্ষের হাত থেকে দৃ'খাঁনি গাঁড়ীকেই বাঁচিয়ে দিলে। স্থুদক্ষ ড্রাইভার হিসাবে বন্ধু-বান্ধব মহলে সৌমেনের নাম ছিল। অপর মোটারটি কিন্তু পাশ কাটাতে গিয়ে ঠিক সামলাতে ন! পেরে উল্টে পড়তে পড়তে রয়ে গেল পথ পার্স্থিত একটা গাছে সশবে ধাক্কা লেগে ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেল একটা করুণ অন্ফুট আর্তনাদ

২৪ জীবন-সৈকত

কাছে গিয়ে সৌমেন য। দেখলে তাতে নাটকীয় বিষয় বস্থর উপাদান এতই অল্প যে, তা দিয়ে আধুনিক নাটকের মাত্র একটি দৃশ্যেরও খোরাক নেই। অক্ষত শরীরে একটি আধুনিক1 স্টেয়াবিঙের ওপর ঝুঁকে পড়ে থর থর ক'রে কাপছে, গাড়ীতে আর কেউ নেই --তরুণীটি এক|। এরকম ভয়াবহ অবস্থায় তরুণীটির মূচ্ছা বাওয়! বা এরকমের একট। কিছু হওয়াই হয়তো! স্বাভাবিক, কিন্তু সে রকমের কিছুই হয়নি

সৌমেনের আশ্বাস বাণীই বিশল্যকরণীর কাজ করে, তার শারীরিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় না) তরুণী নিজেই গাড়ী থেকে নেমে আসে

সামান্য দু'একটা! কথার পর তরুণী নিজেই গাড়ীর ইন্দ্িন পরীক্ষা ক'রে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন নাঁঃ গাড়ীট1! নিজের সামর্থো বর্তমানে চলতে একেবারে অক্ষম বিরাট ধাক্কার ধাক্ষীয় তাব চলচ্ছক্তি লুপ্ণ হয়েছে আঁধুনিক। শুধু মোটার চালিয়েই হাওর খেয়ে বেড়ান না, মোটারের প্র।ণশক্তি অথাৎ কলকজার সম্ন্ষেও অক্পবিস্তর জ্ঞানের অরধিকাঁবিণী।

এখন উপায়?

সৌমেনের গাড়ীর পিছনে গর গাড়ীখানাকে বেঁধে নেওয়া ছাড়া আর দ্বিতীয় যুক্তিসংঙ্গত উপায় খুঁছ্ধে পাওয়া যায় না, তরুণীকে সসম্মানে গুর বাড়ীতে পৌছে দ্রেবার মত সংসাহস মৌমেনের আছে কিন্ত গাড়ীটার অবস্থা? ওটাকে তে। আর নির্বান্ধব তেপাস্তরের ধারে রক্ষকীন অবস্থায় ফেলে আস! যায় না, আর উনিই বা এমন যুক্তিহীন কথা মনে প্রাণে সমর্থন করেন কেন? কিন্তু মুস্কিল বাধলো বাধার উপকরণ নিয়ে দড়ি বা জাতীয় একট! কিছু তো! চাই? সৌমেনের পরণে পাজামা, তরুণীর পরণে দামী মিহি শাড়ী? উত্তরীয় থাকলেও নয় সঙ্কটকালে দড়ির পরিবর্তে কাজে লাগান যেতো

দড়ির অভাব মিটতে খুব বেশী দেরী হলে না। খান কয়েক মাল-

জীবন-সৈকত ২৫ বোঝাই মোষের গাড়ীর নর্ধে নাটকীরভাবে হঠাৎ সাক্ষাত, তারাই ক'রলে মুস্বিল আসান

তরুণীর গাঁড়ীথানা নিজের গাড়ীর পিছনে বাধলে! সৌমেন। তরুণী তার নিজের গাড়ীতেই র'ইলেন স্টেয়ারিউ, ধরে সঠিক ঠিকানায় পৌছে দেবার জন্য সৌমেন সামান্য দু'একটা কথাবার্তার পর গাড়ীতে স্টাট দিংল।

বল। বাহুল্য--এই সামান্য কাজটুকু সাবতে তাঁদের উভয়ের বস্বই বৃষ্টির প্রকোপে অত্যন্ত সিক্ত হারে উঠলো কিন্তু নিরুপায় তেপান্তরের মাঠের ধারে কোথায় মিলবে শুদ্ধ বন্ধ!

বাড়ী পৌছাতে একটু রাতই হয

তরুণীর একান্ত অন্গরোধেও মৌমেন সেদিন তার বাড়ীতে নেমে চা পানের নিমন্বণ রাখতে স্বীকৃত ভলে। ন।। অন্যদিন আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিক্ত বস্থেই সে মোটারে সটার্ট দিলে একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও তরুণী তাকে বিদায় দ্রিলে, বোধ হয় একটু ক্ষপ্রই হলে! ; তথাপি আন্তরিক অত্র ধন্যবাদ দিতে ধনীর ছুলালি কার্পণ্য ক'রলেন না।

আকন্মিক পরোপকারে স্ফীত সৌমেন পুলকিত অন্তরে বাড়ী ফিরে গেল।

_ সেই ঝড়ের রাতের সিক্তবসন! ভরুণীই--গীতা।

হঠাৎ কাজ্জন পার্কের আবহাওয়। ভার কাছে তিক্ত হ'য়ে উঠলো গত দিনের কথ। ভাবতে ভাবতে সৌমেনের মনটা গেল বিষিয়ে কি অকৃতজ্ঞ এই আধুনিকার দল ! না হর দীর্ঘ পাচ বছরের মধো কেউ কাকেও দেখেনি, তাব*লে কি এমনি নিদারুণ ভাবেই ভুলে যেতে হয় ! তার অপরাধ ব্-সে তো দিন কয়েক পরে গিয়েছিল দেখা করতে? হঠাৎ তাদের বায়, পরিবর্তনের আবশ্তক হবে জানা থাকলে সৌমেন 'নিশ্চয়ই যেতে! দুর্ঘটনার পরের দ্রিন। ভদ্রতার খাতিরে যাবার আগে

২৬ জীবন-সৈকত

গীতা নিজেই তো আসতে পারতো! সৌমেনের সঙ্গে দেখা করতে ! তা যদ্দি আসতো _তাহ'লে- তাহ'লে কেমন একটা পরিচিত কণ্ম্বর পিছন থেকে যেন কানে এলো ' " সৌমেন ঘাঁড় ফিরিয়ে দেখলে-__অদূরে ঘাসের বিছানা ওপর মুখো- মুখি বসে গীতা আর নিপুল। গ্াসের এক ফালি আলো! এসে ' পড়েছে গীতার এক পাশের গালে, বিপুলের মুখখানি গাসালোকে ঠিক স্পষ্ট করে দেখ! না গেলেও কম্বরে মৌমেন তাকে আগেই চিনেছিল। তাঁকে ওর! চিনতে না পারে এমনি সন্থর্পণে সাবধানে সৌমেন পার্ক থেকে বেরিয়ে এসে পথের ধারে দাড়িয়ে আকাশের দিকে একবার চোখ তুলে চাইলে অজান্তে বেরিয়ে এলো! তার বুকখান। কীপিয়ে একটা তথ দীর্ঘশ্বাস

চার

ঘূর্ণায়মান গোধূলির কালে! ছায়া ছড়িয়ে প'ড়েছে লেকের কালো! জলে ছেলে মেয়ে অনেকেই বিপুল উল্লাসে নৌ-বিহারে পাঁডি জমিয়ে পাল্লা! দিয়ে উদ্দীম গতিতে লেকের কালো জল তোলপাড় ক'রে দিকৃ- বিদিক্‌ জ্ঞানশূন্য হ'য়ে ছুটে চলেছে এদের মাঝে একখানি নৌকাঁয় গীতা আর বিপুলকেও সেদিন দেখা গেল। অন্ত দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিছুক্ষণ বাচ. খেলার পর ইচ্ছা ক'রেই এরা অন্য দলকে এড়িয়ে গেল। টিমে তালে ঈ্ীড় ফেলে বিপুল নিজ্জনতার খেজে এগিয়ে ওদের দৃষ্টির না হ'লেও নাগালের বাইরে চলে গেল

হাস্তমুখরা! কৌতুকপ্রিয়! গীতা দাড় টানতে টানতে সতাই এবার পরিশ্রান্ত হ'য়ে পড়ে। : তার এলো খোঁপা খুলে চুলের রাশ ছড়িয়ে পড়ে সার! পিঠে, সামনের কুঞ্চিত ক্ষুত্ ক্ষু্র কেশদাম উড়ে পড়ে চোখে

জীবন-সৈকত ২৭

মুখে মুক্তাবিন্দুর মত স্বেতবিন্দু কপাল দিয়ে নেমে আসে গণ্ডের ওপর একটির পর একটি ক্লাস্ত চঞ্চল। তরুণীকে দেখতে ভারী সুন্দর লাগে বিপুলের প্রতিটি নিংশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে সমানভাবে তাল রেখে সুন্দরী তন্বীর নিটোল উন্নত বক্ষ ক্ষণে ক্ষণে স্ফীত হ'য়ে তাকে ক'রে তোলে মুনিজন-মনোহারিণী।

__তুমি একটু জিরিয়ে নাও, গীতা] !

গীতা সামনের দ্রিকে চেয়ে চোখের কস্রতে তাদের গন্তব্যস্থানের দূরত্ব নির্দেশে ক'রে বললে, ওখানে-_-সামনের ঝোপের ধারে?

__তুমি ঈাড় তুলে নাও, আমি একাই নিয়ে যেতে পাঁরবো। বললে বিপুল।

দাড় ফেলতে ফেলতেই গীত। বললে, ০7০০৫ !

-_তুমি হাপাচ্ছো! যে?

_-ওটা আমাদের স্বধর্্ম !

হো হো ক'রে হেসে উঠলো বিপুল।

- আর আপনাদের স্বধশ্মীকি জানেন তো?

বিপুল স্মিত হান্তে ভিজ্ঞান্থ দৃষ্টিতে নীরবে চেয়ে থাকে গীতার মুখের দিকে

_-আপনাদের স্বধর্ম হচ্ছে মেয়েদের সৎ স্বাধীন ইচ্ছার ওপর অর্থহীন কর্তৃত্ব ফলান ! বিটা রিনরানরতজ খোপা নিয়ে পড়লো

-আহা-হা নৌকার মুখ ঘুরে গেল যে? বলতে বলতে বিগ কোন রকমে নৌকার মুখ রক্ষা করে।

_ হঠাৎ তুমি ছেড়ে দিতেই-__

বিপুলের কথার ওপর কথা দিয়ে গীতা বললে, তবে আপনি

২৮ জীবন-সৈকত

আছেন কি করতে? মুখ রক্ষা করাই তো আপনার কাঙ্জ, ত। সে নৌকাই হোক আর--

-আর থাক্‌, বুঝেছি। কপালের ঘামটামগুলো মুছবে--ন। আমিই মুছিয়ে দেবো?

--আপনারা ভয়ানক লোভী !

অর্থাৎ?

কি একটা উত্তর দিতে গিয়ে খিল খিল ক'রে হেসে উঠলো গীতা বাদান্বাদ ক'রতে গিয়ে কখন যে ঈাড় থেমে গেছে ত1 মোটেই লক্ষ্য করেনি বিপুল। সে মুগ্ধ ন্যনে চেয়ে আছে গীতার কৌতুকমাখা মুখের দিকে |

-_- ওমা, ওকি! ড় টানা থামিয়েছেন কেন? ঝোপের কাছ থেকে আমর যে এখনে| অনেক দূরে আমার দেখাদেখি আপনি থেমে গেছেন? টান্গন- টাঙ্গন__

ভুল হ'লো। তোমার দেখাদেখি নয়-_তোমায় দেখে বা দেখতে দেখতে ব'লে বিপুল নিজের কাজে মনোনিবেশ করে

খোঁপাটা দু'হাত দিয়ে টিপে অর্থাৎ শীগ্গীর খুলে পড়ার সম্ভাবন! আছে কিন। পরীক্ষা করতে ক'রতে গীত। কৃত্রিম ঝঙ্কার দিয়ে বললে, 'নাঃ যেদিকটা না দেখবে সেদিকটাই--দেখুন দেখি-_-এখনো আমর।

কত দূরে?

দোহাই তোমার, আর ফাড়ে হাত দিও না! চোখের পলকে এবার তোমায় তোমার গন্ভব্যস্থানে পৌছে দেবো !

ুষ্টমির হাসি হেসে গীতা বললে, পলক তো একবার ছেড়ে তিনবার পড়লো, কৈ--এখনো! তো-_

কটাক্ষ ক'রে বিপুল বললে, 11155 ! জীবনটা আমাদের জিওমেটি,ও নয়--আর জিম্ন্াষ্টিকও নয় যে, চুলচেরা কোন সময়ের মাপকাটি দিয়ে

জীবন-সৈকত ২৯ মাপতে হবে! দর্শন তত্বই বল, আর কাব্য দিয়েই বিচার কর? জীবনটা! আমাদের শ্রেফ. একটা স্বপ্ন__তা স্ব-ই হোক আর কু-ই হোক!

গীতার কে ধ্বনিত হ'লে সম্মোহন স্থরে,__

“দিন্রে শেষে ঘুমের দেশে

ঘোমটা পরা ছায়।__

তুলালোরে তুলালে। মোর মন 1”

রহশ্য করে বিপুল বললে, নাঃ আবহাওয়া "দেখছি বেজায় রু- গম্ভীর হ'য়ে উঠলো!

তবু গীতার গান থামে ন|। বিপুল বাধ্য হ'য়ে সর ধরে,

“মাগো আমার মন্‌ বসে ন। কাট না নিয়ে থাকতে ঘরে, ক।লকে যারে দেখেছিলাম তারেই নয়ন খুঁজে মরে 1” উচ্ছসিত হাসি হেসে গীতা বললে, [00 12101701217561 0০, ১৪:০০ 1): | গান ছেড়ে বিপুল আবৃত্তি স্থরু করে,__

“তাজমহলের পাষাণ দেখেছে! দেখেছে কি তার প্রাণ?

অন্তরে তার মমতাজ নারী বাহিরেতে সাজাহান 1!”

হাই তুলতে তুলতে ছু'হ।ত ওপরে তুলে আলম্ত ভেঙে গীতা ঈষৎ, অন্নাসিক স্থরে বললে, ইচ্ছেঘুহ'চ্ছে-_

৩৩ জীবন-সৈকত

- কি ইচ্ছে হ'চ্ছে 2811176 8 বল-] 210 21255 2700 561105 !

নৌক1 তখন প্রায় তাদের গন্তব্য স্থানের কাছাকাছি

-_লজ্জ! কচ্ছে!

_লজ্জী! লজ্জাই তো তোমার ভূষণ

নারীন্থলভ মুখখানা ঈষৎ ঘুরিয়ে নিয়ে কথার স্বরে দমক দিয়ে বললে গীতা, যাও-ঠাট্রা হচ্ছে!

দাড় টান| বন্ধ রেখে বিপুল বললে, 80901) 9007 13011001, ] 38১, 'মোটেই ঠাট্টা নয়

_-ইচ্ছে হ'চ্ছে তোমার কোলে মাথা রেখে

গীতাকে কথ! শেষ ক'রতে না দিয়ে দাড় ছেড়ে একরকম লাফিয়ে উঠলো বিপুল ! আগ্রহাখিত কণ্ঠে বললে, 21955 !

কিন্ত আমরা যে পেছিয়ে যাবো ?

রহস্যভর1 কণ্ঠে বিপুল বললে, নৌকা পেছোতে পারে--আমরা নয়!

বধ দা বং রন রঃ

গীতা দেবী-_গীতা !

জড়িত কঠে ডাকতে ডাকতে সৌমেন টল্টলায়মান অবস্থায় ড্রইং রুমে প্রবেশ ক'রে ধপাস করে সোফার ওপর বসে পড়লো-_ঠিক বলে পড়লো! নয়, ঢলে পড়লো! | টেবিল-ল্যাম্পের ঈষৎ উজ্জল আলোয় গীতা বটে বসে তখন কি একখানা বই পড়ছিল। তাড়াতাড়ি উঠে বড় 'আলোটা জেলে দিয়ে এগিয়ে এলো! গীতা

_একি, আপনি অমন ক'চ্ছেন কেন, সৌমেনবাবু? উঁকি বিশ্রু-গদ্ধ !

-মদ ছাড়! এমন বিষ্র! গন্ধ আর কিসের হ'তে পারে বলুন ?

বিরক্তিভর1 কণ্ঠে গীত। বললে, আপনি মদ খান?

জীবন-সৈকত ৩১

--খেতাম না--আজ খেয়েছি

কি যে বলবে আর কি যে ক'রবে-_কিছুই সে ঠিক ক'রতে পারে ন।। দঘ্বণায় তার অন্তরাত্মা রী রী ক'রে ওঠে ইচ্ছে হয়, বেয়ারাটাকে ডেকে গল! ধাক্কা! দ্রিয়ে সৌমেনকে বাড়ী থেকে বার ক'রে দেয়। ছিঃ ছিঃ ছিঃ কি কেলেঙ্কারী !

মতলব এর মোঁটেই ভালে! নয়। প্রথম দিনে পরিচয়ের স্ুত্রপাত থেকেই এর কারণে অকারণে, সময়ে অসময়ে যাতায়াত সুরু হ*য়েছে। অথচ লোকটা এত 11151)50 যে ধরাছৌয়ার ধার দিয়েও যায় না। পিসীম! মোটেই এর ওপর সন্ত নন সে-ই প্রথম দিন ছাড়া বিপুলের সঙ্গে কোনদিনও সৌমেন আসে না, সব সময়েই এসেছে একা শুধু তাই নয়, বিপুলকে এখানে উপস্থিত দেখলে অথবা হঠাৎ বিপুলের আগমনে সে এতই অস্বস্তি বোধ করে যে, আর একলহমাও অপেক্ষা ন| করে কোন-নাকোন কাজের অজুহাত দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করে। বিপুলকে সৌমেন সম্বন্ধে কোন কথ! বলতে গীত! নিজেই লঙ্দিত হয়,

শুধু লজ্জা নয়_কেমন একটা! ভয়ও হয়। সৌমেনের যখন-তখন আগমন গীতার সহের সীমা অতিক্রম ক'রেছিল, তার ওপর আজকের এই অকল্পিত অবস্থায় সৌমেনের অতকিত ্নাগমনে সে একেবারে বিশ্ময়-বিষুঢ় হ'য়ে গেল। কোন ভত্্রসন্তান যে, মত্ত অবস্থায় কোন ভদ্র পরিবারের অনৃঢা তরুণীর সঙ্গে ছলভর! বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে রাতের তাধারে বিনা কারণে সাক্ষাৎ ক'রতে আসতে পারে--একথা ভাবতেও তার শরীর শিউরে ওঠে গীতা নির্বাক বিস্ময়ে স্তব্ধ হ'য়ে চেয়ে থাকে সৌমেনের দিকে যথাসম্ভব সংযত্তভাবে ভাষায় সৌমেন গীতার দিকে মুদে-আসা চৌখ ঈষৎ বিস্ফারিত ক'রে বললে, কথা বলছেন ন! যে-রাগ ক"রলেন? ধীর গম্ভীর কণ্ঠে গীত বললে, আপনি বাড়ী যান।

৩২ জীবন-সৈকত

গীতার দিকে চেয়ে কেমন যেন পাগলের হাসি হাসলে! সৌমেন, সে হাসির মধ্যে তার অস্তরনিহিত বেদনা যেন মূর্ত হ'য়ে উঠলে1| মাথাটা সোফার গায়ে এলিয়ে দিয়ে উদাস চোখে জুল জুল ক'রে চেয়ে রইলো! জানালার বাইরে গভীর অন্ধকারের দিকে মদ্র খাবার আগে যে সব কথ! তার মনে জেগেছিল তার এক বর্ণও সে বলতে পারলে না গীতার কাছে। ক্রমেই তার শরীর অন্ুস্থ হয়ে তার এখতারের বাইরে এসে পড়ে।

--আপনি ক্রমশঃ অসুস্থ হ'য়ে পড়ছেন?

__কতকটা, ভবে শরীরের চেয়ে মনের অন্ুস্থতাই বেশী, গতা দেবী!

--এমন অন্থুস্থ শরীরে এখানে আসা আজ আপনার মোটেই উচিত হয়নি, সৌমেনবাবু।

এক মুহূর্ত নীরব থেকে শৌমেন বললে, মে আপনি বুঝবেন না, গীতা দেবী! আপনার এখানে না এসে আমি কিছুতেই থাকতে পারি ন1। তাই যখন-তখন এসে আপনার বিশ্রামের ব্যাঘাত কবি, কিন্তু কি ক'রবো_আমি নিরুপায় আমায় ক্ষমা করবেন। উঃ এক গ্লাস জল- নাথাক। আমি যাচ্ছি।

উঠে ঈলাড়াবার সঙ্গে সঙ্গে সৌমেন টলে সোফার ওপর পণ্ড়ে গেল। ' মিনিট ছুই একেবারে চুপচাপ সৌমেন নড়ে চড়ে না পর্যান্ত--শীরব, নিথর, নিষ্পন্দ |

মহা চঞ্চল হ'য়ে উঠলে। গীতা এমন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় সে জীবনে কোন দিন পড়েনি আতঙ্কে মুখখানি তার ফ্যাকামে এতটুকু হ'য়ে গেল। সার] দেহখানায় বয়ে গেল আতঙ্কের শিহরণ পা ছুটো বশে রাখা তার যেন সাধ্যের বাইরে কম্পিত পাষের তলা থেকে পৃথিবী যেন স'রে যাচ্ছে। ইচ্ছা হয়--গল! ছেড়ে চেঁচিয়ে কাকেও ডাকে, কিন্তু .....। তাইতো! লৌকট] কি মারা গেল! মদ খেলে কি

জীবন-সৈকত ৩৩

লোক মরে?

সোফার ওপর ঝুঁকে পঞ্ড়ে গীতা কম্পিত কণ্ঠে ভাকে, সৌমেনবাবু! সৌমেনবাবু ! !

কোন উত্তর না পেয়ে যেন আরো দিশেহার! হ'য়ে গেল। আর্ত- কণ্ঠে গীতা ডাকলে, বেয়ারা ! বেয়ার!

্রস্তে বেয়ার পর্ণা সরিয়ে ঘরে এলো

বেয়ারার দিকে ন1 চেয়েই গীতা বললে, না থাক আমি-__আমিই ফোন ক'রে দিচ্ছি!

তাড়াতাড়ি 75061%6/টা তুলে নিয়ে গীতা ডাকলে, 1[78110. বড় বাঙ্গার ডবল ফোর থি ও, 1019856 1 ড11)81--21128250 ?

আঃ-অস্ফুট আর্তনাদে মুখখানা বিরূত ক'রে সশব্দে গীতা £€০5$৮£ট]1 রেখে দিলে |

সামনে পড়েছিল প্যাড, খস্থস্‌ ক'রে লিখে চললো কম্পিত হস্তে লিখতে লিখতে ০৪1117)5 ৮61]ট1 টিপে দিলে বেয়ারা পর্দা! সরিয়ে ভিতরে এলো, ঘাড় না ফিরিয়েই চিঠিখানা খামের মধ্যে পুরতে পুরতে গীতা বললে, বোস্‌ সাবকা। কুঠীমে জলদি ইএ চিঠি ভেজো ! বহুত -__, গীতার মুখের কথা শেষ হ'তে না হ'তেই টেলিফোন বেজে উঠলো

_-[79110. কে--ও বিপুল বাবু! 1715 ৪০০৫ 19০]. সব কথা থাক্‌, ভারী বিপদ-_শুহ্ছন ?

ধা

টেলিফোনে খবর পেয়ে বিপুল তাড়াতাড়ি ডাক্তার সেনকে নিয়ে গীতার ওখানে এসে পড়লো বেয়ারার নির্দেশে গীতা তখন অচৈতন্য সৌমেনের