্টুঙ্ঞহ্াল্ম।

শ্রীউর্ম্মিল। দেবী প্রণীত।

ডাই

বুভিনন্কাত্ত5

২০১ নং কর্ণওয়ালিস গ্্রীট হইতে শ্রী ্ররু্র্চিটো পাধ্যায় কর্তৃক প্রকা শিশু ১৩২৩

মুল্য কাপড়ে বাধা ১/০ কাগজেক্স-নলটি-১২।

2911764 ৮৮ নি, রি, 9010161095) 2 276

10871871655. 2 00819285217 90091,

025168/005.

লস.

অবশিষ্ট

পুষ্পরত্বদের হস্তে পুপহাল

সাদরে অর্পণ করিলাম

আত্মকথ।

পুষ্পহার আমার প্রথম প্রয়াস। ইহার কয়েকটা গল্প পূর্বেই “ভারতী” “মানসী”*তে প্রকাশিত হইয়াছিল। ছুইটা নৃতন গল্পও ইহাতে সন্নিবেশিত হইল। পুষ্পহারের কয়েকটা গল্প ইংরাজী গল্পের ছায়াবলম্বনে লিখিত ; কোনটী ব৷ বহু পূর্বে পঠিত বিদেশী গল্পের ছায়ার উপর রং ফলাইয়া, সম্পূণ নিজের ভাবে ভাষায় লিখিত হইয়াছে বাকী কয়টা মৌলিক। কোনটাই অস্বাদ নহে। বিগত ১৩১৭ সনের সাহিত্যপরিষদের বাৎসরিক সাহিত্য- সমালোচনার অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আমার ছুইটী গল্প স্থান পাইয়াছিল। সেই সাহসেই এই ছুঃসাহসিক কার্যে প্রবৃত্ত হইয়াছি। পুম্পহারের গল্পগুলি পাঠযোগ্য কি না, তাহার মীমাংস! পাঠক পাঠিকার। করিবেন। সাধারণের নিকট আমার এই প্রথম প্রয়াসের কথঞ্চিৎ আদর হইলে আমি কৃতারথন্মন্ত। হইব।

পূজনীয় পণ্ডিত শ্রীযুক্ত শ্তামাচরণ কবিরত্ব মহাশয় পুস্তকের প্রুফ অতিযত্ব সহকারে দেখিয়! দিয়া আমার স্বগ্রামনিবাসী কৃতী শিল্পী শ্নেহাম্পদ শ্রীষান্‌ ক্ষীরোদবিহারী সেন ছবিগুলির পরিকল্পনা ব্লক প্রস্তত করিয়। দিয়া আমার কৃতজ্ঞতাভাজন হইয়াছেন ইতি-_

এও গিরিশ মুখার্জির. রোড,

ভবানীপুর, শ্রাবণ, ১৩২৭। ] উীভিন্মিা। দেন্বী।

১। চা ৩। | ৬।

৭।

সুীপত্র।

বিষয় ফরাসী বিপ্লবের একটা চিত্র অবগুঞণবতী সঞ্চিতধন কল্যাণী একটি চিত্র একটি নিভীকহদয় শিক্ষা

পৃষ্ঠ।।

২১ ৩৭ ৫৭ ৮১

নি

ফরাসী বিপ্রবের একটি চিত্র

ডেল ডি ল্যান্দি অত্যন্ত বাস্ত ভাবে গৃভমথে প্ী পাদচারণা করিতেছিলেন, এবং মধ্যে মধো গবাক্ষের নিকট গমন করিয়া ইতত্ততঃ দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতেছিলেন।

তাহাকে দেখিয়া মনে হইতেছিল, যেন তিন কাহারও আগমন প্রতীক্ষায় অত্যন্ত উদ্ধিগ্ন ভাবে সময় কাটাইতেছেন।

ফ্রান্সে তখন ঘোরতর রাষ্ট্রবিপ্লব চলিতেছে,_: সাঁধারণতন্রী- দিগের তখন পরিপূর্ণ প্রভাব। তাহার! দলে দলে সরবত যাতায়াত

পুষ্পহার |

জনি

করিতেছে সঙ্গীন-হন্তে নগরের দ্বারে দ্বারে পাহারায় থাকিয় অভিজাতদিগের ইচ্ছামত গমনাগমনে বাধা দিতেছে

“সাম্য, স্বাধীনতা, মৈত্রী অথবা মৃত্যু”” তখন তাহাদের মুলমন্ত্র। তাহারাই তখন ফ্রান্সের শাসনকর্তা অভিজাতদিগের প্রতি প্রতিহিংসাপরারণ হইয়া তাহারা পশুর ন্যায় হিংস্র ভইঙ্গ৷ উঠিয়াছে। রাজতন্বীদিগের উচ্ছেদসাধনই তখন তাহাদের একমাত্র লক্ষ্য তাহাদের সন্ধান পাইলেই বন্দী করিয়া আনিয়া! হত্যা করিতেছে নির্দোষ পুরুষ, অসহায় রমণী, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালক- বালিকা--কাহাকে রক্ষা করিতেছে না।

পিভার অপরাধে পুঞ্রকে, স্বামীর অপরাধে স্ত্রীকে, ভ্রাতার অপরাধে ভ্রাতাকে এবং অন্ত লোকের অভাবে ছোট ছোট বালক- বালিকাকে হতা। করিতেছে

বহুকাল ধরিয়া আঘাতের উপর আঘাত পাইয়া আজ তাহার! মস্কুশাহত মাতঙ্গের স্তায়, পদাহত সর্পের ন্যায় উন্মত্ত হইয়। উঠিয্বাছে। সম্রাট, জমীদারগণের বিলাসব্যয় যোগাইবার জন্ত, আজ হুইশত বৎসর ধরিয়। তাহার! অনশনে, অর্দাশনে, অক্লান্ত পরিশ্রমে, শরীরের রক্ত জল করিয়া তাহাদের দাসত্ব করিতেছে

প্রতিদানে তাহার! কি পাইয়াছে ?--অপমান ! অত্যাচার ! নিষ্টরতা !

আজ তাহাদের দিন ফিরিয়াছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রদেশ

পুষ্পহার

পাটা রাখী পাত

হঈতে, প্রায় তিনলক্ষ প্রজা! বিদ্বোহী হইয়া উঠিয়াছে। আজ তাহারাই ফ্রান্সের রাজা; তাহাদের প্রতিহিংসা-প্রবৃত্তি তাহারা! চরিতার্থ করিবে না? কে তাহানিগকে বাধা দিবে? তাহাদের ভীষণ হত্যাকাণ্ড অবিশ্রান্তভাবে চলিতেছে তাহার ভিতর দয়া নাই, মায়! নাই, বিশ্রাম নাই, শাস্তি নাই। দিনের পর রাত্রি, রাত্রির পর দিন আসিতেছে, ইহা! ভিন্ন সময়ের কোনও হিসাব নাই। স্বয়ং সম্রাটু হইতে আরম্ভ করিয়া সামান্য মারকুইস্‌ পথ্যস্ত কেহ রক্ষা পাইতেছেন না। যেখানে তাহাদের সন্ধান পাইতেছে, বন্দী করিয়া, কাহাকেও বিনা বিচারে, কাহাকেও বিচারের ভাণ মাত্র করিরা, কারাগারে প্রেরণ করিতেছে, এবং পরিশেষে “ম্যাডাম গিলোটিনেগ্র করাল কবলে প্রেরণ করিয়া তাহাদের সকল সুখ, সকল সাধ জন্মের মত নিন্মুল করিয়া! দিতেছে। এইরূপে প্রত্যহ কত নর-নারী, পিতা পিতামহের অত্যাচারের খণ, আপন আপন জীবন দ্বারা শোধ করিতেছে

সম্রাট সপ্তদশ লুইএর বিচার এবং প্রাণদণ্ড হইয়! গিয়াছে সুন্দরীশ্রেঠা রাজ্জী মারী এণ্টয়নেট_ও 'মআর ইহ জগতে নাই। এখনও প্রত্যহ 8।৫টী টামব্রিল ( শকটবিেষ )-পুর্ণ বন্দী বধ্যভূমিতে নীত হইয়া ঘাতক-হস্তে প্রাণদান করিতেছে এই হত্যাকাণ্ডে পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রীলোকগণ অধিক উৎসাহী তাহারাও ভিন্ন ভিন্ন দল গঠন করিয়া অভিজাত রাজতন্ত্রীদিগের সন্ধান করিতেছে

পুষ্পহার।

রসি লিন পপ

বধ্যভূমিতে এই ভীষণ দৃষ্ত দেখিবার জন্য তাতারাই অধিক উৎস্থক ! সম্রাটের ছিন্ন মুণ্ড দেখিয়া তাহারাঈ ঘন-ঘন করতালি দিয়াছে 3 আবার ঘাতক-ভুস্তে, দীর্ঘকাল কারারুত্ধ! বৈধবাক্রি্টা মহারাজ্জীর শুভ্র মন্তক দেখিয়। আনন্দে নৃত্য করিয়াছে তবু তাহাদের শোণিত- পিপাসা! মিটে নাই! তবু “মার মার” “কাট কাট” শব্দ ভিন্ন তাহাদের মুখে অন্য কথ নাই

এডেলের ম্বামী মারকুইদ্‌ ডি ল্যান্সি একজন অভিজাত রাজতন্ত্রা। এই উন্মত্ত জনতার নিকট শ্টাহার পরিত্রাণ নাই জানিয়া ভাভারা অগ্য রাঁত্রেই সামান্য কৃষকের বেশে প্যারিস পরিত্যাগ করিয়া! ইংলণ্ বাত্র। করিবেন স্থির করিয়াছেন; এবং এডেলের ধাএী ম্যাডাম গেবেলের গৃহে একদিনের জন্ত আশ্রর গ্রহণ করিয়াছেন

ম্যাডাম যদিও একজন সাধারণতন্থী, কিন্ত জ্তন্ত-ছুগ্ধ ছারা পালিতা কন্তার ক্রন্দন উপেক্ষা করিতে পারেন নাই এডেলের স্বামী তাহাদের নির্ষিদ্ধে যাত্রার পাস সংগ্রহ করিবার জন্ত সহরে গিয়াছেন, এডেল ভাহারই আগমন-প্রতীক্ষায় অত্যন্ত ব্স্তভাবে সময় কাটাইতেছেন।

ম্যাডাম গেবেল এই সময় গুহমধ্যে প্রবেশ করিলেন। তীহার বয়ঃক্রম অনুমান পর্চাশৎ বৎসর ; কিন্তু শারীরিক শ্রমে মানসিক ক্রেশে তাহাকে তদপেক্ষ। বৃদ্ধ! বোধ হয়। ভিনি এডেলের ব্যস্তভাব

৩.

পুষ্পহার।

দেখিয়া বলিলেন, ্ব্স্ত হইয়া লাভ কি? বিপদের সমর ব্যস্ত হওয়৷ মূর্খের লক্ষণ ।”

এডেল ঈষৎ হাম্ত করিয়া কহিলেন, “মা ! আমার স্বামীর এখন পদে পদে বিপদ, "আমি কি করিয়া ধৈর্ধা ধারণ করিব ?” ম্যাডাম বলিলেন, “তোমার স্বামীর কোনও বিপদ ঘটিলে তাহা তাহার উপযুজ্দ শাস্তি হইবে। একমাত্র তোমার মারার মামি তোমাদের আশ্রর দিয়াছি; তাহা না হইলে আমিই তোমার স্বামীকে ধরাইয়া দিতাম |”

এডেল শিহরিয়! উঠিগ্না কহিলেন “না! কেন এমন নিষ্ঠুর কথা বলিতেছ ? তোমাদের কি দয়া মায়া নাই ?৮” ম্যাডান গঞ্জন করিয়৷ উঠিলেন, “দয়! নয়া ! তোমরা! আবার দয়া মারার কথা বল? তোমাদের লজ্জা নাই? আমাদের উপর যখন অমানুষিক অত্যাচার করিয়াছ, তখন তোমরা কি দয়া মায়া দেখাইয়াছ? কি অত্যাচার না করিরাছ ? আমাদের স্বামীপুজ্রদের পশুর সায় গাড়ীতে জুড়িয়৷ সারাদিন ঘুরাইয়াছ ; রাত্রে তোমাদের নিদ্রার ব্যাঘাত হইবে বলিয়৷ ব্যাউ তাড়াইবার জন্য সারারাত তাহাদের পাহারায় নিধুক্ত করিরাছ ; খিনা বেভনে ক্রীত দাসের ন্ায় খাটাইয়াছ ; আমাদের শশ্তে নিজেদের পালিত সখের পশু পক্ষীর আহার যোগাইয়্াছ, নিজেদের জন্য একটী শন্ত রাখিতে পারি নাই। যদি কোনও দিন নিজেদের জন্ত লুকাই! সামান্য কিছু রাখিয়াছি,

পুষ্পহার। তোমরা দেখিলে তাহাও কাড়িয়! লইবে বলিয়া! দ্বার রুদ্ধ করিয়া আহার করিয়াছি আমাদের বয়ন্থা কন্যাদের বলপুর্ববক লইয়৷ গা তোমাদের স্বামী পুভ্রেরা তাহাদের বিলাসের সামগ্রী করিয়াছে, তাহাতে কেহ বাধা দিতে গেলে তাহাকে হত্যা পর্যন্ত কবিতে কুষ্ঠিত হয় নাই। কেন না, তাহা উহাদের অধিকার বলিয়া আজ কোন্‌ লজ্জার মাথা খাইয়া! দয়! মায়ার কথ বলিতে আসিয়াছ ? এডেল ! এডেল !”--

এডেল এই সমমনে ভীত স্বরে বলিয়া উঠিলেন, “ক্ষমা কর, ক্ষম! কর, আমার অপরাধ. হইয়াছে ?”?

ম্যাডাম একটু শান্ত হইলেন, উল কাট! বাহির করিয়৷ মোজা বুনিতে লাগিলেন।

এডেল গবাক্ষের নিকটে দীড়াইয়৷ বাহিরের দৃশ্য দেখিতে লাগিলেন |

ক্রমে সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ়তর হুইয়। আসিল। উজ্জল আকাশে ছুই একটী নক্ষত্র ফুটিয়া উঠিল। মারকুইস এখনও আসিতেছেন না| এ্রডেল সময় কাটাইবার জন্য একথান। চেয়ার টানিয়। ম্যাডামের নিকট বসিয়া গল্প আরম্ভ করিলেন,-_-

“আচ্ছা ম্যাডাম গেবেল, তুমি কি মনে কর, আমর! নির্বিগ্ে ইংলণ্ডে পৌছিতে পারি

ম্যাডাম বলিলেন,__“অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার, খুব সাবধান

পুষ্পহার।

বিচ রিএজিস্জিক অজি উল

হুওর। প্রয়োজন পাহাঝ। ক্রমেই বেশী হইতেছে ।”

“আচ্ছা ম্যাডাম, আমার সমবযস্ক তোনার যে একটী মেয়ে ছিল, তাহার কি বিবাহ হইয়া! গিয়াছে ?,

ম্যাডাম গন্তীরস্বরে বললেন, “আমার কন্তা নাই |

এডেল অভ্যস্ত দুঃখিতস্বরে বলিলেন, “আহা ! তোমার সে মেয়েটী বড়ই সুন্দর ছিল, কবে তাহার মৃ্্য হইল?” ম্যাডাম পুর্ববৎ স্বরে বলিলেন, “তাহার মৃত্যু হয় নাই।»

এডেল একটু আশ্চ্য্যান্িত হইয়া! জিজ্ঞাসা করিলেন, “তাহার মৃত্যু হয় নাই! তবে সে কোথায় ?””

্যাডাম এবার গজ্জিয়া উঠিলেন, “সে কোথায়? মারী কোথায় তাহা আমাকে জিজ্ঞাসা না করিয়া তোমাদের দ্বণিত অভিজাতদিগকে জিজ্ঞাসা কর। তাহার মৃত্যু হইলে আমার ঃখ ছিল না, কিন্তু ইহা মৃত্যুর অধিক 1৮ তার পর এডেলের সোৎসুক দৃষ্টি দেখিয়া, ম্যাডাম বলিতে লাগিলেন, “তাহার কি হইয়াছে, সে কথা শুনিতে চাও? তবে শোন £-_-

মারী বড়ই সুন্দরী ছিল। তাহার যখন ষোড়শ বৎসর বয়স, তখন তাহার দ্বিকে চাহিলে কেহ চক্ষু ফিরাইতে পারিত ন!। গোলাপ ফুলের মত রং; বড় বড় টানা টানা চোখ দুটা; ভূর ছটা যেন তুলী দিয়ে আকা; বাশীর মত নাকটা; লাল টুক্টুকে পাতল৷ ঠোট ছুখানি; কৌকৃড়া কৌকৃড়। এক ঝাক চুল-_

পরম্পহার

স্পিকার

কতক পিঠে, কতক কপালে, কতক কাধের উপর আসিয়! পড়িয়াছে: উজ্জ্বল চক্ষু দুটা সর্ধনাই হাসিতেছে; সে এক অপুর্ব শ্রী! তাহার এই সৌনদর্যযই তাহার কাল হইল।

আমি তাহাকে রক্ষা করার চিন্তায় সর্বদাই ব্যস্ত থাঁকিতাম, নিজের শত পরিশ্রম হইলেও তাহাকে কোথাও কাজে পাঠাই- তাম না। কিন্তু আমার অদৃষ্ট বাধ সাধিল ; মারীর পিতা রুগ্রশয্যায় পড়িলেন। আমি তাহার সেব৷ করিধ। অন্য কোনও কাজ করিবার সময় পাইতাম না; কে তখন তাহার ওষধধ, পথ্য আমাদের আহার যোগাত্ন ? মারী বেশ সুন্দর সেলাই করিতে জাঁনিত। আমাদের এই গৃহের নিকটেই একটা দরজীর কারখানা ছিল, মারী সেথানে কন্মে নিধুক্ত ভইল। ভার! কেন তাহাকে সেখানে পাঠাইলান? কেন নিজে উপবাস করিয়! স্বামীর ওষধ পথ্যের যোগাড় করিলাম না ?'*

ম্যাডাম চুপ করিলেন। এডেল উৎস্থকভাবে বলিলেন, “তার পর ?+

“এক দিন এক জমীদারপুত্র সেই দোকানে কাপড় ফরমাইস দিতে আসিল। তাহার দৃষ্টি মারীর উপর পড়িল। সে দিন ছুটি হইলে মারী বাহিরে আসিয়। দেখিল, সেই যুবকটা দাড়াইর়া আছে দে মারীকে ছুই একটা প্রশ্ন করিল, মারীও উত্তর দির! চলিয়া াফিল। এইরূপ প্রত্যহ ছুটির প্র মারীর সহিত সাক্ষাৎ করিয়া!

০৮

পুষ্পহার।

দি সি রসি লিস্ট রি

ছুরাত্মা ক্রমে ক্রমে মারীর উপর তাহার মোহজাল বিস্তার করিল। মারীও তাহার সুন্দর চেহারা দেখির। ভূলিয়! গেল। আমি হতভাগিনী, রুগ্ন স্বামী লইয়! ব্যস্ত থাকায়, ইহার কিছুই জানিলাম না। এক দিন সে মারীর নিকট বিবাহের প্রস্তাব করিল ।”

ম্যাডাম চুপ করিলেন, কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া, আবার বলিতে আরম্ভ করিলেন, “মারী ষখন হাপিতে হাসিতে আসিয়া আমাকে সেই বিবাহের প্রস্তাবের কথা বলিল, আমার মাথায় 'মাকাশ ভাঙ্গিয়৷ পড়িল শামি তাহাকে এই প্রস্তাবের অসন্ভাবিত্ব সম্বন্ধে অনেক করিয়া বুঝাইলাম, বোধ হইল যেন সে আমার কথা বুঝিল। সে সেই যুবকের সহিত আর বাক্যালাপ করিবে না, এইরূপ প্রতিজ্ঞাও হামার নিকট করিল। এইন্ূপে একমাস কাল গত হইলে, আমি তাহার সম্বন্ধে একটু নিশ্চিন্ত হইলাম সহসা! একদিন বজ্কাঘাত হুইল, মারী রাত্রে গৃহতাণগ করিল |

খ্যাডাম আবার নীরব হইলেন। তাহার দৃষ্টি উদাস ; তিনি যেন বর্তমান ভুলিয়৷ সেই অতীতের সব ঘটন৷ প্রতাক্ষ করিতেছেন এইরূপে কিছুকাল নীরব নিঃস্পন্দ থাকি॥ তিনি চমকিয়! উঠিলেন,-_চারিদিক্‌ চাহিয়! আবার বলিতে লাগিলেন,__

“একবংসর পর একদিন সন্ধার সময় মারী ফিবিয়। আসিল,-- পাপিষ্ঠ তাহাকে ছিন্ন বন্ধের স্তায় ত্যাগ করিরাছে হতভাগিনী তখন আমর প্রসব! তাহার কিছুদিন পুর্বে আমার স্বামীর মৃত্যু

পুসপহার |

সত জা সিসি

হইয়াছিল। ছুঃখে, অন্তাপে, লজ্জা ভ্রিয়মাণ হইয়া, বালিকা মাতার বক্ষে শান্তি পাইবার জন্ত আসিয়াছিল? কিন্তু পাপীয়সী মাত। তাহাকে তীর ভঙগনা করিল। অভিমানে দু্খনী সেই রাত্রেই আবার আমার গৃহ ত্যাগ করিল। সেই অবধি আজ দশ বংনর, অনেক অন্থসন্ধান করিয়াও কোথাও তাহার সন্ধান পাই নাই। এডেল! এডেল! কেন তুমি আমার সেই স্থৃতি আবার জাগরিত করিলে ?

যাহা কত কষ্টে, কত যত্তে হৃদয় হইতে নির্বাপিত করিবার চেষ্ করিতেছি, কেন তাহাতে পুনরায় অগ্নি সংযোগ করিলে?

এডেল! তুমি বুঝিতেছ না, নিজের কি সর্বনাশ করিতেছ আমার প্রতিহিংস'-প্রব্ুত্তি একবার জাগিয়া উঠিলে তোমাদের আর উপায় নাই

এডেল ম্যাডামের গলদেশ ছুই ভস্তে বেইন করিয়। ধরিয়া তাহার মুখচুম্বন করিয়! কহিলেন, “ম্যাডাম ! তুমি এত সহ্য করিয়াও আমাদের যে আশ্রয় দিয়াছ, ইহাতে আমি বড়ই আশ্চর্ধ্যান্িত হইতেছি। আর কৃতজ্ঞতাভাবে আমার হৃদয় অবনত হইয়া! পড়ি: তেছে। আমি না জানিয়া তোমার মনে কত কই দিলাম, আমাকে ক্ষমা কর।”

ম্যাডান গেবেল পালিত। কন্তার মুখের প্রতি চাহিলেন। তাহার কঠোর দৃষ্টি কোমল হইল। তিনি সন্গেহে এডেলের মুখের

পুষ্পহার।

প্রতি চাহিয়। বলিলেন, “আমি এই কোমল হদয়খানি জানি বলিয়াই নিষ্ঠর হইতে পারি নাই।”

এই সময় কৃষকবেণী মারকুইদ ডি ল্যান্পি গৃহ-প্রবেশ করিলেন। তাহার দীর্ঘ গঠন, আফ়ত চক্ষু, সুগঠিত নাসিকা, উন্নত ললাট--সকলই হ্থন্দর; কিন্তু সে চক্ষুতে গভীর ভাবের একান্তই অভাব। তীহাকে দেখিয়! ম্যাডাম ভ্র কুঞ্চিত করিলেন। এডেল সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হইল হেন্রী ?”

হেন্রী উত্তর করিলেন, “সব প্রস্তুত, আমর! আর এক ঘণ্টার মধ্যেই গৃহত্যাগ করিব, তুখি প্রস্তুত হইয়া এস।”

ম্যাডাম গেবেল এডেলকে কৃষকপত্বীর বেশে সজ্জিত করিয়া দিলেন।

এডেল তখনই প্রস্থান করিবার জন্ত ব্যস্ত হইলেন। কিন্তু কিছু আহার করিয়া যাওয়া যুক্তিসঙ্গত বোধে ম্যাডাম কিছু আহাধ্য আনিয়। দিলেন

আহার করিতে করিতে হেন্রী, কি করিয়া পাস সংগ্রহ করিয়াছেন,--কত কষ্ট, কত প্রব্চনা করিতে হইয়াছে,_-একবার প্রায় ধরা পড়িতে পড়িতে বাচিয়া গিয়াছেন ইত্যাদি গল্প করিতেছিলেন, এমন সময় পথে অত্যন্ত কোলাহল শ্রুত হইল। তীহারা সকলে গবাক্ষের নিকট গিয়া এক ভীষণ তৃশ্ত দেখিলেন। ছুটি বন্দীপুর্ণ “ণ্টাম্ত্রিল” ঘিরিয়া

১৯

পুষ্পহার। প্রায় একশত লোক অত্যন্ত কোলাহল করিতে করিতে চলিতেছে

সেই “্টাম্ত্রিলে” প্রাক» পঞ্চাশ জন বন্দী কারাগারে নীত হইতেছে। কেহ বা মস্তক অবনত করিয়া বসিয়া আছে, কেহ বা একটু সহানুভূতির জন্য কাতর নরনে চারিদিকে চাহি- তেছে, কেহ কেহ বা কিছুতেই ভ্রক্ষেপ না করিয়া পরম্পর বাক্যালাপ করিতেছে, 'মাবার কেহ বা বঙ্ধাগ্রলি হইয়। “প্রার্থনা” করিতেছে সকলের অগ্খে অগ্রে সেই জনতাকে উৎসাহিত করিতে করিতে এক বিক্টমূর্তি রমণী চলিতেছিল ! তাহার পরিধানে ছিন্ন বন্ধ, রুক্ষ কেশ বাভাসে উড়িতেছে, ঙ্জ ধূলিমর 7 কিন্তু তাঠার কিছুতেই ভ্রক্ষেপ নাই, বিকট শব্দে জনতাকে উৎসাহিত করিয়া চলিরাছে, তাহার উত্তেজনার সকলে উন্মন্ত প্রা ইরা, পৈশাচিক নৃত্য করিতেছে

এই দৃণ্ঠ দেখিয়া, এডেল শিহরিয়। ফিরিলেন। ম্যাডাম বলিলেন, “এ যে রদণীমূর্তি দেখিতেছ, উহাকে সকলে “প্রতিহিংসা” বলে। প্রীয় ছুই মাস হইল, এই প্যারিস সহরে উহার আবির্ভাব ভইরাছে। যে কে, কোথা হুইতে আসিয়াছে, কেহ জানে না। শিকারী কুকুর বেমন শিকার খু'ঁজিরা বাহির করে, রমণী তিজাত রাজ্তদ্বীদিগকে সেই রকমেই খুঁজিয়। বাহির করে।। উহ্হার হাত এড়ান বড়ই কষ্টকর

টি

উল ৬৩৪ ৯৬৫ আলী ৯০

ক্রমে সেই জনতা দৃষ্টিপথের অতীত হইয়া গেল। মারকুইস পুনরার আহারে প্রবৃত্ত হইলেন।

এডেল আর আহার করিতে পারিলেন না কি যেন অমঙ্গল- আশঙ্কার, কাহার হৃদয় থাকিয়া থাকি! কাপিরা উঠিতেছিল। সহসা বাহিরে পদশব' শ্রুত হইল এবং অনতিবিলম্বে কে দ্বারে করাঘাত করিল। ম্যাডাম গেবেল কিংকর্তব্যবিমুঢ় হুইয়া দাঁড়াইয়া বহিলেন।

এডেল দৌড়িয় তাহাকে বাহু দ্বারা আবৃত করিয়া অস্ফুট ভীত- স্বরে কহিলেন, “রক্ষা কর-_ম্যাডান গেবেল, রক্ষা কর।” বাহির হইতে পুনরায় শব্দ হইল,_-“রিপবলিকের নামে আজ্ঞা করিতেছি, দ্বার খোল।”

এই আজ্ঞা লঙ্ঘন করিবার শক্তি ম্যাডাম গেবেলের ছিল না, তিনি কঠোর ভাবে এডেলকে সরাইয়। দিয় দার মোচন করিলেন।

দেখিলেন সেই “প্রতিহিংসা” দ্বারে দণ্ডায়মান। সে কহিল, “অভিজাতের গন্ধ পাইয়া আসিয়াছি, তাহারা কোথায় ?”* ম্যাডাম্‌ কোনও উত্তর করিলেন না। বোধ হুইল, সে কথা তাহার কর্ণে প্রবেশ করিল না। তিনি স্থিরদৃষ্টিতে সেই রমণীর মুখের প্রতি চাহিয়াছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি “মারী ! মারী !”” বলিয়া উঠিয়া তাহাকে বুকে টানিয়া! লইলেন | মারীও অর্জবসঙ্জন করিতে লাগিল।

মাত কন্তার মিলনের দৃষ্ত দেখিয়া, কোমলপ্রাণা এডেলের

১৩

পুষ্পহার

চারি যি?

চক্ষেও অশ্রু ফুটিয়া উঠিল কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়। ম্যাডাম বলিলেন,-_

.. পমারী! এতদিন কোথায় ছিলে? তোমার জঙ্। কত ক্রেশ পাইয়াছি, তুমি কল্পনাও. করিতে পার না। মা গো! তোমার বেশ, চেহার! কেন? মাতা অপরাধ করিলে কি তাহাকে এই রকম করিয়াই শাস্তি দিতে হয়?” মারী বলিল, “মা, সে অনেক কথা, পরে বলিব। এখন যে কাজের জন্ঠ দল ছাঁড়িয়৷ আসিলাম, তাহা সম্পন্ন ন! করিয়। এক মুহূর্ভও সময় নষ্ট করিতে পারি না। সংবাদ পাইলাম, ছুই জন রাজতন্ত্রী এই গৃহে লুক্কায়িত আছে, তাহাদের সন্ধীনে আসিয়াছি।”

তাহার পর হেন্রী এডেলের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া ভিজ্ঞাস। করিল,

“ইহারা কাহার! ?”

ম্যাডামের উত্তরের 'অপেক্ষা না করিয়াই, হেন্রীর দিকে অগ্রসর হইতে হইতে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল,__

“মহাশয়! আপনি জানেন কি, তাহারা কোথায়? যদি আপনি তাহাদের সন্ধান”-_-কথা শেষ না করিয়াই মারী সর্পাহতের নায় পিছু হুটিয়! চীৎকার করিয়া! উঠিল, “মা !_-মা ! তো কুষক নয়। এই দুরাত্মাই বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া আমার সর্বনাশ করিয়াছিল 1”

১৪

পুষ্পহার

ম্যাডাম চমকিয়৷ উঠিলেন,_“কি বলিলে? এই পাষণ্ডই তোমার এই অবস্থার কারণ ?* তার পর অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া বলিতে লাগিলেন,_-

£ হায়! হায়! ন্নেহ-মোহে ভুলিয়। এই হুরাত্মাকেই রক্ষা করিতে যাইতেছিলাম ? কিন্তু আর নয়, যাও দূরে মায়া, যাও ন্নেহ-মোহ, যাও ভালবাসা,--সব ধাও। আজ শুধু প্রতি- হিংসা সার |”

এডেল মারীকে দেখিয়া অবধি ভয়ে আড়ষ্ট হইয়া! গিয়াছিল। এতক্ষণে একটু সাহদ সংগ্রহ করিয়া কহিতে লাগিল,

“রক্ষা কর-_রক্ষা কর, চিরজীবন তোনাদের দাসত্ব করিয়া এই

খণ শোধ করিব। আমার প্রতি দয়া করির়! আমার স্বামীকে গম! কর ।”

এডেলের ছুই গণ্ড বাহিয়! অশ্রু উছলিয়৷ পড়িতেছিল।

মারী সেই অশ্ররাশি দেখিয়া আনন্দে করতালি দিয়! উঠিল, '“ভাঃ হাঃ হাঃ, চোখে জল! প্রবল পরাক্রান্ত মহামান্ত মারকুইস ভিল্যান্সির পত্বীর চৌখে জল! সে একজন ঘ্বণিত শ্রমজীবীর কন্ঠার নিকট কৃপাভিখারী! এত আনন্দ আমার আদৃষ্টে ছিল! আজ আমার সব কষ্ট সার্থক; হইল ! হাঃ হাঃ হাঃ, মা! তুমি নীত্র যাও, লোকজন লইয়।৷ এস, আমি ইহাদিগকে পাহারা দিতেছি ।”

৯৫

পচ উল সিটি রী ছি লিউ

ম্যাডাম চলিয়। গেলে, মারী টেবিলের উপর উঠিয়া বসিয়। অন্নান- বনে পা দোলাইতে লাগিল। এডেল নতঙ্গান্থু হইয়া পুনঃপুন: দয়৷ প্রার্থনা করিতে লাগিলেন

গাঁ বিরক্তভাবে পদ দ্বারা তাহাকে সঙ্লাইয়া দিতে গেল। হঠাহ তাহার পদ এডেলের বক্ষোবিলম্বিত একটা রৌপ্যনিশ্শিত

শের উপর পড়িল। হস্ত দ্বার! তাহা তুলিয়৷ ধরিয়া! সে চমকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ইহা কোথায় পাইলে?”

এডেল বলিণেন, “একটা ছুঃখিনী বালিকাকে একবার মহাপাপ হইতে নিরস্ত করিয়াছিলাম, নে ইহ! আমাৰ দিয়াছিল।”

মারী পুনরায় জিজ্ঞাস! করিল, “কতদিন হইল ইহা পাইয়াছ ?”

এডেল বলিতে পাগিলেন,__

“গ্রার দশ বত্গর হই্ল। আমার তখনও বিবাহ হয় নাই। আমি সন্ধ্যার লময় নদীতীরে ভ্রমণ করিতে বড় ভালবাসিতাম। পিতার একমাত্র সন্তান ছিলাম,_ ন্নেহবশে তিনি আমার কোনও ইচ্ছায় বাধা দিতেন না।

একদিন সন্ধ্যার সময় আমার সঙ্গিনীগণ ভৃত্যগণ সহ নদ্বীতীরে বেড়াইতে গিয়াছিলাম। সেখানে একজন গণকের সহিত সাক্ষাৎ হইল। আমার সঙ্গের লোকজন তাহাকে ধিরিয়। দীড়াইয়া, নানা- রকম প্রশ্ন করিতে লাগিল। আমি একাকী হাটিতে হাটিতে 'অনেক দুর গিয়া পড়িলাম। তখন সন্ধা গাঢ় হইয়া আসিয়াছে,

১৬

পুষ্পহার।

ফিরিব ফিরিব মনে করিতেছি, এমন সময় দেখিলাম, একটী রমণী- মুর্তি ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া নদীতে নামিতেছে। এই সন্ধ্যার সময় কে ন্নান করিতে আসিল ?

আমি একটু কুতুহলী হুইর৷ দেখিতে গেলাম। কাছে গ্রিয়া দেখিলাম, শান নয়-_রমণী আত্মহত্যা করিবার চেষ্টা করিতেছে!

আমি পশ্চাৎ হইতে তাহার স্কন্ধে হস্তার্পণ করিলাম। ' সে চম- কিয়! ফিরিয়া ঈাড়াইলে দেখিলাম, একটা অপূর্ব সুন্দরী বালিকা 1৮

মারী এই সময় ব্যগ্র ভাবে বলিয়৷ উঠিল, “তার পর? বলিয়া যাও--বলিয়। যাও ।»

“আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, সে কেন মহাপাপে প্রবৃত্ত হইয়াছে সে উত্তর করিল,_-“হৃদয়ের জাল! জুড়াইতে আমি তখন ধীরে ধীরে তাহাকে আত্মহত্যা যে মহাপাপ, তাহ! করিবার অধিকার যে আমাদের নাই, তাহা বুঝাইতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে সে যেন আমার কথ বুঝিতে পারিল, তখন সে--”

মারী এই সময় বাধা দিয়! জিজ্ঞাসা করিল,_-ণতাহার পরিধানে ধূসরবর্ণের পোষাক ছিল £”

“হ্যা |”

“তাহার বক্ষে একটি রৌপ্যনিম্মিত শক্র ছিল ?”

“যা |”

“তাহার কোলে একটি ছোট শিশু ছিল ?””

১৭

পুষ্পহার্‌

এডেল ত্রমেই আশ্ট্য্যান্থিত হইতেছিলেন। এবার বলিলেন, “স্ট্যা ; তুমি কি করিয়৷ জানিলে ?% ্‌

“সে কথার প্রয়োজন নাই ;--তার পর কি হইল, বলিয়৷ যাও।” ্‌

“তার পর সে আমাকে তাহার জীবনের কাহিনী বলিল। সে সব শুনিয়া আর কি করিবে? এইটুকুমান্র বলিল, সে একজনের কুহকে ভুলিয়া বিবাহের আশার পিত্ৃগৃহ ত্যাগ করিয়াছিল, তার পর যা! হইবার তাহাই হইয়াছিল। সে আমার নিকট পরব বলিল; কিন্ত তাহার পিতার নাম, কিছুতেই বলিল না জিজ্ঞাসা করাতে বলিল--“ষে পবিত্র নামে কলঙ্ক আরোপ করিয়াছি, তাহা! আর উচ্চারণ করিব না বিশেষতঃ তিনি এখন ঘ্বর্গে।,

আমার সঙ্গে কিছু মুদ্রা ছিল,--তাহার শিশুটার জন্য তাহা তাহার হস্তে দিলাম; এবং প্রয়োজন হইলে, আবার আমাকে জানাইতে বলিয়৷ সে স্থান ত্যাগ করিলাম। এক মাস পরে একথান। পত্র লিখিয়া সে শিশুর ন্লরণচিহৃম্বরূপ এই ক্রশটী আমায় পাঠাইয়া দিল,--পত্রে শিশুর মৃত্যুসংবাদ ছিল।

আমি সেই অবধি আজ পধ্যস্ত এই ক্রশটী বক্ষে ধারণ করিয়! আসিতেছি,__এক মুহূর্তের জন্ঠও ছাড়ি নাই ।”

মারী এতক্ষণ উতৎকর্ণ হইয়া এডেলের কাহিনী শুনিতেছিল। তাহার বাকা শেষ হইলে, ধীরে ধীরে কহিল, “আমিই সেই রমণী ।৮৯

১৮

৯০ পদ জপিল এশা

কত সি নিলা এখর হুদ বা

আয ৯12 হা বার এস

তস্।

পুষ্পহার। 1

এডেল চমকিয়া উঠিলেন। সেই স্থনার বালিকামূর্তি, আর, এই ভীষণ রমণীমূর্তি! কি পরিবর্তন! মারী অবনত মস্তকে কিছুক্ষণ কি চিন্তা করিল। তার পর দ্রুত গরিয়! গৃহগাত্রের এক স্থান টিপিয়। ধরিল,--একটা গুপ্ত দ্বার খুলিয়া গেল। সেই দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করিয়া সে বলিল,

“এই গুপ্ত দ্বার সম্বন্ধে আমার মাও কিছু জানেন না, আমি একবার দৈবাৎ টের পাইয়াছিলাম। রাত্রে সকলে নিদ্রিত হইলে এঁ পাপিষ্ঠের প্রবেশের জন্ত এই দ্বারই প্রত্যহ খুলিয়। দিতাম

যাও-_পাষও স্বামীর হস্ত ধারণ করিয়া এই দ্বার দিয়া পলায়ন কর। একবার তুমি একটা অসহায়া বালিকাকে মহাপাপ হইতে রক্ষা করিয়াছিলে,_-তাহার প্রতি সন্েহ বাবহার করিয়াছিলে, দে আজ সেই খণ শোধ করিল। যাঁও--আমার প্রতিহিংসা- প্রবৃত্তি ফিরিয়া আসিবার পুর্বে পলায়ন কর।”

এডেল কৃতজ্ঞতাভরে মারীকে আলিঙ্গন করিয়৷ তাহার মুখ চুম্বন করিলেন। হেন্রী এতক্ষণ নীরবে গবাক্ষের নিকট দীড়াইয়া সব দেখিতেছিলেন। একটী কথা বলিতেও সাহসে কুলায় নাই। বিদায়ের সময় মারীর দিকে অগ্রসর হুইয়। কৃতজ্ঞতা জানাইতে উদ্ভত হইলে, মারী ঘ্বণাভরে তাহ! প্রত্যাখ্যান করিয়া কহিল,

“পত্বীর পুণ্যফলে রক্ষ। পাইয়াছ, ক্কৃতজ্ঞত। তাহাকে জানাও |”

প্রস্থান করিবার সময় এডেল আবার কৃতজ্ঞতাপুর্ণ দৃষ্টিতে

১৯

পুষ্পহার

মারীর মুখের প্রতি চাহিলেন। মারী নীরব নিশ্চল প্রতিমার মত

দাড়াইয়।৷ রহিল। ম্যাডাম গেবেল দলবল সহ ফিরিয়। আসিয়। দেখিলেন, শিকার

পলাইয়াছে। আর মারী ?--মারী নতজানু বদ্ধাগ্রলি হইয়। প্রার্থনা

করিতেছে !!!

ন্গ

শ্বল্৩০্বস্বত্ভী

(১)

নর ৩০* সালের প্রারস্তে আমি ডাক্তারী পরীক্ষায় | পাশ হই, এবং বন্ধে সহরে একটি ক্ষুদ্র দ্বিতল গৃহ ভাড়। .লইয় গ্রযাক্টিস্‌ আরম্ভ করি। তাহার পর-বৎসর বর্যাকালে এক দিবস সন্ধ্যার সময় আমার জানালার নিকট বসিয়া ভবিষ্যৎ চিন্ত। করিতেছিলাম। প্রায় দেড় বংসর ডাক্কারী পাশ করিয়াছি ? কিন্তু এখন পর্য্যন্ত তেমন পসার করিতে পারি নাই। শারদীয় পূজার আর বিলম্ব নাই; শীঘ্রই কিছু দিবসের জন্য একবার স্বদেশে প্রত্যাগমন করিব। পিত৷ মাতা ভগিনীগণের সাক্ষাৎ হইবে মনে করিয়া হদয়

৩)

পুষ্পহার।

আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া উঠিতেছিল,--এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে এক- খানি সুন্দর মুখ মনে পড়ার হৃদয় চঞ্চল হইতেছিল। সেই সুন্দর ' সরল মুখখানির অধিকারিণী আমার বাল্য-সঙ্গিনী ভাবি-পত্ী “মুক্তা বাই”।

ব্যবসায়ের পসার করিতে পারিলেই মুক্তা আমার ক্ষুদ্র গৃহ আলোকিত করিতে আসিবে তাহার মুখখানি ভাবিতে ভাবিতে আমার নিদ্রাকর্ষণ হইল, আনি সেই চেয়ারে বসিয়া বসিয়্াই ঘুমাইয়া পড়িলাম।

হঠাৎ আমার স্বন্ধদেশে কে হস্তার্পণ করিল, আমি চমকিয়। উঠিলাম। চাহিক্প! দেখি, আমার গুজরাটা বালক ভূত্যটা আমান্ন জাগরিত করিবার চেষ্টা করিতেছে আমি তাহার দিকে দৃষ্টিপান্ত করিতেই সে বলিল,__“একটা স্ত্রীলোক হুজুর 1”

একটা স্ত্রীলোক ! আমি তাহাকে জিজ্ঞানা করিলাম, “একটা স্ত্রীলোক ?--কে ?--কোথায় ?,

সে অঙ্গুলী নির্দেশপুর্বক আমার কন্দাণ্টিং রুম্‌ দেখাইর! দিল। আমার ক্ষুদ্র গুহেও একটী কন্সাণ্টিং রুম্‌ ছিল,__ যদিও তাহাতে প্রবেশ করিবার বিশেষ আবম্তক আমার প্রীয়ই হইত না। আমি বালকের নির্দেশ মত সেই গৃহে প্রবেশ করিলাম, আপাদমস্তক কৃষ্ণব্ণ পরিচ্ছদে আবৃত একটা রমণীমূর্তি দ্বারের দিকে মুখ করিয়৷ জানালার নিকট ফীড়াইয়৷ ছিল। তাহার যুখ-

পুষ্পহার

মগ্ল দীর্ঘ অবগুঠনে আবৃত আমি প্রবেশ করিয়াই অনুভব করিলাম, তাহার চক্ষু ছটী আমারই উপর ন্তম্ত রহিয়াছে কিন্তু আমি প্রবেশ করিয়া কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও সে আমার সহিত কোনও বাক্যালাপ করিল না,-_স্থির হুইয়! দীড়াইয়া রহিল। আমি একটু ইতস্ততঃ করিয়! জিজ্ঞাসা করিলাম,_

“আপনি কি আমার পরামর্শ চান ?”

রমণী মন্তক ঈষৎ হেলাইয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিল। আমি তাহাকে একটা চেয়ার দেখাইয়া বলিলাম,-_

“আপনি এইথানে আসিয়া বস্থুন।”

“সে এক পদ অগ্রসর হইল; কিন্তু আমার বালক ভূত্যটীর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়াই থমূকিয়! দীড়াইল। আমি আমার ভূৃত্যকে গৃহ পরিত্যাগ করিতে আদেশ করিলাম সে চবিয়া গেলে, রমণী ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া আমার প্রদত্ত চেয়ারে উপবেশন করিল। দেখিলাম, তাহার পরিধেয় বসন বৃষ্টিজলে আদ্র" কর্দমাক্ত আমি জিজ্ঞাপা করিলাম,

“আপনি আসিতে বৃষ্টিতে ভিজিয়াছেন 1”

“ই] মহাশয় 1”

রমণীর কথস্থর বেদনা-ব্যঞ্জক আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম,

“আপনি কি পীড়িত ?”

“ছ] মহাশয় 1৮-_রমণী বলিতে লাগিলেন, “আমি পীড়িত ১--

২৫

পুষ্পহার।

কিন্ত আমার পীড়া! শারীরিক নয়, মানসিক আমার নিজের কোনও বাবস্থার জন্ত আপনার নিকট আসি নাই; আমার 'নিজের কোনও শারীরিক পীড়া হইলে, এত রাত্রিতে ঝড়- বৃষ্টিতে আপনার নিকট আসিতাম না। বাস্তবিক যদি আমার কোনও সম্কটজনক পীড়া! হইত, আমি কুতজ্ঞচিত্তে ভগবান্কে ধন্তবাদ দিতাম। মহাশয়! আমি একজনের জন্য আপনার নিকট আদিয়াছি। দিবারাত্রি আমার অন্ত কোনও চিন্ত৷ নাই, কোনরূপ সাহাষ্য চেষ্টা ব্যতীত কি করিয়া তাহাকে বিদায় দিব 1”

রমণী ছুই হস্তে বন আবৃত করিয়৷ কাদিতে লাগিল। তাহার এইরূপ বিচলিত অবস্থা দেখিয়! তাহাকে আমি সান্বন! দিবার জন্ত ব্স্ত হইলাম।

“আপনার কথায় মনে হইতেছে, আর এক মুহূর্তও দেরী কর! উচিত নয়। আপনি কি ইহার পূর্বে আর কোনও ডাক্তার দেখান নাই ?””

“না! মহাশর ! ডাক্তার দেখাইয়। কোনও ফল হইত না, এখনও হইবে 1৮

আমি আশ্চর্যান্বিত হইয়৷ তাহার মুখের প্রতি চাহিলাম,--কিন্ত দীর্ঘ অবগুঠনের জন্ত কিছুই দেখিতে পাইলাম না। আমি এক গ্লাস জল তাহার হস্তে দিয়৷ বলিলাম,-_-

লিট অসিত ৬৪ সত ৬৪

“আপনি অনুস্থ, এই শীতল জল পান করিয়া একটু বিশ্রাম করুন। তার পর রোগীর অবস্থা আনুপুর্বিক আমার বলিলেই আমি আপনার সঙ্গে যাইতে প্রস্তত হইব।”

রমণী জলের গ্লাস মুখের কাছে তুলিল,-কিস্তু তখনই আবার তাহা নামাইয়া লইয়া উচ্চৈঃস্বরে কীদিয়! উঠিল। কীদিতে কীদিতে সে বলিতে লাগিল,

“আমি জানি যে, আমার কথ! গুনিয়া আমায় পাগল ভিন্ন আর কিছুই মনে করিবেন না অনেকেই এইরূপ মনে করিয়াছে বলিয়াছে। আমি অল্পবয়স্কা নহি; লোকে বলে- মৃত্যু যতই ঘনাইয়! আসে, জীবনের অবশিষ্ট অংশটুকু, তাহার সহিত অনেক দুঃখস্থৃতি বিজড়িত থাকিলেও, মানুষের নিকট ততই প্রিয়তর হয়। আমার জীবনের সীম! বেশী দূর নহে,_-আমারও তাহাই হওয়া উচিত। কিন্তু ভগবান্‌ জানেন, মৃত্যু এখন আমার নিকট কত স্বাগত! আজ আমি যাহার জন্ত আপনার নিকট আসিয়াছি, কাল সে মনুষ্যের ক্ষমতার বহিভূতি হইবে। কিন্ত তবু আমি আপনাকে আজ তাহার নিকট লইয়া যাইতে পারিতেছি না

আমি বিশ্মিত হইলাম! রমণী কি সত্য সত্যই উন্মাদ ! কিন্তু উন্বত্ততার কোনও লক্ষণই দেখিলাম না ধীরে ধীরে বলিলাম,-__

«আপনি যে বিষয় গোপন করিতে চাহিতেছেন, সে বিষয়ে

২৭

পুষ্পহার | অনুচিত প্রশ্ন করিয়া আপনার যাতনা বৃদ্ধি করিতে চাহি না,__কিস্ত আপনার কথ! গুনিয়! আশ্্য্যান্বিত হইতেছি

আপনি যাহার কথ! বলিতেছেন, সে মৃত্যুশধ্যার়,__হয় আজ চেষ্টা করিলে কিছু করিতে পারি। কিন্তু আজ তাহাকে দেখিতে পাইব ন| | কাল-_মাপনি নিজেই বলিতেছেন, সে মন্ুুষ্যের সাহাযা ক্ষমতার অতীত হইবে ;-_-মথচ কাল আমাকে লইয়া যাইতে চাহিতেছেন। যদি সে আপনার কোনও প্রিয় ব্যক্তি হয়, তবে আজই তাহার সাহাযোর চেষ্টা করিতেছেন না কেন?”

“ভগবান! আমায় বল দাও !”-_-রমণী কাতর স্বরে বলিল,-_ “যে কথ! নিজেই এক .এক সময়ে বিশ্বাস করিতে পারিতেছি না, তাহা আপনাকে বিশ্বাস করিতে বলিব কি করিয়া ?””

এই বলিয়া রমণী উঠিয়া দীড়াইয়া, আমায় জিজ্ঞাস! করিল,--

«তবে আপনি কাল তাহাকে দেখিতে যাইবেন ন! ?”

“আমি দেখিতে যাইব না, এমন কথা বলি নাই কিন্তু আপ- নাকে বলিয়৷ রাখিতেছি যে, এপ অদ্ভুত বিলম্ব করিতে জেদ করিলে, এই ভয়ানক ঝুঁকি আপনাকেই বহন করিতে হইবে |

রমণী দৃঢ়ম্বরে বলিল,-_

“ঝুকি-কাহাকেও বহন করিতে হইবেই ; যেটুকু আমার

উপর পড়িবে, সেটুকু বহন করিতে মামি প্রস্তুত আছি ।” “আপনার ইচ্ছামত কাধ্য করিতে আমি বাধ্য হইতেছি ;--মআমি

পুষ্পহাঁর !

স্বীকার করিলাম, কল্য রোগী দেখিতে যাইব। আপনার ঠিকানা বলিয়া যান,-_-আর কাল কোন্‌ সময় যাইব, সেটাও বলিয়া যান।» রমণী উত্তর করিল, “বেলা! নয়টা | আমি পুনরায় বলিলাম,--. “একটা প্রশ্ন করিতেছি, ক্ষমা করিবেন; সেই ব্যক্তি এক্ষণে আপনার তত্বাবধানে আছে ?”” “না মহাশয় !” «আমি তাহার চিকিৎস! সম্বন্ধে কোনরূপ ব্যবস্থা করিলে কি আপনি আজ রাত্রে তাহার সাহায্য করিতে পারেন ন! ?” রমণী উচ্ছ,সিত কণ্ঠে কীদিতে কাদিতে বলিল,_ “কিছুমাত্র না।” আমি তাহাকে আর কোনও প্রশ্ন করা বৃথা মনে করিলাম ; তাহার ব্যাকুলত1--সে কতক পরিমাণে দমন করিয়াছিল,--কিন্ত এক্ষণে তাহ! পুনরায় বুদ্ধি প্রাপ্ত হইল; তাহার ক্রন্দন আমার মর্ম স্পর্শ করিল। আমি প্রভাতে যাইব অঙ্গীকার করিয়া, তাহার ঠিকান! জানিয়া লইয়া, তাহাকে বিদীয় দিলাম। সে চলিয়া গেলে, তাহার বিষয় বসিয়৷ বসিয়া চিত্ত করিতে লাগিলাম। এই অদ্ভুত অভ্যাগমন সম্বন্ধে কি ভাবিব, বুঝিয়! উঠিতে পারিলাম না। একবার শুনিয়াছিলাম, কোনও এক ব্যক্তির বিশ্বাস হইয়াছিল,

ম্২৪১

পুষ্পহার।

কোনও নির্দিষ্ট দিনে এবং সময়ে তাহার মৃত্যু হইবে। ইহাঁও সেইরূপ কিছু নয় ত? ্‌ আবার মনে হইল, ইহার ভিতর কোনও হত্যাকাণ্ডের ষড় যন্ত্র নাই ত? হয়ত এই রমণী প্রথমে তাহাতে লিপ্ত থাকিতে সম্মত হইয়৷ পরে অনুতপ্ত হইয়াছে & এবং সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করি- বার জন্ত আমার সাহাধ্য প্রার্থনা! করিতেছে কিন্তু সহরের এত নিকটে ইহা সম্ভব নয় মনে হইল। তখন মনে মনে স্থির করিলাম, রমণী নিশ্চয়ই উন্মাদ পরদিন প্রভান্তে তাহার গৃহে যাইবার জন্ত গৃহত্যাগ করিলাম রমণী যে স্থানের কথা বলিয়াছিল, তাহা! সহর হইতে প্রায় দেড় মাইল দূরে অবস্থিত। আমি সহরের বড় রাস্তা ছাড়িয়া, অপেক্ষা- কৃত অপরিসর রাস্ত। ধরিয়া যাইতে লাগিলাম। যাইতে যাইতে মাঝে মাঝে ২১টা গৃহের ভগ্রীবশেষ দেখিতে পাইলাম। ২।৩টা বুষ্টিজলে পরিপূর্ণ বীধ, তৎপার্থে ২১টা বুক্ষ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত রহিয়াছে। স্থানটা প্রায় জনশৃন্য,__কয়েকথানি কুটার ৩৪ খানি ইষ্টকনির্দিত গৃহ মাত্র আছে স্থানটী বড় জঘন্ত,_স্থানবাসী সকলেই প্রায় দরিদ্র, অধিকাংশই অত্যন্ত সন্দিগ্ধ চরিত্রের লোক। স্থীনটীর নির্জনত। যেন স্থানবাসীদের পক্ষে সুবিধাজনক হইয়াছিল স্থাঁনে স্থানে দেখি- লাম, কিছু জমী লইয়া উদ্যান প্রস্তুত করিবার চেষ্টা হইয়াছে,-_কিস্ত দারিদ্র্য বশতঃই হউক,আর যে জন্তই হউক, কেহই কৃতকার্য হয় নাই।

৩৩

পুষ্পহার

একটী কুটারের নিকট দিয়া যাইতে যাইতে দেখিলাম, এক ব্ষায়সী রমণী একটা ছোট বাঁধের নিকট বসিয়! বাসন মাজিতেছে। মধ্যে মধো একটা ছোট বালিকাকে লক্ষ্য করিয়া গালি দিতেছে

এহরূপে কর্দম আবর্জনার মধ্য দিয়।, প্রায় এক ক্রোশ পথ স্াটিয়া, একটা গৃহের দ্বারদেশে মাপিয়া দাড়াইলাম। পথে এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করাতে সে এই গৃহ দেখাইয়া দিয়াছি্। গৃহটা ইষ্টকনির্মিত দ্বিতল, কিন্তু অনুচ্চ,-_অন্তানঠ গৃহ হইতে কিছু দূরে অবস্থিত। দৃষ্টি করিয়া দেখিলাম, সন্ভুখের ছবার;ও সমস্ত জানাল! রুদ্ধ। আমি দ্বারে আঘাত করিলাম ভিতর হইতে মুছু কথোপ- কথনের শব্ধ শুনিলাম,--পরক্ষণে দ্বার খুলিয়া গেল। দেখিলাম, সম্মুখে এক দীর্ঘাক্ৃতি পুরুষ! তাহার মুখমণ্ল রুশ ম্লান। সে মৃছ্স্বরে বলিল, --

“ভিতরে আমন |”

আমি প্রবেশ করিলে, সে পুনরায় দ্বার রুদ্ধ করিয়া, আমাকে একটা গৃহের দ্বারদেণে লইয়া! গেল।

আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,__

“আমি সময় মত আসিয়াছি ?,

“আপনি নিরূপিত সময়ের পূর্ধেই আসিয়াছেন।”

আমি বিশ্বয়ান্বিত হইয়া তাহার মুখের প্রতি চাহিলাম। সে বলিল,--.

৩১

পুষ্পহার

«আপনি এই গৃহে অপেক্ষ। করুন,--আপনার বেশীক্ষণ অপেক্ষা করিতে হইবে ন! 1”

আমি গৃহে প্রবেশ করিলে, সে ব্যক্তি বার ভেজাইয়! দিয়া চলিয়া গেল। ্‌

গৃহটা কষুদ্র। একটি টেবিল ২।৩ খানি ভগ্রপ্রায় চেয়ার ব্যতীত গৃহে আর কিছুই নাই। গৃহে একটী জানালা আছে, তাহা দিয়া একথণ্ড জমি দেখা যাইতেছে,_তাহা বৃষ্টিজলে পূর্ণ চারি দিক্‌ নিস্তন্ধ! আমি প্রায় অধ্ধঘণ্টা কাল এই গৃহে বসিয়া রহিলীম। সহসা একখান! গাড়ীর শব্ধ হইল। সেখান! দ্বারদেশে থামিল। দ্বারমোচন তৎসঙ্গে মৃছু কথোপকথনের শব্দ আমার কর্ণে প্রবেশ করিল। তৎপরে একটু গোলমাল, ৩।৪ জন লোক মিলিয়।৷ একট! ভারি ভ্রব্য বহন করিয়া লইয়া আনিবার শব্দ শুনি- লাম। কিছুক্ষণ পরে পিঁড়িতে পুনরায় পদশব্দ দ্বারমোচনের শব পাইয়া বুঝিলাম, যাহার আসিয়াছিল, তাহারা চলিয়া! গেল। দ্বার পুনরায় রুদ্ধ হইল, পরক্ষণে চারি দিক্‌ পুনরায় নিস্তব্ধ হইল।

আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিবার পরও, কেহ আসিল ন! দেখিয়া, গৃহীস্তরে প্রবেশ করিব মনে করিতেছি, এমন সময় গৃহের দ্বার মুক্ত হইল। দেখিলাম, পুর্ব রাত্রের অবগুঠনবতী রমণী হস্ত দ্বার ইঙ্গিত করিয়। আমাকে ডাকিতেছে। রমণীর সর্ধাঙ্গ স্পন্দিত হইতেছে,__বুবিলাম, সে ক্রন্দন করিতেছে

৩২,

পুম্পহার

রমণী সিঁড়ি বাহিয়া উপরে উঠিল,--আমি পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতে লাগিলাম। সম্মুধেই একটী গৃহ,--সে তাহার দ্বারদেশে , থম্কিয়া দীড়াইয়া, আমাকে ইঙ্গিত করিয়! প্রবেশ করিতে বলিল।

গৃহে ২১টি বাক্স একথান৷ তক্তপোষ ব্যতীত আর কোনই আসবাব নাই। জানালা কুদ্ধ,--কিস্ত ২১টি পাখি ভগ্ন থাকাতে গৃহে অল্প অল্প আলোক প্রবেশ করিতেছিল। গৃহে প্রবেশ করিয়া! প্রথমে অল্প আলোকের জন্ত কিছুই দেখিতে পাইলাম না,--ইত- স্ততঃ করিতে লাগিলাম। রমণী আমার পাশ কাটাইয়া, দৌড়িয়! তক্তপোষের উপর আছড়াইয়। পড়িল

তখন দেখিলাম, পুত্রবস্ত্রে আচ্ছাদিত একটি মন্ুয্যমূর্তি সেই তক্তপোষের উপর শয়ান। তাহার অনাবৃত শির বদনমণগ্ডল দেখিয়! বুঝিলীম, সে পুরুষ তাহার চিবুক হইতে মাথার উপরিভাগ পধ্যস্ত একটা ব্যান্ডেজ বাধা চক্ষু ছুটীমুদ্রিত নিম্পন্দ। হস্ত ছুটী রমণীর হন্তমধ্যে স্থিত

আমি ধীরে ধীরে রমণীকে সরাইয়া দিয়া রোগীর নাড়ী পরীক্ষার জন্ত তাহার হস্ত গ্রহণ করিলাম। করিয়াই চীৎ- কার করিয়া! উঠিলাম,_ |

4কি সর্বনাশ ! যে মৃত দেহ !” রমণী চমকিয়! উঠিল, তৎপরে করযোড়ে বলিতে লাগিল,”

“ও কথ! বলিবেন না ভগবানের দোহাই, ওরূপ নিষ্ঠুর কথা

৩৩

পুষ্পহার।

শি পর এপ টি সি জপ

আমি সে দৃশ্য সহ করিতে ন! পারিয় সে স্থান ত্যাগ করিলাম

অনুসন্ধান করিয়৷ জানিলাম-_-হতভাগ্য, বিধবা মাতার এক- মাত্র অবলম্বন মাত। বু কষ্টে অনশনে পুত্রকে পালন করিয়াছে ; কিন্তু পুত্র মাতার ক্রন্দন, প্রাথন| অবহেল! করিয়া অসংসঙ্গে মিশি- য়াছিল, এবং অবশেষে নিজের মৃত্যু মাতার উন্মত্ততার কারণ হইয়াছে।

সময়ের সঙ্গে আমার অবস্থা ফিরিল,_-মুক্তা বাই আমার গৃহ আলোকিত করিল আমি মনোমত ভাষ্য! পুক্র-কন্ঠা লইয়া স্থথে কালযাপন করিতে লাগিলাম .

কিন্ত আমি আজ পর্য্যস্ত সেই কৃষঙ্খবর্ণ-পরিচ্ছদ-পরিধানা অব- গু£নবতী রমণীকে ভুলিতে পারি নাই।

ভন ন্ছিওত্ জ্বন্ম

সঞ্চিত ধন।

1

শালখানি টানিয়৷ তাহার অনাবৃত স্বন্ধদেশ আবৃত করিয়! তাহার পুরাতন ঘড়িটার দিকে চাহিল। সে নিজে অতান্ত বৃদ্ধা হইলেও, ঘড়িটা তাহার অপেক্ষাও বৃদ্ধ। ঘড়িটা তাহার বিবাহের সময় তাহার মাত৷ তাহাকে দিয়াছিলেন। ইহাই তাহার নিঃসঙ্গ জীবনের এক- মাত্র সঙ্গী

“আজ ওরা বড়ই দেরী করিতেছে !”-_মৃদস্বরে বৃদ্ধা আপনা আপনি বলিতে লাগিল,-_-“চাদ্ের সময় হইয়াছে,-_পিপাসায় আমার গল শুখাইয়া গিয়াছে উহার! কি আমার কথ! ভূলিয়াই গেল!”

৩৯

পুঙ্পহার

এই সময়ে কুটারদ্বার ঠেলিয়া৷ একটা যুবক একটা যুবতী প্রবেশ করিল। তাহার! বুদ্ধার পুত্র পুক্রবধূ। আজ পঞ্চদশ বৎসর, পতিহীনা চলংশক্তিরহিত। বৃদ্ধা ইহাদের গলগ্রহ। তাহাদের দেখিয়া বৃদ্ধা একটু ভীতম্বরে জিজ্ঞাসা করিল.--

“আজ এত দেরী হইল যে?”

যুবক কোনও উত্তর ন! দিয়া পার্থের গৃহে প্রবেশ করিল, যুবতী একথান। চেয়ারে বসিয়া পড়িয়া! রুক্ষ স্বরে বলিল,_-

“তোমার চায়ের সময় হইলেই বুঝবি আমাদের আসিয়া উপস্থিত হইতে হইবে? টমের কাজ আছে,__আমিও বসিয়া খাই না। আমাদের দিন রাত চেয়ার ' ঠেসিয়া বসিয়া আগুন পোয়াইলেই চলে না 1,

করুণ কণ্ঠে বুদ্ধ! বলিল,__-

“তাহা সত্যই বাছা! তোমরাই খাটিয়া সার! হুইলে। আমি আর এখন কোনও কাজেই লাগি না|»

পুত্রবধূ কোনও উত্তর ন৷ দিয়, উঠিয়া ছোট একটা টেবিলে চায়ের সরগ্রাম সাজাইতে লাগিল দেওয়ালের গাত্রন্থিত ছোট একটী আলমারী হইতে রুটি মাখন বাহির করিল। চা প্রস্তুত হইলে স্বামীকে ডাকিল,-_বৃদ্ধার চেয়ার ঠেলিয়া টেবিলের নিকট লইয়। গিয়া, তাহার সম্মুথে এক পেয়াল! চা একথণ্ড মাখন- শূন্ত রুটা রাখিয়। দিল।

2 সত সি জর

বৃদ্ধ' চা খাইতে খাইতে ভীত নয়নে একবার পুত্র একবার পুত্রবধূর মুখের প্রতি দৃষ্টি করিতে লাগিল তাহার প্রিয়তম ঘড়িটার মত, এই পুত্র পুত্রবধূর মুখের প্রত্যেক ভাব তাহার মুখস্থ হইয়া গিয়াছিল। তবে তাহার মধ্যে কিছু পার্থক্য ছিল। ঘড়ি- টার চেহারা--জীবন ভরিয়। সে একরকমই দেখিতেছে; কিন্ত পুল্র পুত্রবধূর দৃষ্টি অধিকাংশ সময়েই কঠোর ন্নেহশৃন্ত

চা-পান শেষ হইল। টম উঠিয়। পাইপ ধরাইয়! বাগানে গেল, বধূ চায়ের বাসন ধুইয়। মুছিয়! যথাস্থানে তুলিয়। রাখিল। তার পর শ্বশুর চেয়ারখানি ঠেলিয়। পুনরান্র চিম্নীর নিকট সরাইয়া দিয়া, বাগানে স্বামীর সহিত মিলিত হইল।

বৃদ্ধ! স্থদীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করিল। আহা ! তাহারা যদি দয়া করিয়৷ একদিনও তাহার চেয়ারখানি বাগানে বাহির করিয়া দিত, তাহা হইলে উন্মুক্ত আকাশের নির্ঘল সৌন্দধ্য দেখিয়! বুঝি তাহার প্রাণটা বিমল আনন্দে পুর্ণ হইত। সুদীর্ঘ পাঁচ বংসর সে তাহার শয্যা এই চেয়ারথানির উপর কাটাইতেছে,-_নুদীর্ঘ পাঁচ বৎসর উদার গগনের স্নিগ্ধ বায়ু তাহার অঙ্গ স্পর্শ করে নাই।

দিনের আলোক ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইতে লাগিল, সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ় হুইয়। আসিল। সে পুনরায় তন্ত্রাভিভূত হই! পড়িল।

সহস! বাহিরে পুন্র পুত্রবধূর কণম্বর শুনিয়। তাহার নিগ্রাভঙ্গ

৪১

ু্পহার

হইল। পুত্র বলিতেছে,--“যেন ঘ্ুণাক্ষরেও টের না পায়। টের পাইলে কি হইবে, সহজেই বুঝতে পার, স্তান্স, !”

স্ঠান্সি উত্তর করিল,

“হা, মাকে সম্বন্ধে কিছু না বলাই উচিত; কিন্তু স্থান ত্যাগ করিতে আমার মন সরিতেছে না। গৃহশুন্ত অবস্থায় ঘুরিয়া বেড়ান বড় স্থুখের নয় 1”

টম বলিল,-_

“তা কি করিব বল ? চাকরী যখন গিয়াছে, তখন আর উপবাস করিয়! মরিতে পারিব না কাজের চেষ্টায় বাহির হইতেই হইবে ।”

বৃদ্ধা চমকিয়৷ উঠিয়া! বপিল। তাহার সমস্ত শরীরের রক্ত দ্রুত চলিতে লাগিল। আজ চল্লিশ বৎসর পূর্ববে সে নববধূরূপে এই কুটারে প্রবেশ করিয়াছিল। ইহার প্রত্যেক দ্রব্য, প্রত্যেক কোণের সহিত তাহার কত স্থখগুঃখস্থতি বিজড়িত। ইহার এক একথানি ইক তাহার এক একখানি অস্থিতুল্য। আজ এই কুটার ত্যাগ করিয়। যাইতে হইবে! আবেগপুর্ণ স্বরে সে আপনা আপনি বলিতে লাগিল,

“না-না-তাহা হইতে দিব না। যাহারা আমার জন্ত অনেক করিয়াছে, তাহাদের কুটার ত্যাগ করিতে দিব না। তোদের অকম্ম্ণা বুড়ী মা আজ তোদের দেখাইবে যে, সে একে- বারে অকৃতজ্ঞ নয় ।””

৪৭

পুষ্পহার |

প্রিয় ঘড়িটীর প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া সে মৃছু হাসিল। ঘড়িটার পশ্চান্তাগে একটা গুপ্তস্থান ছিল, সে কথা আর কেহই জানিত না। চল্লিশ বংসর পুর্ব গৃহধন্ম আরম্ভ করিয়া সে এক পেনী, ছুই পেনী করিয়া জমাইতে আরম্ভ করিয়াছিল সঞ্চিত অর্থ সেই গুপ্ত স্থানে রাখিত। পেনী হইতে শিলিং, শিলিং হইতে পাউও্,--এইরূপে একশত পাউও সে যে কি করিয়া সঞ্চয় করিয়াছিল, তাহা তাহার স্বামী পধ্যস্ত কোনও দিন জানিতে পান নাই। মৃত্যুর সময় পুত্রকে সেই ধন সমর্পণ করিবে, ইহাই তাহার প্রাণের একাস্ত বাসন! ছিল। পুঞ্র বধূর বাক্যালাপ শুনিয়া সে সেই মুহূর্তেই সঙ্কল্প স্থির করিয়া ফেলিল,__সেই সঞ্চিত ধন সে অগ্ভই তাহাদিগকে সমর্পন করিবে। সে কল্পনাচক্ষে দেখিল, ন্যান্সির সুন্দর শ্রান্ত দৃষ্টি হর্য তক্তিতে পুর্ণ হইয়াছে,_ টমের কঠোর মুখখানা বিন্বয়ে আনন্দে উজ্জ্বল হইয়া! উঠিয়াছে। সহসা পুনরায় পুভ্রের কণ্ঠস্বর তাহার কর্ণে প্রবেশ করিল,

“হা, দেখ স্তান্ন, আমাদের বেশী ঘুরিয়। মরিতে হইবে না। আমি কিছু গুপ্তধন আবিষ্কার করিয়াছি তাহা দ্বারা কোথাও কিছু দিন বেশ সুখে থাকিতে পারিব। তত দিনে একট! কাজেরও যোগাড় করিতে পারিব।”

আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া ন্তাম্পি বলিল,--“তুমি কি বকিতেছ, টম ! আমি তোমার হেয়ালি কিছুই বুঝিতে পারিতেছি ন৷ !””

৪৩

পুষ্পহার

হাসিতে হাসিতে টম বলিল,_-“বুঝিবে কি করিয়া ? আমি সেদিন মায়ের পুরাণ ঘড়িটা মেরামত করিতে গিয়৷ উহার পিছনে একটা গুপ্তস্থানে একটা থলিতে এক-শ সভারিন্‌ দেখিয়াছি |”

“টম 1৮--সোত্কৃক ভাবে ভ্তান্সি বলিল, _ণ্টম! সত্যই বলিতেছ ?””

“সত্য নয় কি মিথ্যা? আজ রাত্রে বুড়ী ঘুমাইলে, থলি লইয়া আমর! পিট্টান 1”

বৃদ্ধা ছুই হস্তে বক্ষ চাপিয়। ধরিয়া রুদ্ধ নিশ্বাসে শুনিতে লাগিল। স্তান্সি বলিল,-_-

“আর মা ?--তার কি বন্দোবস্ত হইবে ?”

দবণাপূর্ণ স্বরে টম বলিল,

“ও বুড়ীটাকে কে সঙ্গে করিয়া ঘুরিয়া মরিবে? বোঝা এখন ঝাড়িয়া ফেলিতে পারিলে বাচি। এখানকার অনাথ-আশ্রমে

ংবাদ দিয়াছি,-_তাহার কাল সকালে আসিয়া লইয়া যাইবে ।*

একটু ভৎ্সনার স্বরে স্তান্সি বলিল,-_

“অনাথ-মাশ্রম !-ছিঃ টম 1»,

“আমরা অনেক দিন তাহাকে পালিগাছি, আর নয় এখন অনাথ-আশ্রম তার কাজ করুক |”

তাহার! দুরে সরিয়া গেল, টমের শেষ কথাগুলি মাতার বক্ষে আসিয়৷ শেলের মৃত বিধিতে লাগিল সে বলিতে ছিল,_-

88

পুষ্পহার।

ডগ ওরা ওঠ

“ও বুড়ীটার কথ! ভাবিয়া তুমি মন খারাপ করিও না, স্তান্সি ! সে এত দিন আমাদের ঘাড়ে বসিয়া খাইয়াছে। ভাগো সেদিন ঘড়িটা মেরামত করিতে গিয়াছিলাম, না হইলে কি হইত বল ত? বুড়ী মরিয়া গেলে টাকার কথ! কিছুই জানিতে পারিতাম না হয় ঘড়িটা বিক্রী করিয়া ফেলিতাম। আজ রাত্রেই টাকাগুলি লইয়া, কুটীরের ধূল! পা হুইতে ঝাড়িয়া ফেলিয়। চলিয়! যাইব ।”

তাহার কথম্বর ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইয়! বাতাসে মিলাইয় গেল। কম্পিত বক্ষ ছুই হস্তে চাপিয়!, কষ্টে_-অতি কষ্টে বৃদ্ধ! উঠিয়া দাড়াইল। সে কষ্টে তাহার ললাট ঘন্মাক্ত হুইয়৷ উঠিল,-_- তাহার সমস্ত শরীর কম্পিত হইতে লাগিল। তাহার প্রিয়তম পুত্র--তাহার প্রথম সম্তান আজ তাহাকে ভিথারিণীর স্তায় অনাথ-আশ্রমবাসিনী করিবার কল্পনা করিতেছে! চল্লিশ বংসর পুর্বে লজ্জানঅঅর নববধূ রূপে ষে গৃহে প্রবেশ করিয়াছিল, সেই গৃহ হুইতে বিতাড়িত করিবার আয়োজন করিতেছে হায় নিয়তি ! এইরূপ অস্বাভাবিক নিষ্ঠুরতা, এইক্ধূপ অকৃতজ্ঞতা কি সম্ভব! ছূর্ধল চলৎশক্তিহীনা মাতাকে এইরূপে ত্যাগ করিয়া যাইতে তাহার পাষাণ প্রাণে কি মুহূর্তের জন্তও একটু অনুতাপ আসিবে না ? হ! রে হতভাগ্য সন্তান! ষে ধনের লোভে এই নিষ্ঠুরতা, করিতে উদ্যত হইয়াছিস, মুহূর্ত পূর্ব্বে মাতা যে সেই ধন তোকেই সমর্পণ করিবার কল্পনা! করিতেছিল !

৪6৫

পুষ্পহার |

অশ্রহীন শ্রাস্ত নেত্র তুলিয়া সে একবার চতুর্দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিল,--তার পর পুনরায় বসিয়া পড়িয়া, ছুই হস্তে শ্রাস্ত মস্তক রক্ষা করিল। এই কুটারে আর এক রাত্রিমাত্র সে বাস করিতে পারিবে। কত সুন্দর মধুর স্থৃতিতে এই কুটীর তাহীর নিকট পবিত্র, ইহার সহিত তাহার জীবনের সকল স্ুখছুঃখ বিজড়িত মৃত্যু কতবার এই কুটারে তাহার করাল ছায়! নিক্ষেপ করিয়া তাহাকে শোকাতুর করিয়াছে,-প্রিরজনকে মৃত্যুর কোলে তুলিয়। দিতে কতবার তাহার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হইয়াছে! একটী অবাধ্য কুপথ- গামী পুশ্রকে গৃহতাড়িত হইতে দেখিয়া! তাহার মাতৃহৃদয় অসহনীয় ছুঃখ সহা করিয়াছে ! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, সেই সকল ডঃখস্থতি পবিত্র শাস্তিপুর্ণ হইয়। আসিয়াছিল,__ন্ুথস্থৃতি গুলি উজ্জল হইতে উজ্জ্লতর হইতেছিল। জীবনের সন্ধ্য। গত হইয়া রাত্রি সমুপস্থিত ; জীবনের অবশিষ্টাংশ এই কুটারেই যাপন করিয়া, সময় হইলে এই সকল পবিত্র স্বৃতির মধ্যেই আপনার মুক্ত আত্ম! অনন্তের পানে ছুটাইয়। দিবে,-এই আশ! সর্বদাই হৃদয়ে পোষণ করিত। কিন্ত হায়! একি হইল? এই পাপ রোধ করিবার শক্তিও যে তাহার নাই ! সে যে বড়ছূর্বল! সেযে অশক্ত!

চিম্নীর আগুন নিবিয়া গিয়া গৃহ ক্রমেই শীতল হইতেছিল। টেবিলের উপরিস্থিত ল্যাম্পের তেল ফুরাইয়৷ গরিয়াছিল। বাতি ছু-তিনবার উজ্জ্বল হইয়া! উঠিয়া একেবারেই নির্বাণ হইল।

৪৬

পুষ্পহার।

8৪৯৫